📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হামযার নেতৃত্বে সায়ফুল বাহরের অভিযান

📄 হামযার নেতৃত্বে সায়ফুল বাহরের অভিযান


এ সময়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা) হামযা ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব ইবন হাশিমের নেতৃত্বে আরো একটি সেনাদলকে সায়ফুল বাহার অভিমুখে প্রেরণ করেন। এ সেনাদলে ত্রিশজন অশ্বরোহী মুহাজির ছিলেন, কোন আনসার সাহাবী ছিলেন না। এ দলটি ঈসের উপকূল ধরে যাওয়ার সময় মক্কার তিনশো অশ্বারোহী পরিবৃত্ত অবস্থায় আবূ জাহলের মুখোমুখি হল। উভয় পক্ষের মিত্র মাজদী ইব্‌ন Amr জুহানী এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আড় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে কোন সংঘর্ষ ছাড়াই উভয় পক্ষ পরস্পর থেকে আলাদা হয়ে যায়।
কারো কারো মতে হামযা (রা)-এর কাছেই রাসূলুল্লাহ্ (সা) প্রথম সামরিক ঝাণ্ডা তুলে দেন। আসল ব্যাপার হল উবায়দা ইবন হারিস এবং হামযার সেনাদল একই সময় প্রেরিত হয়। তাই ঘটনার দর্শকগণ সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেননি, কোন্টি আগে ঘটেছিল। অনেকে বলেন: এ সময় হামযা (রা) একটি কবিতাও আবৃত্তি করেছিলেন এবং তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনিই সর্ব প্রথম রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে সামরিক ঝাণ্ডা লাভ করেন। এরূপ কোন কবিতা যদি হামযা (রা) বলে থাকেন, তবে আল্লাহ্ চাহেন তো, তিনি সত্যই বলেছেন। কেননা তিনি কখনো অসত্য বলতেন না। আসলে কে প্রথম ঝাণ্ডা পেয়েছেন, তা আল্লাহই ভাল জানেন। আমাদের কাছে জ্ঞানীজনদের কাছ থেকে সংগৃহীত যে তথ্য বিদ্যমান, তা হল, উবায়দা ইবন হারিসই প্রথম সামরিক ঝাণ্ডা লাভ করেছিলেন।
জনশ্রুতি অনুসারে হামযা (রা) এ সময় যে কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন, [ইব্‌ন হিশাম বলেন: অধিকাংশ কাব্য বিশারদ পণ্ডিতের মতে এটা হামযা (রা)-এর রচিত কবিতা নয়], তার অনুবাদ নিম্নে দেওয়া গেল:
"হে আমার জাতি! তোমরা অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতা এবং আপন নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ মতামত ও বাচালতা থেকে সাবধান হও। সেই সব যুলুমবাজ থেকেও সাবধানও হও, যাদের যমীন বা ফসল অন্য কারো পশু বা মানুষে কখনো মাড়ায়নি। আমরা যেন তাদের সাথে শত্রুতা করছি, অথচ আমাদের তাদের সাথে কোন শত্রুতা নেই; বরং আমরা তাদের সততা ও ন্যায়বিচারের উপদেশ দিচ্ছি। আমরা তাদের ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দেই, যা তারা গ্রহণ তো করেই না, উপরন্তু তাকে উপহাসের বস্তুতে পরিণত করে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত আমি ফযীলত লাভের আশায় তীব্রগতিতে তাদের উপর আক্রমণ করলাম। আল্লাহ্র রাসূলের নির্দেশে আমি এই (আক্রমণের) পথ বেছে নিয়েছি। যিনি আমার হাতে সর্বপ্রথম ঝাণ্ডা দিয়েছেন এবং আমার আগে আর কারো হাতে পতাকা শোভা পায়নি। এই পতাকা ছিল সেই মহাপরাক্রান্ত, সম্মানিত আল্লাহ্ পক্ষ থেকে বিজয়ের প্রতীক—যাঁর প্রতিটি কাজ সর্বোত্তম। একদিন বিকালে শত্রুরা যেই সমবেত হয়ে রওয়ান হল, তখন আমরা সকলেই ক্রোধে ও
