📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রসঙ্গ
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে 'আসিম ইবন উমর ইব্ন কাতাদা তাঁর সম্প্রদায়ের কোন কোন বুযর্গ থেকে বর্ণনা করেছেন। আসিম বলেন, তাঁরা বলেছেন: আল্লাহর কসম! আমাদের এবং তাদের ব্যাপারেই এ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
জাহিলী যুগে আমরা তাদের উপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিলাম। আমরা ছিলাম মুশরিক আর ইয়াহুদীরা ছিল আহলে কিতাব। তারা আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলতেন: অচিরেই একজন নবী প্রেরিত হবেন, আমরা তাঁর অনুসরণ করব। তাঁর আগমনের সময় নিকটবর্তী। আমরা তাঁর সঙ্গী হয়ে তোমাদের আদ ও ইরামের হত্যা করব।
তারপর যখন আল্লাহ্ তা'আলা কুরায়שদের মধ্যে তাঁর রাসূল প্রেরণ করলেন, তখন আমরা' তাঁর অনুসারী হয়ে গেলাম। পক্ষান্তরে ইয়াহুদীরা তাঁকে অস্বীকার করল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
فَلَمَّا جَاءَهُمْ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللهِ عَلَى الكَفِرِينَ ، بِئْسَمَا اشْتَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ أَنْ يَكْفُرُوا بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ بَغْيًا أَنْ يُنَزِّلَ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ -
"তারা যা জ্ঞাত ছিল, তা যখন তাদের নিকট আসল তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের প্রতি আল্লাহর লা'নত। তা কত নিকৃষ্ট যার বিনিময়ে তারা তাদের আত্মাকে বিক্রি করেছে-তা এই যে, আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন, ঈর্ষান্বিত হয়ে তারা তা প্রত্যাখ্যান করল শুধু এ কারণে যে, আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন।” (২: ৮৯-৯০)
অর্থাৎ তিনি তাদের বাইরে অন্য লোকদের থেকে কেন নবী বানালেন?
فَبَاؤُ بِغَضَبٍ عَلَى غَضَبٍ وَلِلْكَفِرِينَ عَذَابٌ مُّهِينٌ
"সুতরাং তারা ক্রোধের উপর ক্রোধের পাত্র হল। আর কাফিরদের জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (২: ৯০)
📄 ইয়াহুদীদের পার্থিব মোহ
ইবন ইসহাক বলেন : الغضب على الغضب ক্রোধের উপর ক্রোধের অর্থ প্রথম ক্রোধ হচ্ছে তাদের কাছে তাওরাত কিতাব থাকা সত্ত্বে তারা এর বিধান অনুযায়ী আমল করেনি, আর দ্বিতীয় ক্রোধ এজন্য যে, আল্লাহ কর্তৃক তাদের কাছে প্রেরিত নবী মুহাম্মদ (সা)-কে তারা অস্বীকার করেছে।
এরপর তাদের উপর তুর পাহাড়কে উত্তোলন এবং আল্লাহকে ছেড়ে গোবৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণের ব্যাপারে তাদের সতর্ক করে আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মদ (সা)-কে লক্ষ্য করে বলেন:
قُلْ إِنْ كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِنْدَ اللهِ خَالِصَةً مِّنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنُوا الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صدقين :
"বলুন, যদি আল্লাহ্র নিকট পরকালের বাসস্থান অন্য লোক ব্যতীত বিশেষভাবে শুধু তোমাদের জন্যেই হয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর-যদি তোমরা সত্যবাদী হও।” (২: ৯৪)
অর্থাৎ তোমরা এ মর্মে আল্লাহ্র নিকট দু'আ কর যে, আমাদের মধ্যে যে দল অধিক মিথ্যাবাদী, তাদের মৃত্যু হোক। তখন তারা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সামনে এরূপ দু'আ করতে অস্বীকার করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা নবী (সা)-কে লক্ষ্য করে বলেন:
ولَن يَتَمَنُوهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ
"কিন্তু তাদের কৃতকর্মের জন্য তারা কখনো তা কামনা করবে না।” (২: ৯৫)
অর্থাৎ যেহেতু তাদের কাছে যে 'ইল্ম রয়েছে, তা দ্বারা তারা আপনার সম্পর্কে জানে। আর তার মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কেও তারা অবহিত, এজন্য তারা তা কামনা করবে না। এজন্য বলা হয়ে থাকে যে, যদি সত্যি সত্যি তারা সেদিন এরূপ দু'আ করত, তা হলে ভূপৃষ্ঠে একজন ইয়াহূদীও বেঁচে থাকত না, সবাই মারা যেত। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা তাদের পার্থিব জীবন এবং দীর্ঘায়ু লাভের কথা উল্লেখ করে বলেন: وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيْوَةٍ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمِّرُ أَلْفَ سَنَةٍ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِ مِنَ الْعَذَابِ أَنْ يُعَمِّرَ .
