📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আতিকা বিন্ত আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন

📄 আতিকা বিন্ত আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন


ইবন ইসহাক বলেন: ইব্‌ন আব্বাস ও উরওয়া ইন্ন যুবায়র থেকে বর্ণিত আছে যে, যামযামের মক্কা পৌঁছার তিন দিন আগে আতিকা বিন্ত আবদুল মুত্তালিব একটি স্বপ্ন দেখে ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি তার ভাই আব্বাস ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিবকে ব্যাপারটা জানিয়ে বললেন: হে আমার ভাই! আল্লাহর শপথ! আমি আজ রাতে একটা স্বপ্ন দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছি। তোমার সম্প্রদায়ের ওপর কোন বিপদ নেমে আসে কিনা, তা ভেবে আমি শংকিত। সুতরাং আমি তোমাকে যা বলব, তা কাউকে বলো না।
আব্বাস তাকে বললেন: তুমি কি স্বপ্ন দেখেছ?
আতিকা বললেন: দেখলাম, একজন উট সওয়ার মক্কার পার্শ্ববর্তী সমতল ভূমিতে এসে নামল। এরপর সে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলল: সাবধান, হে কুরায়শ! তিন দিনের মধ্যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও। তারপর দেখলাম, তার পাশে জনতা সমবেত হয়েছে। এরপর সে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করল এবং লোকজনও তার পেছনে পেছনে ঢুকল। সকল লোক যখন তার পাশে সমবেত হল, তখন হঠাৎ তার উটটি তাকে নিয়ে কা'বাগৃহের ভেতরে গিয়ে উঠল। তারপর সে পুনরায় চিৎকার করে বলল: “হে কুরায়শ, তিন দিনের মধ্যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও." এরপর তার উট তাকে নিয়ে আবূ কুবায়স পাহাড়ের উপর আরোহণ করল। তারপর সে আবার সেই একই কথা চিৎকার করে বলল। এরপর সে সেখানে থেকে বিরাট একটা পাথর গড়িয়ে ফেলল। পথরটা গড়াতে গড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে পড়তেই টুকরো টুকরো হয়ে গেল এবং মক্কার প্রত্যেক বাড়িতে তার কোন না কোন টুকরো গিয়ে পড়ল।
আব্বাস বললেন: এটা একটা ভয়াবহ স্বপ্ন। তুমি কাউকে এটা বলবে না, বরং তা সম্পূর্ণ গোপন রাখবে।
এরপর আব্বাস বাইরে বেরুতেই তাঁর বন্ধু ওয়ালীদ ইব্‌ন উত্তা ইন্ন রবী'আর সাথে তার দেখা হল। তিনি তাকে স্বপ্নের বৃত্তান্ত জানালেন এবং তাকে সাবধান করে দিলেন, যেন কারো কাছে প্রকাশ না করে। ওয়ালীদ ব্যাপারটা তার পিতা 'উত্তাকে জানাল। এভাবে কথাটা সমগ্র মক্কায় ছড়িয়ে পড়ল। কুরায়শ গোত্রের প্রত্যেক মজলিসে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলতে লাগল।
আব্বাস বলেন: আমি পরদিন সকালে কা'বা শরীফ তওযাফ করতে গেলাম। আবূ জাহ্ সেখানে কুরায়শের একদল লোকের সাথে আতিকার স্বপ্ন নিয়ে কথা বলছিল। আবূ জাহ্ আমাকে দেখেই বলল: হে আবুল ফযল। তওয়াফ শেষ করে এদিকে এস।" তওয়াফ শেষে আমি যথারীতি তাদের কাছে গিয়ে বসলাম। আবু জাহল আমাকে বললঃ হে বনূ আবদুল মুত্তালিব! এই মহিলা নবীর আবির্ভাব তোমাদের মধ্যে কবে ঘটল এবং কবেইবা সে এই সব কথাবার্তা বলেছে?
আমি বললাম: 'কিসের কথাবার্তা?' আবূ জাহল বলল: আতিকার দেখা সেই স্বপ্নের কথা। আমি বললাম: সে কি স্বপ্ন দেখেছে?
