📄 আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের বর্ণনা
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে নাযিল করেন:
يَأَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا أَمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا سَمْعُوْنَ لِلْكَذِبِ سَمْعُونَ لِقَوْمٍ أَخَرِيْنَ لَمْ يَأْتُوكَ -
“হে রাসূল! আপনাকে যেন দুঃখ না দেয় তারা, যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়-যারা মুখে বলে, আমরা ঈমান এনেছি অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনে না। আর ইয়াহুদীদের মধ্যে যারা অসত্য শ্রবণে তৎপর। তোমার নিকট আসে না এমন এক ভিন্ন দলের পক্ষে যারা কান পেতে থাকে।" (৫:৪১)
অর্থাৎ ঐসব লোকের পক্ষ থেকে, যারা তাদেরকে (গোয়েন্দারূপে) পাঠিয়েছে আর নিজেরা পিছনে রয়ে গেছে, নিজেরা আসে নি এবং তাদেরকে বিধান পরিবর্তনের আদেশ দিয়েছে।
يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ يَقُولُونَ إِنْ أُوتَيْتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ وَإِنْ لَمْ تُؤْتُوهُ فَاحْذَرُوا - الخ
"শব্দগুলো যথাযথ সুবিন্যস্ত থাকার পরেও তারা সেগুলোর অর্থ বিকৃত করে। তারা বলে: এ প্রকার বিধান দিলে গ্রহণ করবে এবং তা না দিলে (অর্থাৎ প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড) তা বর্জন করবে।" (৫: ৫১)
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্ন তালহা ইব্ন ইয়াযীদ ইব্ন রুকানা-ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম সূত্রে ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের দু'জনের প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিলে তা তাঁর মসজিদের দরজার নিকট কার্যকর করা হয়। ইয়াহুদী পুরুষটি যখন প্রস্তর বর্ষিত হতে দেখল, তখন সে ঐ মহিলার দিকে অগ্রসর হল এবং পাথর থেকে তাকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। অবশেষে তারা নিহত হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর প্রস্তর বর্ষিত হতে থাকল।
রাবী বলেন: আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের হাতে তাদের এ শাস্তির ব্যবস্থা এজন্য করেছিলেন যে, তাদের ক্ষেত্রে যিনার অপরাধ সাব্যস্ত হয়েছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: সালিহ ইব্ন কায়সান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের আযাদকৃত গোলাম নাফি', আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরি বলেন: তারা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এ দু'ব্যক্তির ব্যাপারে সালিস নিযুক্ত করল, তখন তিনি তাদের তাওরাত নিয়ে আসতে বললেন। তাদের জনৈক পণ্ডিত বসে তা তিলাওয়াত করতে লাগল। তখন ঐ পণ্ডিত প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ সম্বলিত আয়াতকে হাত দিয়ে চেপে রাখল।
রাবী বলেন: তখন আবদুল্লাহ্ ইব্ন সালাম (রা) ঐ পণ্ডিতের হাতে আঘাত করে বললেন: ইয়া নবীআল্লাহ্! এই যে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের আয়াত। এ ব্যক্তি তা আপনার সামনে তিলাওয়াত করতে চাচ্ছে না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের বললেন: তোমাদের সর্বনাশ হোক। হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমাদের হাতে আল্লাহ্ যে বিধান রয়েছে, তা পরিত্যাগ করতে কিসে তোমাদের উদ্বুদ্ধ করল?
