📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ সা'লাবা ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আওফের

📄 বনূ সা'লাবা ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আওফের


আবূ হাবীবা ইব্‌ন আযআর-এ ব্যক্তি মসজিদে যিরার (অনিষ্টকর মসজিদ) প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ছিল।
সা'লাবা ইব্‌ন হাতিব ও মুতাত্তিব ইব্‌ন কুশায়র। এ দু'জন হচ্ছে সে ব্যক্তি যারা আল্লাহর সাথে এ মর্মে অঙ্গীকার করেছিল যে, যদি তিনি আমাদেরকে ধন-সম্পদের অধিকারী করেন, তা হলে অবশ্যই আমরা সংকার্যে ব্যয় করব এবং অবশ্যই সংকর্মশীল হব। আর মু'আত্তাব হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে উহুদ যুদ্ধের দিন মন্তব্য করেছিল: আমার কোন কথা যদি শোনা হত, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ তা'আলা আয়াত নাযিল করেন:
وَطَائِفَةٌ قَدْ أَهَمَّتْهُمْ أَنْفُسُهُمْ يَظُنُّونَ بِاللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ يَقُولُونَ هَلْ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ مِنْ شَيْءٍ قُلْ إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ يُخْفُونَ فِي أَنْفُسِهِمْ مَا لَا يُبْدُونَ لَكَ يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَا قُتِلْنَا هُهُنَا -
"এবং একদল জাহিলী যুগের অজ্ঞের ন্যায় আল্লাহ্ সম্পর্কে অবাস্তব ধারণা করে নিজেরাই নিজদেরকে উদ্বিগ্ন করেছিল এ বলে যে, এ ব‍্যাপারে আমাদের কি কোন অধিকার আছে? বলুন, সমস্ত বিষয় আল্লাহ্রই ইখতিয়ারে। যা তারা আপনার নিকট প্রকাশ করে না, তারা তাদের অন্তরে তা গোপন রাখে, আর বলে, এ ব্যাপারে আমাদের কোন অধিকার থাকলে আমরা এ স্থানে নিহত হতাম না।" (৩: ১৫৪)।
ঐ ব্যক্তিটিই আহ্যাব যুদ্ধের দিন মন্তব্য করেছিল:
كان محمد يعدنا ان نأ كل كنوز كسري وقيصر واحدنا لا يأمن أن يذهب الى الغائط
"মুহাম্মদ তো আমাদেরকে আশ্বাসবাণী শুনাতেন যে, আমরা পারস্য সম্রাট ও রোম সম্রাটের ধন-ভাণ্ডার গ্রাস করব, অথচ আমাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, আমাদের কেউ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যেতেও নিরাপদবোধ করছে না!"
আল্লাহ্ তা'আলা এ প্রসংগে নাযিল করলেন:
وَإِذْ يَقُولُ الْمُنْفِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَّرَضٌ مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ الأَ غُرُورًا -
"মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ছিল ব্যাধি তারা বলছিল, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা প্রতারণা ব্যতীত কিছুই নয়।" (৩৩: ১২)।
এবং হারিস ইব্‌ন হাতিব।
ইবন হিশাম বলেন: মুয়াত্তাব ইব্‌ন কুশায়র, সালাবা ও হারিস-এ দু'জনই হাতিবের পুত্র।
এঁরা হলেন উমাইয়া ইব্‌ন যায়দ গোত্রের লোক। তাঁরা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুসলমান। এঁরা মুনাফিক নন। ইবন ইসহাক বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের মধ্যে বনু উমাইয়া ইব্‌ন যায়দের লোকরূপে সা'লাবা ও হারিসের নাম উল্লেখ করেছেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আব্বাদ ইব্‌ন হুনায়ফ গোত্রের- এ ব্যক্তি ছিল সাহল ইব্‌ন হুনায়ফ গোত্রের এবং বাহ্যাজ-এরা মসজিদে যিরার নির্মাণকারীদের মধ্যে শামিল ছিল।
আমর ইব্‌ন খিযাম, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন নাবতাল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনু উমাইয়া ইব্‌ন যায়দ ইবন মালিকের

