📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 চরম মুনাফিকী

📄 চরম মুনাফিকী


তার পর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: وَاِذَا لَقُوا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا قَالُوْا اٰمَنَّا "তারা যখন মু'মিনদের সংস্পর্শে আসে, তখন তারা বলে : আমরা ঈমান এনেছি।" অর্থাৎ তোমাদের সাথী আল্লাহর রাসূল এবং তাঁকে বিশেষভাবে তোমাদের কাছেই পাঠানো হয়েছে।
وَاِذَا خَلَا بَعْضُهُمْ اِلٰى بَعْضٍ قَالُوْا "আর যখন তারা নিভৃতে একে অন্যের সাথে মিলিত হয়, তখন তারা বলে": আরবদেরকে এ কথা বলো না। কেননা তাঁরই ওসীলায় তোমরা ইতিপূর্বে তাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্যে দু'আ করতে। আর তিনি তাদেরই মধ্যে প্রেরিত হয়েছেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন: وَاِذَا لَقُوا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا قَالُوْا اٰمَنَّا وَاِذَا خَلَا بَعْضُهُمْ اِلٰى بَعْضٍ قَالُوْا أَتُحَدِّثُوْنَهُمْ بِمَا فَتَحَ اللّٰهُ عَلَيْكُمْ لِيُحَاجُّوْكُمْ بِهِ عِنْدَ رَبِّكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُوْنَ . "যখন তারা মু'মিনদের সংস্পর্শে আসে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আর যখন তারা নিভৃতে একে অন্যের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে : আল্লাহ্ তোমাদের কাছে যা ব্যক্ত করেছেন তোমরা কি তা তাদের বলে দাও? এদিয়ে তারা তোমাদের প্রতিপালকের সামনে তোমাদের বিরুদ্ধে যুক্তি পেশ করবে; তোমরা কি অনুধাবন কর না?" (২ : ৭৬)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 তাওরাতের সুসংবাদ গোপন

📄 তাওরাতের সুসংবাদ গোপন


অর্থাৎ তোমরা স্বীকার কর যে, তিনি নবী। তোমরা এ কথাও জান যে, তোমাদের নিকট থেকে তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। তিনি তোমাদের বলেছেন যে, তিনিই সেই নবী, যাঁর প্রতীক্ষা আমরা এতকাল ধরে করে আসছি এবং যাঁর কথা আমরা আমাদের কিতাবে পেয়েছি! তোমরা তাঁকে অস্বীকার করবে এবং আরবদের কাছে তাঁর কথা স্বীকার করবে না। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
أَوَلَا يَعْلَمُوْنَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ
"তারা কি জানে না যে, যা তারা গোপন রাখে কিংবা ঘোষণা করে, নিশ্চিতভাবে আল্লাহ্ তা জানেন?"

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 'আমানী' শব্দের অর্থ

📄 'আমানী' শব্দের অর্থ


وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَبَ إِلا أَمَانِي وَإِنْ هُمْ إِلا يَظُنُّونَ
"এবং তাদের মধ্যে এমন কতক নিরক্ষর লোক আছে, যাদের মিথ্যা আশা ব্যতীত কিতাব সম্বন্ধে কোন জ্ঞান নেই।” (২: ৭৭-৭৮)
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আবু উবায়দা বর্ণনা করেছেন : الا يَظُنُّون অর্থ হচ্ছে الاقرائة অর্থাৎ পাঠ ব্যতিরেকে তারা আর কিছুই করে না। কেননা উম্মী বা নিরক্ষর হচ্ছে সেই লোক, যে পড়তে পারে কিন্তু লিখতে পারে না। তাহলে আল্লাহর বাণীর অর্থ হচ্ছে: তারা আল্লাহ্র কিতাবের জ্ঞান রাখে না, কেবল তা পড়তে পারে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আবু উবায়দা ও ইউনুস থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা আল্লাহর বাণীর এ অর্থই আরবদের প্রচলিত অর্থ অনুযায়ী গ্রহণ করেছেন। আর এ কথা আবু উবায়দা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: ইউনুস ইব্‌ন হাবীব নাহবী এবং আবু উবায়দা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: আরবরা تمنى বলে قرأ এর অর্থ নিয়ে থাকেন। আর আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবে আছে:
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَتَّى الْقَى الشَّيْطَنُ فِي أَمْنِيَّتِهِ
"আপনার আগে যে সমস্ত রাসূল কিংবা নবী আমি প্রেরণ করেছি, তাদের কেউ যখনই কিছু আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে।” (২২: ৫২)
ইব্‌ন হিশাম আরও বলেন: আবু উবায়দা নাহবী আমাকে কবিতার পংক্তি আবৃত্তি করে শুনান:
تَمَنَّى كِتَابَ اللَّهِ أَوَّلَ لَيْلِهِ * وَآخِرَهُ وَافَى حِمَامُ الْمَقَادِرِ
"তিনি রাতের প্রথম ভাগে আল্লাহ্ কিতাব তিলাওয়াত করলেন আর ঐ রাতেরই শেষ ভাগে নির্ধারিত মৃত্যু তার পূর্ণ হক আদায় করে নিল।"
তিনি আমার কাছে আরো আবৃত্তি করে শুনালেন :
تمنى كتاب الله في اليل خاليا × تمنى داؤد الزبور على رسل
"তিনি রাতের বেলা নিভৃতে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করলেন, যেমন দাউদ (আ) যাবুর থেমে থেমে পাঠ করতেন।"
آمانی শব্দের একবচন হচ্ছে أمنية। আর এ শব্দটি ধনৈশ্বর্যের আকাঙ্ক্ষা অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ইবন ইসহাক বলেন: وَإِنْ هُمْ إِلا يَظُنُّون “তারা শুধু অমূলক ধারণা পোষণ করে।" (২: ৭৮) অর্থাৎ তারা কিতাবের জ্ঞানও রাখে না এবং জানে না তাতে কি আছে। তারা কেবল অনুমানের ভিত্তিতেই আপনার নবুওয়তকে অস্বীকার করছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ভিত্তিহীন দাবি

