📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবু রাফি'র প্রস্তাবের বিরুদ্ধে যা নাযিল হয়েছে

📄 আবু রাফি'র প্রস্তাবের বিরুদ্ধে যা নাযিল হয়েছে


যখন ইয়াহূদী পণ্ডিতবর্গ এবং নাজরানের খ্রিস্টানেরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দরবারে সমবেত হল, তখন আবু রাফি' কুরাযী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ইসলামের দাওয়াতের জবাবে বলল: হে মুহাম্মদ! খ্রিস্টানেরা যেভাবে ঈসা ইবন মারইয়ামের পূজা করে থাকে, সেভাবে আমরা আপনার পূজা করব, এটাই কি আমাদের নিকট আপনার কামনা?
নাজরানবাসী নাসারাদের রীস নামক এক ব্যক্তিও বলে উঠল: হে মুহাম্মদ! এটাই কি আপনি আমাদের কাছে কামনা করেন আর এটার দিকেই কি আপনি আমাদের আহ্বান জানাচ্ছেন? কোন কোন রিওয়ায়াতে লোকটার নাম রীস আবার কোন রিওয়ায়াতে রঈসও এসেছে।
জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: معاذ الله ان اعبد غير الله او امر بعبادة غيره فما بذلك بعثني الله ولا امرنى او كما قال)
"আমি মহান আল্লাহ্র আশ্রয় চাই এ ব্যাপার থেকে যে, আমি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করি অথবা তাঁকে ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করতে বলি। না আল্লাহ্ আমাকে এ জন্য প্রেরণ করেছেন, আর না এ আদেশ তিনি আমাকে দিয়েছেন (অথবা তিনি যেভাবে বলেছেন)।"
তাদের এ কথোপকথন সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللهُ الْكِتٰبَ وَالحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لَيْ مِنْ دُونِ اللَّهِ ولكن كُونُوا رَبَّنِينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الكَتَبَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُوْنَ . وَلَا يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَتَّخِذُوا الْمَلْئِكَةَ والنَّبِيِّنَ أَرْبَابًا يَأْمُرُكُمْ بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ.
"কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ্ কিতাব, হিকমত ও নবুওয়ত দান করার পর সে মানুষকে বলবে, 'আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা আমার অনুগত হয়ে যাও' তা তার জন্য শোভনীয় নয়; বরং সে বলবে: তোমরা আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও, কেননা তোমরা কিতাব (কুরআন) শিক্ষা দিয়ে থাক এবং যেহেতু তোমরা জ্ঞান চর্চা কর (بعد از انتم مسلمون পর্যন্ত)। (৩ : ৭৯-৮০)
ইবন হিশাম বলেন: ربانیون আল্লাহওয়ালা অর্থে এখানে আলিমগণ, ফকীহগণ এবং নেতৃপর্যায়ের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বোঝানো হয়েছে। এর এক বচন ربانی কবি এ অর্থেই বলেছেন:
لو كنت مرتهنا في القوس افتتى × منها الكلام ورباني اخبار
"যদি আমি কোন সংসারত্যাগী সাধু-সন্ন্যাসীর আশ্রমেও হতাম, তবুও প্রিয়ার কথা আমাকে এবং উক্ত সংসারত্যাগী সাধু-সন্ন্যাসীকে পর্যন্ত বিভ্রান্তিতে ফেলে দিত।"
ইব্‌ন হিশাম বলেন: কবিতায় ব্যবহৃত القرس শব্দের অর্থ হচ্ছে সংসারত্যাগী সাধুর আশ্রম। وافتتی হচ্ছে তামীম গোত্রের ভাষা এবং فتتی হচ্ছে কায়স গোত্রের ভাষা। কবি জারীর বলেছেন:
لا وصل اذ صرمت هند ولو وقفت × لاستنزلتنى وذا المسحين في القوس
"প্রিয়া হিন্দ যখন বিচ্ছেদ গ্রহণ করল, তখন আর মিলনের সম্ভাবনা নেই। সে যদি থেকে যেত, তাহলে নিশ্চিতভাবেই সে আমাকে এবং গেরুয়া বসন পরিহিত আশ্রমের সাধু-সন্তের পদস্খলন ঘটিয়ে ছাড়ত।"
এখানে قوس হচ্ছে সংসারত্যাগী সাধুর আশ্রম এবং ربانی শব্দটি رب থেকে উদগত যার অর্থ মনিব। আল্লাহ্র কিতাবে আছে : فَيَسْقَى رَبَّهُ خَمْراً "সে তার রবকে অর্থাৎ মনিবকে শরাব পান করাত।"
ইবন ইসহাক বলেন: وَلَا يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَتَّخِذُوا الْمَلَئِكَةَ وَالنَّبِيِّنَ أَرْبَابًا أَيَأْمُرُكُمْ بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ .
"আর সে তোমাদেরকে এ হুকুম দিতে পারে না যে, ফেরেশতাদেরকে ও নবীগণকে তোমরা প্রভুরূপে গ্রহণ করবে। তোমাদের মুসলিম হওয়ার পরও কি সে তোমাদেরকে কুফরের আদেশ দিতে পারে?" (৩: ৮০)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ব্যাপারে নবীগণ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ব্যাপারে নবীগণ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ


ইবন ইসহাক বলেন: তারপর তাদের এবং তাদের নবীগণের নিকট থেকে নবী আগমনের পর তাঁকে সত্য নবীরূপে বরণ করা সংক্রান্ত যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁরা যে সে অঙ্গীকারে আবদ্ধও হয়েছিলেন, তার উল্লেখ করে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّنَ لَمَا أَتَيْتُكُمْ مِّنْ كِتَبٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُّصَدِّقُ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ اِصْرِى قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِّنَ الشهدين
"যখন আল্লাহ নবীগণের অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন এ মর্মে যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত দান করেছি এ শর্তে যে, তারপর যখন তোমাদের কাছে তোমাদের নিকটে রক্ষিত কিতাবের সমর্থনকারী নবী আসবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে, তাকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন: তোমরা কি অঙ্গীকার করছ এবং এর দায়িত্ব গ্রহণ করছ? তারা তখন বলল: আমরা অঙ্গীকার করছি। তিনি বললেন: তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও এ ব্যাপারে তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকছি।" (৩: ৮১)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আনসারদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির প্রয়াস

📄 আনসারদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির প্রয়াস


ইবন ইসহাক বলেন: শাস ইব্‌ন কায়স ছিল বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এক জরাগ্রস্ত বৃদ্ধ। সে ছিল এক বদ্ধ কাফির এবং মুসলমানদের প্রতি চরম বিদ্বিষ্ট ও শত্রুভাবাপন্ন। সে একদা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আওস ও খাযরাজ গোত্রীয় সাহাবীগণের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। তাঁরা একটি মজলিসে বসে পরস্পরে বাক্যালাপ করছিলেন। জাহিলিয়াতের যুগে তাঁদের মধ্যে বিরাজিত চরম বৈরিতার পর তাঁদের বর্তমান ঐক্য, সখ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক লক্ষ্যে সে ক্রোধে ফেটে পড়ল। গরগর করে বলল: বনী কীলার সরদারেরা এ জনপদে বেশ মিলেমিশে বসেছে দেখছি। আল্লাহ্র কসম, এদের সরদারদের এ সমাবেশ আমাকে শান্তিতে থাকতে দেবে না। তখন সে তাঁদের সাথে বসা এক ইয়াহুদী যুবককে লক্ষ্য করে বলল: তুমি এদের প্রতি লক্ষ্য রাখবে এবং এদের সাথে মিলেমিশে বসবে। বু'আসের যুদ্ধের দিনের কথা এবং এরও পূর্বের কথা তাদের স্মরণ করিয়ে দেবে এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে তখন তারা যেসব বাগাড়ম্বরমূলক কবিতা প্রয়োগ করত, তা আবৃত্তি করে করে শুনাবে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বু'আস যুদ্ধের দিন

📄 বু'আস যুদ্ধের দিন


বু'আস যুদ্ধের দিন আওস ও খাযরাজ গোত্র একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। সেদিন আওস গোত্র খাযরাজ গোত্রকে যুদ্ধে পরাস্ত করেছিল। সেদিন আওসের নেতৃত্বে ছিল হুয়ায়র ইব্‌ন সাম্মাক আশ্হালী, আবূ উসায়দ ইব্‌ন হুযায়র এবং খাযরাজের নেতৃত্বে ছিল আমর ইব্‌ন নু'মান বায়াযী। তারা উভয়েই সেদিন নিহত হয়েছিল।
ইবন হিশাম বলেন: বু'আস যুদ্ধের বর্ণনা অনেক দীর্ঘ। সে সব বিবরণ দিতে গেলে মহানবী (সা)-এর সীরাত বর্ণনার ধারা ব্যাহত হবে বিধায় আমি সেসব বর্ণনা দান থেকে বিরত রইলাম।
ইবন ইসহাক বলেন: লোকটি তাই করল। তখন লোকজন পরস্পর বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া-বিবাদে প্রবৃত্ত হল। পরস্পরে বাগাড়ম্বর ও বাক্যবাণ প্রয়োগ চলল। এমনকি শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ থেকে এক-এক ব্যক্তি একে অপরের প্রতি আক্রমণ করতে উদ্যত হল।
আওসের বনু হারিসা ইব্‌ন হারিস-এর আওস ইব্‌ন কুরাযী এবং খাযরাজের বনূ সালামা গোত্রের জাব্বার সাখার নামক দু'ব্যক্তি ময়দানে অবতীর্ণ হয়ে একে অপরকে যুদ্ধের জন্য চ্যালেঞ্জ দিতে লাগলেন। একজন অপরজনকে লক্ষ্য করে বলতে লাগলেন: তোমরা চাইলে আমরা এখনই সে যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারি। মোটকথা উভয় পক্ষ উত্তেজনার চরমে পৌঁছলেন। এমনকি মুকাবিলার স্থানরূপে কাল পাথুরে জমি নির্ধারিতও হয়ে গেল। উভয় পক্ষে অস্ত্র অস্ত্র রব উঠল এবং উভয় পক্ষই সেদিকে অগ্রসর হতে লাগলেন। এ খবরটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট পৌঁছল। তিনি তাঁর কাছে যে মুহাজির সাহাবীরা ছিলেন, তাঁদেরকে নিয়ে সেদিকে রওয়ানা হল। সেখানে পৌঁছে তিনি (সা) তাঁদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন:
يامعشر المسلمين الله الله ابدعوى الجاهلية وانا بين اظهركم بعد ان هداكم الله للإسلام واكرمكم به وقطع به عنكم امر الجاهلية واستنقذ به من الكفر وألف به بين قلوبكم -
"দোহাই আল্লাহ্, দোহাই আল্লাহ্, হে মুসলিম সমাজ! জাহিলিয়াতের আত্মগরিমা নিয়ে তোমরা কি যুদ্ধে প্রবৃত্ত হবে অথচ আমি তোমাদের মধ্যে বর্তমান রয়েছি? ইতিমধ্যেই আল্লাহ্ তোমাদেরকে ইসলামের হিদায়াত দান করেছেন, তোমাদেরকে এর দ্বারা সম্মানিত মহিমামণ্ডিত করেছেন, এর দ্বারা তোমাদের মধ্য থেকে জাহিলিয়াতের উচ্ছেদ সাধন করেছেন, এর দ্বারা কুফরী থেকে তোমাদের নিষ্কৃতি দান করেছেন এবং এর দ্বারা তোমাদের অন্তরে সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য জন্মিয়ে দিয়েছেন।"
তখন লোকজন উপলব্ধি করতে সমর্থ হল যে, এটা ছিল শয়তানের একটা বড় চক্রান্ত এবং শত্রুদের ষড়যন্ত্র মাত্র। তখন তারা কান্না জুড়ে দিল এবং আওস ও খাযরাজ গোত্রীয়রা একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গন করলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বাধ্য-অনুগতরূপে তাঁর গৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন। এভাবে আল্লাহর শত্রু শাস ইবন কায়সের প্রজ্বলিত ষড়যন্ত্রের আগুন আল্লাহ্ নির্বাপিত করে দিলেন। শাস ইন্ন কায়স এবং তার অপকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
قُلْ يَاهْلَ الْكِتَبِ لِمَ تَكْفُرُونَ بِأَيْتِ اللهِ - وَاللهُ شَهِيدٌ عَلَى مَا تَعْمَلُونَ - قُلْ لِأَهْلَ الْكِتَبِ لِمَ تَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ أَمَنْ تَبْغُونَهَا عِوَجًا وَأَنْتُمْ شُهَدَاءُ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ .
“হে আহলি কিতাব! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতসমূহকে অগ্রাহ্য করছ অথচ আল্লাহ্ তোমাদের কৃতকর্মসমূহ প্রত্যক্ষ করছেন। আপনি বলুন (হে রাসূল!) হে আহলি কিতাব! যারা ঈমান এনেছে, তাদেরকে কেন আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিচ্ছ? তোমরা তাদের বক্রতা কামনা কর অথচ তোমরা (সত্য) প্রত্যক্ষকারী। আর তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ্ মোটেই অনবহিত নন।” (৩: ৯৮-৯৯)
আর আওস ইব্‌ন কায়যী ও জাব্বার ইব্‌ন সাখার এবং তাদের সম্প্রদায়ভুক্ত সাথীদের ব্যাপারে-যারা ইবন কায়সের প্ররোচনায় পড়ে জাহিলিয়াতের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا فَرِيقًا مِّنَ الَّذِينَ أُوتُوا الكتب يَرُدُّوكُمْ بَعْدَ إِيْمَانِكُمْ كَفِرِينَ . وَكَيْفَ تَكْفُرُونَ وَانْتُمْ تَتْلَى عَلَيْكُمْ أَيْتُ اللهِ وَفِيكُمْ رَسُولَهُ وَمَنْ يَعْتَصِمُ بِاللَّهِ فَقَدْ هُدِى إِلى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ . وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوْبِكُمْ فَاصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ أَخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنْ النَّارِ فَانْقَدَكُمْ مِّنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ أَيته لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ . وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ، وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَتُ وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ.
"হে বিশ্বাসীগণ! যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তোমরা যদি তাদের দলবিশেষের আনুগত্য কর, তবে তারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার কাফির বানিয়ে ছাড়বে। আর তোমরা কেমন করে কুফরী করবে যখন আল্লাহ্র আয়াতসমূহ তোমাদের নিকট পঠিত হয় আর তোমাদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর রাসূল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে শক্তভাবে অবলম্বন করে, সে অবশ্যই সরল পথের দিশাপ্রাপ্ত হয়। হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর যেভাবে তাঁকে ভয় করা উচিত সেভাবে, আর তোমরা মৃত্যুবরণ করো না মুসলিম অবস্থায় ব্যতিরেকে। ...... আর তাদের জন্যে রয়েছে মহাশাস্তি।" (৩: ১০০-১০৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00