আবু জাহল বলল: হে বনূ আবদুল মুত্তালিব! এ যাবৎ তো তোমাদের পুরুষরা নবুওয়তী করত, কিন্তু এখন দেখছি তোমাদের মহিলারাও নবুওয়তী শুরু করে দিয়েছে। আতিকা নাকি স্বপ্নে দেখেছে, কে বলেছে, তিন দিনের মধ্যে তৈরি হয়ে যাও। আমরা তোমাদের জন্য তিন দিন অপেক্ষা করব। যদি কথা সত্য হয়, তাহলে তো যা হবার তাই হবে। আর যদি তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কোন কিছু না ঘটে, তাহলে আমরা লিখিত ঘোষণা জারী করে দেব যে, সমগ্র আরবে তোমাদের মত মিথ্যুক পরিবার আর নেই।
আব্বাস বলেন: আল্লাহর কসম! আমি আবূ জাহলের কথার কোন জবাব দিলাম না, বরং আমি ঘটনা অস্বীকার করে বললাম, আতিকা কোন স্বপ্ন দেখেনি।
আব্বাস বলেন: এরপর আমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম। বিকালে বনূ আবদুল মুত্তালিবের সকল মহিলা আমার কাছে এসে বললেন: এই পাপিষ্ঠ খবিসকে (অর্থাৎ আবূ জাহল) তোমরা কেন এত সহ্য করছ? এতদিন সে তোমাদের পুরুষদের যা ইচ্ছা তাই বলেছে, আর এখন সে তোমাদের নারীদেরকেও যা ইচ্ছা তাই বলতে শুরু করেছে! তুমি এ সব শুনছ, অথচ তোমার কোন সম্ভ্রমবোধ জাগছে না!
আমি বললাম: আল্লাহ্র কসম! আমি ভীষণ বিব্রতবোধ করছি। আমি বিশেষ কোন প্রতিক্রিয়া দেখাইনি বটে, তবে ওকে আমি দেখে নেব। তোমাদের হয়ে যা করা দরকার তা আমি করবই।
রাবী বলেন: আতিকার স্বপ্নের তৃতীয় দিন আমি সেখানে গেলাম। আমি তখন ক্রোধে উন্মাদ প্রায় ছিলাম। ভাবছিলাম, ব্যাটার সাথে যে আচরণ করা দরকার ছিল, তার একটা সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল। আবার যদি সুযোগ পাই, তবে যা আমি করতে পারিনি, তা করে দেখাব। রাবী বলেন: আমি মসজিদে প্রবেশ করে আবু জাহলকে দেখতে পেলাম। আল্লাহ্র কসম! আমি তার দিকে এগুতে লাগলাম, আর অপেক্ষা করতে লাগলাম যে, সে সেদিন যে সব কথা বলেছিল, তার কোন কথার আজ পুনরাবৃত্তি করলেই আমি তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ব। আবূ জাহল ছিল হালকা পাতলা গড়নের। কিন্তু তার চাহনি ছিল তীক্ষ্ণ, ভাষা ছিল ধারালো ও বলিষ্ঠ। সহসা কি যেন হল। সে দ্রুত মসজিদের দরজার দিকে এগিয়ে গেল। আমি মনে মনে বললাম: আল্লাহ্ অভিশাপ হোক ওর ওপর। ওর কি হয়েছে? ওর সমগ্র দেহ জুড়ে এরূপ ভীতি সন্ত্রাস কেন? এসব কি আমার গালমন্দের ভয়ে? কিন্তু অচিরেই আমি বুঝতে পারলাম, সে যামযাম ইবন Amr গিফারীর হাঁকডাক শুনতে পেয়েছে, যা আমি শুনতে পাইনি। যামযাম মক্কার মরুভূমিতে এসে তার উটের উপর বসে চিৎকার করে বলছিল: “হে কুরায়שরা! মহাবিপদ! মহাবিপদ! তোমাদের মালামাল বহনকারী যে কাফেলা আবূ সুফইয়ান নিয়ে আসছে, মুহাম্মদ তাঁর অনুচরদের এর পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে। মনে হয় তোমরা তা আর রক্ষা করতে পারবে না। সাহায্য করতে ছুটে যাও। সাহায্য করতে ছুটে যাও!”
গিফারী চিৎকার করে এ কথাগুলো বলার আগে উটের নাক রষি কেটে, হাওদা উল্টিয়ে দিয়ে এবং নিজের পরনের জামা ছিঁড়ে একটা অদ্ভুত অবস্থার সৃষ্টি করেছিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরায়শদের রণ প্রস্তুতি

