📄 মুনাফিকদের দ্বিতীয় উপমা
أَوْ كَصَيِّبٍ مِّنَ السَّمَاءِ فِيْهِ ظُلُمَتُ وَرَعْدٌ وَبَرَقٌ يَجْعَلُوْنَ أَصَابِعَهُمْ فِي أَذَانِهِمْ مِّنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ وَاللَّهُ مُحِيطٌ بِالْكَفِرِينَ
"কিংবা যেমন আকাশের বর্ষণমুখর ঘন মেঘ, যাতে রয়েছে ঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুতচমক। বজ্রধ্বনিতে মৃত্যুভয়ে তারা কর্ণকুহরে অঙ্গুলি প্রবেশ করায়। আল্লাহ্ কাফিরদের পরিবেষ্টন করে রয়েছেন।"
ইবন হিশাম বলেন : الصيب হচ্ছে মুষলধারে বৃষ্টি। এটা يصوب صاب ধাতু থেকে নির্গত। যেমন আরবদের السيد শব্দটি ساد - يسود ধাতু থেকে الميت শব্দটি مات - يموت ধাতু থেকে নির্গত। এর বহুবচন হচ্ছে صيائب
কবি আলকামা ইব্ন আব্দ আহাদ বনু রবী'আ ইবন মালিক ইব্ন যায়দ-এ মানাত ইব্ তামীমের কবিতার দু'টি পংক্তিতে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এভাবে: كأنهم صابت عليهم سحابة × صواعقها لطيرهن دبيب এবং فلا تعدلي بيني وبين مغمر x سفتك روايا المزن حيث تصوب
ইবন ইসহাক বলেন: তোমাদের বিরোধিতা এবং তোমাদের ভীতি তাদেরকে কুফরীর মধ্যে অন্ধকারে এবং মৃত্যুভয়ে আচ্ছন্ন রেখেছে। তাদের উপমা হচ্ছে ঐ ব্যক্তির মতো, যে ব্যক্তি মুষলধারে বর্ষিত বৃষ্টির অন্ধকারে রয়েছে, সে তার দু'টি হাত তার দু'টি কানের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় বজ্রধ্বনিতে মৃত্যুর ভয়ে। আল্লাহ্ বলেন: আল্লাহই তাদের উপর এ দুর্গতি চাপিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি কাফিরদের পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।
يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ
"বিদ্যুতচমক তাদের দৃষ্টিশক্তিকে কেড়ে নেয়ার উপক্রম করে।"
অর্থাৎ হক্ক বা সত্যের বিদ্যুতপ্রভা এতই উজ্জ্বল যে, তার ঔজ্জ্বল্যের প্রাবল্য তাদের দৃষ্টিশক্তিকে কেড়ে নেড়ে নেয়ার উপক্রম করে।
كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُمْ مَّشَوْا فِيْهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا
"যখনই বিদ্যুত-প্রভা তাদের সম্মুখে চমকে উঠে, তারা তখন তাতে পথ চলে, আর যখনই আবার অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়, তখন থমকে দাঁড়ায়।"
অর্থাৎ যখন সত্যকে তারা চিনতে পায়, তখন সত্য কথা বলতে থাকে। সত্য বলে সরল পথে চলে আসে। তারপর যখন আবার মুখ ঘুরিয়ে কুফরের দিকে চলে যায়, তখন বিভ্রান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
📄 আল্লাহ্র দান : ইবাদতের আহবান
তারপর বলেন: يَأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ হে মানুষ! তোমাদের সে প্রতিপালকের ইবাদত কর।” অর্থাৎ কাফির ও মুনাফিক উভয় শ্রেণীর প্রতিই এ সম্বোধন যে, তোমাদের প্রভুর একত্ববাদে বিশ্বাসী হও।
الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ - الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَاخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ "যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্যে বিছানা ও আকাশকে ছাদ করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন। তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফল-মূল উৎপাদন করেন। সুতরাং জেনেশুনে কাকেও আল্লাহ্র সাথে সমকক্ষ দাঁড় করবে না।"
ইব্ন হিশাম বলেন: انداد অর্থ امثال – সমকক্ষ, তুল্য বা সমপর্যায়ভুক্ত। একবচনে : ند
কবি লবীদ ইব্ন রবী'আ বলেন: احمد الله فلا ندله × بيديه الخير ماشاء فعل "আমি আল্লাহ্র স্তবস্তুতি করছি। তাঁর কোন সমকক্ষ নেই। তাঁরই হাতে সমস্ত কল্যাণ। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন।" তাঁর একটি কবিতায় এ পংক্তিটি আছে।
ইবন ইসহাক বলেন: অর্থাৎ আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাউকে তাঁর সাথে শরীক করো না। যারা লাভ বা ক্ষতি কোনটাই করতে পারে না। অথচ তোমরা জান যে, তোমাদের জীবিকা দেওয়ার মত তিনি ছাড়া আর কোন প্রতিপালক নেই। আর তোমরা জান যে, যে একত্ববাদের প্রতি রাসূল (সা) তোমাদের আহবান জানাচ্ছেন, তাই সত্য এতে কোন সন্দেহ নেই।
📄 কুরআনের চ্যালেঞ্জ
وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا "আমি আমার বান্দার প্রতি যা নাযিল করেছি, তাতে তোমাদের সন্দেহ থাকলে।"
অর্থাৎ তিনি যা তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন, এতে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে।
فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِّنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صُدِقِينَ
"তোমরা তার অনুরূপ কোন সূরা নিয়ে এস এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে আল্লাহ্ ব্যতীত তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে আহ্বান কর।" অর্থাৎ তোমাদের অবস্থানের সপক্ষে যারা সাহায্যকারীরূপে আছে, সাধ্যমত তাদেরকেও (সাহায্যার্থে) আহবান জানাও।
فَإِنْ لَّمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا
"যদি তোমরা তা করতে না পার, আর কখনো তা করতে পারবে না"- তাহলে সত্য তোমাদের সম্মুখে দিবালোকের মত সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكُفِرِينَ .
"তবে সে আগুনকে ভয় কর, মানুষ ও পাথর হবে যার ইন্ধন, কাফিরদের জন্যে যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।” (২: ২৪-২৫) অর্থাৎ ঐ লোকদের জন্যে, যারা তোমাদের মত কুফরীর উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
📄 বনী ইসরাঈলের বর্ণনা
তারপর আল্লাহ্ তাদের উৎসাহ দেন এবং তাদের নিকট থেকে নবী করীম (সা)-এর ব্যাপারে যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তিনি তাদের কাছে আসলে তাঁকে গ্রহণ করতে হবে, সে অঙ্গীকার ভঙ্গের পরিণাম সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করেন এবং তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন তাদের সৃষ্টির প্রথম সময়ের কথা এবং তাদের আদি পিতা আদম (আ)-এর অবস্থার কথা। তারপর তারা যখন তাঁর আনুগত্যের বিরোধিতা করেছিল, তখন আল্লাহ্ তাদের সাথে কী আচরণ করেছিলেন- সে কথা। তারপর বলেন:
يبني اسرائيل .
"হে বনী ইসরাঈল !" ইয়াহুদী পণ্ডিত ও ধর্মনেতাদের প্রতি সম্বোধন।
اذكروا نعمتي التي أنعمت عليكم
"আমার সে অনুগ্রহকে তোমরা স্মরণ কর, যা দিয়ে আমি তোমাদের অনুগৃহীত করেছি।" অর্থাৎ আমার পরীক্ষা স্বরূপ তোমাদের এবং তোমাদের বাপ-দাদাদের নিকট-যখন আল্লাহ তাদেরকে ফিরাউন ও তার সম্প্রদায়ের কবল থেকে নিষ্কৃতি প্রদান করেছিলেন।
وأوفوا بعهدي
"এবং আমার সঙ্গে তোমাদের অঙ্গীকার পূরণ কর", যা আমি তোমাদের যিম্মায় রেখেছিলাম পূরণ করার জন্য, যখন আমার নবী আহমদ তোমাদের নিকট আসবেন।
أُوفَ بِعَهْدِكُمْ "আমিও তোমাদের সংগে আমার অঙ্গীকার পূরণ করব।"
অর্থাৎ তাঁকে সত্যরূপে গ্রহণ ও তাঁর আনুগত্যের বিনিময়ে তোমাদের ঘাড়ের বোঝা এবং তোমাদের শৃঙ্খলরাশি-যা তোমাদের অপরাধের কারণে তোমাদের উপর চেপেছিল, তা থেকে তোমাদের মুক্ত করব।
وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ "এবং তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর।" যাতে সে সমস্ত শাস্তি ও গযব তোমাদের উপর অবতীর্ণ না হয়, যা ইতিপূর্বে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চেহারা বিকৃতি ইত্যাদি আকারে নাযিল হয়েছিল।
وَآمِنُوا بِمَا أَنْزَلْتُ مُصَدِّقًا لَمَا مَعَكُمْ وَلَا تَكُونُوا أَوَّلَ كَافِرِ بِهِ "আমি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে ঈমান আন, এটি তোমাদের কাছে যা আছে তার প্রত্যয়নকারী, আর তোমরাই তার প্রথম প্রত্যাখ্যানকারী হয়ো না।"
অথচ তোমাদের কাছে রয়েছে সেই জ্ঞান, যা তোমাদের ছাড়া অন্য কারো কাছে নেই।
وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ - وَلَا تَلْبِسُوا الحَقِّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ "এবং তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর। আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে শুনে সত্য গোপন করো না।" (২: ৪০-৪২)।
অর্থাৎ আমার রাসূল সম্পর্কে এবং তাঁর আনীত শরীআত সম্পর্কে তোমাদের কাছে যে জ্ঞান রয়েছে, তা তোমরা গোপন করো না এবং তোমাদের কাছে যে কিতাব রয়েছে, তাতেও তাঁর অবস্থার বর্ণনা রয়েছে।