📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আল্লাহ্র কিতাবে বিকৃতি সাধন

📄 আল্লাহ্র কিতাবে বিকৃতি সাধন


তারপর মুহাম্মদ (সা) এবং তাঁর বিশ্বাসী সাহাবীগণকে ওদের সম্পর্কে নিরাশ করে দিয়ে আল্লাহ্ বলেন:
أَفَتَطْمَعُونَ أَنْ يُؤْمِنُوا لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَّمَ اللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِنْ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
"তোমরা কি এ আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? যখন তাদের একদল আল্লাহ্র বাণী শুনত ও বোঝার পর জেনেশুনে তা বিকৃত করত।” (২: ৭৫)
আল্লাহর কালামের এ অর্থ এ নয় যে, তাদের সকলে আল্লাহর কালাম তাওরাত শুনত। বরং অর্থ এই যে, তাদের এক বিশেষ দল তা শুনত।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছ কোন কোন জ্ঞানী ব্যক্তি থেকে এ কথাটি পৌঁছেছে যে, তারা মূসা (আ)-কে বলল: হে মুসা! আমাদের এবং আল্লাহর দীদারের মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। যখন তিনি তোমার সাথে কথাবার্তা বলেন, তখন আমাদের সে কথাগুলো শুনিয়ে দেবে। তখন মূসা (আ) তাঁর রবের নিকট সে মর্মে ফরিয়াদ করলেন। তখন আল্লাহ্ মুসাকে বললেন: আচ্ছা, তাদেরকে তাদের দেহের ও বস্ত্রের পবিত্রতা অর্জন করতে এবং রোযা রাখতে বলে দাও! তারা তা-ই করল। তারপর মূসা (আ) তাদের নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন। যখন তারা তুরে গিয়ে উপনীত হল, তখন মেঘমালা তাদের ঢেকে ফেলল। মূসা (আ)-এর আদেশক্রমে তারা তখন সিজদায় পড়ল। আল্লাহ্ তখন মূসার সাথে কথা বলল এবং তারা তা শুনতেও পেল। আল্লাহ্ তাদেরকে আদেশ-নিষেধ শুনালেন, তারা তা শুনল এবং উপলব্ধিও করল। মূসা (আ) তাদেরকে নিয়ে বনী ইসরাঈলদের মধ্যে ফিরে গেলেন। যখন তারা তাদের নিকট আসল, তখন তাদের একদল আল্লাহ্ তাদেরকে যে আদেশ দিয়েছিলেন তা বিকৃত করে ফেলল। যখন মূসা তাদের বললেন যে, আল্লাহ্ তোমাদেরকে অমুক অমুক আদেশ দিয়েছেন, তখন ঐ বিকৃতিকারী দল বলতে লাগল : না, আল্লাহ্ এরূপ বলেছেন। একথা বলে তারা আল্লাহ্ যা বলেছিলেন, তার বিপরীত কথা শোনাল। উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা এর প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 চরম মুনাফিকী

📄 চরম মুনাফিকী


তার পর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: وَاِذَا لَقُوا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا قَالُوْا اٰمَنَّا "তারা যখন মু'মিনদের সংস্পর্শে আসে, তখন তারা বলে : আমরা ঈমান এনেছি।" অর্থাৎ তোমাদের সাথী আল্লাহর রাসূল এবং তাঁকে বিশেষভাবে তোমাদের কাছেই পাঠানো হয়েছে।
وَاِذَا خَلَا بَعْضُهُمْ اِلٰى بَعْضٍ قَالُوْا "আর যখন তারা নিভৃতে একে অন্যের সাথে মিলিত হয়, তখন তারা বলে": আরবদেরকে এ কথা বলো না। কেননা তাঁরই ওসীলায় তোমরা ইতিপূর্বে তাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্যে দু'আ করতে। আর তিনি তাদেরই মধ্যে প্রেরিত হয়েছেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন: وَاِذَا لَقُوا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا قَالُوْا اٰمَنَّا وَاِذَا خَلَا بَعْضُهُمْ اِلٰى بَعْضٍ قَالُوْا أَتُحَدِّثُوْنَهُمْ بِمَا فَتَحَ اللّٰهُ عَلَيْكُمْ لِيُحَاجُّوْكُمْ بِهِ عِنْدَ رَبِّكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُوْنَ . "যখন তারা মু'মিনদের সংস্পর্শে আসে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আর যখন তারা নিভৃতে একে অন্যের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে : আল্লাহ্ তোমাদের কাছে যা ব্যক্ত করেছেন তোমরা কি তা তাদের বলে দাও? এদিয়ে তারা তোমাদের প্রতিপালকের সামনে তোমাদের বিরুদ্ধে যুক্তি পেশ করবে; তোমরা কি অনুধাবন কর না?" (২ : ৭৬)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 তাওরাতের সুসংবাদ গোপন

