📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতি তাদের পাথর নিক্ষেপের ব্যাপারে ঐকমত্য
রাসূলুল্লাহ্ (সা) একদা বনূ আমিরের দুই ব্যক্তির রক্তপণ পরিশোধে সাহায্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে, যাদের আমর ইবন উমাইয়া যামারী হত্যা করেছিল, বনূ নাযীরের নিকট গমন করেন। তখন তারা গোপনে এরূপ বলাবলি করল যে, এ মুহূর্তের মতো মুহাম্মদকে এত নিকটে তোমরা আর কখনও পাবে না। সুতরাং এমন কে আছে, যে ঐ ঘরের উপর উঠে কোন বিরাট পাথরখণ্ড তাঁর উপর নিক্ষেপ করে তাঁর উপদ্রব থেকে আমাদের রক্ষা করবে? তখন আমর ইব্ন জাহাশ ইব্ন কা'ব বলল, আমি।
এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি সেখান থেকে চলে আসেনও এ সময় আল্লাহ্ তার ও তার সম্প্রদায়ের অভিপ্রায়ের কথা জানিয়ে দিয়ে নাযিল করেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ هُمَّ قَوْمٌ أَنْ يَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ فَكَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَعَلَى اللهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ -
"হে মু'মিনগণ! তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন এক সম্প্রদায় তোমাদের বিরুদ্ধে হাত উত্তোলন করতে চেয়েছিল, তখন আল্লাহ্ তাদের হাত সংযত করেছিলেন এবং আল্লাহকে ভয় কর, আর আল্লাহ্-ই প্রতি মু'মিনগণ নির্ভর করুক।" (৫: ১১)
রাসূলুল্লাহ্ (সা) একদা বনূ আমিরের দুই ব্যক্তির রক্তপণ পরিশোধে সাহায্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে, যাদের আমর ইবন উমাইয়া যামারী হত্যা করেছিল, বনূ নাযীরের নিকট গমন করেন। তখন তারা গোপনে এরূপ বলাবলি করল যে, এ মুহূর্তের মতো মুহাম্মদকে এত নিকটে তোমরা আর কখনও পাবে না। সুতরাং এমন কে আছে, যে ঐ ঘরের উপর উঠে কোন বিরাট পাথরখণ্ড তাঁর উপর নিক্ষেপ করে তাঁর উপদ্রব থেকে আমাদের রক্ষা করবে? তখন আমর ইব্ন জাহাশ ইব্ন কা'ব বলল, আমি।
এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি সেখান থেকে চলে আসেনও এ সময় আল্লাহ্ তার ও তার সম্প্রদায়ের অভিপ্রায়ের কথা জানিয়ে দিয়ে নাযিল করেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ هُمَّ قَوْمٌ أَنْ يَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ فَكَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَعَلَى اللهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ -
"হে মু'মিনগণ! তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন এক সম্প্রদায় তোমাদের বিরুদ্ধে হাত উত্তোলন করতে চেয়েছিল, তখন আল্লাহ্ তাদের হাত সংযত করেছিলেন এবং আল্লাহকে ভয় কর, আর আল্লাহ্-ই প্রতি মু'মিনগণ নির্ভর করুক।" (৫: ১১)
📄 ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের আল্লাহ্র প্রিয়জন হওয়ার দাবি
একদা নু'মান ইব্ন আযা, বাহরী ইবন উমর এবং শাস ইব্ন আদী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-ও তাদের সাথে কথা বলেন এবং তাদেরকে আল্লাহ্ দিকে দাওয়াত দেন এবং তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের পরিণাম সম্পর্কে তাদের হুশিয়ার করে দেন। তারা বলল: হে মুহাম্মদ! আপনি আমাদের কিসের ভয় দেখান। আল্লাহর কসম! আমরা হলাম আল্লাহর পুত্র এবং তাঁর প্রিয়জন, যেমন খ্রিস্টানরা বলে থাকে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন: وَقَالَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصْرَى نَحْنُ ابْنُو اللَّهِ وَاحِبَّاؤُهُ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُمْ بِذُنُوبِكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بَشْرٌ مِّمَّنْ خَلَقَ يَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمواتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ -
"ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ বলে, আমরা আল্লাহ্র পুত্র ও তাঁর প্রিয়। আপনি বলুন, তবে কেন তিনি তোমাদের পাপের জন্য তোমাদের শাস্তি দেন? না, তোমরা মানুষ তাদেরই মত, যাদের আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছেন। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন; আসমান ও যমীনের এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার সার্বভৌমত্ব আল্লাহ্-ই। আর প্রত্যাবর্তন তাঁর-ই দিকে।" (৫: ১৮)
একদা নু'মান ইব্ন আযা, বাহরী ইবন উমর এবং শাস ইব্ন আদী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-ও তাদের সাথে কথা বলেন এবং তাদেরকে আল্লাহ্ দিকে দাওয়াত দেন এবং তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের পরিণাম সম্পর্কে তাদের হুশিয়ার করে দেন। তারা বলল: হে মুহাম্মদ! আপনি আমাদের কিসের ভয় দেখান। আল্লাহর কসম! আমরা হলাম আল্লাহর পুত্র এবং তাঁর প্রিয়জন, যেমন খ্রিস্টানরা বলে থাকে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন: وَقَالَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصْرَى نَحْنُ ابْنُو اللَّهِ وَاحِبَّاؤُهُ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُمْ بِذُنُوبِكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بَشْرٌ مِّمَّنْ خَلَقَ يَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمواتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ -
"ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ বলে, আমরা আল্লাহ্র পুত্র ও তাঁর প্রিয়। আপনি বলুন, তবে কেন তিনি তোমাদের পাপের জন্য তোমাদের শাস্তি দেন? না, তোমরা মানুষ তাদেরই মত, যাদের আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছেন। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন; আসমান ও যমীনের এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার সার্বভৌমত্ব আল্লাহ্-ই। আর প্রত্যাবর্তন তাঁর-ই দিকে।" (৫: ১৮)
📄 মূসা (আ)-এর পর কোন কিতাব নাযিল হওয়ার ব্যাপারে তাদের অস্বীকৃতি
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইয়াহুদীদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দিলেন, এ ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত করলেন এবং তিনি তাদের আল্লাহ্ শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলেন। তখন তারা তাঁর কথা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করল এবং তাঁর আনীত শরীআতকে অগ্রাহ্য করল।
তখন মুআয ইব্ন জাবাল, সা'দ ইবন উবাদা এবং উব্বা ইব্ন ওয়াব (সা) তাদের লক্ষ্য করে বললেন: হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ্র কসম, তোমরা নিশ্চয়ই অবগত আছ যে, তিনি আল্লাহর রাসূল। তাঁর আবির্ভূত হওয়ার পূর্বে তোমরা তাঁর কথা আমাদের কাছে বলাবলি করতে এবং তাঁর গুণাবলীর কথা আমাদের সামনে আলোচনা করতে।
তখন রাফি' ইব্ন হুরায়মলা এবং ওয়াহ্ ইব্ন ইয়াহুযা বলল: আমরা কস্মিনকালেও এ ব্যাপারে তোমাদের কাছে কিছু বলিনি। আর মূসার পর আল্লাহ্ কোন কিতাবও নাযিল করেননি। আর কোন সুসংবাদদাতা বা সতর্ককারীও তিনি আর প্রেরণ করেননি। তখন আল্লাহ্ তাদের দু'জনের উক্ত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নাযিল করেন:
يَأَهْلَ الْكِتٰبِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ عَلَى فَتْرَةٍ مِّنَ الرُّسُلِ أَنْ تَقُولُوا مَا جَاءَنَا مِنْ بَشِيرٍ وَلَا نَذِيرٍ فَقَدْ جَاءَكُمْ بَشِيرٌ وَنَذِيرٌ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ -
"হে কিতাবীগণ! রাসূল প্রেরণে বিরতির পর আমার রাসূল তোমাদের নিকট এসেছেন, যিনি তোমাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা বলতে না পার, কোন সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী আমাদের নিকট আসেননি; এখনতো তোমাদের নিকট একজন সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী এসেছেন। আল্লাহ্ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।" (৫: ১৯)
