📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মদীনার মুনাফিক সমাজ

📄 মদীনার মুনাফিক সমাজ


ইবন ইসহাক বলেন: ইয়াহুদীদের অন্তর্ভুক্ত বলে কথিত আওস ও খাযরাজের নাম আমাদের নিকট পৌঁছেছে, আল্লাহই তাদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। তারা হচ্ছে: আওসের বনু আমর ইব্‌ন আওফ ইন্ন মালিক ইব্‌ন আওসের শাখাগোত্র বনু লুযান ইন্ন আমর ইব্‌ন আওফ থেকে যুওয়াই ইন্ন হারিস। বনূ হাবীব ইব্‌ন Amr ইব্‌ন আওফ থেকে জুলাস ইব্‌ন সুওয়ায়দ ইব্‌ন সামিত এবং তার ভাই হারিস ইন্ন সুওয়ায়দ।
আর জুলাস হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে. তাবুক যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে যুদ্ধে যোগ দেয়নি। সে বলেছিল, যদি এ ব্যক্তি [মানে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে আমরা 'যে গাধার চাইতেও অধম তাতে কোন সন্দেহ নেই। তখন তাদেরই একজন উমায়র ইবন সা'দ একথা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে পৌঁছান। জুলাস উমায়রের পিতৃবিয়োগের পর তার মাকে বিবাহ করে এবং উমায়র তারই কাছে প্রতিপালিত হন। উমায়র ইবন সা'দ জুলাসকে লক্ষ্য করে বললেন: আল্লাহ্র কসম হে জুলাস! নিশ্চয়ই আপনি আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তি। আমার প্রতি আপনার অবদানই সর্বাধিক। আপনার উপর কোন অবাঞ্ছিত ব্যাপারে ঘটে গেলে তা আমার জন্যে সর্বাধিক গুরুতর। আপনি এমনি একটি উক্তি করে বসেছেন যে, যদি আমি তা উপর পর্যন্ত [অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ্ (সা) পর্যন্ত] পৌঁছিয়ে দেই, তাহলে আমার পক্ষ থেকে তা হবে আপনার জন্যে চরম অপমানজনক। আর যদি আমি এ ব্যাপারে নীরব থাকি, তবে তা হবে আমার দীনের জন্যে চরম ক্ষতিকর। আর প্রথমটি দ্বিতীয়টির তুলনায় আমার জন্যে সহজতর। তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে হাযির হয়ে জুলাস যা বলেছিল তা জানিয়ে দিলেন। তখন জুলাস রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট হলফ করে বলে যে, উমায়র ইবন সা'দ আমার সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা এ সম্পর্ক আয়াত নাযিল করলেন:
يَحْلِফُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدَ اسْلامِهِمْ وَهَمُّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا ، وَمَا نَقَمُوا إِلا أَنْ أَعْنَهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنْ يَتُوبُوا يَكُ خَيْرًا لَّهُمْ وَإِنْ يَتَوَلَّوا يُعَدِّ بُهُمُ اللَّهُ عَذَابًا اليِّمًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخَرَةِ ۚ وَمَا لَهُمْ فِي الْأَرْضِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ -
"তারা আল্লাহর শপথ করে যে, তারা কিছু বলেনি; কিন্তু তারা তো কুফরীর কথা বলেছে এবং ইসলাম গ্রহণের পর তারা কাফির হয়েছে, তারা যা সংকল্প করেছিল তা পায়নি। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল নিজ কৃপায় তাদের অভাবমুক্ত করেছিলেন বলেই তারা বিরোধিতা করেছিল। তারা তওবা করলে তাদের জন্য ভাল হবে, কিন্তু তারা মুখ ফিরিয়ে নিলে আল্লাহ্ দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের মর্মন্তুদ শাস্তি দেবেন; পৃথিবীতে তাদের কোন অভিভাবক অথবা সাহায্যকারী নেই।" (৯: ৭৪)।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আয়াতে উল্লিখিত اَلْاَيْمُ শব্দটির অর্থ مرجع কষ্টদায়ক। কবি যুররূম্মা একটি উটের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন:
وترقع من صدور شمردلات × يصك وجوهما وهج اليم তার কবিতার উক্ত পংক্তিটিতে তিনি اَلْاَيْمُ শব্দটি ঐ অর্থেই ব্যবহার করেছেন।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: লোকের ধারণা, শেষ পর্যন্ত জুলাস তওবা করেন এবং তাঁর এ তওবা ছিল খাঁটি তওবাই। তারপর জানা যায় যে, তিনি সৎকাজ ও ইসলামের উপর অবিচল থাকেন।
তার ভাই হারিস ইব্‌ন সুওয়ায়দ যে হত্যা করেছিল মুজাযযার ইন্ন যিয়াদ বলভী এবং কায়স ইব্‌ন যায়দকে যিনি যাবীআ গোত্রের একজন ছিলেন-উহুদ যুদ্ধের দিন সে মুসলিমগণের সঙ্গে যুদ্ধযাত্রা করে। আসলে সে ছিল মুনাফিক। যখন লোকজন যুদ্ধে লিপ্ত হল, তখন সুযোগ বুঝে সে তাঁদের দু'জনকে হত্যা করে কুরায়שদের সাথে গিয়ে মিলিত হয়।
ইবন হিশাম বলেন: মুজাযাযার ইবন যিয়াদ আওস ও খাযরাজের মধ্যকার কোন এক যুদ্ধে সুওয়ায়দ ইব্‌ন সামিতকে হত্যা করেছিল। উহুদ যুদ্ধের দিন তার পুত্র হারিস ইন সুওয়ায়দ সুযোগ খুঁজছিল যে, কখন তাকে একটু অন্যমনষ্ক অবস্থায় পাবে—যাতে করে সে তাঁকে হত্যা করে তার পিতার হত্যার প্রতিশোধ নিতে পারে। সেমতে সে একা তাঁকেই হত্যা করেছিল।
আমি- একাধিক জ্ঞানী ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, সে যে কায়স ইন্ন যায়দকে হত্যা করেনি তার প্রমাণ হল, ইবন ইসহাক উহুদ যুদ্ধের নিহতদের মধ্যে তার নাম উল্লেখ করেন নি।
ইবন ইসহাক বলেন: সুওয়ায়দ ইব্‌ন সামিতকে মু'আয ইব্‌ন আফরা বুয়াস যুদ্ধের পূর্বে কোন প্রকার যুদ্ধ ছাড়া তীর নিক্ষেপে হত্যা করেছিলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: লোকে বলে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উমর ইবন খাত্তাবকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন যে, সুযোগ পেলে তিনি যেন তাকে হত্যা করেন। কিন্তু তিনি তাতে সফলকাম হননি, সে মক্কায় বসবাস করতে থাকে। তারপর সে তার ভাই জুলাসের কাছে তওবার অনুমতি চাওয়ার জন্যে বার্তা প্রেরণ করে—যাতে করে সে তার নিজ গোত্রের কাছে ফিরে যেতে পারে। ইব্‌ন আব্বাসের যে রিওয়ায়াত আমার কাছে পৌছেছে, সেমতে তখন আল্লাহ্ তা'আলা এ ব্যাপারে নাযিল করলেন কুরআনুল করীমের এ আয়াত:
كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيْمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ وَجَاءَ هُمُ الْبَيِّنَتُ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي القَوْمَ الظَّلِمِينَ -
"ঈমান আনার পর ও রাসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দান করার পর এবং তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর যে সম্প্রদায় সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তাদেরকে আল্লাহ্ কিরূপে সৎপথে পরিচালিত করবেন? আল্লাহ্ যালিম সম্প্রদায়কে সৎকাজে পরিচালিত করেন না।" (৩: ৮৬)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনু যবী'আর