"আপনি নিশ্চয়ই তাদের (ইয়াহুদীদের) জীবনের প্রতি সমস্ত মানুষ, এমন কি মুশরিক অপেক্ষা অধিক লোভী দেখতে পাবেন। তাদের প্রত্যেকে সহস্র বছর বাঁচবার আকাঙ্ক্ষা করে, কিন্তু দীর্ঘায়ু তাদের শাস্তি থেকে দূরে রাখতে পারবে না।” (২: ৯৬)
অর্থাৎ এতে সে শাস্তি থেকে তারা নিষ্কৃতি পাবে না। আর এটা এ জন্যে যে, মুশরিক মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাসী নয়। তাই সে দীর্ঘায়ুর প্রত্যাশা করে। পক্ষান্তরে ইয়াহুদী জানে যে, তার কাছে যে ইলম রয়েছে, সে অনুযায়ী আমল না করার কারণে আখিরাতে তার জন্যে লাঞ্ছনা নির্ধারিত রয়েছে।
এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوا جِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِاذْنِ اللَّهِ "বলুন, যে কেউ জিবরীলের শত্রু এজন্য যে, সে আল্লাহর নির্দেশে আপনার হৃদয়ে কুরআন পৌঁছে দিয়েছে। (২: ৯৭)
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ইয়াহুদীদের প্রশ্ন এবং তাঁর জবাব
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবদির রহমান ইব্ন আবূ হুসায়ন মাক্কী শাহ্র ইবন হাওশাব আশ'আরী সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহুদী পণ্ডিতদের একটি দল রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট এসে বলল: হে মুহাম্মদ! আমরা চারটি বিষয়ে আপনাকে প্রশ্ন করব, আপনি সে বিষয়ে আমাদের অবহিত করবেন। আপনি যদি তা পারেন, তাহলে আমরা আপনার অনুসরণ করব, আপনাকে সত্যবাদী বলে মেনে নেব এবং আপনার প্রতি ঈমান আনব।
রাবী বলেন: তখন রাসূল (সা) তাদের বললেন: عليكم بذالك عهد الله وميثاقه لئن انا اخبرتكم بذلك لتصدقني فاسئلوا عما بدا لكم - "তোমাদের আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করতে হবে যে, যদি আমি তোমাদেরকে সেগুলোর সঠিক সংবাদ দিতে পারি, তবে কি তোমরা আমাকে সত্যবাদী বলে স্বীকার করবে?"
তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে তোমরা যা চাও জিজ্ঞেস করতে পার।
প্রথম প্রশ্ন
তারা বলল: তা হলে বলুন দেখি, সন্তান কি করে তার মায়ের সদৃশ হয়, অথচ বীর্য তো পুরুষের।
রাবী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সা) তাদের বললেন: انشدكم بالله وبايامه عند بنی اسرائیل هل تعلمون أن نطفة الرجل بيضاء غليظة ونطفة المرءة صفراء رقيقة فايتهما علت صاحبتها كان لها الشبه - "আমি তোমাদের আল্লাহর এবং তাঁর ঐ নিয়ামতরাজি যা তিনি বনী ইসরাঈলকে দিয়েছিলেন, তার কসম দিয়ে বলছি-তোমরা কি জ্ঞাত আছ যে, পুরুষের বীর্য হল সাদা এবং গাঢ় এবং নারীর বীর্য হল হলদে এবং পাতলা। ঐ দু'টির যেটি অপরটির উপর প্রাধান্য পায়, সন্তান তারই মত হয়ে থাকে।"
তারা বলল: ইয়া আল্লাহ্! এটা যথার্থই।
দ্বিতীয় প্রশ্ন
তখন তারা আবার বলল: আমাদের এ ব্যাপারে অবহিত করুন যে, আপনার নিদ্রা কিরূপ? জবাবে তিনি বললেন: انشدكم بالله و بايامه عند بنى اسرائيل هل تعلمون أن نوم الذي تعلمون اني لست به تنام عليته وقلبه يقظان ؟
"আমি তোমাদের আল্লাহর এবং বনী ইসরাঈলকে দেওয়া তাঁর নিয়ামতরাজির কসম দিয়ে বলছি! সত্য করে বল, তোমরা কি জান যে, ঐ ব্যক্তির নিদ্রা, যার ব্যাপারে তোমরা ধারণা কর যে, সে ব্যক্তি আমি নই; (তাঁর ব্যাপার এই যে,) তাঁর চোখ নিদ্রা যায়, কিন্তু তাঁর অন্তর জাগ্রত থাকে।"
তারা বলল: ইয়া আল্লাহ্! এটা যথার্থই। তখন নবী (সা) বললেন: فكذالك نومن فنام عيني وقلبي ويقظان
"আমার নিদ্রা ঐরূপই। আমার চোখ নিদ্রা যায়, কিন্তু আমার হৃদয় জাগ্রত থাকে।"
তৃতীয় প্রশ্ন
তখন তারা বলল: আচ্ছা, আমাদের বলুন দেখি, ইসরাঈল [ইয়াকুব (আ)] তাঁর নিজের জন্যে কোন্ বস্তুকে হারাম করে নিয়েছিলেন? তিনি বললেন: انشدكم بالله و بايامه عند بنى اسرائيل هل تعلمون انه كان احب الطعام والشراب اليه البان الابل لحومها وانه اشتكى شكوى فعافاه الله منها فحرم على نفسه احب الطعام والشراب اليه شكر الله فحرم على نفسه لحوم الابل والبانها -
