📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মদীনার ইয়াহুদীদের আচরণ

📄 মদীনার ইয়াহুদীদের আচরণ


তারা ছিল দু'টি উপদল। একটি ছিল বনূ কায়নুকা। খাযরাজ বংশীয় মিত্ররা তাদের মধ্যেই গণ্য হত। অপর দলটি ছিল বনূ নযীর ও বনু কুরায়যা। আওস গোত্রীয় মিত্ররাও তাদের মধ্যে গণ্য হত। তাই যখন আওস ও খাযরাজ গোত্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধত, তখন বনু কায়নুকা খাযরাজের সাথে এবং বনূ নযীর ও বনু কুরায়যা আওসদের সাথী হয়ে যুদ্ধ করত। প্রত্যেক পক্ষ তাদের মিত্রদের পৃষ্ঠপোষকতা করত এবং এতে মিত্রদের খাতিরে স্বজাতীয়দের রক্তপাতেও কুণ্ঠিত হত না। অথচ তাদের হাতে থাকত তাওরাত, যার মাধ্যমে তারা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত হত। আর আওস-খাযরাজরা ছিল পৌত্তলিক অংশীবাদী। তারা মূর্তিপূজা করত। তারা বেহেস্ত দোযখ কী, তা জানত না। পুনরুত্থান ও কিয়ামত সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান ছিল না। কিতাব কী বস্তু, তা তারা জানত না। হালাল-হারাম সম্বন্ধে তাদের কোন ধারণা ছিল না। যখন যুদ্ধের অবসান হত, তখন তারা তাওরাতের বিধান অনুযায়ী তাদের বন্দীদের মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত করত। তখন তারা একপক্ষের বন্দীদের সাথে অন্যপক্ষের বন্দীদের বিনিময় করত। বনু কায়নুকা আওসের হাতে তাদের বন্দীদের মুক্তিপণ পরিশোধ করত। পক্ষান্তরে বনূ নযীর ও বনু কুরায়যা-খাযরাজের হাতে তাদের বন্দীদের মুক্তিপণ পরিশোধ করত। ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে গিয়ে তারা নিজেরা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হত, একপক্ষ অপর পক্ষের লোককে হত্যা করত এবং তাদের রক্তপণ তারা দাবি করত না। এ ব্যাপারে তাদের সতর্ক করে আল্লাহ্ বলেন:
افَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتٰبِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ
"তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যা কর?" (২:৮৫)
অর্থাৎ তাওরাতের নির্দেশ অনুসারে তার মুক্তিপণ আদায় কর। আবার তাকে হত্যাও কর? অথচ তাওরাতের বিধান হচ্ছে এরূপ না করার। তোমরা তাকে হত্যা কর এবং তাকে ঘরছাড়া কর; আর পার্থিব লাভের জন্য তার বিরুদ্ধে আল্লাহর সাথে শিরককারীদের এবং তাঁকে ছেড়ে মূর্তির পূজাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা কর?
আমার কাছে যে বর্ণনা পৌঁছেছে, সেমতে আওস ও খাযরাজের ব্যাপারে উপরোক্ত আয়াতসমূহ নাযিল হয়েছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নবী-রাসূলগণের বিরোধিতা

📄 নবী-রাসূলগণের বিরোধিতা


তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَلَقَدْ أَتَيْنَا مُوسَى الْكِتٰبَ وَقَفَّيْنَا مِنْ بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ وَأَتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَتِ *
"নিশ্চয়ই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রাসূলদের প্রেরণ করেছি এবং মারইয়াম-তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছি।” (২:৮৭)
অর্থাৎ ঐ সব প্রমাণ যা তাকে দেওয়া হয়েছিল, যথা মৃতকে জীবিত করা, মাটি দিয়ে পাখি সদৃশ আকৃতি তৈরি করে তারপর তাতে আল্লাহর হুকুমে প্রাণ সঞ্চার করা এবং তা পাখি হয়ে যাওয়া, রোগীদের রোগমুক্ত করা, তারা যা ঘরে সঞ্চয় করে রাখত তার অনেক বস্তু সম্পর্কে খবর দেওয়া, ঈসা (আ)-এর কাছে নতুনভাবে ইনজীল প্রেরণ করা সত্ত্বেও পুনরায় তাদের কাছে তাওরাত প্রেরণ করা। তাদের এসব বিষয় অস্বীকার করার কথা উল্লেখ করে আল্লাহ্ বলেন:
أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَى أَنْفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًا تَقْتُلُونَ .
"তবে কি যখনই কোন রাসূল এমন কিছু তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছে, যা তোমাদের মনঃপূত নয়, তখনই তোমরা অহংকার করেছ, আর কতককে অস্বীকার করেছ এবং কতককে হত্যা করেছ?" (২:৮৭)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 অভিশাপের কারণ

