📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 'আমানী' শব্দের অর্থ

📄 'আমানী' শব্দের অর্থ


وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَبَ إِلا أَمَانِي وَإِنْ هُمْ إِلا يَظُنُّونَ
"এবং তাদের মধ্যে এমন কতক নিরক্ষর লোক আছে, যাদের মিথ্যা আশা ব্যতীত কিতাব সম্বন্ধে কোন জ্ঞান নেই।” (২: ৭৭-৭৮)
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আবু উবায়দা বর্ণনা করেছেন : الا يَظُنُّون অর্থ হচ্ছে الاقرائة অর্থাৎ পাঠ ব্যতিরেকে তারা আর কিছুই করে না। কেননা উম্মী বা নিরক্ষর হচ্ছে সেই লোক, যে পড়তে পারে কিন্তু লিখতে পারে না। তাহলে আল্লাহর বাণীর অর্থ হচ্ছে: তারা আল্লাহ্র কিতাবের জ্ঞান রাখে না, কেবল তা পড়তে পারে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আবু উবায়দা ও ইউনুস থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা আল্লাহর বাণীর এ অর্থই আরবদের প্রচলিত অর্থ অনুযায়ী গ্রহণ করেছেন। আর এ কথা আবু উবায়দা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: ইউনুস ইব্‌ন হাবীব নাহবী এবং আবু উবায়দা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: আরবরা تمنى বলে قرأ এর অর্থ নিয়ে থাকেন। আর আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবে আছে:
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَتَّى الْقَى الشَّيْطَنُ فِي أَمْنِيَّتِهِ
"আপনার আগে যে সমস্ত রাসূল কিংবা নবী আমি প্রেরণ করেছি, তাদের কেউ যখনই কিছু আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে।” (২২: ৫২)
ইব্‌ন হিশাম আরও বলেন: আবু উবায়দা নাহবী আমাকে কবিতার পংক্তি আবৃত্তি করে শুনান:
تَمَنَّى كِتَابَ اللَّهِ أَوَّلَ لَيْلِهِ * وَآخِرَهُ وَافَى حِمَامُ الْمَقَادِرِ
"তিনি রাতের প্রথম ভাগে আল্লাহ্ কিতাব তিলাওয়াত করলেন আর ঐ রাতেরই শেষ ভাগে নির্ধারিত মৃত্যু তার পূর্ণ হক আদায় করে নিল।"
তিনি আমার কাছে আরো আবৃত্তি করে শুনালেন :
تمنى كتاب الله في اليل خاليا × تمنى داؤد الزبور على رسل
"তিনি রাতের বেলা নিভৃতে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করলেন, যেমন দাউদ (আ) যাবুর থেমে থেমে পাঠ করতেন।"
آمانی শব্দের একবচন হচ্ছে أمنية। আর এ শব্দটি ধনৈশ্বর্যের আকাঙ্ক্ষা অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ইবন ইসহাক বলেন: وَإِنْ هُمْ إِلا يَظُنُّون “তারা শুধু অমূলক ধারণা পোষণ করে।" (২: ৭৮) অর্থাৎ তারা কিতাবের জ্ঞানও রাখে না এবং জানে না তাতে কি আছে। তারা কেবল অনুমানের ভিত্তিতেই আপনার নবুওয়তকে অস্বীকার করছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 ভিত্তিহীন দাবি