উত্তেজনায় ফেটে পড়ার উপক্রম হয়েছিলাম। যখন আমরা উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলাম, অমনি তারা তাদের চলা ক্ষান্ত করল এবং আমরাও আমাদের চলা থামিয়ে দিলাম এবং আমরা একে অপরের খুবই কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। তখন আমরা তাদের বললাম আমাদের সম্পর্ক একমাত্র আল্লাহর সঙ্গে এবং তোমাদের সম্পর্ক কেবলমাত্র গুমরাহীর সাথে। তখন আবু জাহল বিদ্রোহী হয়ে উগ্রমূর্তি ধারণ করল। কিন্তু আল্লাহ্ আবূ জাহলের দুরভিসন্ধি বানচাল করে দিলেন। আমরা ছিলাম মাত্র ৩০ জন অশ্বারোহী, আর তারা ছিল দু'শোর অধিক। অতএব হে লুআঈ-এর বংশধর! তোমরা তোমাদের বিপথগামী লোকদের অনুসরণ করো না এবং ইসলামের সহজ পথের দিকে ফিরে এস। কেননা আমার আশংকা, তোমাদের উপর আযাব নেমে আসবে, তখন তোমরা অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহকে ডাকবে।"
তাঁর এ কবিতার জবাবে আবু জাহল একটি কবিতা আবৃত্তি করল। যা হল: "আমি এ বিদ্বেষ ও গোঁয়ার্তুমি দেখে অবাক হয়ে যাই। আর অবাক হয়ে যাই বিরোধ ও গোলযোগ পাকানোর হোতাদের দেখে। আরো অবাক হই পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যমণ্ডিত রীতিনীতি বর্জনকারীদের দেখে, যারা ছিল সঠিক নেতৃত্ব ও আভিজাত্যের অধিকারী। এ দলটি আমাদের কাছে একটা মিথ্যা দাবি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে, যাতে তারা আমাদের বিবেকবুদ্ধিকে বিভ্রান্ত করতে পারে। কিন্তু তাদের এ মিথ্যা দাবি কোন বিবেকবান লোকের বিবেককে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। আমরা তাদের বললাম ওহে আমাদের স্বজাতিভুক্ত লোকগণ! তোমরা আপন জাতির ঐতিহ্যের সাথে বিরোধিতা করো না। কেননা ঐতিহ্যের বিরুদ্ধাচরণ চরম মূর্খতারই নামান্তর। কেননা যদি তোমরা এরূপ কর, তবে ক্রন্দনকারী মহিলারা হায় মুসীবত, হায় বিচ্ছেদের রোল তুলবে। আর তোমরা যা করেছ যদি তা পরিত্যাগ করে পৈতৃক ধর্মে ফিরে এস, তাহলে আমরা তো তোমাদেরই চাচাতো ভাই, অনুগ্রহ ও আনন্দের সাথে তোমাদের গ্রহণ করব। কিন্তু তারা জবাবে আমাদের বলল আমরা তো মুহাম্মাদ (সা)-কে বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবানদের পসন্দমত পেয়েছি। এভাবে তারা যখন আমাদের বিরোধিতায় অটল রইল এবং ভাল ও মন্দকাজ একত্র করল, তখন আমরা সমুদ্রের পাড় থেকে তাদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু মাজদী ইব্‌ন Amr জুহানী এবং আমার অন্য সাথীরা আমাকে এ থেকে বিরত রাখল, অথচ এরাই আমাকে তরবারি ও তীর দিয়ে সাহায্য করেছিল। এ মহানুভবতার কারণ এই যে, আমাদের মধ্যে একটা চুক্তি ছিল, যা পালন করা আমাদের জন্য জরুরী ছিল, একজন বিশ্বাসী একে দৃঢ় ও মযবৃত করেছিলেন। যদি ইব্‌ন Amr না থাকত, তাহলে তাদের সংগে এমন যুদ্ধ হত যে, (ফলে) যুদ্ধের ময়দানে অবস্থানরত পাখিরা উড়ে যেত এবং এর প্রতিশোধ গ্রহণের কোন আশংকাও থাকত না। কিন্তু মাজদী এমন সম্পর্কের দোহাই দিল যে, হত্যার ব্যাপারে আমাদের হাতে তরবারির বাঁট সংকুচিত হয়ে গেল। যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে চকচকে শাণিত তরবারি নিয়ে অন্য সময় তাদের উপর হামলা করব। যে তরবারি বনূ লুআঈ ইন্ন গালিবের সাহায্যকারীদের হাতে থাকবে, দুর্ভিক্ষ ও দুর্যোগের সময় যাদের চেষ্টা সম্মানের দাবিদার।"
ইব্‌ন হিশাম বলেন: কাব্যবিশারদ অধিকাংশ পণ্ডিতের মতে এ কবিতা আবু জাহল কর্তৃক রচিত নয়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বুওয়াত অভিযান

