📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট তাদের যুলকারনায়ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট তাদের যুলকারনায়ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা


ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সালাম নামক ইয়াহুদী পণ্ডিত যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন হুয়াই ইবন আখতাব, কা'ব ইব্‌ন আসাদ, আবূ রাফি', উশায়' এবং শামবীল ইব্‌ন যায়দ তাঁকে বলল: আরবদের মধ্যে তো নবী আসবে না, বরং তোমাদের বন্ধু (মুহাম্মদ) তো একজন বাদশাহ। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে তাঁকে যুলকারনায়ন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। রাসূল (সা)-এর কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এ সম্পর্কে যে বিবরণ এসেছিল এবং যা তিনি ইতিপূর্বে কুরায়שদের কাছে পেশ করেছিলেন, সে বিবরণ তাদের শুনিয়ে দিলেন। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে যখন কুরায়শ নেতারা নাযর ইবন হারিস ও উকবা ইব্‌ন আবু মুয়াইতকে মদীনার ইয়াহুদী পণ্ডিতদের কাছে পাঠিয়েছিলেন, তখন উপরোক্ত ইয়াহূদী নেতারাই ঐ দুই ব্যক্তির মাধ্যমে কুরায়শ নেতৃবৃন্দকে পরামর্শ দিয়েছিল যে, আপনারা মুহাম্মদ (সা)-এর নিকট যুলকারনায়ন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আল্লাহ্র সত্তা সম্পর্কে ইয়াহুদীদের ধৃষ্টতাপূর্ণ জিজ্ঞাসাবাদ

📄 আল্লাহ্র সত্তা সম্পর্কে ইয়াহুদীদের ধৃষ্টতাপূর্ণ জিজ্ঞাসাবাদ


ইবন ইসহাক বলেন: আমাকে সাঈদ ইব্‌ন জুবায়র জানিয়েছেন যে, একবার কতিপয় ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল: হে মুহাম্মদ। আল্লাহ্ তো সমগ্র সৃষ্টি জগতকে সৃষ্টি করেছেন, তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? এ প্রশ্ন শুনে রাসূল (সা) এত রেগে যান যে, তাঁর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে যায় এবং তিনি তাদেরকে আল্লাহর গযবের ব্যাপারে সাবধান করে দেন। এ সময়ে তাঁর কাছে জিবরীল (আ) আসেন এবং তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন: হে মুহাম্মদ! আপনি শান্ত হোন। এরপর তিনি ইয়াহুদীদের প্রশ্নের যে জবাব আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে এসেছিলেন, তা তাঁকে শোনালেন। তা হল: "আপনি বলুন, তিনি আল্লাহ্ একক ও অদ্বিতীয়, আল্লাহ্ কারো মুখাপেক্ষী নন; তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, তাঁর সমতুল্য কেউ-ই নেই।" (১১২: ১-৪)
রাসূলুল্লাহ্ (সা) সমবেত ইয়াহুদীদের সামনে উপরোক্ত সূরা পড়ে শোনানোর পর তারা বলল: হে মুহাম্মদ! আপনার এ বক্তব্য না হয় বুঝলাম। এখন বলুন তাঁর আকার-আকৃতি কেমন? তাঁর হাত কেমন? তাঁর বাহু কেমন?"
এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আগের চাইতেও বেশি রাগান্বিত হলেন এবং তাদের পুনরায় সতর্ক করলেন। এ সময় জিবরীল (আ) তাঁর কাছে আসলেন এবং প্রথমবার তাঁকে যা বলেছিলেন, তার পুনরাবৃত্তি করলেন। আর এ প্রশ্নের যে জবাব আল্লাহ্ কাছ থেকে নিয়ে এসেছিলেন তা তাঁকে শোনালেন। আল্লাহ্ সেই জবাব হল:
"তারা আল্লাহর যথোচিত সম্মান করে না। কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আকাশমণ্ডলী থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাকে শরীক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে।” (৩৯: ৬৭)
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বনূ তায়মের আযাদকৃত গোলাম উত্তা ইব্‌ন মুসলিম, আবূ সালমা ইব্‌ন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলতে শুনেছি “এমন একদিন আসবে, যখন লোকেরা পরস্পরে নানা রকমের জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এমনকি কেউ এরূপ প্রশ্নও করবে যে, আল্লাহ্ তো সমগ্র সৃষ্টির স্রষ্টা কিন্তু আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? লোকেরা যখন এরূপ প্রশ্ন করবে, তখন তোমরা বলবে: আপনি বলুন, আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ কারো মুখাপেক্ষী নন, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।” (১১২: ১-২)।
এরূপ কথা শোনার পর শ্রবণকারীর উচিত তার বামদিকে তিনবার থুথু ফেলা এবং বিতাড়িত শায়তান থেকে আল্লাহ্র নিকট পানাহ্ চাওয়া।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00