📄 কুরায়শদের রণ প্রস্তুতি


ভয়াবহ ঘটনার কারণে আমরা কেউ কারো প্রতি মনোযোগী হতে পারলাম না। লোকজন অতিদ্রুত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলল। তারা বলতে লাগল: মুহাম্মদ ও তাঁর সহচররা আমাদের এ কাফেলাকে কি ইন্ন হাযরামীর কাফেলার মত মনে করেছে? আল্লাহর কসম! কখনো এরূপ নয়। এবার তারা অবশ্যই অন্য রকম অভিজ্ঞতা লাভ করবে।
কুরায়শের লোকজন এবার কেউ পিছিয়ে রইল না। প্রত্যেকেই হয় নিজে যোদ্ধার বেশে ময়দানে রওয়ানা হল, নয় নিজের বদলে কাউকে পাঠাল। একমাত্র আবু লাহাব ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব ছাড়া কুরায়শের নেতৃস্থানীয় আর কোন ব্যক্তি বাদ থাকল না। সে 'আসী ইব্‌ন হিশাম ইবন মুগীরাকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে যুদ্ধ করতে পাঠাল। 'আসীর কাছে আবু লাহাবের চার হাজার দিরহাম পাওনা ছিল। সে দারিদ্র্যের কারণে তা পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়েছিল। সেই পাওনা টাকার বিনিময়ে তাকে যুদ্ধে পাঠিয়ে আবু লাহাব বাড়ি বসে থাকল।
ইবন ইসহাক বলেন: আমাকে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ নুজায়হ বলেছেন যে, আবু লাহাব ছাড়া আরো এক ব্যক্তি যুদ্ধে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আর সে ছিল উমাইয়া ইন্ন খালফ। সে ছিল মোটা-সোটা এক রাশভারী বৃদ্ধ। সে যুদ্ধে যাবে না শুনে 'উব্বা ইব্‌ন আবূ মু'আইত তার কাছে এল। উমাইয়া তখন মাসজিদুল হারামে তার লোকজনের সাথে বসে ছিল। 'উব্বা উমাইয়ার সামনে একটি আগুন ভর্তি পাত্র রাখল, যাতে আগরবাতি ছিল; এরপর সে তাকে বলল: হে আবু আলী, তুমি এর ঘ্রাণ নাও। কারণ তুমি তো মেয়ে মানুষ। তখন লজ্জায় ও অপমানে উত্তেজিত হয়ে উমাইয়া বলল: আল্লাহ্ তোমাকে অপদস্থ করুন এবং তোমার কাজকে অপসন্দ করুন। এরপর বুড়ো উমাইয়া যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিল এবং সকলের সাথে রওয়ানা হয়ে গেল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ বাকর ও কুরায়শের মধ্যে যুদ্ধের কারণ

