📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নবী-রাসূলগণের বিরোধিতা

📄 নবী-রাসূলগণের বিরোধিতা


তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَلَقَدْ أَتَيْنَا مُوسَى الْكِتٰبَ وَقَفَّيْنَا مِنْ بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ وَأَتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَتِ *
"নিশ্চয়ই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রাসূলদের প্রেরণ করেছি এবং মারইয়াম-তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছি।” (২:৮৭)
অর্থাৎ ঐ সব প্রমাণ যা তাকে দেওয়া হয়েছিল, যথা মৃতকে জীবিত করা, মাটি দিয়ে পাখি সদৃশ আকৃতি তৈরি করে তারপর তাতে আল্লাহর হুকুমে প্রাণ সঞ্চার করা এবং তা পাখি হয়ে যাওয়া, রোগীদের রোগমুক্ত করা, তারা যা ঘরে সঞ্চয় করে রাখত তার অনেক বস্তু সম্পর্কে খবর দেওয়া, ঈসা (আ)-এর কাছে নতুনভাবে ইনজীল প্রেরণ করা সত্ত্বেও পুনরায় তাদের কাছে তাওরাত প্রেরণ করা। তাদের এসব বিষয় অস্বীকার করার কথা উল্লেখ করে আল্লাহ্ বলেন:
أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَى أَنْفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًا تَقْتُلُونَ .
"তবে কি যখনই কোন রাসূল এমন কিছু তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছে, যা তোমাদের মনঃপূত নয়, তখনই তোমরা অহংকার করেছ, আর কতককে অস্বীকার করেছ এবং কতককে হত্যা করেছ?" (২:৮৭)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 অভিশাপের কারণ

📄 অভিশাপের কারণ


তারপর মহান আল্লাহ্ বলেন: তারা বলেছিল, وَقَالُوا قُلُوبُنَا غُلْفٌ "আমাদের হৃদয় 'আচ্ছাদিত”, অর্থাৎ সুসংরক্ষিত। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: بَلْ لَّعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيْلًا مَّا يُؤْمِنُونَ ، وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَبٌ مِّنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقُ لَمَا مَعَهُمْ
وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جَاءَهُمْ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الكفرين
"বরং সত্য প্রত্যাখ্যানের জন্য আল্লাহ্ তাদের লা'নত করেছেন, সুতরাং তাদের অল্প সংখ্যকই বিশ্বাস করে। তাদের নিকট যা আছে আল্লাহ্র নিকট থেকে যখন তার সমর্থক কিতাব আসল, যদিও পূর্বে সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের বিরুদ্ধে তারা এর সাহায্যে বিজয় প্রার্থনা করত, তবুও তারা যা জ্ঞাত ছিল, তা যখন তাদের নিকট আসল, তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের প্রতি আল্লাহর লা'নত।" (২: ৮৮-৮৯)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রসঙ্গ

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রসঙ্গ


ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে 'আসিম ইবন উমর ইব্‌ন কাতাদা তাঁর সম্প্রদায়ের কোন কোন বুযর্গ থেকে বর্ণনা করেছেন। আসিম বলেন, তাঁরা বলেছেন: আল্লাহর কসম! আমাদের এবং তাদের ব্যাপারেই এ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
জাহিলী যুগে আমরা তাদের উপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিলাম। আমরা ছিলাম মুশরিক আর ইয়াহুদীরা ছিল আহলে কিতাব। তারা আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলতেন: অচিরেই একজন নবী প্রেরিত হবেন, আমরা তাঁর অনুসরণ করব। তাঁর আগমনের সময় নিকটবর্তী। আমরা তাঁর সঙ্গী হয়ে তোমাদের আদ ও ইরামের হত্যা করব।
তারপর যখন আল্লাহ্ তা'আলা কুরায়שদের মধ্যে তাঁর রাসূল প্রেরণ করলেন, তখন আমরা' তাঁর অনুসারী হয়ে গেলাম। পক্ষান্তরে ইয়াহুদীরা তাঁকে অস্বীকার করল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
فَلَمَّا جَاءَهُمْ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللهِ عَلَى الكَفِرِينَ ، بِئْسَمَا اشْتَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ أَنْ يَكْفُرُوا بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ بَغْيًا أَنْ يُنَزِّلَ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ -
"তারা যা জ্ঞাত ছিল, তা যখন তাদের নিকট আসল তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের প্রতি আল্লাহর লা'নত। তা কত নিকৃষ্ট যার বিনিময়ে তারা তাদের আত্মাকে বিক্রি করেছে-তা এই যে, আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন, ঈর্ষান্বিত হয়ে তারা তা প্রত্যাখ্যান করল শুধু এ কারণে যে, আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন।” (২: ৮৯-৯০)
অর্থাৎ তিনি তাদের বাইরে অন্য লোকদের থেকে কেন নবী বানালেন?
فَبَاؤُ بِغَضَبٍ عَلَى غَضَبٍ وَلِلْكَفِرِينَ عَذَابٌ مُّهِينٌ
"সুতরাং তারা ক্রোধের উপর ক্রোধের পাত্র হল। আর কাফিরদের জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (২: ৯০)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়াহুদীদের পার্থিব মোহ

