📄 বনু যবী'আর
বনূ যবী'আ ইব্ন্ন যায়দ ইব্ন মালিক ইব্ন আওফ ইব্ন আমর ইব্ন আওফ থেকে বিজাদ ইবন উসমান ইবন আমির।
বনূ ল্যান ইব্ন Amr ইব্ন আওফ থেকে নাবতাল ইব্ন হারিস—এ হচ্ছে সে ব্যক্তি, আমার কাছে যে রিওয়ায়াত পৌঁছেছে, সেমতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) যার সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন: "যার শয়তানকে দেখার সাধ হয় সে যেন নাবতাল ইব্ন্ন হারিসকে দেখে নেয়।" সে ছিল মোটাসোটা এবং লম্বা থেতলানো ঠোঁটের অধিকারী এলোকেশী। তার চোখ ছিল লাল বর্ণের এবং গাল ছিল কাল-লাল বর্ণ মিশ্রিত। সে প্রায়ই রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আসত, তাঁর সাথে কথোপকথন করত। তাঁর কথাবার্তা শুনত এবং তা মুনাফিকদের কাছে পৌঁছাত। সে ছিল ঐ ব্যক্তি, যে বলেছিল: মুহাম্মদ তো কর্ণপাতকারী, যে কেউ তাকে কিছু বলুক না কেন, তিনি তা বিশ্বাস করেন। আল্লাহ্ তা'আলা তারই সম্পর্কে আয়াত নাযিল করেন:
وَمِنْهُمُ الَّذِينَ يُؤْذُونَ النَّبِيَّ وَيَقُولُونَ هُوَ أُذُنٌ قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةٌ للَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ رَسُولَ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ -
"এবং তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যারা নবীকে ক্লেশ দেয় এবং বলে, "সেতো কর্ণপাতকারী।” বলুন তার কান তোমাদের জন্য যা মঙ্গল তাই শোনে।" সে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং মু'মিনদেরকে বিশ্বাস করে; তোমাদের মধ্যে যারা মু'মিন সে তাদের জন্য রহমত এবং যারা আল্লাহ্র রাসূলকে ক্লেশ দেয়, তাদের জন্য আছে মর্মন্তুদ শাস্তি।" (৯:৬১)।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে বালআজলান গোত্রের কোন এক ব্যক্তি বলেছেন, তার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, একদা জিবরাঈল (আ) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট এসে বলেন, আপনার মজলিসে এক ব্যক্তি বসে থাকে, যার ওষ্ঠদ্বয় দীর্ঘ ও থেল্লানো, এলোকেশী, চক্ষু দু'টি লাল বর্ণের। যেন দু'টি পিতলের ডেগচি। তার হৃদয় গাধার হৃদয়ের চাইতেও অধিকতর পাষণ্ড। আপনার কথাবার্তা সে মুনাফিকদের নিকট পৌছিয়ে দেয়। আপনি তার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবেন। লোকের বর্ণনা অনুসারে এগুলো ছিল নাবতাল ইব্ন হারিসেরই বিশেষণ।
📄 বনূ সা'লাবা ইব্ন আমর ইব্ন আওফের
আবূ হাবীবা ইব্ন আযআর-এ ব্যক্তি মসজিদে যিরার (অনিষ্টকর মসজিদ) প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ছিল।
সা'লাবা ইব্ন হাতিব ও মুতাত্তিব ইব্ন কুশায়র। এ দু'জন হচ্ছে সে ব্যক্তি যারা আল্লাহর সাথে এ মর্মে অঙ্গীকার করেছিল যে, যদি তিনি আমাদেরকে ধন-সম্পদের অধিকারী করেন, তা হলে অবশ্যই আমরা সংকার্যে ব্যয় করব এবং অবশ্যই সংকর্মশীল হব। আর মু'আত্তাব হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে উহুদ যুদ্ধের দিন মন্তব্য করেছিল: আমার কোন কথা যদি শোনা হত, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ তা'আলা আয়াত নাযিল করেন:
وَطَائِفَةٌ قَدْ أَهَمَّتْهُمْ أَنْفُسُهُمْ يَظُنُّونَ بِاللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ يَقُولُونَ هَلْ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ مِنْ شَيْءٍ قُلْ إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ يُخْفُونَ فِي أَنْفُسِهِمْ مَا لَا يُبْدُونَ لَكَ يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَا قُتِلْنَا هُهُنَا -
"এবং একদল জাহিলী যুগের অজ্ঞের ন্যায় আল্লাহ্ সম্পর্কে অবাস্তব ধারণা করে নিজেরাই নিজদেরকে উদ্বিগ্ন করেছিল এ বলে যে, এ ব্যাপারে আমাদের কি কোন অধিকার আছে? বলুন, সমস্ত বিষয় আল্লাহ্রই ইখতিয়ারে। যা তারা আপনার নিকট প্রকাশ করে না, তারা তাদের অন্তরে তা গোপন রাখে, আর বলে, এ ব্যাপারে আমাদের কোন অধিকার থাকলে আমরা এ স্থানে নিহত হতাম না।" (৩: ১৫৪)।
ঐ ব্যক্তিটিই আহ্যাব যুদ্ধের দিন মন্তব্য করেছিল:
كان محمد يعدنا ان نأ كل كنوز كسري وقيصر واحدنا لا يأمن أن يذهب الى الغائط
"মুহাম্মদ তো আমাদেরকে আশ্বাসবাণী শুনাতেন যে, আমরা পারস্য সম্রাট ও রোম সম্রাটের ধন-ভাণ্ডার গ্রাস করব, অথচ আমাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, আমাদের কেউ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যেতেও নিরাপদবোধ করছে না!"
