📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়াহুদী কর্তৃক রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে অস্বীকার এবং এ সম্পর্কে বা নাযিল হয়

📄 ইয়াহুদী কর্তৃক রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে অস্বীকার এবং এ সম্পর্কে বা নাযিল হয়


ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে ইব্‌ন আব্বাসের আযাদকৃত গোলাম ইকরামা (র) বা সাঈদ ইব্‌ন জুবায়র ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইয়াহুদীরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দোহাই দিয়ে তাঁর আবির্ভাবের পূর্বে আওস ও খাযরাজের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করত। তারপর যখন আল্লাহ্ তা'আলা আরবদের মধ্য থেকে তাঁকে নবীরূপে প্রেরণ করলেন, তখন তারা তাঁকে অস্বীকার করল এবং ইতিপূর্বে তারা তাঁর সম্পর্কে যা বলত, তাও অস্বীকার করল। তখন মু'আয ইবন জাবাল (রা) এবং বনূ সালামার বিশর ইব্‌ন বারা'আ ইব্‌ন মা'রূর তাদের লক্ষ্য করে বললেন: হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং ইসলাম গ্রহণ কর। ইতিপূর্বে আমরা যখন পৌত্তলিক ছিলাম, তখন তোমরা মুহাম্মদ (সা)-এর দোহাই দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করতে এবং তোমরা তখন আমাদের বলতে যে, তাঁর আবির্ভাবের সময় অত্যাসন্ন। তোমরা তাঁর গুণাবলী আমাদের কাছে বর্ণনা করতে। এ কথা শুনে বনূ নযীরের লোক সালাম ইব্‌ন মিশকাম বলল: সে আমাদের কাছে এমন কোন জিনিস নিয়ে আসোন, যার সাথে আমরা পরিচিত। আর আমরা যার সম্পর্কে তোমাদের কাছে বলতাম, সে এ নয়। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের এ কথার প্রেক্ষিতে নাযিল করেন:
وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَبٌ مِّنْ عِنْدِ اللهِ مُصَدِّقُ لَّمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جَاءَهُمْ مَّا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكُفِرِينَ .
“তাদের নিকট যা আছে আল্লাহ্র নিকট থেকে যখন তার সমর্থক কিতাব এল, যদিও পূর্বে সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের বিরুদ্ধে তারা এর সাহায্যে বিজয় প্রার্থনা করত, তবুও তারা যা জ্ঞাত ছিল তা যখন তাদের নিকট আসল, তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের প্রতি আল্লাহর লা'নত।” (২:৮৯)
ইবন ইসহাক বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) প্রেরিত হলেন আর তাঁর সম্পর্কে তাদের নিকট থেকে আল্লাহ্ যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর ব্যাপারে আল্লাহ্ তাদের যে হুকুম দিয়েছিলেন, তা যখন তাদের সামনে উল্লেখ করা হল, তখন মালিক ইব্‌ন সায়ফ বলল: আল্লাহ্র কসম! মুহাম্মদের ব্যাপারে আমাদের কোন হুকুম দেওয়া হয়নি এবং তাঁর ব্যাপারে আমাদের থেকে কোন অংগীকারও নেওয়া হয়নি। তখন তার ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল্ করেন:
أَوْ كُلَّمَا عُهَدُوا عَهْدًا نَّبَدَهُ فَرِيقٌ مِّنْهُمْ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
"যখনই তারা কোন অঙ্গীকার করেছে, তখন তাদের একদল তা নিক্ষেপ করেছে বরং তাদের অধিকাংশই ঈমান আনে না" (২: ১০০)
আবূ সালুবা ফাতয়ূনী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে লক্ষ্য করে বলল: হে মুহাম্মদ! আপনি আমাদের কাছে এমন কোন বস্তু নিয়ে আসেননি যা আমাদের জ্ঞাত ছিল, আর না আল্লাহ্ আপনার কাছে এমন কোন নিদর্শন অবতীর্ণ করেছেন যে, আমরা এজন্য আপনার অনুসরণ করব। তখন আল্লাহ্ তার এ মন্তব্যের ব্যাপারে নাযিল করলেন:
وَلَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ أَيْتِ لَبَيِّنَتٍ وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلَّا الْفُسِقُونَ
"এবং নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি (হে রাসূল) নাযিল করেছি সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী-আর একমাত্র অনাচারীরা ছাড়া আর কেউ তা প্রত্যাখ্যান করে না।” (২: ৯৯)
রাফি' ইবন হুরায়মালা ওয়াহব ইন্ন যায়দ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে লক্ষ্য করে বলল: হে মুহাম্মদ! আমাদের কাছে এমন কোন কিতাব নিয়ে আসুন যা আসমান থেকে আমাদের কাছে নাযিল হবে আর আমরা দিব্যি তা পড়ব। আর আমাদের জন্যে প্রস্রবণধারা বইয়ে দিন, তাহলেই আমরা আপনার অনুসারী হব এবং আপনাকে সত্য নবী বলে মেনে নেব। তখন তাদের দু'জনের এ বক্তব্য, সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ঈমানের বদলে কুফর

