📄 ঈসার জন্ম এবং মারইয়াম ও যাকারিয়ার ব্যাপারে কুরআনের বিবরণ
এরপর নাজরানী প্রতিনিধিদলের সামনে ঈসা (আ)-এর বৃত্তান্ত তুলে ধরা হল এবং তাঁর ব্যাপারে আল্লাহ্র ব্যতিক্রমধর্মী পরিকল্পনার সূচনা কিভাবে হয়েছিল, তা বিবৃত করা হল। আল্লাহ্ বললেন : "আল্লাহ্ আদমকে, নূহকে, ইবরাহীমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতে মনোনীত করেছেন। তারা একে অপরের বংশধর। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।" এরপর আল্লাহ্ ইমরানের স্ত্রী এবং তাঁর কথার আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন : "স্মরণ কর, যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিলেন। "হে আমার রব! আমার গর্ভে যা আছে তা একান্ত তোমার জন্য আমি উৎসর্গ করলাম।" অর্থাৎ তাকে আমি আমার সংসারের কোন কাজে খাটাবনা, বরং সার্বক্ষণিকভাবে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদতে তাকে নিয়োজিত রাখব। সুতরাং তুমি আমার নিকট থেকে তা কবুল কর, তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" এরপর যখন সে তাকে প্রসব করল, তখন তিনি বললেন : 'হে আমার রব! আমি কন্যা সন্তান প্রসব করেছি।' সে' যা প্রসব করেছে, আল্লাহ্ তা সম্যক অবগত। 'আর ছেলে তো মেয়ের মত নয়।' অর্থাৎ আমি তাকে একান্তভাবে তোমার জন্য উৎসর্গ করেছি আর ছেলে তো মেয়ের মত নয়। 'আর আমি তার নাম রেখেছি মারইয়াম। এবং অভিশপ্ত শয়তান থেকে তারও তার বংশধরদের জন্য তোমার আশ্রয় চাই।' আল্লাহ্ বলেন : "এরপর তার প্রতিপালক তাকে সাগ্রহে কবুল করলেন, তাকে উত্তমরূপে লালন-পালন করলেন এবং তিনি তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রাখলেন।” অর্থাৎ মারইয়ামের পিতামাতার মৃত্যুর পর তাঁর তত্ত্বাবধানে রাখলেন।
ইবন হিশাম "তত্ত্বাবধানে রাখার" ব্যাখ্যা করে বলেন যে, এর অর্থ তাকে যাকারিয়ার পরিবারের সাথে যুক্ত করে দিলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: এ সূরায় আল্লাহ্ মারইয়ামের ইয়াতীম হয়ে যাওয়ার অবস্থা বর্ণনা করেছেন, তারপর মারইয়াম ও যাকারিয়ার বৃত্তান্ত, যাকারিয়ার দু'আ, আল্লাহ্ কর্তৃক যাকারিয়াকে ইয়াহ্ইয়া নামক সন্তান দান, এরপর মারইয়ামের সংগে ফেরেশতাদের কথাবার্তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।
📄 মারইয়ামের অভিভাবকত্বে জুরায়য
ইবন ইসহাক বলেন: এ লটারিতে অভিভাবক বা তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে জুরায়জ পাদ্রীর নাম ওঠে, যিনি বনূ ইসরাঈলের একজন কাঠমিস্ত্রী ছিলেন। তিনি তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন যাকারিয়া। একবার বনু ইসরাঈলে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে যাকারিয়া মারইয়ামের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হন। তাই তার অভিভাবক নির্ধারণে লটারির প্রয়োজন দেখা দেয়। লটারিতে জুরায়জ দরবেশের নাম উঠলে তিনি তার অভিভাবক হয়ে যান। আল্লাহ্ বলেন: “তারা যখন বাদানুবাদ করছিল, তখনও আপনি তাদের নিকট ছিলেন না।"
নাজরানের খ্রিস্টান প্রতিনিধি দল মারইয়াম সংক্রান্ত যেসব জানা কথা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে গোপন করছিল, তা তাঁর কাছে প্রকাশ করার জন্য আল্লাহ্ একথা বলেন, যাতে তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, তাদের গোপন করা বিষয় যিনি তাদের সামনে প্রকাশ করে দিলেন, তিনি অবশ্যই একজন নবী।