রাবী বলেন, তখন তারা বলল: আল্লাহ্র কসম, অতীতে আমাদের মধ্যে এর উপর আমল করার রীতি ছিল-যাবৎ না আমাদের রাজবংশের জনৈক পুরুষ বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। তখন রাজা তাকে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড দান করতে নিষেধ করেন। তারপর আরেকটি পুরুষ ব্যভিচার করে। তখন রাজা তাকে প্রস্তরাঘাত মৃত্যুদণ্ড দানের জন্য মনস্থ করেন। তখন তারা বলল: আল্লাহর কসম! যতক্ষণ না আপনি অমুককে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তা হতে পারে না। যখন তারা তাকে এ কথা বলল, তখন তারা একত্রিত হয়ে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে 'তাজবীহ' ব্যবস্থার ব্যাপারে একমত হল। আর প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের উল্লেখ মিটিয়ে দেয় এবং এর উপর আমলও রহিত করে।
রাবী বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: فانا أول من احيا امر الله وكتابه وعمل به -
"সুতরাং আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যে আল্লাহর বিধান ও তাঁর কিতাব এবং সে অনুসারে আমলকে পুনর্জীবন দান করেছি।" এরপর তিনি তাদের দু'জনকে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দান করলেন এবং তাঁর মসজিদের দরজার সামনেই তাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হয়। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) বলেন, সেদিন যারা তাদের প্রস্তরাঘাতে হত্যা করেছিলেন, আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম।
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে নাযিল করেন:
يَأَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا أَمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا سَمْعُوْنَ لِلْكَذِبِ سَمْعُونَ لِقَوْمٍ أَخَرِيْنَ لَمْ يَأْتُوكَ -
“হে রাসূল! আপনাকে যেন দুঃখ না দেয় তারা, যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়-যারা মুখে বলে, আমরা ঈমান এনেছি অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনে না। আর ইয়াহুদীদের মধ্যে যারা অসত্য শ্রবণে তৎপর। তোমার নিকট আসে না এমন এক ভিন্ন দলের পক্ষে যারা কান পেতে থাকে।" (৫:৪১)
অর্থাৎ ঐসব লোকের পক্ষ থেকে, যারা তাদেরকে (গোয়েন্দারূপে) পাঠিয়েছে আর নিজেরা পিছনে রয়ে গেছে, নিজেরা আসে নি এবং তাদেরকে বিধান পরিবর্তনের আদেশ দিয়েছে।
يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ يَقُولُونَ إِنْ أُوتَيْتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ وَإِنْ لَمْ تُؤْتُوهُ فَاحْذَرُوا - الخ
"শব্দগুলো যথাযথ সুবিন্যস্ত থাকার পরেও তারা সেগুলোর অর্থ বিকৃত করে। তারা বলে: এ প্রকার বিধান দিলে গ্রহণ করবে এবং তা না দিলে (অর্থাৎ প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড) তা বর্জন করবে।" (৫: ৫১)
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্ন তালহা ইব্ন ইয়াযীদ ইব্ন রুকানা-ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম সূত্রে ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের দু'জনের প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিলে তা তাঁর মসজিদের দরজার নিকট কার্যকর করা হয়। ইয়াহুদী পুরুষটি যখন প্রস্তর বর্ষিত হতে দেখল, তখন সে ঐ মহিলার দিকে অগ্রসর হল এবং পাথর থেকে তাকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। অবশেষে তারা নিহত হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর প্রস্তর বর্ষিত হতে থাকল।
রাবী বলেন: আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের হাতে তাদের এ শাস্তির ব্যবস্থা এজন্য করেছিলেন যে, তাদের ক্ষেত্রে যিনার অপরাধ সাব্যস্ত হয়েছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: সালিহ ইব্ন কায়সান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের আযাদকৃত গোলাম নাফি', আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরি বলেন: তারা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এ দু'ব্যক্তির ব্যাপারে সালিস নিযুক্ত করল, তখন তিনি তাদের তাওরাত নিয়ে আসতে বললেন। তাদের জনৈক পণ্ডিত বসে তা তিলাওয়াত করতে লাগল। তখন ঐ পণ্ডিত প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ সম্বলিত আয়াতকে হাত দিয়ে চেপে রাখল।
রাবী বলেন: তখন আবদুল্লাহ্ ইব্ন সালাম (রা) ঐ পণ্ডিতের হাতে আঘাত করে বললেন: ইয়া নবীআল্লাহ্! এই যে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের আয়াত। এ ব্যক্তি তা আপনার সামনে তিলাওয়াত করতে চাচ্ছে না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের বললেন: তোমাদের সর্বনাশ হোক। হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমাদের হাতে আল্লাহ্ যে বিধান রয়েছে, তা পরিত্যাগ করতে কিসে তোমাদের উদ্বুদ্ধ করল?