📄 বুওয়াত অভিযান


ইবন ইসহাক জানান রবিউল আউয়াল মাসেই রাসূলুল্লাহ্ (সা) পুনরায় কুরায়שদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হন। ইব্‌ন হিশাম বলেন: এ সময় তিনি (সা) সাইব ইব্‌ন উসমান মাযউন (রা)-কে মদীনায় গভর্নর নিযুক্ত করেন। ইবন ইসহাক বলেন: চলার এক পর্যায়ে তিনি (সা) রেযা অঞ্চলের বুওয়াত' নামক স্থানে পৌঁছান কিন্তু কোন যুদ্ধ ছাড়াই তিনি মদীনায় ফিরে আসেন এবং এখানেই তিনি রবিউল আখিরের অবশিষ্ট অংশ এবং জুমাদিউল আউয়ালের কিছু অংশ অতিবাহিত করেন।

টিকাঃ
১. বুওয়াত হল: জালসী ও গাওরী নামক দুটো পাহাড়ের নাম।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উশায়রা অভিযান

📄 উশায়রা অভিযান


ইন্ন হিশাম বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবু সালমা ইব্‌ন আবদুল আসাদকে গভর্নর নিয়োগ করে কুরায়শদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হন।
ইবন ইসহাক বলেন: প্রথমে বনু দীনারের গিরিপথ দিয়ে এবং পরে খাব্বারের মরুভূমি অতিক্রম করে ইব্‌ন আযহারের প্রস্তরময় স্থানে একটি গাছের নিচে, যাকে 'যাতুস্-সাক' বলা হয়, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যাত্রা বিরতি করেন। সেখানে তিনি সালাত আদায় করেন। পরবর্তীকালে সেখানে তাঁর (সা) নামে একটি মসজিদ তৈরি হয়। সেখানে তাঁর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। যা তিনি খান এবং তাঁর সঙ্গীরাও খান। এখানে রান্না-বান্নার জন্য যে চুলা নির্মিত হয়েছিল, সে স্থানটি এখনও পরিচিত। এরপর মুশতারাব নামক ঝর্ণা থেকে তাঁর জন্য খাবার পানি সংগ্রহ করা হয়। অবশেষে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখান থেকে রওয়ানা হলেন এবং খালায়েক নামক স্থানকে বাঁদিকে রেখে আবদুল্লাহ্ উপত্যকার পথ ধরে অগ্রসর হলেন, যা এখনও 'শো'বা আবদুল্লাহ্' নামে পরিচিত। এরপর তিনি বামদিকের নিচু ভূমি অতিক্রম করে ইয়ালীল নামক স্থানে পৌঁছেন এবং যাবৃআ নামক মোহনায় যাত্রা বিরতি করেন। এখানকার একটি কূপ থেকে তিনি পানিপান করেন এবং মিলাল নামক মরূদ্যানের পথ ধরে সামনে চলতে থাকেন। অবশেষে তিনি সাহীরাতুল ইয়ামামের নিকট গিয়ে সাধারণের চলাচলের রাস্তায় উঠেন। তিনি (সা) সামনে অগ্রসর হয়ে ইয়াম্বু উপত্যকায় অবস্থিত আশীরা নামক স্থানে পৌঁছেন। সেখানে তিনি গোটা জুমাদিউল আউয়াল ও জুমাদিউস সানীর কয়েক দিন অবস্থান করেন। এখানে তিনি বনূ মাদলাজ ও তাদের মিত্র বনূ যামরার সংগে সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে মদীনায় ফিরে যান। এখানে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। এ অভিযানের সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী (রা)-কে যা বলেছিলেন, তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে ইয়াযীদ ইব্‌ন মুহাম্মদ ইব্‌ন খায়সাম মুহারিবী সূত্র