📄 বনু নযীরকে প্ররোচনা দান
আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় এবং তার উক্ত মুনাফিক দলই বনূ নযীরদের যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) অবরোধ করে রেখেছিলেন, তখন তাদের প্ররোচনা দিয়ে বলেছিল, তোমরা অবিচল থাকবে, আল্লাহর কসম, যদি তোমাদেরকে একান্তই বহিষ্কার করা হয়, তবে আমরাও নিশ্চয়ই তোমাদের সাথে বেরিয়ে পড়ব আর তোমাদের স্বার্থের বিরোধী কোন ব্যাপারে আমরা কস্মিনকালেও কারো আনুগত্য করব না। তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসব। তখন তাদের ব্যাপারেই আল্লাহ্ নাযিল করেন:
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ نَافَقُوا يَقُولُونَ لِإِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الكتب لَئِنْ أُخْرِجْتُمْ لَنَخْرُجَنَّ مَعَكُمْ وَلَا تُطِيعُ فِيكُمْ أَحَدًا أَبَدًا ، وَإِنْ قُوتِلْتُمْ لَنَنْصُرَنَّكُمْ وَاللَّهُ يَشْهَدُ أَنَّهُمْ لَكَذِبُونَ -
"আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেননি? তারা কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে তাদের সেইসব সংগীকে বলে, তোমরা যদি বহিষ্কৃত হও, আমরা অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে দেশত্যাগী হব এবং আমরা তোমাদের ব্যাপারে কখনো কারো কথা মানব না এবং যদি তোমরা আক্রান্ত হও, আমরা অবশ্যই তোমাদের সাহায্য করব। কিন্তু আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।" (৫৯ : ১১)
এ প্রসঙ্গের শেষ অবধি তাদেরই ব্যাপারে নাযিল হয়-যার শেষ কথা হল:
كَمَثَلِ الشَّيْطَنَ إِذْ قَالَ لِلْإِنْسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِئُ مِّنْكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبِّ الْعَلَمِينَ -
"তাদের দৃষ্টান্ত শয়তান-যে মানুষকে বলে, কুফরী কর; তারপর যখন সে কুফরী করে, শয়তান তখন বলে, তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।" (৫৯: ১৬)
📄 ইয়াহূদী পণ্ডিতদের মধ্যকার মুনাফিকবৃন্দ
ইবন ইসহাক বলেন: ইয়াহুদী পণ্ডিতদের মধ্যে যারা ইসলামের কোলে আশ্রয় নেয় এবং অন্যান্য মুসলমানদের সাথে বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে কিন্তু আসলে তারা মুনাফিক বা কপট ছিল, তারা হচ্ছে:
📄 কায়নুকা গোত্রের
সা'দ ইব্ন হুনায়ফ, যায়দ ইব্ন লাসীত, নু'মান ইব্ন আওফা ইবন আমর, উসমান ইব্ন আওফা।
এদের মধ্যে যায়দ ইবন লাসীত হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে বনূ কায়নুকার বাজারে উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উটনী হারিয়ে যায়, তখন ঐ ব্যক্তিই বলেছিল:
মুহাম্মদের ধারণা, তার কাছে আসমানী খবর পর্যন্ত আসে, অথচ তার নিজের উটনীটি কোথায় হারিয়ে গেল সে খবরও তার নেই।
আল্লাহ্ শত্রু তাঁর বাহন সম্পর্কে যা বলেছিল, সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কাছে সংবাদ এসে গেল। তখন তিনি বললেন:
আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাঁর রাসূল (সা)-কে তাঁর উটনী সম্পর্কে সন্ধান দিয়ে দিয়েছেন। জনৈক ব্যক্তি মন্তব্য করেছে-
মুহাম্মদের ধারণা, তার কাছে আসমানী খবর পর্যন্ত পৌঁছে, অথচ তার নিজের উটনীটি কোথায় হারিয়ে গেল সে খবরও তার নেই।
واني والله ما اعلم الا ما علمنى الله وقد دلنى الله عليها فهى في هذا اللشعب قد حبستها شجرة بزمامها -
"আল্লাহর কসম, আল্লাহ্ যা আমাকে জ্ঞাত করেন তাছাড়া আর কিছুই আমি জানি না। আর উটনীটির ব্যাপারে আল্লাহ্ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ঐ গিরিপথে তা রয়েছে, একটি বৃক্ষের সাথে তার লাগাম আটকে যাওয়ায় সে আটকা পড়েছে।"
তারপর কয়েকজন মুসলমান সেখানে যান এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) যেখানে যেমনটি বলেছিলেন, সেখানে সে অবস্থায়ই গিয়ে তা পান। এই ইয়াহুদী পণ্ডিত মুনাফিকদের মধ্যে আরো রয়েছে:
📄 রাফি' ইবন হুরায়মালা
এ হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যার সম্পর্কে আমার কাছে এ সংবাদ পৌঁছেছে যে, তার মৃত্যু হলে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন:
قد مات اليوم عظيم من عظماء المنافقين
"আজকের দিনে মুনাফিকদের অন্যতম একজন সরদারের মৃত্যু হয়েছে।"