📄 প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডদানের ব্যাপারে তাদের নবী করীম (সা)-এর শরণাপন্ন হওয়া
ইবন ইসহাক বলেন: ইব্ন শিহাব যুহরী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুযায়না গোত্রের জনৈক আলিম ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন, তিনি সাঈদ ইব্ন মুসায়্যাবকে এ মর্মে বলতে শুনেছেন যে, আবূ হুরায়রা (রা) তাঁদের কাছে বর্ণনা করেছেন: একদা ইয়াহূদী পণ্ডিতগণ তাদের শিক্ষালয়ে একত্রিত হয়। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করেছেন। তাদের জনৈক বিবাহিত পুরুষ জনৈকা বিবাহিতা ইয়াহূদী মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল। তখন তারা বলল: এ পুরুষ ও মহিলাটিকে মুহাম্মদের কাছে পাঠিয়ে তাদের ব্যাপারে কি বিধান তা তাঁর কাছে জিজ্ঞেস কর এবং তাঁকেই এদের সালিসীর দায়িত্ব প্রদান কর। তিনি যদি তাদের ব্যাপারে তোমাদের তাজবীহ, বিধান কার্যকরী করেন—আর তাজবীহ হচ্ছে খুরমা গাছের ছাল দ্বারা প্রস্তুত রশিকে আলকাতরা মাখিয়ে বেত বানিয়ে তার দ্বারা ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে প্রহার করা, এরপর তাদের চেহারায় কালি মাখিয়ে তাদের দুটি গাধার উপর এমনভাবে চড়িয়ে দেওয়া হত যে, তাদের মুখ থাকত গাধার পেছনের দিকে—তাহলে তোমরা তাঁকে মান্য করবে। কেননা এমতাবস্থায় তিনি একজন বাদশাহ বৈ কিছু নন। তোমরা তাঁকে সত্যবাদী বলে মেনে নেবে। আর যদি তিনি তাদের ব্যাপারে রজম বা প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডদানের বিধান কার্যকরী করার ফয়সালা দেন, তাহলে তোমরা মনে করবে নিশ্চয়ই তিনি একজন নবী।
তাহলে তোমাদের হাতে যা রয়েছে, সে ব্যাপারে তোমরা তাকে ভয় করবে। কেননা তিনি তা তোমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন।
এরপর তারা তাঁর কাছে এসে বলল: হে মুহাম্মদ! এ ব্যক্তিটি বিবাহিত অবস্থায় একটি বিবাহিতা মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে। আপনি এদের ব্যাপারে ফয়সালা দিন। আমরা এ ব্যাপারে আপনাকেই সালিসীর দায়িত্ব দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের একটি শিক্ষালয়ে তাদের পণ্ডিতগণের কাছে গিয়ে বললেন:
يا معشر يهود اخرجوا الى علمائكم
"হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! তোমাদের পণ্ডিতগণকে আমার সামনে আন।"
তারা তখন আবদুল্লাহ্ ইব্ন সূরিয়াকে তাঁর সামনে উপস্থিত করল।
ইন্ন ইসহাক বলেন: আমার কাছে বনু কুরায়যার কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন, সেদিন তারা ইন্ন সূরিয়ার সাথে আবূ ইয়াসির ইব্ন আখতাব এবং ওয়াহ্ব ইব্ন ইয়াহুযাকেও উপস্থিত করেছিল। তারা বলল : এরাই হচ্ছেন আমাদের আলিম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেন এবং তাদের জ্ঞানের গভীরতা জেনে নিলেন। এক পর্যায়ে তারা আবদুল্লাহ্ ইব্ন সূরিয়া সম্পর্কে বলল যে, ইনিই তাওরাত সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি।
ইন্ন হিশাম বলেন: বনু কুরায়যার কেউ কেউ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইনিই তাওরাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। ইন্ন ইসহাকের বক্তব্য এবং পরবর্তী অংশটুকু পূর্ববর্তী বর্ণনারই অংশবিশেষ।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাথে একান্তে মিলিত হলেন। সে ছিল তরুণ যুবক এবং তাদের মধ্যে বয়সে সর্বকনিষ্ঠ। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে তাকিদ দিয়ে বললেন:
