📄 জাফর গোত্রের
এ বংশের প্রথম পুরুষ জাফরের আসল নাম হচ্ছে কা'ব ইব্ন হারিস ইব্ন খাযরাজ। হাতিব ইবন উমাইয়া ইব্ন রাফি'-এ লোকটি ছিল মোটা দেহের অধিকারী এবং বয়োবৃদ্ধ। সে জাহিলিয়াতের মধ্যেই তার জীবন কাটিয়ে দেয়। তার এক পুত্র ছিলেন খাঁটি মুসলমান, যাঁকে ইয়াযীদ ইব্ন হাতির নামে অভিহিত করা হত। উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং শুশ্রুষার জন্য জাফর গোত্রের বাড়িতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইবন ইসহাক বলেন: 'আসিম ইবন উমর ইব্ন কাতাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ঐ গোত্রের মুসলমান নর-নারীরা যখন তাঁর মৃত্যুলগ্নে তাঁর শয্যাপার্শ্বে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সম্বোধন করে বলতে লাগলেন: হে ইব্ন হাতিব! জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর! তখন তার নিফাক প্রশমিত হল।
তখন তার পিতা হাতিব বলল: হ্যাঁ, জান্নাত বটে, তবে আল্লাহ্র কসম, তা হল হারমাল নামক আগাছার জান্নাত। তোমরা তাকে ধোঁকায় ফেলে প্রাণেই মেরে দিলে!
ইবন ইসহাকের বর্ণনামতে এ মুনাফিকদের মধ্যে আরো রয়েছে, বুশায়র ইবন উবায়রাক, যে আবূ তু'মা নামে মশহুর ছিল। এ ব্যক্তিটিই দু'টি বর্ম চুরি করেছিল। এর ব্যাপারেই আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنْفُسَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَانًا أَثِيمًا .
"যারা নিজদের প্রতারিত করে, তাদের পক্ষে বাদ-বিসম্বাদ করবেন না, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ বিশ্বাস ভঙ্গকারী পাপীকে পসন্দ করেন না।" (৪: ১০৭)।
কামান-এ ব্যক্তি তাদের মিত্র ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আসিম ইবন উমর ইব্ন কাতাদা বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলতেন: সে নিশ্চয়ই জাহান্নামী। যেদিন উহুদ যুদ্ধ হল, তখন এ ব্যক্তি প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হয়। অনেক মুশরিক ব্যক্তিকে সে হত্যাও করে। তারপর যখমসমূহ তাকে কাবু করে ফেলে। তখন তাকে বনূ জাফরের পল্লীতে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মুসলমানদের অনেকে তাকে লক্ষ্য করে বলেন: সুসংবাদ গ্রহণ কর হে কামান! আজ তো তুমি বীরত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে! আল্লাহর পথে তুমি যে কষ্ট সহ্য করলে, তা তো দেখতেই পাচ্ছ!
তখন জবাবে সে বলল, কিসের সুসংবাদ গ্রহণ করব? আল্লাহ্র কসম, আমি কেবল আমার সম্প্রদায়ের মান রক্ষার্থে যুদ্ধ করেছি। তারপর তার যখম যখন গুরুতর হয়ে দাঁড়াল এবং প্রবল পীড়া দিতে লাগল, তখন সে তার তৃণ থেকে একটি তীর নিয়ে তার হাতের রগগুলো (তার ধারাল অংশের দ্বারা) কেটে দিল এবং এভাবে আত্মহত্যা করল।
ইবন ইসহাক বলেন: বনূ আবদুল আশহালে জানামতে কোন মুনাফিক পুরুষ বা নারী ছিল না। তবে বনূ কা'বের অন্তর্ভুক্ত সা'দ ইব্ন যায়দের গোষ্ঠীর যাহ্হাক ইবন সাবিতকে মুনাফিকী এবং ইয়াহূদী প্রীতির অপবাদ দেয়া হত।
হাসান ইবন সাবিত বলেন:
مَنْ مُبْلِغُ الصَّحَاكِ أَنْ عُرْوَقَةٌ × أَعْبَتُ عَلَى الْإِسْلَامِ أَنْ تَتَمَجَّدَا اتْحِبُّ يُهْدَانَ الْحِجَازِ وَدِيْنَهُمْ * كَبِدَ الْحِمَارِ وَلَا تُحِبُّ مُحَمَّداً ددِيْنًا لِعَمْرِي لَا يُوَافِقُ دِيْنَنَا × مَا اسْتَنَّ آلْ فِي الْقُضَاءِ وَحَوَّدًا