"আমি তোমাদের আল্লাহ্ এবং বনী ইসরাঈলকে দেওয়া তাঁর নিয়ামতরাজির কসম দিয়ে বলছি, তোমরা কি জ্ঞাত আছ যে, তাঁর কাছে অধিক প্রিয় খাদ্য ও পানীয় ছিল উটের গোশত ও দুধ? একদা তাঁর একটি রোগ দেখা দেয়। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে তা থেকে সুস্থ করেন। তখন তিনি শুকরিয়া স্বরূপ তাঁর নিজের জন্য তাঁর প্রিয় খাদ্য ও পানীয় উটের গোশত ও দুধ হারাম করে নেন।"
তারা বলল: ইয়া আল্লাহ্! এটা সঠিক।
চতুর্থ প্রশ্ন
তখন তারা বলল: আমাদেরকে রূহ সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: انشدكم بالله و بايامه عند بني اسرائيل هل تعلمونه جبريل وهو الذي يأتيني ؟
"আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্র এবং ঐসব নিয়ামতের কসম দিয়ে বলছি যা তিনি বনী ইসরাঈলকে দিয়েছিলেন। তোমরা কি জ্ঞাত আছ, তিনি জিবরীল যিনি আমার কাছে আগমন করে থাকেন?"
তারা বলল: ইয়া আল্লাহ্! ঠিকই। কিন্তু, হে মুহাম্মদ! সে যে আমাদের শত্রু! সে এমন এক ফেরেশতা যে, বিপদাপদ ও যুদ্ধ-বিগ্রহ নিয়ে আসে। সে না হলে আমরা অবশ্যই আপনার অনুসারী হয়ে যেতাম। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন:
قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوا لَجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ باذن الله مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ.... او كلما عُهَدُوا عَهْدًا نَبَدَهُ فَرِيقٌ مِّنْهُمْ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ - وَلَمَّا جَاءَهُمْ وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُوا الشَّيْطَينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَنَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَنُ وَلَكِنَّ الشَّيْطَينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسِ السحر -
"বলুন, যে কেউ জিবরীলের শত্রু এ জন্য যে, সে আল্লাহ্র নির্দেশে আপনার হৃদয়ে কুরআন পৌঁছে দিয়েছে, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক এবং যা মু'মিনদের জন্য পথ-প্রদর্শক ও শুভ সংবাদ....... তবে কি যখনই তারা অংগীকারাবদ্ধ হয়েছে তখনই তাদের কোন একদল তা ভঙ্গ করেছে, বরং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না। যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের নিকট রাসূল এল, যে তাদের নিকট যা রয়েছে তার সমর্থক, তখন যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের একদল আল্লাহ্ কিতাবটিকে পশ্চাতে নিক্ষপ করল, যেন তারা জানেই না। আর সুলায়মানের রাজত্বে শয়তানগণ যা আবৃত্তি করত তারা তার অনুসরণ করত, অর্থাৎ জাদুর। সুলায়মান কুফরী করেনি বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত।” (২: ৯৭-১০২)
📄 ইয়াহুদী কর্তৃক সুলায়মান (আ)-এর নবুওয়াত অস্বীকার এবং আল্লাহ্ পক্ষ থেকে তার জবাব
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে যে বর্ণনা পৌঁছেছে, সেমতে তার বিবরণ হচ্ছে এরূপ: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন প্রেরিত রাসূলদের মধ্যে সুলায়মান (আ)-এর নামও উল্লেখ করলেন, তখন তাদের কোন কোন পণ্ডিত বলল: তোমরা কি মুহাম্মদের কথায় বিস্মিত হও না? তাঁর ধারণা এই যে, সুলায়মান ইব্ন দাউদও নবী ছিলেন। আল্লাহর কসম! তিনি তো একজন জাদুকর ছিলেন। তাদের এ কথার জবাবে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَنُ وَلَكِنَّ الشَّيْطَينَ كَفَرُوا
"সুলায়মান কুফরী করেনি, কিন্তু শয়তানরাই কুফরী করেছিল।" অর্থাৎ জাদুবিদ্যার অনুসরণ ও অনুশীলনের দ্বারা।
وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمُنِ مِنْ أَحَدٍ
“এবং যা বাবিল শহরে দু'জন ফেরেশতা-হারূত ও মারূতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল, তারা কাউকে তা শিক্ষা দিত না।” (২: ১০২)
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ইকরামা সূত্রে ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলতেন: ইসরাঈল যা তাঁর নিজের উপর হারাম করেছিলেন, তা হল হৃৎপিণ্ডের দু'টি বাড়তি টুকরো, দুটো যকৃত এবং চর্বি, তবে পিঠের চর্বি বাদ দিয়ে; কেননা তা কুরবানীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হত এবং তা আগুন ভক্ষণ করে নিত।