📄 বনু উমাইয়া ইব্‌ন যায়দ ইবন মালিকের


জারিয়া ইব্‌ন আমির ইব্‌ন আত্তাব এবং তার পুত্রদ্বয় যায়দ ইব্‌ন জারিয়া, মুজাম্মা' ইব্‌ন জারিয়া। এরাও মসজিদে যিরারের নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করেছিল।
মুজাম্মা' ছিলেন বয়সে তরুণ। কুরআন শরীফের অধিকাংশই তাঁর মুখস্থ ছিল। সেখানে অর্থাৎ মসজিদে যিরারে তাদের নামাযের ইমামতি করতেন। তারপর যখন ঐ তথাকথিত মসজিদটি বিধ্বস্ত করা হল এবং বনূ আমর ইব্‌ন আওফের কতিপয় লোক-যারা ঐ মসজিদে সালাত আদায় করত, হযরত উমর ইব্‌ন্ন খাত্তাবের খিলাফতকালে মুজাম্মা'র ইমামতি প্রসঙ্গে আলাপ তুললেন, তখন হযরত উমর বললেন : না, তা হতে পারে না, এ ব্যক্তিটি মসজিদে যিরারে মুনাফিকদের ইমাম ছিল। তখন মুজাম্মা' হযরত উমরকে সম্বোধন করে বললেন: আমীরুল মু'মিনীন! সেই আল্লাহ্র কসম, যিনি ছাড়া আর কোন মা'বুদ নেই, আমি তাদের ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। আমি ছিলাম একজন তরুণ ক্বারী। আমি কুরআন তিলাওয়াতে দক্ষ ছিলাম আর তাদের কেউ ক্বারী বা হাফিয ছিল না। তখন তারা (অনন্যোপায় অবস্থায়) আমাকেই ইমামতির জন্য এগিয়ে দেয়। তারা যে ভাল ভাল কথা বলত, সেগুলো ছাড়া তাদের অন্য কোন ব্যাপারে আমার সমর্থন বা মত ছিল না। লোকের ধারণা, উমর (রা) (তাঁর ওযর মেনে নিয়ে) তাঁকে ছেড়ে দেন এবং তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের ইমামতি করেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উবায়দ ইব্‌ন মালিক গোত্রের

📄 উবায়দ ইব্‌ন মালিক গোত্রের


ওদীআ ইব্‌ন সাবিত-মসজিদে যিরার প্রতিষ্ঠাকারীদের অন্যতম। এ ব্যক্তিই বলেছিল: انما كنا نخوض ونلعب "আমরা তো কেবল আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম।" তখন আল্লাহ তা'আলা এ প্রেক্ষিতেই নাযিল করলেন: وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِؤُنَ - "এবং আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। বলুন, তোমরা আল্লাহ, তাঁর নিদর্শন ও তাঁর রাসূলকে বিদ্রুপ করছিলে?" (৯: ৬৫)।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নাবীত গোত্রের

📄 নাবীত গোত্রের


খিযাম ইব্‌ন খালিদ-এর ঘরেই মসজিদে যিরার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাশার ও রাফি'-এ দু'জন হচ্ছে যায়দের দুই পুত্র।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: নাবীত হচ্ছে Amr ইবন মালিক ইব্‌ন আওস। ইবন ইসহাক বলেন: এ. গোত্রের শাখাগোত্র বনূ হারিসা ইবন হারিস ইব্‌ন্ন খাযরাজ ইবন Amr ইবন মালিক ইন্ন আওস থেকে মিরবা ইন্ন কায়যী-এ সেই ব্যক্তি উহুদ যাত্রাকালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) যার বাগানের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করার অনুমতি চাইলে সে বলেছিল: "হে মুহাম্মদ! আমি তোমাকে আমার বাগান দিয়ে অতিক্রমের অনুমতি দিচ্ছি না; যদি তুমি নবী হয়ে থাক।" তারপর হাতে একমুঠো মাটি নিয়ে বলেছিল: "আল্লাহ্র কসম, যদি এ মাটি অন্যের উপর পড়বে না বলে আমি নিশ্চিত হতে পারতাম, তা হলে তা অবশ্যই তোমার উপর নিক্ষেপ করতাম।" তার এ ঔদ্ধত্যপূর্ণ বাক্য শুনে লোকজন তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন:
دعوه فهذا الاعمى اعميا القلب واعمى البصيرة
“একে ছেড়ে দাও! এতো অন্ধ—অন্তরের অন্ধ, চোখের অন্ধ।”
আবদুল আশহাল গোত্রের সা'দ ইব্‌ন যায়দ তাকে ধনুক দিয়ে পিটিয়ে যখম করে দেন।
আওস ইব্‌ন কায়যী-পূর্বোক্ত মিরবা' ইব্‌ন কায়যীর ভাই। এ সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তি খন্দকের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে লক্ষ্য করে বলেছিল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের বাড়িঘর অরক্ষিত। আমদেরকে অনুমতি দিন, যাতে আমরা নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে পারি।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেন: يقولون أن بيوتنا عورة وما هي بعورة ان يريدون الافرارا - "তারা বলছিল, 'আমাদের বাড়িঘর অরক্ষিত', অথচ সেগুলো অরক্ষিত ছিল না। আসলে পলায়ন করাই ছিল এদের উদ্দেশ্য।" (৩৩: ১৩)
ইবন হিশাম বলেন: এখানে عورة (অরক্ষিত) শব্দটি শত্রু কবলিত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তার বহুবচন হচ্ছে: عورات
কবি নাবেগা যিবইয়ানী বলেন:
متى تَلْقَهُمْ لَا تَلْقُ الْبَيْتِ عَوْرَةٌ وَلا الجَارَ مَحْرُومًا وَلَا الْأَمْرَ ضَائِعًا
"লড়বে যখন তুমি তাদের সাথে ঘর যেন না অরক্ষিত থাকে। পড়শী যেন না রয় খালি হাতে ধ্বংস যেন নাহি নামে তাতে।"
এ পংক্তি দুটি তার কবিতামালার মধ্যে রয়েছে। আর عورة শব্দটি সহধর্মিণী অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আর এ শব্দটি سورۃ বা গুপ্তাংগ অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00