📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রক্তপণের ব্যাপারে ইয়াহুদীদের বৈষম্য

📄 রক্তপণের ব্যাপারে ইয়াহুদীদের বৈষম্য


ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট দাউদ ইবন হুসায়ন ইকরামা সূত্রে ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, সূরা মায়িদার যে আয়াতসমূহে আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন: فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ وَإِنْ تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَنْ يَضُرُّوكَ شَيْئًا وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بالْقِسْطِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ -
"(তারা যদি আপনার কাছে আসে), তবে তাদের বিচার নিষ্পত্তি করবেন, অথবা তাদের উপেক্ষা করবেন। আপনি যদি তাদের উপেক্ষা করেন, তবে তারা আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর যদি বিচার নিষ্পত্তি করেন, তবে তাদের মাঝে ন্যায়বিচার করবেন; আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণদের ভালবাসেন।" (৫: ৪২)
এ আয়াতগুলো বনূ নযীর ও বনু কুরায়যার দীয়ত বা রক্তপণের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। এটা এজন্যে যে, বনূ নযীরের নিহতরা সম্মানিত ও অভিজাত ছিল বিধায় তাদের রক্তপণ পুরোপুরি আদায় করা হত। পক্ষান্তরে বনু কুরায়যার নিহতদের জন্যে অর্ধেক রক্তপণ আদায় করা হত। এ ব্যাপারে তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ফয়সালা প্রার্থনা করল। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের এ ব্যাপারে সত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন এবং রক্তপণ সমান করে দেন।
ইবন ইসহাক বলেন: এর কোন্টা যে যথার্থ, তা আল্লাহই ভাল জানেন।

ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট দাউদ ইবন হুসায়ন ইকরামা সূত্রে ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, সূরা মায়িদার যে আয়াতসমূহে আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন: فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ وَإِنْ تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَنْ يَضُرُّوكَ شَيْئًا وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بالْقِسْطِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ -
"(তারা যদি আপনার কাছে আসে), তবে তাদের বিচার নিষ্পত্তি করবেন, অথবা তাদের উপেক্ষা করবেন। আপনি যদি তাদের উপেক্ষা করেন, তবে তারা আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর যদি বিচার নিষ্পত্তি করেন, তবে তাদের মাঝে ন্যায়বিচার করবেন; আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণদের ভালবাসেন।" (৫: ৪২)
এ আয়াতগুলো বনূ নযীর ও বনু কুরায়যার দীয়ত বা রক্তপণের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। এটা এজন্যে যে, বনূ নযীরের নিহতরা সম্মানিত ও অভিজাত ছিল বিধায় তাদের রক্তপণ পুরোপুরি আদায় করা হত। পক্ষান্তরে বনু কুরায়যার নিহতদের জন্যে অর্ধেক রক্তপণ আদায় করা হত। এ ব্যাপারে তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ফয়সালা প্রার্থনা করল। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের এ ব্যাপারে সত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন এবং রক্তপণ সমান করে দেন।
ইবন ইসহাক বলেন: এর কোন্টা যে যথার্থ, তা আল্লাহই ভাল জানেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়াহুদীদের রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে পরীক্ষা করার অপপ্রয়াস

📄 ইয়াহুদীদের রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে পরীক্ষা করার অপপ্রয়াস