এরপর আল্লাহ্ বলেন: "স্মরণ কর, যখন ফেরেশতারা বললেন: 'হে মারইয়াম! আল্লাহ্ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালেমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, তাঁর নাম মসীহ্, মারইয়াম পুত্র ঈসা।" অর্থাৎ ঈসার জন্মের ব্যাপারটি এরূপই ছিল; তোমরা যেরূপ বলে থাক, সেরূপ নয়।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বলেন: "সে দুনিয়া ও আখিরাতে (আল্লাহ্র নিকট) সম্মানিত এবং সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের অন্যতম হবে। সে দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সঙ্গে কথা বলবে এবং সে হবে পূণ্যবানদের একজন।" এখানে আল্লাহ্ অন্যান্য আদম সন্তানের ন্যায় তার জীবনেও বিবর্তন তথা শৈশব থেকে পরিণত বয়সে উত্তরণের কথা জানাচ্ছেন। পার্থক্য শুধু এই যে, আল্লাহ্ তাঁকে দোলনায় থাকাকালে কথা বলার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। ঈসার নবুওয়তের নির্দশন প্রকাশ এবং আল্লাহর অসীম কুদরত সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা-এ উভয় উদ্দেশ্যেই এ অস্বাভাবিক ও অলৌকিক কার্যট সংঘটিত করা হয়েছিল। "সে (মারইয়াম) বলল: হে আমার রব! আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করেনি, আমার সন্তান হবে কীভাবে? তিনি বললেন: এভাবেই, আল্লাহ্ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন।” অর্থাৎ তিনি যা চান তাই করেন। আর তিনি যা সৃষ্টি করতে চান তা করেন, মানুষ হোক বা অন্য কিছু। "তিনি যখন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন বলেন: 'হও', এবং তা হয়ে যায়।”
এরপর সেই অনাগত সন্তান ঈসার আগমনের উদ্দেশ্য কি, সে সম্পর্কে আল্লাহ্ বললেন: 'তিনি তাকে কি শিক্ষা দেবেন কিতাব, হিকমত ও তাওরাত, যা তাঁর আগে থেকেই বন্ ইসরাঈলের মাঝে চালু ছিল, আর ইনজীলেরও শিক্ষা দেবেন, আর আসমানী কিতাব যা আল্লাহ্ ঈসার ওপর নাযিল করেন। এতে উল্লেখ ছিল যে, হযরত ঈসার পরে আর একজন নবী আসবেন। "এবং তাকে বনূ ইসরাঈলের জন্য রাসূল করব, সে বলবে: আমি তোমাদের কাছে একটি নিদর্শন নিয়ে এসেছি; যা দিয়ে আমার নবুওয়ত প্রমাণিত হয়। (সেই নির্দশন হল) আমি তোমাদের জন্য মাটি দিয়ে পাখি সদৃশ আকৃতি বানাব; এরপর তাতে আমি ফুঁক দেব; ফলে আল্লাহর হুকুমে তা পাখি হয়ে যাবে।" সেই আল্লাহই আমাকে নবী হিসাবে পাঠিয়েছেন এবং তিনিই তোমাদের রব। "আর আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্তকে নিরাময় করব এবং আল্লাহ্র হুকুমে মৃতকে জীবিত করব। তোমরা তোমাদের ঘরে যা খাও এবং যা জমা করে রাখ, তা আমি তোমাদের বলে দেব। তোমরা যদি মু'মিন হও, তবে এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।"-এ মর্মে যে আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল হিসাবে এসেছি। -"আর আমি এসেছি, আমার আগে তাওরাতের যা রয়েছে, তার সমর্থকরূপে ও তোমাদের জন্য যা নিষিদ্ধ ছিল, তার কতককে বৈধ করতে"-অর্থাৎ এতে তোমাদের উপর আরোপিত বিধি-নিষেধের কড়াকড়ি শিথিল হবে এবং তোমাদের জীবন যাপন সহজতর হবে।"এবং আমি তোমাদের রবের নিকট থেকে তোমাদের জন্য নিদর্শন নিয়ে এসেছি। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আমার রব এবং তোমাদেরও রব।” অর্থাৎ কিছু লোক যে বলে, আল্লাহ্ আমার পিতা, তা মিথ্যা। তিনি আমার রব, যেমন তোমাদেরও রব। "সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদত করবে। এটাই ঐ সরল পথ।" অর্থাৎ এটাই সরল পথ, যে পথে চলার জন্য আমি তোমাদের উদ্বুদ্ধ করছি, আর যে পথের সন্ধান নিয়ে আমি তোমাদের কাছে এসেছি। "যখন ঈসা তাদের অবিশ্বাস করল (এবং তাঁর প্রতি শত্রুতার মনোভাব আঁচ করতে পারল), তখন সে বলল: 'আল্লাহর পথে কারা আমার সাহায্যকারী'? তখন শিষ্যরা বলল: আমরাই আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহ্র উপর ঈমান এনেছি। এটাই • হাওয়ারীদের সেই উক্তি, যার কারণে তারা আল্লাহ্ বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন। "আমরা আত্মসমর্পণকারী, আপনি এর সাক্ষী থাকুন।" আমরা তাদের মত নই, যারা আপনার সঙ্গে অহেতুক তর্ক-বির্তকে লিপ্ত হয়। "হে আমাদের রব! তুমি যা নাযিল করেছ, তাতে আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা এ রাসূলের অনুসরণ করেছি। সুতরাং তুমি আমাদের সাক্ষ্য বহনকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর।" অর্থাৎ ঈসা (আ)-এর শিষ্যদের কথা ও ঈমান এরূপই ছিল।
📄 ঈসা (আ)-কে আসমানে উঠিয়ে নেয়া
এরপর যখন ইয়াহূদীরা ঈসা (আ)-কে হত্যা করার জন্য সংঘবদ্ধ হল, তখন আল্লাহ্ তাঁকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিলেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বলেন: "এবং তারা চক্রান্ত করেছিল, আর আল্লাহ্ও কৌশল করেছিলেন; আল্লাহ্ কৌশলীদের শ্রেষ্ঠ।"-এরপর আল্লাহ্ ইয়াহুদীরা যে ঈসাকে শূলে বিদ্ধ করেছে, তাদের এ ভ্রান্ত ধারণা অপনোদন করে তিনি ঈসা (আ)-কে কিরূপে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং ইয়াহূদীদের চক্রান্ত থেকে তাঁকে রক্ষা করেছেন, সে সম্পর্কে বলেন:
"স্মরণ কর, যখন আল্লাহ্ বললেন: হে ঈসা! আমি তোমার কাল পূর্ণ করছি এবং আমার কাছে তোমাকে তুলে নিচ্ছি; আর যারা কুফরী করছে, তাদের মধ্য থেকে তোমাকে মুক্ত করছি।” অর্থাৎ তারা যখন তোমার ব্যাপারে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে, তখন আমি তোমাকে তাদের চক্রান্ত থেকে উদ্ধার করব। "আর তোমার অনুসারীদের কিয়ামত পর্যন্ত কাফিরদের উপর প্রাধান্য দিচ্ছি।" এরপর কয়েকটি আয়াতে এ প্রসঙ্গে আরো কিছু কথা বলার পর, আল্লাহ্ বলেন: “(হে মুহাম্মদ!) যা আমি আপনার কাছে বিবৃত করেছি, তা নিদর্শন ও সারগর্ভ বাণী থেকে।” অর্থাৎ ঈসা (আ) ও তাঁর ব্যাপারে তাদের মাঝে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল, সে ব্যাপারে নির্ভুল ও সঠিক সিদ্ধান্ত এটাই। যাতে অসত্য ও বিভ্রান্তির বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। সুতরাং আপনি ঈসা (আ)-এর ব্যাপারে, এ তথ্য ছাড়া অন্য কোন তথ্যকে সত্য বলে কখনো গ্রহণ করবেন না।
"আল্লাহ্র নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্ত স্বরূপ। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন, তারপর তাকে বলেছিলেন : হও, ফলে সে হয়ে গেল। এ সত্য আপনার রবের নিকট থেকে। অর্থাৎ ঈসা সম্পর্কে আপনার কাছে আপনার রবের পক্ষ হতে যে খবর এসেছে, তা সঠিক। "সুতরাং আপনি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।"