"যাহহাককে এ পয়গামটি কে পৌঁছাবে যে, ইসলামের বিরোধিতার মাধ্যমে সম্মান প্রাপ্তির চেষ্টায় তার শিরা-উপশিরাগুলো ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে পড়েছে। তুমি কি হিজাযের ইয়াহুদীদেরকে আর তাদের ধর্মকে ভালবাস? যাদের হৃদয় হচ্ছে গাধার হৃদয়? আর তুমি বুঝি মুহাম্মদকে ভালবাস না? আর তাদের ধর্ম এমনি এক ধর্ম, আমার জীবনের ও আয়ুর শপথ! তা কোনদিনই আমাদের দীনের সাথে মিলবে না-যতদিন মরীচিকা বায়ুমণ্ডলে দ্রুতগতিতে সঞ্চারিত হতে থাকবে।"
জুলাস ইব্ন সুওয়ায়দ ইব্ন সাবিত-আমার কাছে যে খবর পৌঁছেছে, সেমতে তাঁর তওবার পূর্বে এবং মু'আত্তাব ইব্ন কুশায়র, রাফি' ইব্ন যায়দ ও বিশ্ব মুসলমান বলে বিবেচিত হত। একবার এক বিরোধ দেখা দিলে মুসলমানদের মধ্যকার কয়েক ব্যক্তি তার মীমাংসার উদ্দেশ্যে ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দরবারে নিয়ে যেতে চান, কিন্তু তারা তাঁর পরিবর্তে জাহিলিয়াত যুগের মত জ্যোতিষীদের কাছে তা নিয়ে যাবার জন্য আহবান জানায়। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করলেন:
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعَمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَنُ أَنْ يُضِلَّهُمْ ضَيْلاً بعيداً .
"আপনি কি তাদেরকে দেখেননি যারা দাবি করে যে, আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে তারা বিশ্বাস করে, অথচ তাগূতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, যদিও তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং শয়তান তাদের ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করতে চায়?" (৪: ৬০)
📄 খাযরাজ বংশের বনূ নাজ্জার থেকে
এ গোত্রের মুনাফিকদের মধ্যে রয়েছে রাফি' ইব্ন ওদী'আ, যায়দ ইব্ন Amr, Amr ইবন কায়স, কায়স ইব্ন Amr ইব্ন সাহল।
📄 জুশাম ইব্ন খাযরাজ গোত্রের
এই গোত্রের বনূ সালামা শাখাগোত্র থেকে ছিল জাদ্দ ইব্ন কায়স-এ সেই ব্যক্তি, যে বলত "হে মুহাম্মদ! আমাকে অনুমতি দিন এবং ফিতনা-ফাসাদের মধ্যে ফেলবেন না।" এই প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
وَمِنْهُمْ مِّنْ يَقُولُ أَنْذَنْ لَي وَلَا تَفْتَنَّى أَلَا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا
"আর এদের মধ্যে এমন লোক আছে, যে বলে, আমাকে অব্যাহতি দিন এবং আমাকে ফিত্নায় ফেলবেন না।' সাবধান! তারাই ফিত্নাতে পড়ে আছে।" (৯:৪৯)।
📄 আওফ ইব্ন খাযরাজ গোত্রের
এ গোত্রের মুনাফিকদের মধ্যে ছিল-আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় ইব্ন সালূল-এ ছিল মুনাফিককুলের শিরোমণি। মুনাফিকরা তাকে কেন্দ্র করেই সংঘবদ্ধ ও সংগঠিত হত। এ ব্যক্তিই বনূ মুস্তালিকের অভিযানের সময় বলেছিল:
لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ
"তারা বলে, আমরা মদীনায় প্রত্যাবর্তন করলে সেখান থেকে প্রবল দুর্বলকে বহিষ্কৃত করবে।" (৬৩: ৮)-এর অব্যবহিত পরই পূর্ণ সূরায়ে মুনাফিকূন নাযিল হয়-তার এবং ওদী'আর ব্যাপারে-যে ছিল আওফ গোত্রেরই একজন।
মালিক ইব্ন আবূ কাওকল, সুওয়ায়দ, দা'ঈস। এরা আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় ইবন সালূলের লোক ছিল।