📄 আবূ বকরের ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া
তখন আবূ বকর (রা) নারাজ হলেন এবং তার গালে জোরে আঘাত হেনে বললেন: "যাঁর হাতে আমার প্রাণ সেই মহান সত্তার কসম! যদি তোদের এবং আমাদের মধ্যে চুক্তি না থাকত, তবে আমি তোর মাথায় আঘাত করতাম হে আল্লাহর দুশমন।"
রাবী বলেন, তখন ফানহাস রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে গিয়ে নালিশ করল: হে মুহাম্মদ! আপনার সাথী আমার সাথে কী দুর্ব্যবহার করেছে তা লক্ষ্য করুন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ বকরকে উদ্দেশ্য করে বললেন : তোমাকে তার সাথে এ কাজ করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল?
আবূ বকর (রা) আরয করলেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ! নিশ্চয়ই আল্লাহর শত্রুটি আল্লাহর ব্যাপারে জঘন্য উক্তি করেছে। তার ধারণা আল্লাহ্ অভাবগ্রস্ত, ফকীর আর তারা অভাবমুক্ত ধনিক সমাজ। সে যখন এরূপ উক্তি করল, তখন তার এ উক্তিতে আমি অসন্তুষ্ট হই এবং আল্লাহ্রই (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে তার গালে আঘাত করি। কিন্তু ফানহাস সাথে সাথে তা অস্বীকার করে বসল।
সে বলল: আমি এমন উক্তি করিনি। তখন আল্লাহ্ তা'আলা ফানহাসের কথা রদ করে আবূ বকর (রা)-এর সত্যতার প্রমাণস্বরূপ নাযিল করেন: لَقَدْ سَمِعَ اللهُ قَوْلَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَاءُ سَنَكْتُبُ مَا قَالُوا وَقَتْلَهُمُ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٍّ ونَقُولُ ذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ .
"আল্লাহ্ তা'আলা নিশ্চয়ই ঐসব লোকের উক্তি শ্রবণ করেছেন, যারা বলেছে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অভাবগ্রস্ত এবং আমরা ধনী। অচিরেই আমি তা লিপিবদ্ধ করে নেব যা তারা বলেছে এবং তাদের নবী-রাসূলদেরকে হত্যার ব্যাপারটিও-যা নাহকভাবে তারা করেছে, আর আমি বলব, দগ্ধকারী (আগুনের) শাস্তি ভোগ কর।" (৩: ১৮১)
আবূ বকর সিদ্দীক (রা) ও তাঁর অসন্তুষ্টি সম্পর্কে নাযিল হল:
وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَبَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا أَذًى كَثِيرًا وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ .
"তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে এবং যারা শিরক করেছে, তাদের পক্ষ থেকে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক বক্তব্যই শুনতে পাবে। যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর ও তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে তা হবে দৃঢ়তামূলক কাজ।" (৩: ১৮৬)
📄 ইয়াহুদী পণ্ডিতদের চরিত্র
তারপর ফানহাস এবং তার সাথী ইয়াহুদী পণ্ডিতদের বক্তব্যের জবাবে নাযিল হল : وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَبَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَدُوهُ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَاوْ بِهِ ثَمَنًا قَلِيْلاً فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ . لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُوْنَ بِمَا أَتَوا وَ يُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا فَلَا تَحْسَبَنَّهُمْ بِمَفَازَةٍ مِّنَ الْعَذَابِ وَلَهُمْ عَذَابِ اليم.
"(আর স্মরণ কর সেদিনের কথা) যখন আল্লাহ্ কিতাবধারী সম্প্রদায়ের নিকট থেকে এ মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, তোমরা অবশ্যই লোক সমক্ষে তা প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না, তারা তা তাদের পেছনে ফেলে দিল (মানে তার ভ্রুক্ষেপমাত্র করল না) এবং স্বল্প মূল্যে তা বিক্রি করে দিল, তাদের এ বিনিময় কতই না মন্দ! আর তারা যা পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করছে এবং তারা যে যা করেনি তজ্জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে। তা তাদেরকে শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি প্রদান করবে বলে কখনো ধারণা করবে না। তাদের জন্যে রয়েছে যাতনাদায়ক শাস্তি।” (৩ : ১৮৭-১৮৮)
অর্থাৎ ফানহাস, আইয়া' প্রমুখ ইয়াহুদী পণ্ডিতবর্গ গুমরাহীকে চাকচিক্যময় করে লোকসমাজে উপস্থাপিত করে যে পার্থিব ফায়দা লুটেছে এবং এতে উল্লসিত হয়েছে, আর তারা যে গুণাবলীতে গুণান্বিত নয়, সেগুণে প্রশংসিত হতে ভালবাসে অর্থাৎ আসলে তারা পণ্ডিত নয়, কিন্তু লোকে পণ্ডিত বলে অভিহিত করুক এটা তারা কামনা করে, আর না তারা হিদায়াত ও সত্যের অনুসারী অথচ লোকে তাদেরকে তা বলুক এ কথা তারা কামনা করে।
📄 মুসলমানদের প্রতি ইয়াহুদীদের কার্পণ্য অবলম্বনের উপদেশ
ইবন ইসহাক বলেন : কা'ব ইব্ন আশরাফের মিত্র কুরদাম ইব্ন কাযস, উসামা ইব্ন হাবীব, নাফি', বাত্রী ইব্ন Amr, হুয়াই ইব্ন আখতাব ও রিফা'আ ইব্ন্ন যায়দ ইব্ন তাবৃত। কতিপয় আনসার সাহাবীর কাছে আসা-যাওয়া ও তাঁদের সাথে মেলামেশা করত। তারা তাঁদের এ মর্মে উপদেশ দিত যে, তোমরা তোমাদের অর্থ ব্যয় করবে না। কেননা আমাদের আশঙ্কা হয় যে, অর্থ-সম্পদ হাতছাড়া হয়ে গেলে তোমরা দরিদ্র হয়ে পড়বে। আর অর্থ-সম্পদ ব্যয়ে তড়িঘড়ি করবে না-রয়েসয়ে খরচ করবে, কেননা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তোমরা জ্ঞাত নও।
আল্লাহ্ তা'আলা তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন:
الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ النَّاسِ بِالْبُخْلِ وَيَكْتُمُونَ مَا أَنَّهُمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَفِرِينَ عَذَابًا مُّهِينَا - وَالَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ رِنَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَنْ يَكُنِ الشَّيْطَنُ لَهُ قَرِبْنَا فَسَاءَ قَرِبْنَا - وَمَاذَا عَلَيْهِمْ لَوْ آمَنُوا بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقَهُمُ اللَّهُ وَكَانَ اللَّهُ بهِمْ عَلِيمًا .
"যারা নিজেরা বখিলী করে এবং লোকজনকে বখিলী করতে বলে এবং আল্লাহ্ তাদেরকে যে অনুগ্রহ প্রদান করেছেন তা গোপন করে [অর্থাৎ তাওরাত-যা মুহাম্মদ (সা)-এর নিয়ে আসা সত্যকে স্বীকার করে। এবং আমি কাফিরদের জন্যে অপমানজনক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি। আর যারা তাদের সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে আর আল্লাহ্র প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস করে না... আল্লাহ্ তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন।" (৪: ৩৭-৩৯)
📄 ইয়াহুদী যাদের প্রতি মহান আল্লাহ্র লা'নত তাদের সত্য প্রত্যাখ্যান
ইবন ইসহাক বলেন: রিফা'আ ইব্ন যায়দ ইব্ন তাবৃত ছিল ইয়াহুদীদের অন্যতম প্রধান সরদার। যখন সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে আলাপ করত, তখন সে রসনা বাঁকিয়ে কথা বলত। সে বলত : ارعنا سمعك يا محمد حتى نفهمك "আমাদের দিকে ভালমতে খেয়াল করে তাকাবেন হে মুহাম্মদ। যাতে আমরা আপনাকে আমাদের বক্তব্য বুঝাতে পারি।" তারপর সে ইসলাম সম্পর্কে কটুক্তি করে এবং এর দুর্নাম রটনা করে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার ব্যাপারে নাযিল করেন: الَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَّصِيبًا مِّنَ الكتب يَشْتَرُونَ الضَّلَةَ وَيُرِيدُونَ أَنْ تَضِلُّوا السَّبِيلَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَانِكُمْ وَكَفَى بِاللَّهِ وَلِيًّا وَكَفَى بِاللهِ نَصِيرًا . مِنَ الَّذِينَ هَادُوا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَع وَرَاعِنَا لَيَا بِالسِنَتِهِمْ وَطَعْنَا فِي الدِّينِ وَلَوْ أَنَّهُمْ قَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَاسْمَعْ وَانْظُرْنَا لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَقْوَمَ وَلَكِنْ لَعْنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلاً .
"আপনি কি দেখেননি ঐসব লোককে, যাদেরকে কিতাবের কতিপয় অংশ প্রদান করা হয়েছে, তারা গুমরাহী ক্রয় করে পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে। আর আল্লাহ্ তোমাদের শত্রুদের সম্পর্কে অধিক অবগত এবং অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট। ইয়াহুদীদের মধ্যে এমন কতিপয় লোক রয়েছে, যারা শব্দসমূহকে স্থানচ্যুত করে এবং বলে, سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَأَسْمَعْ غَيْر مسمع 'আমরা শুনলাম তবে মানলাম না এবং শোনা না শোনার মত এবং হে আমাদের রাখাল।” (তারা এসব শব্দ বলে) তাদের জিহবা কুঞ্চিত করে দীনের প্রতি তাচ্ছিল্য ভরে। অথচ তারা যদি বলত : سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأَسْمَعْ وَانْظُرْنَا 'আমরা শুনলাম, আনুগত্য স্বীকার করলাম, শুনুন এবং আমাদের দিকে একটু নযর দিন'- তবে অবশ্যই তা তাদের জন্যে উত্তম ও যথার্থ হত, কিন্তু আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের কুফরীর জন্যে অভিসম্পাত করেছেন, তাই তারা ঈমান আনবেনা— তবে তাদের স্বল্প সংখ্যক।" (৪:৮৮-৪৬)
রাসূলুল্লাহ্ (সা) কতিপয় বিশিষ্ট ও নেতৃস্থানীয় ইয়াহুদী পণ্ডিতের সাথে আলাপ করলেন। এদের মধ্যে আবদুল্লাহ্ ইব্ন সুরিয়া আল-আ'ওয়ার এবং কা'ব ইব্ন আসাদও ছিল। তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন: يا معشر يهود اتقوا الله واسلموا فوالله انكم لتعلمون ان الذي جئتكم به الحق
"হে ইয়াহুদী সমাজ! আল্লাহকে ভয় কর এবং ইসলাম গ্রহণ কর। আল্লাহ্র কসম, তোমরা নিশ্চয়ই অবগত আছ যে, আমি যা নিয়ে তোমাদের নিকট এসেছি তা অবশ্যই হক।"
তারা বলল: হে মুহাম্মদ! আমরা তো তা জ্ঞাত নই। তখন তারা তাদের জ্ঞাত ব্যাপারটি অস্বীকার করে বসল এবং তাদের কুফরীর উপর অবিচল রইল। এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করলেন: يَّأَيُّهَا الَّذِينَ أُوتُوا الكتب أمَنُوا بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُمْ مِّنْ قَبْلِ أَنْ نُّطْمِسَ وُجُوهَا فَتَرُدَّهَا علي أَدْبَارِهَا أَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّا أَصْحَابَ السَّبْتِ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولاً .
"হে কিতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ! ঈমান আন সে বস্তুর উপর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি—তোমাদের কাছে যা সংরক্ষিত আছে তার সত্যায়নকারীরূপে—মুখমণ্ডলসমূহকে বিকৃত করে, পশ্চাদমুখী করে দেয়ার এবং শনিবারপন্থীদেরকে অভিশপ্ত করার মত অভিশপ্ত করে দেয়ার পূর্বেই, আর আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যই কার্যকর।" (৪:৪৭)
ইব্ন হিশাম বলেন : نطمس শব্দের অর্থ হচ্ছে نمسحها তাকে মিটিয়ে সমান বা নিশ্চিহ্ন করে দেব। ফলে তাতে চোখ, মুখ, নাক বা এমন কিছু দেখা যাবে না যা সাধারণত মুখমণ্ডলে পরিদৃষ্ট হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে نطمسنا عينهم আয়াতাংশেও ঐ একই অর্থে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যার দু'টি ভ্রূতে ছিদ্র নেই ঐ একই অর্থে তাকে বলা হয়ে থাকে ا مطموس العين call fe طمست الكتاب والاثر فلا يرى منه شيئ : অর্থাৎ আমি লেখা ও চিহ্ন এমনভাবে মিটিয়ে ফেলেছি যে, কিছুই দেখা যায় না।
কবি আখতাল—যাঁর আসল নাম গাওস ইব্ন হুবায়রা ইব্ন সুলব তাগলাবী—তার উটের বর্ণনা দিতে গিয়ে ঐ অর্থেই বলেছেন:
وتكليفنا ها كل طامسة الصوى x شطون ترى حربا ءها يتململ
ইবন হিশাম বলেন: আরবরা বলে مسحت فاستوت بالارض فليس فيها شيئ ناتی "আমি এমনভাবে মুছে দিলাম যে, একেবারে মাটির সাথে মিশে গেল। এতে আর কিছুই ধরার মত রইল না।"
টিকাঃ
১. শব্দগুলো দ্ব্যর্থবোধক। এখানে প্রদত্ত অর্থ হচ্ছে দুষ্ট ইয়াহুদীদের মনের কথা। কিন্তু এর সদর্থ হচ্ছে-আমরা আপনার বক্তব্য শুনলাম এবং বিরোধীদের কথা অগ্রাহ্য করলাম, আপনাকে কোন অশ্রাব্য ও অনুত্তম কথা শুনতে না হোক, আমাদের দিকে সদয় দৃষ্টি দিন। অনুবাদক
ইবন ইসহাক বলেন: রিফা'আ ইব্ন যায়দ ইব্ন তাবৃত ছিল ইয়াহুদীদের অন্যতম প্রধান সরদার। যখন সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে আলাপ করত, তখন সে রসনা বাঁকিয়ে কথা বলত। সে বলত : ارعنا سمعك يا محمد حتى نفهمك "আমাদের দিকে ভালমতে খেয়াল করে তাকাবেন হে মুহাম্মদ। যাতে আমরা আপনাকে আমাদের বক্তব্য বুঝাতে পারি।" তারপর সে ইসলাম সম্পর্কে কটুক্তি করে এবং এর দুর্নাম রটনা করে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার ব্যাপারে নাযিল করেন: الَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَّصِيبًا مِّنَ الكتب يَشْتَرُونَ الضَّلَةَ وَيُرِيدُونَ أَنْ تَضِلُّوا السَّبِيلَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَانِكُمْ وَكَفَى بِاللَّهِ وَلِيًّا وَكَفَى بِاللهِ نَصِيرًا . مِنَ الَّذِينَ هَادُوا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَع وَرَاعِنَا لَيَا بِالسِنَتِهِمْ وَطَعْنَا فِي الدِّينِ وَلَوْ أَنَّهُمْ قَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَاسْمَعْ وَانْظُرْنَا لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَقْوَمَ وَلَكِنْ لَعْنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلاً .
"আপনি কি দেখেননি ঐসব লোককে, যাদেরকে কিতাবের কতিপয় অংশ প্রদান করা হয়েছে, তারা গুমরাহী ক্রয় করে পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে। আর আল্লাহ্ তোমাদের শত্রুদের সম্পর্কে অধিক অবগত এবং অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট। ইয়াহুদীদের মধ্যে এমন কতিপয় লোক রয়েছে, যারা শব্দসমূহকে স্থানচ্যুত করে এবং বলে, سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَأَسْمَعْ غَيْر مسمع 'আমরা শুনলাম তবে মানলাম না এবং শোনা না শোনার মত এবং হে আমাদের রাখাল।” (তারা এসব শব্দ বলে) তাদের জিহবা কুঞ্চিত করে দীনের প্রতি তাচ্ছিল্য ভরে। অথচ তারা যদি বলত : سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأَسْمَعْ وَانْظُرْنَا 'আমরা শুনলাম, আনুগত্য স্বীকার করলাম, শুনুন এবং আমাদের দিকে একটু নযর দিন'- তবে অবশ্যই তা তাদের জন্যে উত্তম ও যথার্থ হত, কিন্তু আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের কুফরীর জন্যে অভিসম্পাত করেছেন, তাই তারা ঈমান আনবেনা— তবে তাদের স্বল্প সংখ্যক।" (৪:৮৮-৪৬)
রাসূলুল্লাহ্ (সা) কতিপয় বিশিষ্ট ও নেতৃস্থানীয় ইয়াহুদী পণ্ডিতের সাথে আলাপ করলেন। এদের মধ্যে আবদুল্লাহ্ ইব্ন সুরিয়া আল-আ'ওয়ার এবং কা'ব ইব্ন আসাদও ছিল। তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন: يا معشر يهود اتقوا الله واسلموا فوالله انكم لتعلمون ان الذي جئتكم به الحق
"হে ইয়াহুদী সমাজ! আল্লাহকে ভয় কর এবং ইসলাম গ্রহণ কর। আল্লাহ্র কসম, তোমরা নিশ্চয়ই অবগত আছ যে, আমি যা নিয়ে তোমাদের নিকট এসেছি তা অবশ্যই হক।"
তারা বলল: হে মুহাম্মদ! আমরা তো তা জ্ঞাত নই। তখন তারা তাদের জ্ঞাত ব্যাপারটি অস্বীকার করে বসল এবং তাদের কুফরীর উপর অবিচল রইল। এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করলেন: يَّأَيُّهَا الَّذِينَ أُوتُوا الكتب أمَنُوا بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُمْ مِّنْ قَبْلِ أَنْ نُّطْمِسَ وُجُوهَا فَتَرُدَّهَا علي أَدْبَارِهَا أَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّا أَصْحَابَ السَّبْتِ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولاً .
"হে কিতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ! ঈমান আন সে বস্তুর উপর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি—তোমাদের কাছে যা সংরক্ষিত আছে তার সত্যায়নকারীরূপে—মুখমণ্ডলসমূহকে বিকৃত করে, পশ্চাদমুখী করে দেয়ার এবং শনিবারপন্থীদেরকে অভিশপ্ত করার মত অভিশপ্ত করে দেয়ার পূর্বেই, আর আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যই কার্যকর।" (৪:৪৭)
ইব্ন হিশাম বলেন : نطمس শব্দের অর্থ হচ্ছে نمسحها তাকে মিটিয়ে সমান বা নিশ্চিহ্ন করে দেব। ফলে তাতে চোখ, মুখ, নাক বা এমন কিছু দেখা যাবে না যা সাধারণত মুখমণ্ডলে পরিদৃষ্ট হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে نطمسنا عينهم আয়াতাংশেও ঐ একই অর্থে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যার দু'টি ভ্রূতে ছিদ্র নেই ঐ একই অর্থে তাকে বলা হয়ে থাকে ا مطموس العين call fe طمست الكتاب والاثر فلا يرى منه شيئ : অর্থাৎ আমি লেখা ও চিহ্ন এমনভাবে মিটিয়ে ফেলেছি যে, কিছুই দেখা যায় না।
কবি আখতাল—যাঁর আসল নাম গাওস ইব্ন হুবায়রা ইব্ন সুলব তাগলাবী—তার উটের বর্ণনা দিতে গিয়ে ঐ অর্থেই বলেছেন:
وتكليفنا ها كل طامسة الصوى x شطون ترى حربا ءها يتململ
ইবন হিশাম বলেন: আরবরা বলে مسحت فاستوت بالارض فليس فيها شيئ ناتی "আমি এমনভাবে মুছে দিলাম যে, একেবারে মাটির সাথে মিশে গেল। এতে আর কিছুই ধরার মত রইল না।"
টিকাঃ
১. শব্দগুলো দ্ব্যর্থবোধক। এখানে প্রদত্ত অর্থ হচ্ছে দুষ্ট ইয়াহুদীদের মনের কথা। কিন্তু এর সদর্থ হচ্ছে-আমরা আপনার বক্তব্য শুনলাম এবং বিরোধীদের কথা অগ্রাহ্য করলাম, আপনাকে কোন অশ্রাব্য ও অনুত্তম কথা শুনতে না হোক, আমাদের দিকে সদয় দৃষ্টি দিন। অনুবাদক