📄 ঈমানের বদলে কুফর


اَمْ تُرِيدُونَ أَنْ تَسْتَلُوا رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَى مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يُتَبَدَّلُ الْكُفْرَ بِالْإِيْمَانِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ.
"তোমরা কি তোমাদের রাসূলকে সেরূপ প্রশ্ন করতে চাও যেরূপ ইতিপূর্বে মূসাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল? আর যে কেউ ঈমানের পরিবর্তে কুফরী গ্রহণ করে, সে মধ্যপথ নিশ্চিতভাবেই হারিয়ে ফেলে।" (২: ১০৮)
ইবন হিশাম বলেন: سواء হচ্ছে وسط سبيل বা মধ্যপথ। হাসসান ইব্‌ন সাবিত নিম্নোক্ত পংক্তিতে এ অর্থেই শব্দটি ব্যবহার করেছেন:
ياويح انصار النبي ورهطه × بعد المسغيبب في سواء الملحد
যথাস্থানে শীঘ্রই এ পংক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ্!

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়াহুদীদের বিদ্বেষ

📄 ইয়াহুদীদের বিদ্বেষ


আল্লাহ্ তা'আলা যখন তাঁর রাসূল (সা)-কে প্রেরণের মাধ্যমে আরবদেরকে বিশিষ্ট মর্যাদার অধিকারী করলেন, তখন ইয়াহুদীরা বিদ্বেষের অনলে দগ্ধীভূত হতে লাগল। এই বিদ্বেষে সর্বাধিক دগ্ধীভূত হচ্ছিল হুয়াই ইব্‌ন আখতাব এবং তার ভাই আবূ ইয়াসির ইবন আখতাব। তারা মানুষকে সাধ্যমত ফিরিয়ে রাখার চেষ্টায় নিরন্তর লিপ্ত থাকত। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের দু'জনের ব্যাপারে নাযিল করেন:
وَدَّ كَثِيرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتٰبِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِّنْ بَعْدِ إِيْمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مِّنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بَأَمْرِهِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ .
"আহলে কিতাবদের অনেকেই এ আকাঙ্ক্ষা করে যে, যদি তারা তোমাদের ঈমান আনার পর তোমাদেরকে ফিরিয়ে কাফির বানাতে পারত। এটা তাদের পক্ষ থেকে বিদ্বেষের বশে-তাদের কাছে হক প্রকাশিত হয়ে যাবার পর। সুতরাং আপনি তাদেরকে মার্জনা করুন ও উপেক্ষা করুন-যাবৎ না আল্লাহর নির্দেশ আসছে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।” (২: ১০৯)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) সকাশে ইয়াহুদী-নাসারাদের কলহ

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) সকাশে ইয়াহুদী-নাসারাদের কলহ


ইবন ইসহাক বলেন, যখন নাজরানের খ্রিস্টানেরা রাসূলুল্লাহ্ (সা) সমীপে উপস্থিত হয়, তখন ইয়াহূদী পণ্ডিতেরাও সেখানে এসে উপস্থিত হয়। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে পরস্পরে কলহে প্রবৃত্ত হয়। তখন রাফি' ইবন হুরায়মালা বলে: তোমরা কোন সঠিক বস্তুর উপর প্রতিষ্ঠিত নও। সে তখন ঈসা আলায়হিস সালাম ও ইনজীলের সত্যতা অস্বীকার করে। তখন জবাবে নাজরানবাসীদের মধ্য থেকে জনৈক খ্রিস্টান ইয়াহুদীদের উদ্দেশে বলে উঠল: তোমরা কোন সঠিক বস্তুর উপর প্রতিষ্ঠিত নও। এ ব্যক্তি মূসা আলায়হিস্ সালাম ও তাওরাতের সত্যতার প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করল। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের এ বাদানুবাদ সম্পর্কে নযিল করেন:
وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصْرَى عَلَى شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصْرَى لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ وَهُمْ يَتْلُوْنَ الْكِتَبَ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ فَاللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيمَةِ فِيْمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
"ইয়াহুদীরা বলে, খ্রিস্টানেরা আসলে কোন ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয় এবং খ্রিস্টানেরা বলে, ইয়াহুদীরা আসলে কোন ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয়, অথচ তারা কিতাব পড়ে থাকে। অনুরূপভাবে যারা কিছুই জানে না, তারাও ওদের মত কথা বলে। আল্লাহ্ই কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে সে সব ব্যাপারে বিচার-মীমাংসা করবেন—যা নিয়ে তারা মতবিরোধে লিপ্ত ছিল।” (২: ১১৩)
অর্থাৎ তাদের উভয় পক্ষই তাদের কিতাবে সেসব ব্যাপারের সত্যতা সম্পর্কে পাঠ করে থাকে যেগুলোকে তারা অস্বীকার বা অগ্রাহ্য করে থাকে। অর্থাৎ ইয়াহুদীরা ঈসা আলায়হিস সালামকে অস্বীকার করে অথচ তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাতে আছে যে, মূসা আলায়হিস সালামের মাধ্যমে ঈসা আলায়হিস্ সালামকে সত্য নবীরূপে মান্য করার অঙ্গীকার আল্লাহ্ তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন। আর ইনজীল কিতাবে মূসা আলায়হিস সালাম ও তাওরাত কিতাবের সত্যতার এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। অথচ তাদের প্রত্যেক পক্ষ অপর পক্ষের সত্যতার কথা অস্বীকার ও অগ্রাহ্য করে চলেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00