📄 বনূ বাকর ও কুরায়শের মধ্যে যুদ্ধের কারণ


ইবন ইসহাক বলেন: কুরায়শ বাহিনীর রণসজ্জা ও যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার প্রস্তুতি যখন সম্পন্ন হল, তখন তারা বনূ বাকর ইন্ন আব্দ মানাত ইব্‌ন্ন কিনানার সাথে তাদের অতীতে সংঘটিত যুদ্ধের কথা মনে করে চিন্তিত হয়ে পড়ল। তারা বলল: আমরা আশংকা করছি যে, বনূ বাকর পেছন দিক থেকে আমাদের উপর আক্রমণ করতে পারে।
বনু আমিরের কোন এক ব্যক্তি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব সূত্রে আমার কাছে যা বর্ণনা করেছেন, সে প্রেক্ষিতে দেখা যায় যে, কুরায়শ এবং বনূ বাকরের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তার কারণ ছিল হাফস ইব্‌ন আখ্যাফের ছেলের হত্যা। যে ছিল বন্ধু মু'আয়স্ ইব্‌ন আমির ইব্‌ন লুআঈ-এর সদস্য। সে একদা একটি হারানো উটের সন্ধানে যাজনান নামক স্থানে যায়। এ সময় সে ছিল অল্প বয়সের একটি ছেলে। তার মাথায় ছিল লম্বা চুল এবং পরিধানে ছিল সুন্দর পরিপাটি পোশাক, আর তার শরীরের রং ছিল উজ্জ্বল ফর্সা। সে আমির ইব্‌ন ইয়াযীদ ইব্‌ন আমির ইব্‌ন মালূহ্-এর কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিল, যে বনূ ইয়ামার ইব্‌ন 'আওফ ইব্‌ন কা'ব ইবন 'আমির ইব্‌ন লায়স ইব্‌ন বাকর ইব্‌ন আব্দ মানাত ইব্‌ন কিনানার লোক ছিল এবং সে যাজনানে ছিল। এ সময় সে ছিল বনূ বাকরের সরদার। সে ছেলেটিকে দেখে বিস্মিত হল এবং জিজ্ঞেস করল: হে ছেলে, তুমি কে? সে বলল: আমি হাফস ইব্‌ন আখ্যাফ কুরায়শীর ছেলে। যখন সে ফিরে চলে গেল, তখন আমির ইবন ইয়াযীদ বলল: হে বনূ বাকর! কুরায়শদের কাছে তোমাদের কোন খুন পাওনা নেই কি? তারা বলল: আল্লাহ্ কসম! অবশ্যই, তাদের কাছে আমাদের অনেক খুন পাওনা আছে। সে বলল যদি কেউ এ ছেলেটিকে তার নিজের কোন ব্যক্তির বদলে খুন করে, তবে 'সে তার নিজের খুনের পূর্ণ প্রতিশোধ নিতে পারবে।
একথা শোনার পর বনূ বাকরের এক ব্যক্তি ঐ ছেলেটির পিছু নিল এবং সে তাকে ঐ খুনের বদলায় হত্যা করল, যা কুরায়শের কাছে পাওনা ছিল। কুরায়שরা এ হত্যার ব্যাপারে কথাবার্তা বলায় আমির ইব্‌ন ইয়াযীদ বলল: হে বনু কুরায়শ! তোমাদের কাছে আমাদের অনেক খুন পাওনা আছে। এ জন্য আমরা তাকে হত্যা করেছি! এখন তোমরা যা খুশি করতে পার। যদি তোমরা চাও, তবে তোমাদের যিম্মায় যা আছে, তা আদায় করে দাও এবং আমাদের যিম্মায় যা আছে, তা আমরা আদায় করে দেব। আসলে খুনের ব্যাপার তো এরূপ যে, একজনের বদলে আরেকজনকে খুন করা হয়। এখন যদি তোমরা আমাদের যিম্মায় তোমাদের যে খুন পাওনা আছে, এর দাবি পরিহার কর; তবে আমরাও তোমাদের যিম্মায় আমাদের যে খুন পাওনা আছে, সে দাবি পরিত্যাগ করব।
বস্তুত কুরায়ש গোত্রের মধ্যে এ ছেলেটির হত্যা তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না হওয়ায় তারা বলল: 'আচ্ছা, জানের বদলে জান।' অবশেষে তারা ছেলেটির হত্যার কথা ভুলে যায় এবং তার রক্তের বিনিময় দাবি করল না।