يا بن صوريا انشدك الله واذكرك بايامه عند بنى اسرائيل هل تعلم ان الله حكم فيمن زنی بعد احصانه بالرجم في التوراة ؟ قال اللهم نعم اما والله يا أبا القاسم انهم ليعرفون انك لنبی مرسل ولكنهم يحسدونك
"হে ইব্ন সূরিয়া! তোমাকে আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি এবং তোমাকে বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রদত্ত আল্লাহর নিয়ামতরাজির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। তুমি কি জ্ঞাত আছ যে, তাওরাতে আল্লাহ্ তা'আলা বিবাহিত ব্যভিচারীর জন্যে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান দিয়েছেন? সে বলল: ইয়া আল্লাহ্! হ্যাঁ, আল্লাহ্র কসম! হে আবুল কাসিম! এরা নিশ্চিতরূপেই জ্ঞাত আছে যে, আপনি আল্লাহ্ প্রেরিত সত্য নবী। কিন্তু তারা আপনাকে ঈর্ষা করছে।"
রাবী বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বেরিয়ে আসলেন এবং তাদের প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুর দণ্ডাদেশ জারী করলেন। তখন বনূ গানাম ইবন মালিক নাজ্জারের পল্লীতে তাঁর মসজিদের দরজার সামনে সে দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হল। এরপরও ইন্ন সূরিয়া কুফরী করল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নবুওয়তকে অস্বীকার করল।
ইবন ইসহাক বলেন: ইব্ন শিহাব যুহরী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুযায়না গোত্রের জনৈক আলিম ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন, তিনি সাঈদ ইব্ন মুসায়্যাবকে এ মর্মে বলতে শুনেছেন যে, আবূ হুরায়রা (রা) তাঁদের কাছে বর্ণনা করেছেন: একদা ইয়াহূদী পণ্ডিতগণ তাদের শিক্ষালয়ে একত্রিত হয়। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করেছেন। তাদের জনৈক বিবাহিত পুরুষ জনৈকা বিবাহিতা ইয়াহূদী মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল। তখন তারা বলল: এ পুরুষ ও মহিলাটিকে মুহাম্মদের কাছে পাঠিয়ে তাদের ব্যাপারে কি বিধান তা তাঁর কাছে জিজ্ঞেস কর এবং তাঁকেই এদের সালিসীর দায়িত্ব প্রদান কর। তিনি যদি তাদের ব্যাপারে তোমাদের তাজবীহ, বিধান কার্যকরী করেন—আর তাজবীহ হচ্ছে খুরমা গাছের ছাল দ্বারা প্রস্তুত রশিকে আলকাতরা মাখিয়ে বেত বানিয়ে তার দ্বারা ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে প্রহার করা, এরপর তাদের চেহারায় কালি মাখিয়ে তাদের দুটি গাধার উপর এমনভাবে চড়িয়ে দেওয়া হত যে, তাদের মুখ থাকত গাধার পেছনের দিকে—তাহলে তোমরা তাঁকে মান্য করবে। কেননা এমতাবস্থায় তিনি একজন বাদশাহ বৈ কিছু নন। তোমরা তাঁকে সত্যবাদী বলে মেনে নেবে। আর যদি তিনি তাদের ব্যাপারে রজম বা প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডদানের বিধান কার্যকরী করার ফয়সালা দেন, তাহলে তোমরা মনে করবে নিশ্চয়ই তিনি একজন নবী।
তাহলে তোমাদের হাতে যা রয়েছে, সে ব্যাপারে তোমরা তাকে ভয় করবে। কেননা তিনি তা তোমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন।
এরপর তারা তাঁর কাছে এসে বলল: হে মুহাম্মদ! এ ব্যক্তিটি বিবাহিত অবস্থায় একটি বিবাহিতা মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে। আপনি এদের ব্যাপারে ফয়সালা দিন। আমরা এ ব্যাপারে আপনাকেই সালিসীর দায়িত্ব দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের একটি শিক্ষালয়ে তাদের পণ্ডিতগণের কাছে গিয়ে বললেন:
يا معشر يهود اخرجوا الى علمائكم
"হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! তোমাদের পণ্ডিতগণকে আমার সামনে আন।"
তারা তখন আবদুল্লাহ্ ইব্ন সূরিয়াকে তাঁর সামনে উপস্থিত করল।