📄 ভিত্তিহীন দাবি


وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدًا فَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ عَهْدَهُ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ "তারা বলে, দিন কতক ব্যতীত আগুন আমাদের কখনো স্পর্শ করবে না। বলুন: তোমরা কি আল্লাহর নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছ, অতএব আল্লাহ্ তাঁর অংগীকার ভঙ্গ করবেন না, কিংবা আল্লাহ্ সম্বন্ধে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না?" (২: ৮০)
ইবন ইসহাক বলেন: যায়দ ইব্‌ন সাবিতের জনৈক আযাদকৃত গোলাম ইকরামা (রা) কিংবা সাঈদ ইব্‌ন জুবায়র (রা) সূত্রে ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনায় আগমন করেন, তখন ইয়াহূদীরা বলত, পৃথিবীর আয়ু হচ্ছে সাত হাজার বছর, আর আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়ার প্রতি হাজার বছরের জন্যে আখিরাতে একদিন মাত্র মানুষকে জাহান্নামের শাস্তি দেবেন। এ হিসাবে আখিরাতের শাস্তি হবে সাতদিন মাত্র। তারপরই আযাব শেষ হয়ে যাবে। তাদের এ মন্তব্য সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً قُلْ اتَّخَذْتُمْ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدًا فَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ عَهْدَهُ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ - "তারা বলে, 'দিন কতক ব্যতীত আগুন আমাদের কখনো স্পর্শই করবে না।' বলুন, 'তোমরা কি আল্লাহ্র নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছ, অতএব আল্লাহ্ তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করবেন না। কিংবা আল্লাহ্ সম্বন্ধে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না।' হ্যাঁ, যারা পাপকাজ করে এবং যাদের পাপরাশি তাদের পরিবেষ্টন করে।” (২: ৮০-৮২) অর্থাৎ যে ব্যক্তি তোমাদের মত পাপাচারে লিপ্ত হল, আর তোমাদের মত কুফরী করল, ফলে আল্লাহ্র কাছে তার যে নেকী ছিল, তা বিনষ্ট হয়ে গেল।
فَأُولَئِكَ أَصْحَبُ النَّارِ هُمْ فِيْهَا خُلِدُوْنَ .
"তারাই জাহান্নামী-সেখানে তারা স্থায়ী হবে।" অর্থাৎ তারা সেখানে চিরদিন অবস্থান করবে।
وَالَّذِيْنَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ أُولَئِكَ أَصْحُبُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خُلِدُوْنَ
"আর যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।" (২:৮০-৮২)
অর্থাৎ তোমরা যা অস্বীকার করেছ, তা যারা মেনে নিয়েছে, আর যে দীন তোমরা তরক করেছ, তার উপর যারা আমল করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাত, তারা সেখানে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ্ এভাবে তাদের জানিয়ে দিচ্ছেন যে, পাপ-পূণ্যের ফলাফল পাপী বা পূণ্যবানদের জন্য চিরস্থায়ী হবে, যা কোন দিন শেষ হবে না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 ইয়াহ্দীদের অঙ্গীকার লংঘন ও নাফরমানী