এরপর তাদের কাছে মূসা (আ) এবং তাদের হাতে তাঁর দুর্ভোগ পোহানো, তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তার প্রতিফল ভোগ এবং দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর্যন্ত তাদের ভূ-পৃষ্ঠে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর কথা আল্লাহ্ বর্ণনা করেছেন।
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইয়াহুদীদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দিলেন, এ ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত করলেন এবং তিনি তাদের আল্লাহ্ শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলেন। তখন তারা তাঁর কথা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করল এবং তাঁর আনীত শরীআতকে অগ্রাহ্য করল।
তখন মুআয ইব্ন জাবাল, সা'দ ইবন উবাদা এবং উব্বা ইব্ন ওয়াব (সা) তাদের লক্ষ্য করে বললেন: হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ্র কসম, তোমরা নিশ্চয়ই অবগত আছ যে, তিনি আল্লাহর রাসূল। তাঁর আবির্ভূত হওয়ার পূর্বে তোমরা তাঁর কথা আমাদের কাছে বলাবলি করতে এবং তাঁর গুণাবলীর কথা আমাদের সামনে আলোচনা করতে।
তখন রাফি' ইব্ন হুরায়মলা এবং ওয়াহ্ ইব্ন ইয়াহুযা বলল: আমরা কস্মিনকালেও এ ব্যাপারে তোমাদের কাছে কিছু বলিনি। আর মূসার পর আল্লাহ্ কোন কিতাবও নাযিল করেননি। আর কোন সুসংবাদদাতা বা সতর্ককারীও তিনি আর প্রেরণ করেননি। তখন আল্লাহ্ তাদের দু'জনের উক্ত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নাযিল করেন:
يَأَهْلَ الْكِتٰبِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ عَلَى فَتْرَةٍ مِّنَ الرُّسُلِ أَنْ تَقُولُوا مَا جَاءَنَا مِنْ بَشِيرٍ وَلَا نَذِيرٍ فَقَدْ جَاءَكُمْ بَشِيرٌ وَنَذِيرٌ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ -
"হে কিতাবীগণ! রাসূল প্রেরণে বিরতির পর আমার রাসূল তোমাদের নিকট এসেছেন, যিনি তোমাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা বলতে না পার, কোন সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী আমাদের নিকট আসেননি; এখনতো তোমাদের নিকট একজন সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী এসেছেন। আল্লাহ্ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।" (৫: ১৯)
এরপর তাদের কাছে মূসা (আ) এবং তাদের হাতে তাঁর দুর্ভোগ পোহানো, তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তার প্রতিফল ভোগ এবং দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর্যন্ত তাদের ভূ-পৃষ্ঠে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর কথা আল্লাহ্ বর্ণনা করেছেন।
📄 প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডদানের ব্যাপারে তাদের নবী করীম (সা)-এর শরণাপন্ন হওয়া
ইবন ইসহাক বলেন: ইব্ন শিহাব যুহরী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুযায়না গোত্রের জনৈক আলিম ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন, তিনি সাঈদ ইব্ন মুসায়্যাবকে এ মর্মে বলতে শুনেছেন যে, আবূ হুরায়রা (রা) তাঁদের কাছে বর্ণনা করেছেন: একদা ইয়াহূদী পণ্ডিতগণ তাদের শিক্ষালয়ে একত্রিত হয়। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করেছেন। তাদের জনৈক বিবাহিত পুরুষ জনৈকা বিবাহিতা ইয়াহূদী মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল। তখন তারা বলল: এ পুরুষ ও মহিলাটিকে মুহাম্মদের কাছে পাঠিয়ে তাদের ব্যাপারে কি বিধান তা তাঁর কাছে জিজ্ঞেস কর এবং তাঁকেই এদের সালিসীর দায়িত্ব প্রদান কর। তিনি যদি তাদের ব্যাপারে তোমাদের তাজবীহ, বিধান কার্যকরী করেন—আর তাজবীহ হচ্ছে খুরমা গাছের ছাল দ্বারা প্রস্তুত রশিকে আলকাতরা মাখিয়ে বেত বানিয়ে তার দ্বারা ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে প্রহার করা, এরপর তাদের চেহারায় কালি মাখিয়ে তাদের দুটি গাধার উপর এমনভাবে চড়িয়ে দেওয়া হত যে, তাদের মুখ থাকত গাধার পেছনের দিকে—তাহলে তোমরা তাঁকে মান্য করবে। কেননা এমতাবস্থায় তিনি একজন বাদশাহ বৈ কিছু নন। তোমরা তাঁকে সত্যবাদী বলে মেনে নেবে। আর যদি তিনি তাদের ব্যাপারে রজম বা প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডদানের বিধান কার্যকরী করার ফয়সালা দেন, তাহলে তোমরা মনে করবে নিশ্চয়ই তিনি একজন নবী।