📄 তাওরাতের সুসংবাদ গোপন


অর্থাৎ তোমরা স্বীকার কর যে, তিনি নবী। তোমরা এ কথাও জান যে, তোমাদের নিকট থেকে তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। তিনি তোমাদের বলেছেন যে, তিনিই সেই নবী, যাঁর প্রতীক্ষা আমরা এতকাল ধরে করে আসছি এবং যাঁর কথা আমরা আমাদের কিতাবে পেয়েছি! তোমরা তাঁকে অস্বীকার করবে এবং আরবদের কাছে তাঁর কথা স্বীকার করবে না। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
أَوَلَا يَعْلَمُوْنَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ
"তারা কি জানে না যে, যা তারা গোপন রাখে কিংবা ঘোষণা করে, নিশ্চিতভাবে আল্লাহ্ তা জানেন?"

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 'আমানী' শব্দের অর্থ

📄 'আমানী' শব্দের অর্থ


وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَبَ إِلا أَمَانِي وَإِنْ هُمْ إِلا يَظُنُّونَ
"এবং তাদের মধ্যে এমন কতক নিরক্ষর লোক আছে, যাদের মিথ্যা আশা ব্যতীত কিতাব সম্বন্ধে কোন জ্ঞান নেই।” (২: ৭৭-৭৮)
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আবু উবায়দা বর্ণনা করেছেন : الا يَظُنُّون অর্থ হচ্ছে الاقرائة অর্থাৎ পাঠ ব্যতিরেকে তারা আর কিছুই করে না। কেননা উম্মী বা নিরক্ষর হচ্ছে সেই লোক, যে পড়তে পারে কিন্তু লিখতে পারে না। তাহলে আল্লাহর বাণীর অর্থ হচ্ছে: তারা আল্লাহ্র কিতাবের জ্ঞান রাখে না, কেবল তা পড়তে পারে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আবু উবায়দা ও ইউনুস থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা আল্লাহর বাণীর এ অর্থই আরবদের প্রচলিত অর্থ অনুযায়ী গ্রহণ করেছেন। আর এ কথা আবু উবায়দা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: ইউনুস ইব্‌ন হাবীব নাহবী এবং আবু উবায়দা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: আরবরা تمنى বলে قرأ এর অর্থ নিয়ে থাকেন। আর আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবে আছে:
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَتَّى الْقَى الشَّيْطَنُ فِي أَمْنِيَّتِهِ
"আপনার আগে যে সমস্ত রাসূল কিংবা নবী আমি প্রেরণ করেছি, তাদের কেউ যখনই কিছু আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে।” (২২: ৫২)
ইব্‌ন হিশাম আরও বলেন: আবু উবায়দা নাহবী আমাকে কবিতার পংক্তি আবৃত্তি করে শুনান:
تَمَنَّى كِتَابَ اللَّهِ أَوَّلَ لَيْلِهِ * وَآخِرَهُ وَافَى حِمَامُ الْمَقَادِرِ
"তিনি রাতের প্রথম ভাগে আল্লাহ্ কিতাব তিলাওয়াত করলেন আর ঐ রাতেরই শেষ ভাগে নির্ধারিত মৃত্যু তার পূর্ণ হক আদায় করে নিল।"
তিনি আমার কাছে আরো আবৃত্তি করে শুনালেন :
تمنى كتاب الله في اليل خاليا × تمنى داؤد الزبور على رسل
"তিনি রাতের বেলা নিভৃতে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করলেন, যেমন দাউদ (আ) যাবুর থেমে থেমে পাঠ করতেন।"
آمانی শব্দের একবচন হচ্ছে أمنية। আর এ শব্দটি ধনৈশ্বর্যের আকাঙ্ক্ষা অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ইবন ইসহাক বলেন: وَإِنْ هُمْ إِلا يَظُنُّون “তারা শুধু অমূলক ধারণা পোষণ করে।" (২: ৭৮) অর্থাৎ তারা কিতাবের জ্ঞানও রাখে না এবং জানে না তাতে কি আছে। তারা কেবল অনুমানের ভিত্তিতেই আপনার নবুওয়তকে অস্বীকার করছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00