ইন্ন ইসহাক বলেন: আমার কাছে বনু কুরায়যার কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন, সেদিন তারা ইন্ন সূরিয়ার সাথে আবূ ইয়াসির ইব্ন আখতাব এবং ওয়াহ্ব ইব্ন ইয়াহুযাকেও উপস্থিত করেছিল। তারা বলল : এরাই হচ্ছেন আমাদের আলিম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেন এবং তাদের জ্ঞানের গভীরতা জেনে নিলেন। এক পর্যায়ে তারা আবদুল্লাহ্ ইব্ন সূরিয়া সম্পর্কে বলল যে, ইনিই তাওরাত সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি।
ইন্ন হিশাম বলেন: বনু কুরায়যার কেউ কেউ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইনিই তাওরাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। ইন্ন ইসহাকের বক্তব্য এবং পরবর্তী অংশটুকু পূর্ববর্তী বর্ণনারই অংশবিশেষ।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাথে একান্তে মিলিত হলেন। সে ছিল তরুণ যুবক এবং তাদের মধ্যে বয়সে সর্বকনিষ্ঠ। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে তাকিদ দিয়ে বললেন:
يا بن صوريا انشدك الله واذكرك بايامه عند بنى اسرائيل هل تعلم ان الله حكم فيمن زنی بعد احصانه بالرجم في التوراة ؟ قال اللهم نعم اما والله يا أبا القاسم انهم ليعرفون انك لنبی مرسل ولكنهم يحسدونك
"হে ইব্ন সূরিয়া! তোমাকে আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি এবং তোমাকে বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রদত্ত আল্লাহর নিয়ামতরাজির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। তুমি কি জ্ঞাত আছ যে, তাওরাতে আল্লাহ্ তা'আলা বিবাহিত ব্যভিচারীর জন্যে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান দিয়েছেন? সে বলল: ইয়া আল্লাহ্! হ্যাঁ, আল্লাহ্র কসম! হে আবুল কাসিম! এরা নিশ্চিতরূপেই জ্ঞাত আছে যে, আপনি আল্লাহ্ প্রেরিত সত্য নবী। কিন্তু তারা আপনাকে ঈর্ষা করছে।"
রাবী বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বেরিয়ে আসলেন এবং তাদের প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুর দণ্ডাদেশ জারী করলেন। তখন বনূ গানাম ইবন মালিক নাজ্জারের পল্লীতে তাঁর মসজিদের দরজার সামনে সে দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হল। এরপরও ইন্ন সূরিয়া কুফরী করল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নবুওয়তকে অস্বীকার করল।
📄 আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের বর্ণনা
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে নাযিল করেন:
يَأَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا أَمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا سَمْعُوْنَ لِلْكَذِبِ سَمْعُونَ لِقَوْمٍ أَخَرِيْنَ لَمْ يَأْتُوكَ -
“হে রাসূল! আপনাকে যেন দুঃখ না দেয় তারা, যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়-যারা মুখে বলে, আমরা ঈমান এনেছি অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনে না। আর ইয়াহুদীদের মধ্যে যারা অসত্য শ্রবণে তৎপর। তোমার নিকট আসে না এমন এক ভিন্ন দলের পক্ষে যারা কান পেতে থাকে।" (৫:৪১)
অর্থাৎ ঐসব লোকের পক্ষ থেকে, যারা তাদেরকে (গোয়েন্দারূপে) পাঠিয়েছে আর নিজেরা পিছনে রয়ে গেছে, নিজেরা আসে নি এবং তাদেরকে বিধান পরিবর্তনের আদেশ দিয়েছে।
يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ يَقُولُونَ إِنْ أُوتَيْتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ وَإِنْ لَمْ تُؤْتُوهُ فَاحْذَرُوا - الخ