📄 ভিত্তিহীন দাবি


وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدًا فَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ عَهْدَهُ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ "তারা বলে, দিন কতক ব্যতীত আগুন আমাদের কখনো স্পর্শ করবে না। বলুন: তোমরা কি আল্লাহর নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছ, অতএব আল্লাহ্ তাঁর অংগীকার ভঙ্গ করবেন না, কিংবা আল্লাহ্ সম্বন্ধে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না?" (২: ৮০)
ইবন ইসহাক বলেন: যায়দ ইব্‌ন সাবিতের জনৈক আযাদকৃত গোলাম ইকরামা (রা) কিংবা সাঈদ ইব্‌ন জুবায়র (রা) সূত্রে ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনায় আগমন করেন, তখন ইয়াহূদীরা বলত, পৃথিবীর আয়ু হচ্ছে সাত হাজার বছর, আর আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়ার প্রতি হাজার বছরের জন্যে আখিরাতে একদিন মাত্র মানুষকে জাহান্নামের শাস্তি দেবেন। এ হিসাবে আখিরাতের শাস্তি হবে সাতদিন মাত্র। তারপরই আযাব শেষ হয়ে যাবে। তাদের এ মন্তব্য সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً قُلْ اتَّخَذْتُمْ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدًا فَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ عَهْدَهُ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ - "তারা বলে, 'দিন কতক ব্যতীত আগুন আমাদের কখনো স্পর্শই করবে না।' বলুন, 'তোমরা কি আল্লাহ্র নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছ, অতএব আল্লাহ্ তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করবেন না। কিংবা আল্লাহ্ সম্বন্ধে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না।' হ্যাঁ, যারা পাপকাজ করে এবং যাদের পাপরাশি তাদের পরিবেষ্টন করে।” (২: ৮০-৮২) অর্থাৎ যে ব্যক্তি তোমাদের মত পাপাচারে লিপ্ত হল, আর তোমাদের মত কুফরী করল, ফলে আল্লাহ্র কাছে তার যে নেকী ছিল, তা বিনষ্ট হয়ে গেল।
فَأُولَئِكَ أَصْحَبُ النَّارِ هُمْ فِيْهَا خُلِدُوْنَ .
"তারাই জাহান্নামী-সেখানে তারা স্থায়ী হবে।" অর্থাৎ তারা সেখানে চিরদিন অবস্থান করবে।
وَالَّذِيْنَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ أُولَئِكَ أَصْحُبُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خُلِدُوْنَ
"আর যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।" (২:৮০-৮২)
অর্থাৎ তোমরা যা অস্বীকার করেছ, তা যারা মেনে নিয়েছে, আর যে দীন তোমরা তরক করেছ, তার উপর যারা আমল করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাত, তারা সেখানে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ্ এভাবে তাদের জানিয়ে দিচ্ছেন যে, পাপ-পূণ্যের ফলাফল পাপী বা পূণ্যবানদের জন্য চিরস্থায়ী হবে, যা কোন দিন শেষ হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00