তাহলে তোমাদের হাতে যা রয়েছে, সে ব্যাপারে তোমরা তাকে ভয় করবে। কেননা তিনি তা তোমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন।
এরপর তারা তাঁর কাছে এসে বলল: হে মুহাম্মদ! এ ব্যক্তিটি বিবাহিত অবস্থায় একটি বিবাহিতা মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে। আপনি এদের ব্যাপারে ফয়সালা দিন। আমরা এ ব্যাপারে আপনাকেই সালিসীর দায়িত্ব দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের একটি শিক্ষালয়ে তাদের পণ্ডিতগণের কাছে গিয়ে বললেন:
يا معشر يهود اخرجوا الى علمائكم
"হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! তোমাদের পণ্ডিতগণকে আমার সামনে আন।"
তারা তখন আবদুল্লাহ্ ইব্ন সূরিয়াকে তাঁর সামনে উপস্থিত করল।
ইন্ন ইসহাক বলেন: আমার কাছে বনু কুরায়যার কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন, সেদিন তারা ইন্ন সূরিয়ার সাথে আবূ ইয়াসির ইব্ন আখতাব এবং ওয়াহ্ব ইব্ন ইয়াহুযাকেও উপস্থিত করেছিল। তারা বলল : এরাই হচ্ছেন আমাদের আলিম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেন এবং তাদের জ্ঞানের গভীরতা জেনে নিলেন। এক পর্যায়ে তারা আবদুল্লাহ্ ইব্ন সূরিয়া সম্পর্কে বলল যে, ইনিই তাওরাত সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি।
ইন্ন হিশাম বলেন: বনু কুরায়যার কেউ কেউ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইনিই তাওরাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। ইন্ন ইসহাকের বক্তব্য এবং পরবর্তী অংশটুকু পূর্ববর্তী বর্ণনারই অংশবিশেষ।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাথে একান্তে মিলিত হলেন। সে ছিল তরুণ যুবক এবং তাদের মধ্যে বয়সে সর্বকনিষ্ঠ। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে তাকিদ দিয়ে বললেন:
يا بن صوريا انشدك الله واذكرك بايامه عند بنى اسرائيل هل تعلم ان الله حكم فيمن زنی بعد احصانه بالرجم في التوراة ؟ قال اللهم نعم اما والله يا أبا القاسم انهم ليعرفون انك لنبی مرسل ولكنهم يحسدونك
"হে ইব্ন সূরিয়া! তোমাকে আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি এবং তোমাকে বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রদত্ত আল্লাহর নিয়ামতরাজির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। তুমি কি জ্ঞাত আছ যে, তাওরাতে আল্লাহ্ তা'আলা বিবাহিত ব্যভিচারীর জন্যে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান দিয়েছেন? সে বলল: ইয়া আল্লাহ্! হ্যাঁ, আল্লাহ্র কসম! হে আবুল কাসিম! এরা নিশ্চিতরূপেই জ্ঞাত আছে যে, আপনি আল্লাহ্ প্রেরিত সত্য নবী। কিন্তু তারা আপনাকে ঈর্ষা করছে।"
রাবী বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বেরিয়ে আসলেন এবং তাদের প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুর দণ্ডাদেশ জারী করলেন। তখন বনূ গানাম ইবন মালিক নাজ্জারের পল্লীতে তাঁর মসজিদের দরজার সামনে সে দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হল। এরপরও ইন্ন সূরিয়া কুফরী করল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নবুওয়তকে অস্বীকার করল।
ইবন ইসহাক বলেন: ইব্ন শিহাব যুহরী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুযায়না গোত্রের জনৈক আলিম ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন, তিনি সাঈদ ইব্ন মুসায়্যাবকে এ মর্মে বলতে শুনেছেন যে, আবূ হুরায়রা (রা) তাঁদের কাছে বর্ণনা করেছেন: একদা ইয়াহূদী পণ্ডিতগণ তাদের শিক্ষালয়ে একত্রিত হয়। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করেছেন। তাদের জনৈক বিবাহিত পুরুষ জনৈকা বিবাহিতা ইয়াহূদী মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল। তখন তারা বলল: এ পুরুষ ও মহিলাটিকে মুহাম্মদের কাছে পাঠিয়ে তাদের ব্যাপারে কি বিধান তা তাঁর কাছে জিজ্ঞেস কর এবং তাঁকেই এদের সালিসীর দায়িত্ব প্রদান কর। তিনি যদি তাদের ব্যাপারে তোমাদের তাজবীহ, বিধান কার্যকরী করেন—আর তাজবীহ হচ্ছে খুরমা গাছের ছাল দ্বারা প্রস্তুত রশিকে আলকাতরা মাখিয়ে বেত বানিয়ে তার দ্বারা ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে প্রহার করা, এরপর তাদের চেহারায় কালি মাখিয়ে তাদের দুটি গাধার উপর এমনভাবে চড়িয়ে দেওয়া হত যে, তাদের মুখ থাকত গাধার পেছনের দিকে—তাহলে তোমরা তাঁকে মান্য করবে। কেননা এমতাবস্থায় তিনি একজন বাদশাহ বৈ কিছু নন। তোমরা তাঁকে সত্যবাদী বলে মেনে নেবে। আর যদি তিনি তাদের ব্যাপারে রজম বা প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডদানের বিধান কার্যকরী করার ফয়সালা দেন, তাহলে তোমরা মনে করবে নিশ্চয়ই তিনি একজন নবী।
তাহলে তোমাদের হাতে যা রয়েছে, সে ব্যাপারে তোমরা তাকে ভয় করবে। কেননা তিনি তা তোমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন।
এরপর তারা তাঁর কাছে এসে বলল: হে মুহাম্মদ! এ ব্যক্তিটি বিবাহিত অবস্থায় একটি বিবাহিতা মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে। আপনি এদের ব্যাপারে ফয়সালা দিন। আমরা এ ব্যাপারে আপনাকেই সালিসীর দায়িত্ব দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের একটি শিক্ষালয়ে তাদের পণ্ডিতগণের কাছে গিয়ে বললেন:
يا معشر يهود اخرجوا الى علمائكم
"হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! তোমাদের পণ্ডিতগণকে আমার সামনে আন।"
তারা তখন আবদুল্লাহ্ ইব্ন সূরিয়াকে তাঁর সামনে উপস্থিত করল।
ইন্ন ইসহাক বলেন: আমার কাছে বনু কুরায়যার কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন, সেদিন তারা ইন্ন সূরিয়ার সাথে আবূ ইয়াসির ইব্ন আখতাব এবং ওয়াহ্ব ইব্ন ইয়াহুযাকেও উপস্থিত করেছিল। তারা বলল : এরাই হচ্ছেন আমাদের আলিম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেন এবং তাদের জ্ঞানের গভীরতা জেনে নিলেন। এক পর্যায়ে তারা আবদুল্লাহ্ ইব্ন সূরিয়া সম্পর্কে বলল যে, ইনিই তাওরাত সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি।
ইন্ন হিশাম বলেন: বনু কুরায়যার কেউ কেউ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইনিই তাওরাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। ইন্ন ইসহাকের বক্তব্য এবং পরবর্তী অংশটুকু পূর্ববর্তী বর্ণনারই অংশবিশেষ।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাথে একান্তে মিলিত হলেন। সে ছিল তরুণ যুবক এবং তাদের মধ্যে বয়সে সর্বকনিষ্ঠ। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে তাকিদ দিয়ে বললেন:
يا بن صوريا انشدك الله واذكرك بايامه عند بنى اسرائيل هل تعلم ان الله حكم فيمن زنی بعد احصانه بالرجم في التوراة ؟ قال اللهم نعم اما والله يا أبا القاسم انهم ليعرفون انك لنبی مرسل ولكنهم يحسدونك
"হে ইব্ন সূরিয়া! তোমাকে আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি এবং তোমাকে বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রদত্ত আল্লাহর নিয়ামতরাজির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। তুমি কি জ্ঞাত আছ যে, তাওরাতে আল্লাহ্ তা'আলা বিবাহিত ব্যভিচারীর জন্যে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান দিয়েছেন? সে বলল: ইয়া আল্লাহ্! হ্যাঁ, আল্লাহ্র কসম! হে আবুল কাসিম! এরা নিশ্চিতরূপেই জ্ঞাত আছে যে, আপনি আল্লাহ্ প্রেরিত সত্য নবী। কিন্তু তারা আপনাকে ঈর্ষা করছে।"
রাবী বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বেরিয়ে আসলেন এবং তাদের প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুর দণ্ডাদেশ জারী করলেন। তখন বনূ গানাম ইবন মালিক নাজ্জারের পল্লীতে তাঁর মসজিদের দরজার সামনে সে দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হল। এরপরও ইন্ন সূরিয়া কুফরী করল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নবুওয়তকে অস্বীকার করল।