📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বুওয়াত অভিযান

📄 বুওয়াত অভিযান


ইবন ইসহাক জানান রবিউল আউয়াল মাসেই রাসূলুল্লাহ্ (সা) পুনরায় কুরায়שদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হন। ইব্‌ন হিশাম বলেন: এ সময় তিনি (সা) সাইব ইব্‌ন উসমান মাযউন (রা)-কে মদীনায় গভর্নর নিযুক্ত করেন। ইবন ইসহাক বলেন: চলার এক পর্যায়ে তিনি (সা) রেযা অঞ্চলের বুওয়াত' নামক স্থানে পৌঁছান কিন্তু কোন যুদ্ধ ছাড়াই তিনি মদীনায় ফিরে আসেন এবং এখানেই তিনি রবিউল আখিরের অবশিষ্ট অংশ এবং জুমাদিউল আউয়ালের কিছু অংশ অতিবাহিত করেন।

টিকাঃ
১. বুওয়াত হল: জালসী ও গাওরী নামক দুটো পাহাড়ের নাম।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উশায়রা অভিযান

📄 উশায়রা অভিযান


ইন্ন হিশাম বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবু সালমা ইব্‌ন আবদুল আসাদকে গভর্নর নিয়োগ করে কুরায়শদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হন।
ইবন ইসহাক বলেন: প্রথমে বনু দীনারের গিরিপথ দিয়ে এবং পরে খাব্বারের মরুভূমি অতিক্রম করে ইব্‌ন আযহারের প্রস্তরময় স্থানে একটি গাছের নিচে, যাকে 'যাতুস্-সাক' বলা হয়, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যাত্রা বিরতি করেন। সেখানে তিনি সালাত আদায় করেন। পরবর্তীকালে সেখানে তাঁর (সা) নামে একটি মসজিদ তৈরি হয়। সেখানে তাঁর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। যা তিনি খান এবং তাঁর সঙ্গীরাও খান। এখানে রান্না-বান্নার জন্য যে চুলা নির্মিত হয়েছিল, সে স্থানটি এখনও পরিচিত। এরপর মুশতারাব নামক ঝর্ণা থেকে তাঁর জন্য খাবার পানি সংগ্রহ করা হয়। অবশেষে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখান থেকে রওয়ানা হলেন এবং খালায়েক নামক স্থানকে বাঁদিকে রেখে আবদুল্লাহ্ উপত্যকার পথ ধরে অগ্রসর হলেন, যা এখনও 'শো'বা আবদুল্লাহ্' নামে পরিচিত। এরপর তিনি বামদিকের নিচু ভূমি অতিক্রম করে ইয়ালীল নামক স্থানে পৌঁছেন এবং যাবৃআ নামক মোহনায় যাত্রা বিরতি করেন। এখানকার একটি কূপ থেকে তিনি পানিপান করেন এবং মিলাল নামক মরূদ্যানের পথ ধরে সামনে চলতে থাকেন। অবশেষে তিনি সাহীরাতুল ইয়ামামের নিকট গিয়ে সাধারণের চলাচলের রাস্তায় উঠেন। তিনি (সা) সামনে অগ্রসর হয়ে ইয়াম্বু উপত্যকায় অবস্থিত আশীরা নামক স্থানে পৌঁছেন। সেখানে তিনি গোটা জুমাদিউল আউয়াল ও জুমাদিউস সানীর কয়েক দিন অবস্থান করেন। এখানে তিনি বনূ মাদলাজ ও তাদের মিত্র বনূ যামরার সংগে সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে মদীনায় ফিরে যান। এখানে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। এ অভিযানের সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী (রা)-কে যা বলেছিলেন, তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে ইয়াযীদ ইব্‌ন মুহাম্মদ ইব্‌ন খায়সাম মুহারিবী সূত্র পরম্পরায় আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি ও আলী আশীরা অভিযানে পরস্পরের সঙ্গী ছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন সেখানে অবস্থান করলেন, তখন আমরা বনূ মাদলাজ গোত্রের কিছু লোককে তাদের একটি কুয়া ও খেজুরের বাগানে কাজ করতে দেখলাম। তখন আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা) আমাকে বললেন: হে আবু ইয়াক্যান! তুমি কি আমার সঙ্গে ওদের কাছে যাবে, আমরা দেখে আসব তারা কিভাবে কাজ করে? আমি বললাম: ঠিক আছে। যেতে চান তো চলুন। আম্মার বলেন: তারপর আমরা তাদের কাছে গেলাম। কিছু সময় তাদের কাজকর্ম দেখার পর আমরা নিদ্রাভিভূত হয়ে পড়লাম। তখন আমরা কয়েকটি ছোট খেজুরের চারার ছায়ায় নরম যমীনের উপর নিদ্রা গেলাম। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজে এসে না জাগানো পর্যন্ত আমরা জাগিনি। সেদিন তিনি আলী (রা)-এর গায়ে মাটি লেগে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তাকে বললেন: হে আবূ তুরাব! (মাটির বাবা) তোমার এ কি দশা? তারপর তিনি বললেন: পৃথিবীর সবচেয়ে হতভাগা ব্যক্তিদ্বয় সম্পর্কে জানতে চাও কি? আমরা বললাম হ্যাঁ। ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা) অবশ্যই জানতে চাই। তিনি বললেন: তাদের দু'জনের একজন হল: সামুদ জাতির সেই ব্যক্তি, যে সালিহ আলায়হিস সালামের উটনীকে হত্যা করেছিল। আর দ্বিতীয়জন হল সেই ব্যক্তি, যে তোমার এ ঘাড়ের উপর কোপ দিয়ে তোমাকে হত্যা করবে; ফলে তোমার এ দাড়ি রক্তে রঞ্জিত হবে।
ইবন ইসহাক বলেন: কোন কোন জ্ঞানীজন আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলীকে আবূ তুরাব বলে এ জন্য ডাকতেন যে, যখন তিনি তাঁর সহধর্মিণী ফাতিমার উপর কোন ব্যাপারে অসন্তুষ্ট হতেন, তখন তিনি তাঁর সঙ্গে কোন কথা বলতেন না এবং তাঁর সঙ্গে কোন অপ্রিয় আচরণ করতেন না, বরং তিনি নিজের মাথায় কিছু ধুলোবালি মেখে চুপচাপ বসে থাকতেন। রাবী বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখনই আলী (রা)-এর মাথার ধুলোবালি দেখতে পেতেন, তখনই বুঝতেন যে, তিনি ফাতিমার উপর নাখোশ হয়েছেন। এ সময় তিনি বলতেন: হে আবু তুরাব! তোমার কি হয়েছে? এ দু'টি বর্ণনার মাঝে কোন্টি সঠিক, তা আল্লাহ্-ই ভাল জানেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে সেনাদল প্রেরণ