পরম্পরায় আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি ও আলী আশীরা অভিযানে পরস্পরের সঙ্গী ছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন সেখানে অবস্থান করলেন, তখন আমরা বনূ মাদলাজ গোত্রের কিছু লোককে তাদের একটি কুয়া ও খেজুরের বাগানে কাজ করতে দেখলাম। তখন আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা) আমাকে বললেন: হে আবু ইয়াক্যান! তুমি কি আমার সঙ্গে ওদের কাছে যাবে, আমরা দেখে আসব তারা কিভাবে কাজ করে? আমি বললাম: ঠিক আছে। যেতে চান তো চলুন। আম্মার বলেন: তারপর আমরা তাদের কাছে গেলাম। কিছু সময় তাদের কাজকর্ম দেখার পর আমরা নিদ্রাভিভূত হয়ে পড়লাম। তখন আমরা কয়েকটি ছোট খেজুরের চারার ছায়ায় নরম যমীনের উপর নিদ্রা গেলাম। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজে এসে না জাগানো পর্যন্ত আমরা জাগিনি। সেদিন তিনি আলী (রা)-এর গায়ে মাটি লেগে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তাকে বললেন: হে আবূ তুরাব! (মাটির বাবা) তোমার এ কি দশা? তারপর তিনি বললেন: পৃথিবীর সবচেয়ে হতভাগা ব্যক্তিদ্বয় সম্পর্কে জানতে চাও কি? আমরা বললাম হ্যাঁ। ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা) অবশ্যই জানতে চাই। তিনি বললেন: তাদের দু'জনের একজন হল: সামুদ জাতির সেই ব্যক্তি, যে সালিহ আলায়হিস সালামের উটনীকে হত্যা করেছিল। আর দ্বিতীয়জন হল সেই ব্যক্তি, যে তোমার এ ঘাড়ের উপর কোপ দিয়ে তোমাকে হত্যা করবে; ফলে তোমার এ দাড়ি রক্তে রঞ্জিত হবে।
ইবন ইসহাক বলেন: কোন কোন জ্ঞানীজন আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলীকে আবূ তুরাব বলে এ জন্য ডাকতেন যে, যখন তিনি তাঁর সহধর্মিণী ফাতিমার উপর কোন ব্যাপারে অসন্তুষ্ট হতেন, তখন তিনি তাঁর সঙ্গে কোন কথা বলতেন না এবং তাঁর সঙ্গে কোন অপ্রিয় আচরণ করতেন না, বরং তিনি নিজের মাথায় কিছু ধুলোবালি মেখে চুপচাপ বসে থাকতেন। রাবী বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখনই আলী (রা)-এর মাথার ধুলোবালি দেখতে পেতেন, তখনই বুঝতেন যে, তিনি ফাতিমার উপর নাখোশ হয়েছেন। এ সময় তিনি বলতেন: হে আবু তুরাব! তোমার কি হয়েছে? এ দু'টি বর্ণনার মাঝে কোন্টি সঠিক, তা আল্লাহ্-ই ভাল জানেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে সেনাদল প্রেরণ

📄 সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে সেনাদল প্রেরণ


ইবন ইসহাক বলেন: এ সময়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে আটজন মুহাজিরের একটি সেনাদল পাঠান, যাঁরা হিজাযের খাররার নামক স্থান পর্যন্ত যান এবং কোন সংঘর্ষ ছাড়াই নিরাপদে মদীনায় ফিরে আসেন। ইবন হিশাম বলেন: কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, এ সেনাদলটি হামযা (রা)-এর সেনাদলের পরে প্রেরিত হয়েছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00