ইবন ইসহাক বলেন: কা'ব ইব্‌ন আসাদ, ইব্‌ন সূরিয়া, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সূরিয়া এবং শাস ইব্‌ন কায়স নিজেদের মধ্যে এ মর্মে বলাবলি করল যে, চল আমরা মুহাম্মদের কাছে যাই। হয়তো বা ছলে-বলে আমরা তাঁকে তাঁর ধর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারব। কেননা তিনি তো একজন মানুষ। সেমতে তারা তাঁর কাছে এল এবং বলল : হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আপনি অবগত আছেন যে, আমরা ইয়াহুদীদের পণ্ডিত এবং তাদের সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। আমরা যদি আপনার ধর্ম গ্রহণ করে নিই, তাহলে সমগ্র ইয়াহুদী সমাজ আপনার অনুসারী হয়ে যাবে এবং তারা আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে না। আমাদের এবং আমাদের সম্প্রদায়ের কিছু লোকের মধ্যে কলহ রয়েছে। আমরা যদি আপনাকে তাদের এবং আমাদের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার জন্যে বিচারক নিযুক্ত করি, আর আপনি যদি তাদের বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষে রায় দেন, তাহলে আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনব এবং আপনাকে সত্য নবী বলে মেনে নেব। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। এ সময় আল্লাহ্ তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন:
وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَانَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يُفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضٍ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضٍ ذُنُوبِهِمْ وَإِنْ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفُسِقُوْنَ - أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ -
"(আর আমি কিতাব নাযিল করেছি) যাতে আপনি আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী তাদের বিচার নিষ্পত্তি করেন, আর তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ না করেন-এবং তাদের সম্বন্ধে সতর্ক থাকবেন যাতে আল্লাহ্ যা আপনার প্রতি নাযিল করেছেন, তারা তার কিছু থেকে আপনাকে বিচ্যুত না করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখুন যে, তাদের কোন কোন পাপের জন্য আল্লাহ্ তাদের শাস্তি দিতে চান এবং মানুষের মধ্যে অনেকেই তো সত্যত্যাগী। তবে কি তারা জাহিলী যুগের বিধি-বিধান চায়? নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহ্ অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠতর?" (৫: ৪৯-৫০)

ইবন ইসহাক বলেন: কা'ব ইব্‌ন আসাদ, ইব্‌ন সূরিয়া, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সূরিয়া এবং শাস ইব্‌ন কায়স নিজেদের মধ্যে এ মর্মে বলাবলি করল যে, চল আমরা মুহাম্মদের কাছে যাই। হয়তো বা ছলে-বলে আমরা তাঁকে তাঁর ধর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারব। কেননা তিনি তো একজন মানুষ। সেমতে তারা তাঁর কাছে এল এবং বলল : হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আপনি অবগত আছেন যে, আমরা ইয়াহুদীদের পণ্ডিত এবং তাদের সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। আমরা যদি আপনার ধর্ম গ্রহণ করে নিই, তাহলে সমগ্র ইয়াহুদী সমাজ আপনার অনুসারী হয়ে যাবে এবং তারা আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে না। আমাদের এবং আমাদের সম্প্রদায়ের কিছু লোকের মধ্যে কলহ রয়েছে। আমরা যদি আপনাকে তাদের এবং আমাদের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার জন্যে বিচারক নিযুক্ত করি, আর আপনি যদি তাদের বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষে রায় দেন, তাহলে আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনব এবং আপনাকে সত্য নবী বলে মেনে নেব। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। এ সময় আল্লাহ্ তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন:
وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَانَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يُفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضٍ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضٍ ذُنُوبِهِمْ وَإِنْ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفُسِقُوْنَ - أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ -
"(আর আমি কিতাব নাযিল করেছি) যাতে আপনি আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী তাদের বিচার নিষ্পত্তি করেন, আর তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ না করেন-এবং তাদের সম্বন্ধে সতর্ক থাকবেন যাতে আল্লাহ্ যা আপনার প্রতি নাযিল করেছেন, তারা তার কিছু থেকে আপনাকে বিচ্যুত না করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখুন যে, তাদের কোন কোন পাপের জন্য আল্লাহ্ তাদের শাস্তি দিতে চান এবং মানুষের মধ্যে অনেকেই তো সত্যত্যাগী। তবে কি তারা জাহিলী যুগের বিধি-বিধান চায়? নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহ্ অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠতর?" (৫: ৪৯-৫০)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়াহুদী কর্তৃক ঈসা (আ)-এর নবুওয়তের অস্বীকৃতি