📄 ইয়াহুদীদের পার্থিব মোহ


ইবন ইসহাক বলেন : الغضب على الغضب ক্রোধের উপর ক্রোধের অর্থ প্রথম ক্রোধ হচ্ছে তাদের কাছে তাওরাত কিতাব থাকা সত্ত্বে তারা এর বিধান অনুযায়ী আমল করেনি, আর দ্বিতীয় ক্রোধ এজন্য যে, আল্লাহ কর্তৃক তাদের কাছে প্রেরিত নবী মুহাম্মদ (সা)-কে তারা অস্বীকার করেছে।
এরপর তাদের উপর তুর পাহাড়কে উত্তোলন এবং আল্লাহকে ছেড়ে গোবৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণের ব্যাপারে তাদের সতর্ক করে আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মদ (সা)-কে লক্ষ্য করে বলেন:
قُلْ إِنْ كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِنْدَ اللهِ خَالِصَةً مِّنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنُوا الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صدقين :
"বলুন, যদি আল্লাহ্র নিকট পরকালের বাসস্থান অন্য লোক ব্যতীত বিশেষভাবে শুধু তোমাদের জন্যেই হয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর-যদি তোমরা সত্যবাদী হও।” (২: ৯৪)
অর্থাৎ তোমরা এ মর্মে আল্লাহ্র নিকট দু'আ কর যে, আমাদের মধ্যে যে দল অধিক মিথ্যাবাদী, তাদের মৃত্যু হোক। তখন তারা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সামনে এরূপ দু'আ করতে অস্বীকার করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা নবী (সা)-কে লক্ষ্য করে বলেন:
ولَن يَتَمَنُوهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ
"কিন্তু তাদের কৃতকর্মের জন্য তারা কখনো তা কামনা করবে না।” (২: ৯৫)
অর্থাৎ যেহেতু তাদের কাছে যে 'ইল্ম রয়েছে, তা দ্বারা তারা আপনার সম্পর্কে জানে। আর তার মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কেও তারা অবহিত, এজন্য তারা তা কামনা করবে না। এজন্য বলা হয়ে থাকে যে, যদি সত্যি সত্যি তারা সেদিন এরূপ দু'আ করত, তা হলে ভূপৃষ্ঠে একজন ইয়াহূদীও বেঁচে থাকত না, সবাই মারা যেত। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা তাদের পার্থিব জীবন এবং দীর্ঘায়ু লাভের কথা উল্লেখ করে বলেন: وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيْوَةٍ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمِّرُ أَلْفَ سَنَةٍ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِ مِنَ الْعَذَابِ أَنْ يُعَمِّرَ .
"আপনি নিশ্চয়ই তাদের (ইয়াহুদীদের) জীবনের প্রতি সমস্ত মানুষ, এমন কি মুশরিক অপেক্ষা অধিক লোভী দেখতে পাবেন। তাদের প্রত্যেকে সহস্র বছর বাঁচবার আকাঙ্ক্ষা করে, কিন্তু দীর্ঘায়ু তাদের শাস্তি থেকে দূরে রাখতে পারবে না।” (২: ৯৬)
অর্থাৎ এতে সে শাস্তি থেকে তারা নিষ্কৃতি পাবে না। আর এটা এ জন্যে যে, মুশরিক মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাসী নয়। তাই সে দীর্ঘায়ুর প্রত্যাশা করে। পক্ষান্তরে ইয়াহুদী জানে যে, তার কাছে যে ইলম রয়েছে, সে অনুযায়ী আমল না করার কারণে আখিরাতে তার জন্যে লাঞ্ছনা নির্ধারিত রয়েছে।
এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوا جِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِاذْنِ اللَّهِ "বলুন, যে কেউ জিবরীলের শত্রু এজন্য যে, সে আল্লাহর নির্দেশে আপনার হৃদয়ে কুরআন পৌঁছে দিয়েছে। (২: ৯৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00