"শব্দগুলো যথাযথ সুবিন্যস্ত থাকার পরেও তারা সেগুলোর অর্থ বিকৃত করে। তারা বলে: এ প্রকার বিধান দিলে গ্রহণ করবে এবং তা না দিলে (অর্থাৎ প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড) তা বর্জন করবে।" (৫: ৫১)
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্ন তালহা ইব্ন ইয়াযীদ ইব্ন রুকানা-ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম সূত্রে ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের দু'জনের প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিলে তা তাঁর মসজিদের দরজার নিকট কার্যকর করা হয়। ইয়াহুদী পুরুষটি যখন প্রস্তর বর্ষিত হতে দেখল, তখন সে ঐ মহিলার দিকে অগ্রসর হল এবং পাথর থেকে তাকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। অবশেষে তারা নিহত হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর প্রস্তর বর্ষিত হতে থাকল।
রাবী বলেন: আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের হাতে তাদের এ শাস্তির ব্যবস্থা এজন্য করেছিলেন যে, তাদের ক্ষেত্রে যিনার অপরাধ সাব্যস্ত হয়েছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: সালিহ ইব্ন কায়সান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের আযাদকৃত গোলাম নাফি', আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরি বলেন: তারা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এ দু'ব্যক্তির ব্যাপারে সালিস নিযুক্ত করল, তখন তিনি তাদের তাওরাত নিয়ে আসতে বললেন। তাদের জনৈক পণ্ডিত বসে তা তিলাওয়াত করতে লাগল। তখন ঐ পণ্ডিত প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ সম্বলিত আয়াতকে হাত দিয়ে চেপে রাখল।
রাবী বলেন: তখন আবদুল্লাহ্ ইব্ন সালাম (রা) ঐ পণ্ডিতের হাতে আঘাত করে বললেন: ইয়া নবীআল্লাহ্! এই যে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের আয়াত। এ ব্যক্তি তা আপনার সামনে তিলাওয়াত করতে চাচ্ছে না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের বললেন: তোমাদের সর্বনাশ হোক। হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমাদের হাতে আল্লাহ্ যে বিধান রয়েছে, তা পরিত্যাগ করতে কিসে তোমাদের উদ্বুদ্ধ করল?
রাবী বলেন, তখন তারা বলল: আল্লাহ্র কসম, অতীতে আমাদের মধ্যে এর উপর আমল করার রীতি ছিল-যাবৎ না আমাদের রাজবংশের জনৈক পুরুষ বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। তখন রাজা তাকে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড দান করতে নিষেধ করেন। তারপর আরেকটি পুরুষ ব্যভিচার করে। তখন রাজা তাকে প্রস্তরাঘাত মৃত্যুদণ্ড দানের জন্য মনস্থ করেন। তখন তারা বলল: আল্লাহর কসম! যতক্ষণ না আপনি অমুককে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তা হতে পারে না। যখন তারা তাকে এ কথা বলল, তখন তারা একত্রিত হয়ে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে 'তাজবীহ' ব্যবস্থার ব্যাপারে একমত হল। আর প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের উল্লেখ মিটিয়ে দেয় এবং এর উপর আমলও রহিত করে।
রাবী বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: فانا أول من احيا امر الله وكتابه وعمل به -
"সুতরাং আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যে আল্লাহর বিধান ও তাঁর কিতাব এবং সে অনুসারে আমলকে পুনর্জীবন দান করেছি।" এরপর তিনি তাদের দু'জনকে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দান করলেন এবং তাঁর মসজিদের দরজার সামনেই তাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হয়। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) বলেন, সেদিন যারা তাদের প্রস্তরাঘাতে হত্যা করেছিলেন, আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম।
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে নাযিল করেন:
يَأَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا أَمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا سَمْعُوْنَ لِلْكَذِبِ سَمْعُونَ لِقَوْمٍ أَخَرِيْنَ لَمْ يَأْتُوكَ -
“হে রাসূল! আপনাকে যেন দুঃখ না দেয় তারা, যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়-যারা মুখে বলে, আমরা ঈমান এনেছি অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনে না। আর ইয়াহুদীদের মধ্যে যারা অসত্য শ্রবণে তৎপর। তোমার নিকট আসে না এমন এক ভিন্ন দলের পক্ষে যারা কান পেতে থাকে।" (৫:৪১)
অর্থাৎ ঐসব লোকের পক্ষ থেকে, যারা তাদেরকে (গোয়েন্দারূপে) পাঠিয়েছে আর নিজেরা পিছনে রয়ে গেছে, নিজেরা আসে নি এবং তাদেরকে বিধান পরিবর্তনের আদেশ দিয়েছে।
يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ يَقُولُونَ إِنْ أُوتَيْتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ وَإِنْ لَمْ تُؤْتُوهُ فَاحْذَرُوا - الخ
"শব্দগুলো যথাযথ সুবিন্যস্ত থাকার পরেও তারা সেগুলোর অর্থ বিকৃত করে। তারা বলে: এ প্রকার বিধান দিলে গ্রহণ করবে এবং তা না দিলে (অর্থাৎ প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড) তা বর্জন করবে।" (৫: ৫১)
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্ন তালহা ইব্ন ইয়াযীদ ইব্ন রুকানা-ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম সূত্রে ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের দু'জনের প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিলে তা তাঁর মসজিদের দরজার নিকট কার্যকর করা হয়। ইয়াহুদী পুরুষটি যখন প্রস্তর বর্ষিত হতে দেখল, তখন সে ঐ মহিলার দিকে অগ্রসর হল এবং পাথর থেকে তাকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। অবশেষে তারা নিহত হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর প্রস্তর বর্ষিত হতে থাকল।
রাবী বলেন: আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের হাতে তাদের এ শাস্তির ব্যবস্থা এজন্য করেছিলেন যে, তাদের ক্ষেত্রে যিনার অপরাধ সাব্যস্ত হয়েছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: সালিহ ইব্ন কায়সান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের আযাদকৃত গোলাম নাফি', আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরি বলেন: তারা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এ দু'ব্যক্তির ব্যাপারে সালিস নিযুক্ত করল, তখন তিনি তাদের তাওরাত নিয়ে আসতে বললেন। তাদের জনৈক পণ্ডিত বসে তা তিলাওয়াত করতে লাগল। তখন ঐ পণ্ডিত প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ সম্বলিত আয়াতকে হাত দিয়ে চেপে রাখল।
রাবী বলেন: তখন আবদুল্লাহ্ ইব্ন সালাম (রা) ঐ পণ্ডিতের হাতে আঘাত করে বললেন: ইয়া নবীআল্লাহ্! এই যে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের আয়াত। এ ব্যক্তি তা আপনার সামনে তিলাওয়াত করতে চাচ্ছে না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের বললেন: তোমাদের সর্বনাশ হোক। হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমাদের হাতে আল্লাহ্ যে বিধান রয়েছে, তা পরিত্যাগ করতে কিসে তোমাদের উদ্বুদ্ধ করল?