📄 সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে সেনাদল প্রেরণ


ইবন ইসহাক বলেন: এ সময়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে আটজন মুহাজিরের একটি সেনাদল পাঠান, যাঁরা হিজাযের খাররার নামক স্থান পর্যন্ত যান এবং কোন সংঘর্ষ ছাড়াই নিরাপদে মদীনায় ফিরে আসেন। ইবন হিশাম বলেন: কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, এ সেনাদলটি হামযা (রা)-এর সেনাদলের পরে প্রেরিত হয়েছিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সাফওয়ান অভিযান বা প্রথম বদর অভিযান

📄 সাফওয়ান অভিযান বা প্রথম বদর অভিযান


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) আশীরা অভিযান থেকে ফিরে এসে মদীনায় দশ দিনেরও কম কাটান। এ সময় কুরয ইব্‌ন জাবির ফিহরী মদীনার উপকণ্ঠে অবস্থিত চারণভূমিতে হামলা চালায়। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার পিছু ধাওয়া করেন। ইবন হিশাম বলেন: এ সময়ে তিনি যায়দ ইবন হারিসা (রা)-কে মদীনায় ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নিয়োগ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: তিনি তাকে ধাওয়া করতে করতে সাফওয়ান নামক উপত্যকায় গিয়ে পৌঁছেন। এ স্থানটি বদরের কাছাকাছি অবস্থিত। তাই একে প্রথম বদর অভিযানও বলা হয়। তিনি কুরয ইব্‌ন জাবিরকে ধরতে পারেননি। ফলে তিনি মদীনায় ফিরে আসেন এবং এখানেই জুমাদিউস সানীর বাকী অংশ এবং রজব ও শাবান মাস অতিবাহিত করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00