📄 ইয়াহ্দীদের অঙ্গীকার লংঘন ও নাফরমানী


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 অঙ্গীকার ভঙ্গ

📄 অঙ্গীকার ভঙ্গ


ইবন ইসহাক বলেন: তারপর আল্লাহ্ তা'আলা তাদের তিরস্কার করে বলেন:
وَاذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَا تَعْبُدُونَ الا الله وَبِالْوَالدَيْنِ إِحْسَانًا وَذِي الْقُرْبَى وَالْيَثْمى وَالْمَسْكِينِ وَقُولُوا لِلَّاسِ حُسْنًا وَأَقِيمُوا الصَّلوةَ وَاتُوا الزكوة ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْكُمْ وَأَنْتُمْ مُعْرِضُونَ .
"স্মরণ কর, যখন আমি ইসরাঈল-সন্তানদের অংগীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করবে না, মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন ও দরিদ্রদের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে এবং মানুষের সঙ্গে সদালাপ করবে, সালাত কায়েম করবে ও 'যাকাত দেবে, কিন্তু অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত তোমরা বিরুদ্ধ ভাবাপন্ন হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে।" (২:৮৩)
অর্থাৎ এ সব কাজ তোমরা ছেড়ে দিলে; কিন্তু কোন দোষ-ত্রুটির কারণে তোমরা এ সব পরিত্যাগ করনি; বরং তোমরা এতে অভ্যস্ত।
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ لَا تَسْفِكُونَ دِمَاءَكُمْ
"আর স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদের অংগীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা পরস্পরের রক্তপাত করবে না।” (২: ৮৪)
ইবন হিশাম বলেন: تسفكون অর্থ تصبون তোমরা প্রবাহিত কর। আরবরা বলে: سفك دمه - তার রক্ত প্রবাহিত করল। وسفك الزق - মশকের সব পানি প্রবাহিত করল। কবি বলেন:
وَكُنَّا إِذْ أَمَا الضَّيْفُ حَلَّ بِأَرْضِنَا × سَفَكْنَا دِمَاءَ الْبُدْنِ فِي تُرْبَةِ الْحَالِ
"যখন আমাদের যমীনে মেহমানের আগমন ঘটে, তখন আমরা উটের রক্ত প্রবাহিত করে তার আপ্যায়ন করি, যার কারণে ভূমি তখন রক্তাক্ত হয়ে উঠে।"
ইব্‌ন হিশাম বলেন: حال এখানে সেই মাটির অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যার সঙ্গে বালু মিশ্রিত। আরবরা একে السهلة বলে থাকে। হাদীসে আছে:
لَمَّا قَالَ فِرْعَوْنُ : آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ أَخَذَ جِبْرِيلُ مِنْ حَالِ الْبَحْرِ وَحَمَاتِهِ فَضَرَبَ بِهِ وَجْهَ فِرْعَوْنَ .
"যখন ফিরআওন বলল: 'আমি বিশ্বাস করলাম বনী ইসরাঈল যাঁর প্রতি বিশ্বাস করে—তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই।” (১০: ৯০) তখন জিবরাঈল (আ) সমুদ্রের বালু-মিশ্রিত কাদা তুলে তার মুখের উপর ছুঁড়ে মারলেন।"
حال এখানে الحماة বা কাদার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
وَلَا تُخْرِجُونَ أَنْفُسَكُمْ مِّنْ دِيَارِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ وَأَنْتُمْ تَشْهَدُونَ . : ইব্‌ন ইসহাক বলেন: "আর তোমরা আপনজনকে স্বদেশ থেকে বের করবে না, এরপর তোমরা এটা স্বীকার করেছিলে, আর এ বিষয়ে তোমরাই সাক্ষী।” (২: ৮৪)
অর্থাৎ তোমরাই এ ব্যাপারে সাক্ষী যে, বস্তুত আমি তোমাদের থেকে এ অঙ্গীকার নিয়েছিলাম:
ثُمَّ أَنْتُمْ هَؤُلَاءِ تَقْتُلُونَ أَنْفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقًا مِّنْكُمْ مِّنْ دِيَارِهِمْ تَظَاهَرُونَ عَلَيْهِمْ بِالْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
"তোমরাই তারা, যারা এরপর একে অন্যকে হত্যা করছ এবং তোমাদের একদলকে স্বদেশ থেকে বের করছ, তোমরা নিজেরা তাদের বিরুদ্ধে অন্যায় ও সীমালংঘন দ্বারা পরস্পরের পৃষ্ঠপোষকতা করছ।” (২: ৮৫)
অর্থাৎ মুশরিকদের—এমনকি তারা তাদের সাথী হয়ে অপরের রক্ত প্রবাহিত করে এবং তাদের সঙ্গী হয়ে অপরকে দেশছাড়া করে।
وَأَنْ يَأْتُوكُمْ أُسَارَى تُفَادُوهُمْ
"আর তারা যখন বন্দীরূপে তোমাদের নিকট উপস্থিত হয়, তখন তোমরা মুক্তিপণ দাও;"
وَهُوَ مُحَرَّمُ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ
"অথচ তাদের বের করে দেওয়াই তোমাদের জন্য হারাম ছিল।”
অর্থাৎ তোমরা জান যে, তোমাদের ধর্ম-বিধান অনুসারে এটা তোমাদের জন্য তোমাদের কিতাবে হারাম ছিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية