📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ঈমানের বদলে কুফর

📄 ঈমানের বদলে কুফর


اَمْ تُرِيدُونَ أَنْ تَسْتَلُوا رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَى مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يُتَبَدَّلُ الْكُفْرَ بِالْإِيْمَانِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ.
"তোমরা কি তোমাদের রাসূলকে সেরূপ প্রশ্ন করতে চাও যেরূপ ইতিপূর্বে মূসাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল? আর যে কেউ ঈমানের পরিবর্তে কুফরী গ্রহণ করে, সে মধ্যপথ নিশ্চিতভাবেই হারিয়ে ফেলে।" (২: ১০৮)
ইবন হিশাম বলেন: سواء হচ্ছে وسط سبيل বা মধ্যপথ। হাসসান ইব্‌ন সাবিত নিম্নোক্ত পংক্তিতে এ অর্থেই শব্দটি ব্যবহার করেছেন:
ياويح انصار النبي ورهطه × بعد المسغيبب في سواء الملحد
যথাস্থানে শীঘ্রই এ পংক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ্!

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়াহুদীদের বিদ্বেষ

📄 ইয়াহুদীদের বিদ্বেষ


আল্লাহ্ তা'আলা যখন তাঁর রাসূল (সা)-কে প্রেরণের মাধ্যমে আরবদেরকে বিশিষ্ট মর্যাদার অধিকারী করলেন, তখন ইয়াহুদীরা বিদ্বেষের অনলে দগ্ধীভূত হতে লাগল। এই বিদ্বেষে সর্বাধিক دগ্ধীভূত হচ্ছিল হুয়াই ইব্‌ন আখতাব এবং তার ভাই আবূ ইয়াসির ইবন আখতাব। তারা মানুষকে সাধ্যমত ফিরিয়ে রাখার চেষ্টায় নিরন্তর লিপ্ত থাকত। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের দু'জনের ব্যাপারে নাযিল করেন:
وَدَّ كَثِيرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتٰبِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِّنْ بَعْدِ إِيْمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مِّنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بَأَمْرِهِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ .
"আহলে কিতাবদের অনেকেই এ আকাঙ্ক্ষা করে যে, যদি তারা তোমাদের ঈমান আনার পর তোমাদেরকে ফিরিয়ে কাফির বানাতে পারত। এটা তাদের পক্ষ থেকে বিদ্বেষের বশে-তাদের কাছে হক প্রকাশিত হয়ে যাবার পর। সুতরাং আপনি তাদেরকে মার্জনা করুন ও উপেক্ষা করুন-যাবৎ না আল্লাহর নির্দেশ আসছে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।” (২: ১০৯)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) সকাশে ইয়াহুদী-নাসারাদের কলহ

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) সকাশে ইয়াহুদী-নাসারাদের কলহ


ইবন ইসহাক বলেন, যখন নাজরানের খ্রিস্টানেরা রাসূলুল্লাহ্ (সা) সমীপে উপস্থিত হয়, তখন ইয়াহূদী পণ্ডিতেরাও সেখানে এসে উপস্থিত হয়। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে পরস্পরে কলহে প্রবৃত্ত হয়। তখন রাফি' ইবন হুরায়মালা বলে: তোমরা কোন সঠিক বস্তুর উপর প্রতিষ্ঠিত নও। সে তখন ঈসা আলায়হিস সালাম ও ইনজীলের সত্যতা অস্বীকার করে। তখন জবাবে নাজরানবাসীদের মধ্য থেকে জনৈক খ্রিস্টান ইয়াহুদীদের উদ্দেশে বলে উঠল: তোমরা কোন সঠিক বস্তুর উপর প্রতিষ্ঠিত নও। এ ব্যক্তি মূসা আলায়হিস্ সালাম ও তাওরাতের সত্যতার প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করল। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের এ বাদানুবাদ সম্পর্কে নযিল করেন:
وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصْرَى عَلَى شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصْرَى لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ وَهُمْ يَتْلُوْنَ الْكِتَبَ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ فَاللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيمَةِ فِيْمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
"ইয়াহুদীরা বলে, খ্রিস্টানেরা আসলে কোন ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয় এবং খ্রিস্টানেরা বলে, ইয়াহুদীরা আসলে কোন ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয়, অথচ তারা কিতাব পড়ে থাকে। অনুরূপভাবে যারা কিছুই জানে না, তারাও ওদের মত কথা বলে। আল্লাহ্ই কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে সে সব ব্যাপারে বিচার-মীমাংসা করবেন—যা নিয়ে তারা মতবিরোধে লিপ্ত ছিল।” (২: ১১৩)
অর্থাৎ তাদের উভয় পক্ষই তাদের কিতাবে সেসব ব্যাপারের সত্যতা সম্পর্কে পাঠ করে থাকে যেগুলোকে তারা অস্বীকার বা অগ্রাহ্য করে থাকে। অর্থাৎ ইয়াহুদীরা ঈসা আলায়হিস সালামকে অস্বীকার করে অথচ তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাতে আছে যে, মূসা আলায়হিস সালামের মাধ্যমে ঈসা আলায়হিস্ সালামকে সত্য নবীরূপে মান্য করার অঙ্গীকার আল্লাহ্ তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন। আর ইনজীল কিতাবে মূসা আলায়হিস সালাম ও তাওরাত কিতাবের সত্যতার এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। অথচ তাদের প্রত্যেক পক্ষ অপর পক্ষের সত্যতার কথা অস্বীকার ও অগ্রাহ্য করে চলেছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়াহুদীদের ভ্রান্ত ধারণা

📄 ইয়াহুদীদের ভ্রান্ত ধারণা


ইবন ইসহাক বলেন: রাফি' ইবন হুরায়মালা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে লক্ষ্য করে বলে: হে মুহাম্মদ! যদি আপনি সত্য সত্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল হয়ে থাকেন, তবে আপনি আল্লাহকে বলুন, তিনি যেন আমাদের সাথে কথা বলেন—যা আমরা নিজেরাও শুনতে পাই। তখন তার এ বক্তব্য সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
وَقَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ لَوْ لَا يُكَلِّمُنَا اللهُ أَوْ تَأْتِينَا أَيَةٌ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِّثْلَ قَوْلِهِمْ تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ قَدْ بَيَّنَا الْآيَتِ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ
"আর যারা অজ্ঞ তারা বলে, আল্লাহ্ কেন আমাদের সাথে কথা বলেন না, অথবা আমাদের কাছে কেন নিদর্শন আসে না? তাদের পূর্ববর্তীরাও তাদের মত ইতিপূর্বে বলেছে। তাদের পরস্পরের অন্তরের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে। নিশ্চয়ই আমি আমার নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছি দৃঢ় প্রত্যয়শীল সম্প্রদায়ের জন্যে।” (২: ১১৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00