রাবী বলেন, তখন তারা বলল: আল্লাহ্র কসম, অতীতে আমাদের মধ্যে এর উপর আমল করার রীতি ছিল-যাবৎ না আমাদের রাজবংশের জনৈক পুরুষ বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। তখন রাজা তাকে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড দান করতে নিষেধ করেন। তারপর আরেকটি পুরুষ ব্যভিচার করে। তখন রাজা তাকে প্রস্তরাঘাত মৃত্যুদণ্ড দানের জন্য মনস্থ করেন। তখন তারা বলল: আল্লাহর কসম! যতক্ষণ না আপনি অমুককে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তা হতে পারে না। যখন তারা তাকে এ কথা বলল, তখন তারা একত্রিত হয়ে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে 'তাজবীহ' ব্যবস্থার ব্যাপারে একমত হল। আর প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের উল্লেখ মিটিয়ে দেয় এবং এর উপর আমলও রহিত করে।
রাবী বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: فانا أول من احيا امر الله وكتابه وعمل به -
"সুতরাং আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যে আল্লাহর বিধান ও তাঁর কিতাব এবং সে অনুসারে আমলকে পুনর্জীবন দান করেছি।" এরপর তিনি তাদের দু'জনকে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দান করলেন এবং তাঁর মসজিদের দরজার সামনেই তাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হয়। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) বলেন, সেদিন যারা তাদের প্রস্তরাঘাতে হত্যা করেছিলেন, আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম।
📄 রক্তপণের ব্যাপারে ইয়াহুদীদের বৈষম্য
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট দাউদ ইবন হুসায়ন ইকরামা সূত্রে ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, সূরা মায়িদার যে আয়াতসমূহে আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন: فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ وَإِنْ تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَنْ يَضُرُّوكَ شَيْئًا وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بالْقِسْطِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ -
"(তারা যদি আপনার কাছে আসে), তবে তাদের বিচার নিষ্পত্তি করবেন, অথবা তাদের উপেক্ষা করবেন। আপনি যদি তাদের উপেক্ষা করেন, তবে তারা আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর যদি বিচার নিষ্পত্তি করেন, তবে তাদের মাঝে ন্যায়বিচার করবেন; আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণদের ভালবাসেন।" (৫: ৪২)
এ আয়াতগুলো বনূ নযীর ও বনু কুরায়যার দীয়ত বা রক্তপণের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। এটা এজন্যে যে, বনূ নযীরের নিহতরা সম্মানিত ও অভিজাত ছিল বিধায় তাদের রক্তপণ পুরোপুরি আদায় করা হত। পক্ষান্তরে বনু কুরায়যার নিহতদের জন্যে অর্ধেক রক্তপণ আদায় করা হত। এ ব্যাপারে তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ফয়সালা প্রার্থনা করল। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের এ ব্যাপারে সত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন এবং রক্তপণ সমান করে দেন।
ইবন ইসহাক বলেন: এর কোন্টা যে যথার্থ, তা আল্লাহই ভাল জানেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট দাউদ ইবন হুসায়ন ইকরামা সূত্রে ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, সূরা মায়িদার যে আয়াতসমূহে আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন: فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ وَإِنْ تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَنْ يَضُرُّوكَ شَيْئًا وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بالْقِسْطِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ -
"(তারা যদি আপনার কাছে আসে), তবে তাদের বিচার নিষ্পত্তি করবেন, অথবা তাদের উপেক্ষা করবেন। আপনি যদি তাদের উপেক্ষা করেন, তবে তারা আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর যদি বিচার নিষ্পত্তি করেন, তবে তাদের মাঝে ন্যায়বিচার করবেন; আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণদের ভালবাসেন।" (৫: ৪২)
এ আয়াতগুলো বনূ নযীর ও বনু কুরায়যার দীয়ত বা রক্তপণের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। এটা এজন্যে যে, বনূ নযীরের নিহতরা সম্মানিত ও অভিজাত ছিল বিধায় তাদের রক্তপণ পুরোপুরি আদায় করা হত। পক্ষান্তরে বনু কুরায়যার নিহতদের জন্যে অর্ধেক রক্তপণ আদায় করা হত। এ ব্যাপারে তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ফয়সালা প্রার্থনা করল। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের এ ব্যাপারে সত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন এবং রক্তপণ সমান করে দেন।
ইবন ইসহাক বলেন: এর কোন্টা যে যথার্থ, তা আল্লাহই ভাল জানেন।
📄 ইয়াহুদীদের রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে পরীক্ষা করার অপপ্রয়াস