যদি তারা বলে যে, পিতা ছাড়া কিভাবে ঈসা জন্ম নিলেন? এর জবাব এই যে, আমি আদমকে এর আগে পিতামাতা ছাড়াই আমার কুদরতে মাটি থেকেই সৃষ্টি করেছি। ঈসার মতই আদমও রক্ত-মাংস, চুল-চামড়া ইত্যাদি সহকারেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কাজেই পিতা ছাড়া ঈসার সৃষ্টি আদমের সৃষ্টির চেয়েও অধিক বিস্ময়কর কিছু নয়। “(হে নবী!) আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর যে কেউ আপনার সংগে তর্ক করে" অর্থাৎ আমি তার সম্পর্কে আপনার কাছে যা বিবৃত করেছি, এরপরও যদি সে আপনার সংগে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়, "তবে তাকে বলুন: এস, আমরা আহবান করি আমাদের পুত্রদের ও তোমাদের পুত্রদের, আমাদের নারীদের ও তোমাদের নারীদের, আমাদের নিজদের ও তোমাদের নিজদের; এরপর আমরা বিনীত আবেদন করি এবং মিথ্যাবাদীদের উপর দেই আল্লাহর লা'নত।"
"নিশ্চয়ই এটি সত্য বৃত্তান্ত” অর্থাৎ ঈসা সম্পর্কে যে খবর আমি বিবৃত করেছি, তা সত্য। "আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মহাপরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আল্লাহ্ ফাসাদকারীদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। আপনি বলুন, হে কিতাবীগণ! এস সে কথায়, যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে একই, যেন আমরা আল্লাহ্ ব্যতীত কারো ইবাদত না করি, কোন কিছুকেই তাঁর শরীক না করি এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ্ ব্যতীত প্রতিপালকরূপে গ্রহণ না করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনি বলুন, তোমরা সাক্ষী থাক, আমরা মুসলিম।"
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের সাথে সকল যুক্তি-তর্কের অবসান ঘটান।
📄 পারস্পরিক অভিসম্পাতের প্রস্তাব গ্রহণ করা থেকে খ্রিস্টানদের পিঠটান
রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে যখন ঈসা (আ) সম্পর্কে অকাট্য ও নির্ভুল তথ্য আসে এবং খ্রিস্টানরা তা মানতে অস্বীকার করে, তখন তিনি আল্লাহ্র নির্দেশক্রমে তাদের পারস্পরিক অভিসম্পাতের জন্য প্রস্তাব দেন। তখন খ্রিস্টানরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলে: হে আবুল কাসিম! আমাদের করণীয় সম্পর্কে আমাদের একটু ভাবতে দিন। তারপর আমরা আপনার দাওয়াত সম্পর্কে কর্তব্য স্থির করে আপনার কাছে আসব। এরপর তারা তাঁর কাছ থেকে চলে গেল। তারা তাদের প্রধান উপদেষ্টা আকিবের সাথে সলা-পরামর্শে বসল। তারা তাকে বলল: হে আবদুল মাসীহ! তোমার অভিমত কি?
সে বলল: হে খ্রিস্টান সম্প্রদায়! তোমরা অবশ্যই জেনে গেছ যে, মুহাম্মদ একজন প্রেরিত নবী। তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের নেতা ঈসা (আ) সম্পর্কে অকাট্য তথ্য নিয়ে এসেছেন। তোমরা এ কথাও জান যে, যখনই কোন জাতি কোন নবীর সঙ্গে পারস্পরিক অভিসম্পাতে লিপ্ত হয়েছে, তাদের ছোট-বড় সকলেই ধ্বংস হয়ে গেছে। সুতরাং তোমরা যদি প্রস্তাবিত এ পারস্পরিক অভিসম্পাতে লিপ্ত হও, তবে জেনে রেখ, তোমাদের সমূলে ধ্বংস করাই তাঁর উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায়। তোমরা যদি চাও যে, তোমাদের ধর্মের প্রতি তোমাদের আনুগত্য বজায় থাকুক এবং ঈসা সম্পর্কে তোমাদের নীতি অব্যাহত থাকুক, তাহলে মুহাম্মদ (সা)-এর কাছ থেকে বিদায় নাও এবং দেশে ফিরে যাও।
এ পরামর্শ মুতাবিক প্রতিনিধি দলটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে বলল: হে আবুল কাসিম! আমরা আপনার সঙ্গে পারস্পরিক অভিশাপ বিনিময়ের এ কাজে যোগ দিতে ইচ্ছুক নই। আমরা আপনাকে আপনার ধর্মে এবং নিজেদেরকে নিজেদের ধর্মে বহাল রেখে ফিরে যেতে চাই। তবে আমাদের সাথে আপনার পসন্দসই একজন লোককে পাঠিয়ে দিন, যিনি আমাদের ধনসম্পদের বিষয়ে আমাদের মতবিরোধ নিষ্পত্তি করবেন। আমরা তাঁর কথা মেনে নেব।