রাবী বলেন, তখন তারা বলল: আল্লাহ্র কসম, অতীতে আমাদের মধ্যে এর উপর আমল করার রীতি ছিল-যাবৎ না আমাদের রাজবংশের জনৈক পুরুষ বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। তখন রাজা তাকে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড দান করতে নিষেধ করেন। তারপর আরেকটি পুরুষ ব্যভিচার করে। তখন রাজা তাকে প্রস্তরাঘাত মৃত্যুদণ্ড দানের জন্য মনস্থ করেন। তখন তারা বলল: আল্লাহর কসম! যতক্ষণ না আপনি অমুককে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তা হতে পারে না। যখন তারা তাকে এ কথা বলল, তখন তারা একত্রিত হয়ে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে 'তাজবীহ' ব্যবস্থার ব্যাপারে একমত হল। আর প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের উল্লেখ মিটিয়ে দেয় এবং এর উপর আমলও রহিত করে।
রাবী বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: فانا أول من احيا امر الله وكتابه وعمل به -
"সুতরাং আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যে আল্লাহর বিধান ও তাঁর কিতাব এবং সে অনুসারে আমলকে পুনর্জীবন দান করেছি।" এরপর তিনি তাদের দু'জনকে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দান করলেন এবং তাঁর মসজিদের দরজার সামনেই তাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হয়। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) বলেন, সেদিন যারা তাদের প্রস্তরাঘাতে হত্যা করেছিলেন, আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম।
📄 রক্তপণের ব্যাপারে ইয়াহুদীদের বৈষম্য
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট দাউদ ইবন হুসায়ন ইকরামা সূত্রে ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, সূরা মায়িদার যে আয়াতসমূহে আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন: فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ وَإِنْ تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَنْ يَضُرُّوكَ شَيْئًا وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بالْقِسْطِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ -
"(তারা যদি আপনার কাছে আসে), তবে তাদের বিচার নিষ্পত্তি করবেন, অথবা তাদের উপেক্ষা করবেন। আপনি যদি তাদের উপেক্ষা করেন, তবে তারা আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর যদি বিচার নিষ্পত্তি করেন, তবে তাদের মাঝে ন্যায়বিচার করবেন; আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণদের ভালবাসেন।" (৫: ৪২)
এ আয়াতগুলো বনূ নযীর ও বনু কুরায়যার দীয়ত বা রক্তপণের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। এটা এজন্যে যে, বনূ নযীরের নিহতরা সম্মানিত ও অভিজাত ছিল বিধায় তাদের রক্তপণ পুরোপুরি আদায় করা হত। পক্ষান্তরে বনু কুরায়যার নিহতদের জন্যে অর্ধেক রক্তপণ আদায় করা হত। এ ব্যাপারে তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ফয়সালা প্রার্থনা করল। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের এ ব্যাপারে সত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন এবং রক্তপণ সমান করে দেন।
ইবন ইসহাক বলেন: এর কোন্টা যে যথার্থ, তা আল্লাহই ভাল জানেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট দাউদ ইবন হুসায়ন ইকরামা সূত্রে ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, সূরা মায়িদার যে আয়াতসমূহে আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন: فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ وَإِنْ تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَنْ يَضُرُّوكَ شَيْئًا وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بالْقِسْطِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ -
"(তারা যদি আপনার কাছে আসে), তবে তাদের বিচার নিষ্পত্তি করবেন, অথবা তাদের উপেক্ষা করবেন। আপনি যদি তাদের উপেক্ষা করেন, তবে তারা আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর যদি বিচার নিষ্পত্তি করেন, তবে তাদের মাঝে ন্যায়বিচার করবেন; আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণদের ভালবাসেন।" (৫: ৪২)
এ আয়াতগুলো বনূ নযীর ও বনু কুরায়যার দীয়ত বা রক্তপণের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। এটা এজন্যে যে, বনূ নযীরের নিহতরা সম্মানিত ও অভিজাত ছিল বিধায় তাদের রক্তপণ পুরোপুরি আদায় করা হত। পক্ষান্তরে বনু কুরায়যার নিহতদের জন্যে অর্ধেক রক্তপণ আদায় করা হত। এ ব্যাপারে তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ফয়সালা প্রার্থনা করল। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের এ ব্যাপারে সত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন এবং রক্তপণ সমান করে দেন।
ইবন ইসহাক বলেন: এর কোন্টা যে যথার্থ, তা আল্লাহই ভাল জানেন।
📄 ইয়াহুদীদের রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে পরীক্ষা করার অপপ্রয়াস
ইবন ইসহাক বলেন: কা'ব ইব্ন আসাদ, ইব্ন সূরিয়া, আবদুল্লাহ্ ইব্ন সূরিয়া এবং শাস ইব্ন কায়স নিজেদের মধ্যে এ মর্মে বলাবলি করল যে, চল আমরা মুহাম্মদের কাছে যাই। হয়তো বা ছলে-বলে আমরা তাঁকে তাঁর ধর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারব। কেননা তিনি তো একজন মানুষ। সেমতে তারা তাঁর কাছে এল এবং বলল : হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আপনি অবগত আছেন যে, আমরা ইয়াহুদীদের পণ্ডিত এবং তাদের সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। আমরা যদি আপনার ধর্ম গ্রহণ করে নিই, তাহলে সমগ্র ইয়াহুদী সমাজ আপনার অনুসারী হয়ে যাবে এবং তারা আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে না। আমাদের এবং আমাদের সম্প্রদায়ের কিছু লোকের মধ্যে কলহ রয়েছে। আমরা যদি আপনাকে তাদের এবং আমাদের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার জন্যে বিচারক নিযুক্ত করি, আর আপনি যদি তাদের বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষে রায় দেন, তাহলে আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনব এবং আপনাকে সত্য নবী বলে মেনে নেব। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। এ সময় আল্লাহ্ তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন:
وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَانَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يُفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضٍ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضٍ ذُنُوبِهِمْ وَإِنْ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفُسِقُوْنَ - أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ -
"(আর আমি কিতাব নাযিল করেছি) যাতে আপনি আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী তাদের বিচার নিষ্পত্তি করেন, আর তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ না করেন-এবং তাদের সম্বন্ধে সতর্ক থাকবেন যাতে আল্লাহ্ যা আপনার প্রতি নাযিল করেছেন, তারা তার কিছু থেকে আপনাকে বিচ্যুত না করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখুন যে, তাদের কোন কোন পাপের জন্য আল্লাহ্ তাদের শাস্তি দিতে চান এবং মানুষের মধ্যে অনেকেই তো সত্যত্যাগী। তবে কি তারা জাহিলী যুগের বিধি-বিধান চায়? নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহ্ অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠতর?" (৫: ৪৯-৫০)
