📄 মুনাফিকদের প্রথম উপমা
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর আল্লাহ্ তা'আলা তাদের একটি উপমা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন:
مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لَا يبصرون.
"তাদের উপমা, যেমন এক ব্যক্তি অগ্নি প্রজ্বলিত করল। এ যখন তার চারদিক আলোকিত করল, আল্লাহ্ তখন তাদের চোখের জ্যোতি অপসারিত করলেন এবং তাদের ঘোর অন্ধকারে ফেলে দিলেন। তারা কিছুই দেখতে পায় না।"
অর্থাৎ তারা না হক দেখতে পায়, আর না হক বলে। যখন তারা জ্যোতির সাহায্যে অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসে, তখন তাদের কুফর ও নিফাকের দ্বারা পরক্ষণেই তা তারা নিভিয়ে দেয়। তাই আল্লাহ তাদের কুফরের অন্ধকাররাশিতে নিক্ষেপ করেন, তখন তারা আর হিদায়াতের আলোকরশ্মি দেখতে পায় না; হঠের উপর তারা অবিচলভাবে টিকে থাকতে পারে না।
صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ .
"তারা বধির, মূক, অন্ধ সুতরাং তারা ফিরবে না।"
অর্থাৎ তারা হিদায়াতের পথে ফিরে আসবে না। তারা কল্যাণের ব্যাপারে মূক, অন্ধ, বধির কল্যাণের দিকে ফিরে আসবে না। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের বর্তমান অবস্থানে থাকবে, তারা নিষ্কৃতি পাবে না।
📄 মুনাফিকদের দ্বিতীয় উপমা
أَوْ كَصَيِّبٍ مِّنَ السَّمَاءِ فِيْهِ ظُلُمَتُ وَرَعْدٌ وَبَرَقٌ يَجْعَلُوْنَ أَصَابِعَهُمْ فِي أَذَانِهِمْ مِّنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ وَاللَّهُ مُحِيطٌ بِالْكَفِرِينَ
"কিংবা যেমন আকাশের বর্ষণমুখর ঘন মেঘ, যাতে রয়েছে ঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুতচমক। বজ্রধ্বনিতে মৃত্যুভয়ে তারা কর্ণকুহরে অঙ্গুলি প্রবেশ করায়। আল্লাহ্ কাফিরদের পরিবেষ্টন করে রয়েছেন।"
ইবন হিশাম বলেন : الصيب হচ্ছে মুষলধারে বৃষ্টি। এটা يصوب صاب ধাতু থেকে নির্গত। যেমন আরবদের السيد শব্দটি ساد - يسود ধাতু থেকে الميت শব্দটি مات - يموت ধাতু থেকে নির্গত। এর বহুবচন হচ্ছে صيائب
কবি আলকামা ইব্ন আব্দ আহাদ বনু রবী'আ ইবন মালিক ইব্ন যায়দ-এ মানাত ইব্ তামীমের কবিতার দু'টি পংক্তিতে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এভাবে: كأنهم صابت عليهم سحابة × صواعقها لطيرهن دبيب এবং فلا تعدلي بيني وبين مغمر x سفتك روايا المزن حيث تصوب
ইবন ইসহাক বলেন: তোমাদের বিরোধিতা এবং তোমাদের ভীতি তাদেরকে কুফরীর মধ্যে অন্ধকারে এবং মৃত্যুভয়ে আচ্ছন্ন রেখেছে। তাদের উপমা হচ্ছে ঐ ব্যক্তির মতো, যে ব্যক্তি মুষলধারে বর্ষিত বৃষ্টির অন্ধকারে রয়েছে, সে তার দু'টি হাত তার দু'টি কানের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় বজ্রধ্বনিতে মৃত্যুর ভয়ে। আল্লাহ্ বলেন: আল্লাহই তাদের উপর এ দুর্গতি চাপিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি কাফিরদের পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।
يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ
"বিদ্যুতচমক তাদের দৃষ্টিশক্তিকে কেড়ে নেয়ার উপক্রম করে।"
অর্থাৎ হক্ক বা সত্যের বিদ্যুতপ্রভা এতই উজ্জ্বল যে, তার ঔজ্জ্বল্যের প্রাবল্য তাদের দৃষ্টিশক্তিকে কেড়ে নেড়ে নেয়ার উপক্রম করে।
كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُمْ مَّشَوْا فِيْهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا
"যখনই বিদ্যুত-প্রভা তাদের সম্মুখে চমকে উঠে, তারা তখন তাতে পথ চলে, আর যখনই আবার অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়, তখন থমকে দাঁড়ায়।"
অর্থাৎ যখন সত্যকে তারা চিনতে পায়, তখন সত্য কথা বলতে থাকে। সত্য বলে সরল পথে চলে আসে। তারপর যখন আবার মুখ ঘুরিয়ে কুফরের দিকে চলে যায়, তখন বিভ্রান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
📄 আল্লাহ্র দান : ইবাদতের আহবান
তারপর বলেন: يَأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ হে মানুষ! তোমাদের সে প্রতিপালকের ইবাদত কর।” অর্থাৎ কাফির ও মুনাফিক উভয় শ্রেণীর প্রতিই এ সম্বোধন যে, তোমাদের প্রভুর একত্ববাদে বিশ্বাসী হও।
الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ - الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَاخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ "যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্যে বিছানা ও আকাশকে ছাদ করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন। তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফল-মূল উৎপাদন করেন। সুতরাং জেনেশুনে কাকেও আল্লাহ্র সাথে সমকক্ষ দাঁড় করবে না।"
ইব্ন হিশাম বলেন: انداد অর্থ امثال – সমকক্ষ, তুল্য বা সমপর্যায়ভুক্ত। একবচনে : ند
কবি লবীদ ইব্ন রবী'আ বলেন: احمد الله فلا ندله × بيديه الخير ماشاء فعل "আমি আল্লাহ্র স্তবস্তুতি করছি। তাঁর কোন সমকক্ষ নেই। তাঁরই হাতে সমস্ত কল্যাণ। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন।" তাঁর একটি কবিতায় এ পংক্তিটি আছে।
ইবন ইসহাক বলেন: অর্থাৎ আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাউকে তাঁর সাথে শরীক করো না। যারা লাভ বা ক্ষতি কোনটাই করতে পারে না। অথচ তোমরা জান যে, তোমাদের জীবিকা দেওয়ার মত তিনি ছাড়া আর কোন প্রতিপালক নেই। আর তোমরা জান যে, যে একত্ববাদের প্রতি রাসূল (সা) তোমাদের আহবান জানাচ্ছেন, তাই সত্য এতে কোন সন্দেহ নেই।
📄 কুরআনের চ্যালেঞ্জ
وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا "আমি আমার বান্দার প্রতি যা নাযিল করেছি, তাতে তোমাদের সন্দেহ থাকলে।"
অর্থাৎ তিনি যা তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন, এতে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে।
فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِّنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صُدِقِينَ
"তোমরা তার অনুরূপ কোন সূরা নিয়ে এস এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে আল্লাহ্ ব্যতীত তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে আহ্বান কর।" অর্থাৎ তোমাদের অবস্থানের সপক্ষে যারা সাহায্যকারীরূপে আছে, সাধ্যমত তাদেরকেও (সাহায্যার্থে) আহবান জানাও।
فَإِنْ لَّمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا
"যদি তোমরা তা করতে না পার, আর কখনো তা করতে পারবে না"- তাহলে সত্য তোমাদের সম্মুখে দিবালোকের মত সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكُفِرِينَ .
"তবে সে আগুনকে ভয় কর, মানুষ ও পাথর হবে যার ইন্ধন, কাফিরদের জন্যে যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।” (২: ২৪-২৫) অর্থাৎ ঐ লোকদের জন্যে, যারা তোমাদের মত কুফরীর উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।