📄 মুনাফিকদেরকে মসজিদ থেকে বহিষ্কার
ঐ মুনাফিকরা রীতিমত মসজিদে এসে মুসলমানদের কথাবার্তা শুনত এবং তাঁদের ধর্ম নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। তাদের কতিপয় লোক একদিন মসজিদে সমবেত হল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের নিজেদের মধ্যে সলা-পরামর্শ করতে দেখতে পেলেন। তারা একান্তই একে অপরের পাশ ঘেঁষে ফিস্ফিস্ করে আলাপ করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশে তাদের অত্যন্ত রূঢ়ভাবে মসজিদ থেকে বহিষ্কার করে দেয়া হল। আবু আইয়ূব, খালিদ ইব্ন যায়দ ইব্ন কুলায়ব উঠে গানম্ন ইব্ন মালিক ইব্ন নাজ্জার গোত্রের উমর ইব্ন কায়সের দিকে অগ্রসর হলেন। লোকটি জাহিলিয়াতের যুগে তাদের দেবমূর্তিসমূহের সেবায়েত ছিল। আবূ আইয়ূব তার ঠ্যাং ধরে হেঁচড়িয়ে হেঁচড়িয়ে মসজিদ থেকে বের করলেন। সে তখন বলছিল: তুমি কি আমাকে বনূ সা'লাবার উট-বকরী বাঁধবার জায়গা থেকে বের করে দেবে হে আবূ আইয়ূব? তারপর আবূ আইয়ূব অনুরূপভাবে বনূ নাজ্জারের নাফি' ইব্ন ওয়াদীআর দিকে অগ্রসর হলেন। তারপর তার চাদরের খুঁট ধরে জোরে ঝাঁকুনি দিলেন। তিনি তার গালে সজোরে চপেটাঘাত করলেন এবং তাকে মসজিদ থেকে বের করে দিলেন। আবু আইয়ূব তখন তার উদ্দেশ্যে বলছিলেন : তোর জন্যে দুঃখ হায়রে মুনাফিক খবীস। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মসজিদ থেকে তুই দূর হ'।
ইব্ন হিশাম বলেন: এর অর্থ হচ্ছে—যে পথে এসেছিস, সে পথ দিয়ে বেরিয়ে যা। কবি বলেন:
فولی و ادبر اد راجه * وقد باء بالظلم من كان ثم
উমারা ইব্ন হাযম অগ্রসর হন যায়দ ইব্ন আমরের দিকে। লোকটির ছিল লম্বা দাড়ি। তিনি তাকে তার এ দাড়ি ধরে টেনে-হেঁচড়িয়ে মসজিদ থেকে বের করে দেন। তারপর তার দু'হাত একত্রে ধরে বুকে দমাদম কয়েকটি থাপ্পড় এত জোরে লাগালেন যে, সে তার ধকল সইতে না পেরে পড়ে যায়। রাবী বলেন পড়তে পড়তে সে বলছিল: আমার উপর কেন এক হাত নিলে হে উমারা! তিনি জবাবে বললেন: আল্লাহ্ তোকে দূর করুক হে মুনাফিক! আর আল্লাহ্ পরকালে তোর জন্যে যে শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন তা হবে এর চাইতেও গুরুতর। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মসজিদের ধারে আর ঘেঁষবি না।
ইবন হিশাম বলেন: আরবী শব্দটির অর্থ হচ্ছে, হাতের পাঞ্জার ভেতরের অংশ দিয়ে আঘাত করা। কবি তামীম ইবন উবায়র কবিতায় আছে:
وللفواد وجيب تحت ابهره × لدم الوليد وراء الغيب بالحجر
"আবহুর নামক শিরার নীচে হৃৎপিণ্ড ধরফড় করছে এবং নীচ থেকে ওয়ালীদের পাথর পিটানোর মত দমদমাদম পিটাচ্ছে।"
ইন্ন হিশাম বলেন: কবিতায় উক্ত الغيب শব্দের অর্থ হচ্ছে নিম্নভূমি আর ابهر। শব্দটির অর্থ হচ্ছে হৃৎপিণ্ডের ধমনী।
ইবন ইসহাক বলেন: আর আবূ মুহাম্মদ—ইনি ছিলেন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নাজ্জার গোত্রীয় লোক। তাঁর পূর্ণ নাম আবু মুহাম্মদ মাসউদ ইব্ন আওস ইব্ন যায়দ ইব্ন আসরাম ইন্ন যায়দ ইবন সা'লাবা ইব্ন গানাম ইবন মালিক ইব্ নাজ্জার। তিনি অগ্রসর হলেন সমবেত মুনাফিকদের অন্যতম কায়স ইব্ন আমর ইবন সাহলের দিকে। কায়স ছিল মুনাফিকদের মধ্যে একমাত্র যুবক—অন্য কোন যুবক মুনাফিকের নাম জানা যায় না। আবু মুহাম্মদ তাকে ঘাড় ধরে মসজিদ থেকে বের করে দিলেন।
আবু সাঈদ খুদরীর সম্প্রদায় বালখুদরার এক ব্যক্তি উঠে অগ্রসর হলেন—তাকে আবদুল্লাহ্ ইবন হারিস নামে অভিহিত করা হত। যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) মসজিদ থেকে মুনাফিকদের বের করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন, তখন তিনি হারিস ইব্ন Amr নামক এক ব্যক্তির দিকে অগ্রসর হলেন। সে ছিল জুলফিওয়ালা। তিনি তার জুলফী ধরে তাকে সজোরে হেঁচড়িয়ে ভূমির উপর দিয়ে টেনে নেন এবং এভাবে মসজিদ থেকে বের করে দেন।
রাবী বলেন: মুনাফিকটি তখন বলছিল: হে হারিসের পুত্র! তুমি আমার সাথে খুবই কঠোর আচরণ করলে। জবাবে তিনি তাকে বললেন: নিঃসন্দেহে তুই এরই যোগ্য। হে আল্লাহ্র শত্রু, তোর ব্যাপারে আল্লাহ্ ওহী নাযিল করেছেন। আর কোনদিন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মসজিদের ধারে-কাছে আসবি না। কেননা তুই যে অপবিত্র তাতে কোন সন্দেহ নেই।
আর আওফ ইব্ন আমর ইব্ন আওফ গোত্রের এক ব্যক্তি তার ভাই যুয়াই ইব্ন হারিসের দিকে অগ্রসর হলেন এবং বল প্রয়োগে তাকে মসজিদ থেকে বের করে দিলেন এবং তার সাথে সম্পর্কহীনতার কথা ঘোষণা করেন। সে ব্যক্তি বলল: তোর উপর শয়তান ও শয়তানী কাজের প্রাবল্য রয়েছে।
সেদিন এ মুনাফিকরাই মসজিদে উপস্থিত হয়েছিল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের বহিষ্কারের নির্দেশ প্রদান করেছিলেন।
টিকাঃ
১. অনেকটা জামার কলার ধরে ঝাঁকুনি দেয়ার মত-যা সাধারণত রাগত অবস্থায় লোকে করে থাকে।