আল্লাহ্ তা'আলা এ প্রসংগে নাযিল করলেন:
وَإِذْ يَقُولُ الْمُنْفِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَّرَضٌ مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ الأَ غُرُورًا -
"মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ছিল ব্যাধি তারা বলছিল, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা প্রতারণা ব্যতীত কিছুই নয়।" (৩৩: ১২)।
এবং হারিস ইব্ন হাতিব।
ইবন হিশাম বলেন: মুয়াত্তাব ইব্ন কুশায়র, সালাবা ও হারিস-এ দু'জনই হাতিবের পুত্র।
এঁরা হলেন উমাইয়া ইব্ন যায়দ গোত্রের লোক। তাঁরা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুসলমান। এঁরা মুনাফিক নন। ইবন ইসহাক বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের মধ্যে বনু উমাইয়া ইব্ন যায়দের লোকরূপে সা'লাবা ও হারিসের নাম উল্লেখ করেছেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আব্বাদ ইব্ন হুনায়ফ গোত্রের- এ ব্যক্তি ছিল সাহল ইব্ন হুনায়ফ গোত্রের এবং বাহ্যাজ-এরা মসজিদে যিরার নির্মাণকারীদের মধ্যে শামিল ছিল।
আমর ইব্ন খিযাম, আবদুল্লাহ্ ইব্ন নাবতাল।
📄 বনু উমাইয়া ইব্ন যায়দ ইবন মালিকের
জারিয়া ইব্ন আমির ইব্ন আত্তাব এবং তার পুত্রদ্বয় যায়দ ইব্ন জারিয়া, মুজাম্মা' ইব্ন জারিয়া। এরাও মসজিদে যিরারের নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করেছিল।
মুজাম্মা' ছিলেন বয়সে তরুণ। কুরআন শরীফের অধিকাংশই তাঁর মুখস্থ ছিল। সেখানে অর্থাৎ মসজিদে যিরারে তাদের নামাযের ইমামতি করতেন। তারপর যখন ঐ তথাকথিত মসজিদটি বিধ্বস্ত করা হল এবং বনূ আমর ইব্ন আওফের কতিপয় লোক-যারা ঐ মসজিদে সালাত আদায় করত, হযরত উমর ইব্ন্ন খাত্তাবের খিলাফতকালে মুজাম্মা'র ইমামতি প্রসঙ্গে আলাপ তুললেন, তখন হযরত উমর বললেন : না, তা হতে পারে না, এ ব্যক্তিটি মসজিদে যিরারে মুনাফিকদের ইমাম ছিল। তখন মুজাম্মা' হযরত উমরকে সম্বোধন করে বললেন: আমীরুল মু'মিনীন! সেই আল্লাহ্র কসম, যিনি ছাড়া আর কোন মা'বুদ নেই, আমি তাদের ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। আমি ছিলাম একজন তরুণ ক্বারী। আমি কুরআন তিলাওয়াতে দক্ষ ছিলাম আর তাদের কেউ ক্বারী বা হাফিয ছিল না। তখন তারা (অনন্যোপায় অবস্থায়) আমাকেই ইমামতির জন্য এগিয়ে দেয়। তারা যে ভাল ভাল কথা বলত, সেগুলো ছাড়া তাদের অন্য কোন ব্যাপারে আমার সমর্থন বা মত ছিল না। লোকের ধারণা, উমর (রা) (তাঁর ওযর মেনে নিয়ে) তাঁকে ছেড়ে দেন এবং তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের ইমামতি করেন।
📄 উবায়দ ইব্ন মালিক গোত্রের
ওদীআ ইব্ন সাবিত-মসজিদে যিরার প্রতিষ্ঠাকারীদের অন্যতম। এ ব্যক্তিই বলেছিল: انما كنا نخوض ونلعب "আমরা তো কেবল আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম।" তখন আল্লাহ তা'আলা এ প্রেক্ষিতেই নাযিল করলেন: وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِؤُنَ - "এবং আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। বলুন, তোমরা আল্লাহ, তাঁর নিদর্শন ও তাঁর রাসূলকে বিদ্রুপ করছিলে?" (৯: ৬৫)।