📄 ইয়াহুদী কর্তৃক ঈসা (আ)-এর নবুওয়তের অস্বীকৃতি


ইবন ইসহাক বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ইয়াহুদীদের একটি দল আসল। এদের মধ্যে ছিল আবূ ইয়াসির ইব্‌ন আখতাব, নাফি' ইব্‌ন আবূ নাফি', আযির ইব্‌ন আবূ আযির, খালিদ, যায়দ, আযার ইব্‌ন আবূ আযার ও আশইয়া'। তারা তাঁকে প্রশ্ন করল যে, তিনি কোন্ কোন্ রাসূলের প্রতি ঈমান রাখেন? রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমরা ঈমান রাখি আল্লাহর প্রতি আর তার প্রতি যা আমাদের কাছে নাযিল হয়েছে, আর যা নাযিল হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া'কূব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি এবং যা দেওয়া হয়েছে মূসা ও ঈসাকে আর যা নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। আমরা তাঁদের মধ্যে কোন তারতম্য করি না। আর আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণকারী।
এ প্রসঙ্গে তিনি যখন ঈসা ইবন মারইয়াম-এর কথা উল্লেখ করেন, তখন তারা তাঁর নবুওয়তকে অস্বীকার করে বলে যে, আমরা ঈসা ইবন মারইয়ামের প্রতি এবং তাঁর প্রতি যারা ঈমান রাখে, তাদের প্রতি ঈমান রাখি না। আল্লাহ্ তা'আলা, তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন:
قُلْ يٰاَهْلَ الْكِتٰبِ هَلْ تَنْقِمُوْنَ مِنَّآ اِلَّآ اَنْ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَمَآ اُنْزِلَ اِلَيْنَا وَمَآ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلُ وَاَنَّ اَكْثَرَكُمْ فٰسِقُوْنَ -
"আপনি বলুন, হে কিতাবীগণ! একমাত্র এ কারণেই না তোমরা আমাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ কর যে, আমরা আল্লাহ্ ও আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং যা পূর্বে নাযিল হয়েছে তাতে বিশ্বাস করি? আর তোমাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী।" (৫ : ৫৯)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়াহুদীদের হকপন্থী হওয়ার দাবি

📄 ইয়াহুদীদের হকপন্থী হওয়ার দাবি


একদা রাফি' ইবন হারিসা, সালাম ইব্‌ন মিশকাম, মালিক ইবন সায়ফ ও রাফি' ইব্‌ন হুরায়মালা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে বলল: হে মুহাম্মদ! আপনি কি এরূপ দাবি করেন না যে, আপনি ইবরাহীমের মিল্লাত ও তাঁর দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন এবং আমাদের কাছে যে তাওরাত রয়েছে তার প্রতি ঈমান রাখেন, আর আপনি সাক্ষ্য দিয়ে থাকেন যে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হক কিতাব? জবাবে তিনি বললেন: হ্যাঁ। কিন্তু তোমরা তো অনেক নতুন ব্যাপার উদ্ভাবন করে নিয়েছ এবং ঐ কিতাবে আল্লাহ্ কর্তৃক তোমাদের থেকে অংগীকার নেওয়ার যে বিষয় উল্লিখিত রয়েছে, তা তোমরা অস্বীকার করেছ। আর ঐ কিতাবের যে বিধান মানুষের কাছে বর্ণনা করার জন্য তোমরা আদিষ্ট হয়েছিলে, তোমরা তা গোপন করেছ।
তখন তারা বলল: আমাদের কাছে যা আছে, তা আমরা গ্রহণ করি এবং আমরা হক ও হিদায়াতের উপরই আছি। আমরা আপনার প্রতি ঈমান রাখি না এবং আপনার অনুসরণও আমরা করব না। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে নাযিল করেন:
قُلْ يٰاَهْلَ الْكِتٰبِ لَسْتُمْ عَلٰى شَيْءٍ حَتّٰى تُقِيْمُوا التَّوْرٰةَ وَالْاِنْجِيْلَ وَمَآ اُنْزِلَ اِلَيْكُمْ مِنْ رَّبِّكُمْ وَلَيَزِيْدَنَّ كَثِيْرًا مِّنْهُمْ مَّآ اُنْزِلَ اِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَّكُفْرًا - فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْكٰفِرِيْنَ -
"আপনি বলে দিন, হে কিতাবীগণ! তাওরাত, ইনজীল ও যা তোমাদের রবের নিকট থেকে তোমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে, তোমরা তা প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত তোমাদের কোন ভিত্তিই নেই। তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে, তা তাদের অনেকের ধর্মদ্রোহিতা ও অবিশ্বাস-ই বৃদ্ধি করবে। সুতরাং আপনি কাফির সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করবেন না।” (৫: ৬৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00