ইবন ইসহাক বলেন: কা'ব ইব্ন আসাদ, ইব্ন সূরিয়া, আবদুল্লাহ্ ইব্ন সূরিয়া এবং শাস ইব্ন কায়স নিজেদের মধ্যে এ মর্মে বলাবলি করল যে, চল আমরা মুহাম্মদের কাছে যাই। হয়তো বা ছলে-বলে আমরা তাঁকে তাঁর ধর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারব। কেননা তিনি তো একজন মানুষ। সেমতে তারা তাঁর কাছে এল এবং বলল : হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আপনি অবগত আছেন যে, আমরা ইয়াহুদীদের পণ্ডিত এবং তাদের সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। আমরা যদি আপনার ধর্ম গ্রহণ করে নিই, তাহলে সমগ্র ইয়াহুদী সমাজ আপনার অনুসারী হয়ে যাবে এবং তারা আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে না। আমাদের এবং আমাদের সম্প্রদায়ের কিছু লোকের মধ্যে কলহ রয়েছে। আমরা যদি আপনাকে তাদের এবং আমাদের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার জন্যে বিচারক নিযুক্ত করি, আর আপনি যদি তাদের বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষে রায় দেন, তাহলে আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনব এবং আপনাকে সত্য নবী বলে মেনে নেব। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। এ সময় আল্লাহ্ তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন:
وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَانَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يُفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضٍ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضٍ ذُنُوبِهِمْ وَإِنْ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفُسِقُوْنَ - أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ -
"(আর আমি কিতাব নাযিল করেছি) যাতে আপনি আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী তাদের বিচার নিষ্পত্তি করেন, আর তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ না করেন-এবং তাদের সম্বন্ধে সতর্ক থাকবেন যাতে আল্লাহ্ যা আপনার প্রতি নাযিল করেছেন, তারা তার কিছু থেকে আপনাকে বিচ্যুত না করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখুন যে, তাদের কোন কোন পাপের জন্য আল্লাহ্ তাদের শাস্তি দিতে চান এবং মানুষের মধ্যে অনেকেই তো সত্যত্যাগী। তবে কি তারা জাহিলী যুগের বিধি-বিধান চায়? নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহ্ অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠতর?" (৫: ৪৯-৫০)
📄 ইয়াহুদী কর্তৃক ঈসা (আ)-এর নবুওয়তের অস্বীকৃতি
ইবন ইসহাক বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ইয়াহুদীদের একটি দল আসল। এদের মধ্যে ছিল আবূ ইয়াসির ইব্ন আখতাব, নাফি' ইব্ন আবূ নাফি', আযির ইব্ন আবূ আযির, খালিদ, যায়দ, আযার ইব্ন আবূ আযার ও আশইয়া'। তারা তাঁকে প্রশ্ন করল যে, তিনি কোন্ কোন্ রাসূলের প্রতি ঈমান রাখেন? রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমরা ঈমান রাখি আল্লাহর প্রতি আর তার প্রতি যা আমাদের কাছে নাযিল হয়েছে, আর যা নাযিল হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া'কূব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি এবং যা দেওয়া হয়েছে মূসা ও ঈসাকে আর যা নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। আমরা তাঁদের মধ্যে কোন তারতম্য করি না। আর আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণকারী।
এ প্রসঙ্গে তিনি যখন ঈসা ইবন মারইয়াম-এর কথা উল্লেখ করেন, তখন তারা তাঁর নবুওয়তকে অস্বীকার করে বলে যে, আমরা ঈসা ইবন মারইয়ামের প্রতি এবং তাঁর প্রতি যারা ঈমান রাখে, তাদের প্রতি ঈমান রাখি না। আল্লাহ্ তা'আলা, তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন:
قُلْ يٰاَهْلَ الْكِتٰبِ هَلْ تَنْقِمُوْنَ مِنَّآ اِلَّآ اَنْ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَمَآ اُنْزِلَ اِلَيْنَا وَمَآ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلُ وَاَنَّ اَكْثَرَكُمْ فٰسِقُوْنَ -
"আপনি বলুন, হে কিতাবীগণ! একমাত্র এ কারণেই না তোমরা আমাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ কর যে, আমরা আল্লাহ্ ও আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং যা পূর্বে নাযিল হয়েছে তাতে বিশ্বাস করি? আর তোমাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী।" (৫ : ৫৯)