📄 ইয়াহুদীদের হকপন্থী হওয়ার দাবি
একদা রাফি' ইবন হারিসা, সালাম ইব্ন মিশকাম, মালিক ইবন সায়ফ ও রাফি' ইব্ন হুরায়মালা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে বলল: হে মুহাম্মদ! আপনি কি এরূপ দাবি করেন না যে, আপনি ইবরাহীমের মিল্লাত ও তাঁর দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন এবং আমাদের কাছে যে তাওরাত রয়েছে তার প্রতি ঈমান রাখেন, আর আপনি সাক্ষ্য দিয়ে থাকেন যে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হক কিতাব? জবাবে তিনি বললেন: হ্যাঁ। কিন্তু তোমরা তো অনেক নতুন ব্যাপার উদ্ভাবন করে নিয়েছ এবং ঐ কিতাবে আল্লাহ্ কর্তৃক তোমাদের থেকে অংগীকার নেওয়ার যে বিষয় উল্লিখিত রয়েছে, তা তোমরা অস্বীকার করেছ। আর ঐ কিতাবের যে বিধান মানুষের কাছে বর্ণনা করার জন্য তোমরা আদিষ্ট হয়েছিলে, তোমরা তা গোপন করেছ।
তখন তারা বলল: আমাদের কাছে যা আছে, তা আমরা গ্রহণ করি এবং আমরা হক ও হিদায়াতের উপরই আছি। আমরা আপনার প্রতি ঈমান রাখি না এবং আপনার অনুসরণও আমরা করব না। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে নাযিল করেন:
قُلْ يٰاَهْلَ الْكِتٰبِ لَسْتُمْ عَلٰى شَيْءٍ حَتّٰى تُقِيْمُوا التَّوْرٰةَ وَالْاِنْجِيْلَ وَمَآ اُنْزِلَ اِلَيْكُمْ مِنْ رَّبِّكُمْ وَلَيَزِيْدَنَّ كَثِيْرًا مِّنْهُمْ مَّآ اُنْزِلَ اِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَّكُفْرًا - فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْكٰفِرِيْنَ -
"আপনি বলে দিন, হে কিতাবীগণ! তাওরাত, ইনজীল ও যা তোমাদের রবের নিকট থেকে তোমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে, তোমরা তা প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত তোমাদের কোন ভিত্তিই নেই। তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে, তা তাদের অনেকের ধর্মদ্রোহিতা ও অবিশ্বাস-ই বৃদ্ধি করবে। সুতরাং আপনি কাফির সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করবেন না।” (৫: ৬৮)
📄 ইয়াহুদীদের আল্লাহ্র সঙ্গে শিরক
ইবন ইসহাক বলেন: একদা নাহাম ইবন যায়দ, কুরদাম ইবন কা'ব ও বাহরী ইবন 'আমর রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে এসে বলল: হে মুহাম্মদ! আপনি আল্লাহ্র সঙ্গে অন্য কোন উপাস্যও মানেন নাকি? জবাবে রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন: الله لا اله إلا هُوَ بذالك بعثتُ والى ذلك ادعو "আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। এ দাওয়াত নিয়েই আমি প্রেরিত হয়েছি, আর এরই দিকে আমি সবাইকে আহবান করি।"
তখন আল্লাহ্ তাদের এবং তাদের এ বক্তব্যের ব্যাপারে নাযিল করেন:
قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَى هَذَا الْقُرْآنُ لِأَنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ أَنَّكُمْ لَتَشْهَدُونَ أَنَّ مَعَ اللَّهِ الهَةَ أُخْرى . قُلْ لا أَشْهَدُ قُلْ إِنَّمَا هُوَ الهُ وَاحِدٌ وَانَّنِي بَرَى مِّمَّا تُشْرِكُونَ - الَّذِينَ أَتَيْنُهُمُ الْكِتَبَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ ابْنَانَهُمْ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فَهُمْ لا يُؤْمِنُونُ .
