📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মদীনায় মহামারী আকারে জ্বরের প্রাদুর্ভাব

📄 মদীনায় মহামারী আকারে জ্বরের প্রাদুর্ভাব


ইবন ইসহাক বলেন: হিশাম ইব্‌ন উরওয়া ও উমর ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উরওয়া উরওয়া ইব্‌ন যুবায়র (রা) সূত্রে আয়েশা (রা) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন মদীনায় মহামারী আকারে জ্বরের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবীদের অনেকেই এ জ্বরে আক্রান্ত হন, কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নবী (সা)-কে এ থেকে হিফাযত করেন।
আবূ বকর (রা) ও তাঁর দু'জন আযাদকৃত গোলাম আমির ইব্‌ন ফুহায়রা ও বিলাল (রা) তাঁর সঙ্গে একই ঘরে ছিলেন। তাঁরা সবাই জ্বরে আক্রান্ত হন। আমি তাদের পরিচর্যা করতে তাদের ঘরে প্রবেশ করলাম। তখনো আমাদের জন্য পর্দার হুকুম নাযিল হয়নি। দেখলাম যে, তাঁরা খুবই কষ্ট পাচ্ছেন। আমি আবু বকর (রা)-এর কাছে গিয়ে বললাম, আব্বা! আপনার কেমন লাগছে? তখন তিনি কবিতার একটি চরণ আবৃত্তি করলেন: "প্রত্যেকেই নিজের পরিবারের সাথে রাত কাটায় (আর আমরা স্বদেশ থেকে অনেক দূরে); অথচ মৃত্যু তার জুতোর ফিতের চেয়েও নিকটবর্তী।"
আয়েশা (রা) বলেন: আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! আমার আব্বা কি বলছেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। তিনি বলেন: এরপর আমি আমির ইব্‌ন ফুহায়রার কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার কেমন লাগছে। তখন সে বলল: "মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণের আগেই মৃত্যুর সাক্ষাৎ পেলাম, কাপুরুষের মৃত্যু তো তার মাথার উপর থেকেই আপতিত হয়। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের সাধ্য অনুযায়ী আত্মরক্ষার জন্য চেষ্টা করে, যেমন ষাঁড় তার শিং দিয়ে নিজের চামড়া রক্ষা করে।"
আয়েশা (রা) বলেন: আল্লাহ্র শপথ! আমি বললাম, আমির কি বলছে, তো সে নিজেই বুঝে না।
আর বিলাল-এর অবস্থা ছিল যে, তার জ্বর ছাড়তেই সে উঠানে শুয়ে চীৎকার করে বলত: "হায় আক্ষেপ! আমি কি একদিনও মক্কার উপকন্ঠের ফাখখে গিয়ে একটি রাত কাটাতে পারব, যেখানে আমার চারপাশে ইযখির ও জালীল নামক সুগন্ধিযুক্ত তৃণলতা থাকবে। আর কোনও দিন কি আমি মাজান্নার বাজারে এবং শামা ও তুফায়ল পর্বতের পাদদেশে বিচরণ করতে পারব?"

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মদীনা থেকে মহামারী মাহিয়া (জুহফা) নামক স্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দু'আ

📄 মদীনা থেকে মহামারী মাহিয়া (জুহফা) নামক স্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দু'আ


আয়েশা (রা) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে তাদের এ অবস্থার কথা জানিয়ে বললাম, জ্বরের তীব্রতায় তারা আবোল-তাবোল বকছে। তিনি বলেন: আমার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) এরূপ দু'আ করলেন : হে আল্লাহ্! আপনি আমাদের কাছে মদীনাকে সেরূপ প্রিয় করে দিন যেরূপ আপনি মক্কাকে আমাদের কাছে প্রিয় করেছিলেন, বরং তার চাইতেও বেশি। আর আমাদের জন্য এর সর্বত্র বরকত দান করুন এবং এর মহামারীকে মাহিয়ার দিকে সরিয়ে নিন।
ইবন ইসহাক বলেন: ইব্‌ন শিহাব যুহরী আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন Amr ইব্‌ন আস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও তাঁর সাহাবীগণ মদীনায় আসার পর তাঁর সাহাবীরা কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হন। আল্লাহ্ তাঁর রাসূল (সা)-কে এ থেকে হিফাযত করেন। এ জ্বরে আক্রান্ত সাহাবীরা দুর্বলতার কারণে বসে বসে সালাত আদায় করতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের অবস্থা তদারক করতে গিয়ে তাদেরকে বসে বসে সালাত আদায়রত অবস্থায় দেখতে পেলেন। তখন তিনি তাদের বললেন: তোমরা জেনে রাখ, যে বসে সালাত আদায় করে, সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব পাবে। রাবী বলেন: এ কথা শুনে সাহাবীগণ রোগ ও দুর্বলতা সত্ত্বেও অধিক ফযীলত লাভের আশায় দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00