📄 অভিশাপের কারণ


তারপর মহান আল্লাহ্ বলেন: তারা বলেছিল, وَقَالُوا قُلُوبُنَا غُلْفٌ "আমাদের হৃদয় 'আচ্ছাদিত”, অর্থাৎ সুসংরক্ষিত। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: بَلْ لَّعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيْلًا مَّا يُؤْمِنُونَ ، وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَبٌ مِّنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقُ لَمَا مَعَهُمْ
وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جَاءَهُمْ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الكفرين
"বরং সত্য প্রত্যাখ্যানের জন্য আল্লাহ্ তাদের লা'নত করেছেন, সুতরাং তাদের অল্প সংখ্যকই বিশ্বাস করে। তাদের নিকট যা আছে আল্লাহ্র নিকট থেকে যখন তার সমর্থক কিতাব আসল, যদিও পূর্বে সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের বিরুদ্ধে তারা এর সাহায্যে বিজয় প্রার্থনা করত, তবুও তারা যা জ্ঞাত ছিল, তা যখন তাদের নিকট আসল, তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের প্রতি আল্লাহর লা'নত।" (২: ৮৮-৮৯)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রসঙ্গ

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রসঙ্গ


ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে 'আসিম ইবন উমর ইব্‌ন কাতাদা তাঁর সম্প্রদায়ের কোন কোন বুযর্গ থেকে বর্ণনা করেছেন। আসিম বলেন, তাঁরা বলেছেন: আল্লাহর কসম! আমাদের এবং তাদের ব্যাপারেই এ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
জাহিলী যুগে আমরা তাদের উপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিলাম। আমরা ছিলাম মুশরিক আর ইয়াহুদীরা ছিল আহলে কিতাব। তারা আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলতেন: অচিরেই একজন নবী প্রেরিত হবেন, আমরা তাঁর অনুসরণ করব। তাঁর আগমনের সময় নিকটবর্তী। আমরা তাঁর সঙ্গী হয়ে তোমাদের আদ ও ইরামের হত্যা করব।
তারপর যখন আল্লাহ্ তা'আলা কুরায়שদের মধ্যে তাঁর রাসূল প্রেরণ করলেন, তখন আমরা' তাঁর অনুসারী হয়ে গেলাম। পক্ষান্তরে ইয়াহুদীরা তাঁকে অস্বীকার করল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
فَلَمَّا جَاءَهُمْ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللهِ عَلَى الكَفِرِينَ ، بِئْسَمَا اشْتَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ أَنْ يَكْفُرُوا بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ بَغْيًا أَنْ يُنَزِّلَ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ -
"তারা যা জ্ঞাত ছিল, তা যখন তাদের নিকট আসল তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের প্রতি আল্লাহর লা'নত। তা কত নিকৃষ্ট যার বিনিময়ে তারা তাদের আত্মাকে বিক্রি করেছে-তা এই যে, আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন, ঈর্ষান্বিত হয়ে তারা তা প্রত্যাখ্যান করল শুধু এ কারণে যে, আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন।” (২: ৮৯-৯০)
অর্থাৎ তিনি তাদের বাইরে অন্য লোকদের থেকে কেন নবী বানালেন?
فَبَاؤُ بِغَضَبٍ عَلَى غَضَبٍ وَلِلْكَفِرِينَ عَذَابٌ مُّهِينٌ
"সুতরাং তারা ক্রোধের উপর ক্রোধের পাত্র হল। আর কাফিরদের জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (২: ৯০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00