এ ঘটনার কিছুদিন পর ঐ ছেলের ভাই মিকরায ইব্‌ন হাফস ইব্‌ন আগ্রাফ 'মাররা-জাহ্বানের' পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিল। হঠাৎ সে আমির ইবন ইয়াযীদ ইব্‌ন আমির ইব্‌ন্ন মালূহকে উটের উপর আরোহিত অবস্থায় দেখল। যখন সে তাকে দেখল, তখন-ই সে তার কাছে চলে গেল। সে তার উট তার পাশে নিয়ে বসাল। এ সময় আমিরের তরবারি কোষবদ্ধ ছিল। মিক্রায তরবারি নিয়ে তার উপর হামলা করে তাকে হত্যা করল এবং সে তরবারি তার পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল। তাকে মক্কায়, নিয়ে এসে, রাতের মাঝেই কা'বার পর্দার সাথে ঝুলিয়ে রাখল। সকালবেলা কুরায়שরা জেগে দেখল যে, 'আমির ইব্‌ন ইয়াযীদ ইব্‌ন আমিরের তরবারি কাবার পর্দার সাথে ঝুলছে। তখন তারা বলল: এটা তো 'আমির ইবন ইয়াযীদের তরবারি। মিকরায ইন্ন হাফস তার উপর হামলা করে তাকে হত্যা করেছে। এটাই ছিল তাদের যুদ্ধের অবস্থা।
তারা যখন তাদের এ যুদ্ধে লিপ্ত ছিল, তখন মানুষের মধ্যে ইসলাম প্রচার ও প্রসার লাভ করে। ফলে তারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এমতাবস্থায় কুরায়שরা বদর প্রান্তরে যাওয়ার ইরাদা করে। সে সময় তাদের ও বনূ বাকরের মধ্যে যে তিক্ত সম্পর্ক ছিল, তা তাদের মনে পড়ে; ফলে তারা তাদের পক্ষ থেকে ক্ষতির আশংকা করতে থাকে। আমির ইবন ইয়াযীদ ইব্‌ন আমিরের হত্যায় মিকরায ইবন হাসের কবিতা:
"আমি যখন আমিরকে দেখলাম, তখন আমার ভাইয়ের খণ্ডিত দেহ-অংশের কথা আমার মনে পড়ল। আমি মনে মনে বললাম: এই সেই আমির, তুমি এর থেকে ভয় পেয়ো না, আর দেখ যে কোন ধরনের বাহন। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, যদি আমি তার উপর তরবারি দিয়ে যথাযথভাবে আঘাত করতে পারি, তাহলে সে অবশ্যই হালাক হবে। আমি আমার মনকে শক্ত করলাম এবং এমন বীর যোদ্ধার উপর আঘাত করলাম, যে ছিল অভিজ্ঞ ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। যখন আমরা উভয়ে মুখোমুখি হলাম, তখন একথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আমি চরিত্রহীন, কাপুরুষ মা-বাপের সন্তান ছিলাম না। আমি তার থেকে প্রতিশোধ নিলাম এবং আমি প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ভুলতে পারিনি; আর এ ধরনের প্রতিশোধের কথা কেবল অজ্ঞ লোকেরাই ভুলতে পারে।"

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সুরাকার দায়িত্ব গ্রহণ

📄 সুরাকার দায়িত্ব গ্রহণ


ইবন ইসহাক বলেন: ইয়াযীদ ইন্ন রুমান 'উরওয়া ইন্ন যুবায়র থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: যখন কুরায়শরা রওয়ানা হওয়ার ইচ্ছা করল, তখন তাদের এবং বনূ বাকরের মধ্যকার খারাপ সম্পর্কের কথা মনে পড়ল। ফলে তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের নিকটবর্তী হল। এ সময় ইবলীস সুরাকা ইবন মালিক ইব্‌ন জু'শাম মুদলাজীর আকৃতিতে তাদের সামনে হাযির হল, আর সুরাকা ছিল কিনানা বংশের অন্যতম সরদার। সে কুরায়শদের লক্ষ্য করে বলল: তোমরা এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর, বনূ কিনানা যদি তোমাদের উপর এমন কোন কিছু করে, যা তোমরা অপসন্দ কর, তবে এর দায়িত্ব আমি গ্রহণ করছি। এ কথা শুনে কুরায়שরা দ্রুত রওয়ানা দিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00