"বলুন, সাক্ষ্য প্রদানে সর্বশ্রেষ্ঠ কী? বলে দিন, আল্লাহ্ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী এবং এ কুরআন আমার নিকট প্রেরিত হয়েছে যেন তোমাদের এবং যার নিকট এটি পৌঁছবে তাদের এ দিয়ে আমি সতর্ক করি, তোমরা কি এ সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্র সঙ্গে অন্য কোন ইলাহও আছে? বলে দিন, 'আমি সে সাক্ষ্য দেই না'; বলুন, তিনি একক ইলাহ এবং তোমরা যে শরীক কর তা থেকে আমি মুক্ত। আমি যাদের কিতাব দিয়েছি তারা তাঁকে সেরূপ চেনে, যেরূপ চেনে তাদের সন্তানদের; যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, তারা বিশ্বাস করবে না। (৬: ১৯-২০)
📄 আল্লাহ্ পক্ষ হতে মু'মিনদের প্রতি ইয়াহুদীদের সাথে বন্ধুত্ব করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা
রিফাআ ইব্ন যায়দ ইব্ন তাবূত এবং সুওয়ায়িদ ইবন হারিস বাহ্যত ইসলাম গ্রহণ করে মুনাফিকী নীতি অবলম্বন করেছিল। মুসলমানদের অনেকে তাদের বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছিল। তখন আল্লাহ্ তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন:
يَّأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَكُمْ هُزُوا وَلَعِبًا مِّنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَبَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَالْكُفَّارَ أَوْلِيَاءَ وَاتَّقُوا اللهَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ . وَإِذَا جَاءُوكُمْ قَالُوا أَمَنَّا وَقَدْ دَخَلُوا بِالْكُفْرِ وَهُمْ قَدْ خَرَجُوا بِهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا يَكْتُمُونَ -
"হে মু'মিনগণ! তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দীনকে হাসি-তামাশা ও ক্রীড়ার বস্তুরূপে গ্রহণ করে, তাদের ও কাফিরদের তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং যদি তোমরা মু'মিন হও, তবে আল্লাহকে ভয় কর। (৫: ৫৭)... তারা যখন তোমাদের নিকট আসে, তখন বলে, 'আমরা বিশ্বাস করি', কিন্তু তারা কুফর নিয়েই আসে এবং তা নিয়েই বের হয়ে যায়। তারা যা গোপন করে আল্লাহ্ তা বিশেষভাবে অবহিত।" (৫: ৬১)
📄 কিয়ামত সংঘটিত হওয়া সম্পর্কে ইয়াহুদীদের জিজ্ঞাসা
জাবাল ইব্ন আবূ কুশায়র এবং শামুয়েল ইব্ন যায়দ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে লক্ষ্য করে বলল: হে মুহাম্মদ। আপনি যেমন বলেন যে, আপনি নবী, তা যদি সত্য হয়, তাহলে আপনি আমাদের বলুন, কিয়ামত কবে হবে? তখন আল্লাহ্ তাদের ব্যাপারে নাযিল করেন:
يَسْتَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسُهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي لَا يُجَلِّيْهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ثَقُلَتْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا تَأْتِيكُمُ الأَ بَغْتَهُ - يَسْتَلُونَكَ كَانَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ -
"তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? আপনি বলে দিন, এ বিষয়ের জ্ঞান শুধু আমার রবের-ই আছে। শুধু তিনি-ই যথাকালে তা প্রকাশ করবেন, তা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে একটা ভয়ংকর ঘটনা হবে। হঠাৎ তা তোমাদের উপর আসবে, আপনি এ বিষয়ে সবিশেষ অবহিত মনে করে তারা আপনাকে প্রশ্ন করে। আপনি বলুন, এ বিষয়ের জ্ঞান শুধু আল্লাহর-ই আছে, কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জ্ঞাত নয়।" (৭: ১৮৭)
ইবন হিশাম বলেন : أَيَّانَ مُرْسَامًا অর্থ متی مرساها কবে তার সমাপ্তি বা শেষ সীমা। আর حفى বলতে সেই ঘনিষ্ঠজনকে বোঝানো হয়েছে, যিনি এতই ঘনিষ্ঠ যে, অন্যে তাদের যা বলবে 'না, তাই তিনি তাদের বলবেন। আর حفى শব্দটি مستحفی অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে, যার অর্থ কোন ব্যাপারে সম্যক অবগত এবং যিনি কোন ব্যাপারে অনুসন্ধান করে প্রকৃত তথ্য অবগত হয়েছেন।