ইবন ইসহাক বলেন: কা'ব ইব্ন আসাদ, ইব্ন সূরিয়া, আবদুল্লাহ্ ইব্ন সূরিয়া এবং শাস ইব্ন কায়স নিজেদের মধ্যে এ মর্মে বলাবলি করল যে, চল আমরা মুহাম্মদের কাছে যাই। হয়তো বা ছলে-বলে আমরা তাঁকে তাঁর ধর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারব। কেননা তিনি তো একজন মানুষ। সেমতে তারা তাঁর কাছে এল এবং বলল : হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আপনি অবগত আছেন যে, আমরা ইয়াহুদীদের পণ্ডিত এবং তাদের সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। আমরা যদি আপনার ধর্ম গ্রহণ করে নিই, তাহলে সমগ্র ইয়াহুদী সমাজ আপনার অনুসারী হয়ে যাবে এবং তারা আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে না। আমাদের এবং আমাদের সম্প্রদায়ের কিছু লোকের মধ্যে কলহ রয়েছে। আমরা যদি আপনাকে তাদের এবং আমাদের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার জন্যে বিচারক নিযুক্ত করি, আর আপনি যদি তাদের বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষে রায় দেন, তাহলে আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনব এবং আপনাকে সত্য নবী বলে মেনে নেব। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। এ সময় আল্লাহ্ তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন:
وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَانَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يُفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضٍ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضٍ ذُنُوبِهِمْ وَإِنْ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفُسِقُوْنَ - أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ -
"(আর আমি কিতাব নাযিল করেছি) যাতে আপনি আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী তাদের বিচার নিষ্পত্তি করেন, আর তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ না করেন-এবং তাদের সম্বন্ধে সতর্ক থাকবেন যাতে আল্লাহ্ যা আপনার প্রতি নাযিল করেছেন, তারা তার কিছু থেকে আপনাকে বিচ্যুত না করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখুন যে, তাদের কোন কোন পাপের জন্য আল্লাহ্ তাদের শাস্তি দিতে চান এবং মানুষের মধ্যে অনেকেই তো সত্যত্যাগী। তবে কি তারা জাহিলী যুগের বিধি-বিধান চায়? নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহ্ অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠতর?" (৫: ৪৯-৫০)
ইবন ইসহাক বলেন: কা'ব ইব্ন আসাদ, ইব্ন সূরিয়া, আবদুল্লাহ্ ইব্ন সূরিয়া এবং শাস ইব্ন কায়স নিজেদের মধ্যে এ মর্মে বলাবলি করল যে, চল আমরা মুহাম্মদের কাছে যাই। হয়তো বা ছলে-বলে আমরা তাঁকে তাঁর ধর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারব। কেননা তিনি তো একজন মানুষ। সেমতে তারা তাঁর কাছে এল এবং বলল : হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আপনি অবগত আছেন যে, আমরা ইয়াহুদীদের পণ্ডিত এবং তাদের সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। আমরা যদি আপনার ধর্ম গ্রহণ করে নিই, তাহলে সমগ্র ইয়াহুদী সমাজ আপনার অনুসারী হয়ে যাবে এবং তারা আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে না। আমাদের এবং আমাদের সম্প্রদায়ের কিছু লোকের মধ্যে কলহ রয়েছে। আমরা যদি আপনাকে তাদের এবং আমাদের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার জন্যে বিচারক নিযুক্ত করি, আর আপনি যদি তাদের বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষে রায় দেন, তাহলে আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনব এবং আপনাকে সত্য নবী বলে মেনে নেব। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। এ সময় আল্লাহ্ তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন:
وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَانَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يُفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضٍ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضٍ ذُنُوبِهِمْ وَإِنْ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفُسِقُوْنَ - أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ -
"(আর আমি কিতাব নাযিল করেছি) যাতে আপনি আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী তাদের বিচার নিষ্পত্তি করেন, আর তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ না করেন-এবং তাদের সম্বন্ধে সতর্ক থাকবেন যাতে আল্লাহ্ যা আপনার প্রতি নাযিল করেছেন, তারা তার কিছু থেকে আপনাকে বিচ্যুত না করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখুন যে, তাদের কোন কোন পাপের জন্য আল্লাহ্ তাদের শাস্তি দিতে চান এবং মানুষের মধ্যে অনেকেই তো সত্যত্যাগী। তবে কি তারা জাহিলী যুগের বিধি-বিধান চায়? নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহ্ অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠতর?" (৫: ৪৯-৫০)