📄 বনু যবী'আর


বনূ যবী'আ ইব্‌ন্ন যায়দ ইব্‌ন মালিক ইব্‌ন আওফ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আওফ থেকে বিজাদ ইবন উসমান ইবন আমির।
বনূ ল্যান ইব্‌ন Amr ইব্‌ন আওফ থেকে নাবতাল ইব্‌ন হারিস—এ হচ্ছে সে ব্যক্তি, আমার কাছে যে রিওয়ায়াত পৌঁছেছে, সেমতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) যার সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন: "যার শয়তানকে দেখার সাধ হয় সে যেন নাবতাল ইব্‌ন্ন হারিসকে দেখে নেয়।" সে ছিল মোটাসোটা এবং লম্বা থেতলানো ঠোঁটের অধিকারী এলোকেশী। তার চোখ ছিল লাল বর্ণের এবং গাল ছিল কাল-লাল বর্ণ মিশ্রিত। সে প্রায়ই রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আসত, তাঁর সাথে কথোপকথন করত। তাঁর কথাবার্তা শুনত এবং তা মুনাফিকদের কাছে পৌঁছাত। সে ছিল ঐ ব্যক্তি, যে বলেছিল: মুহাম্মদ তো কর্ণপাতকারী, যে কেউ তাকে কিছু বলুক না কেন, তিনি তা বিশ্বাস করেন। আল্লাহ্ তা'আলা তারই সম্পর্কে আয়াত নাযিল করেন:
وَمِنْهُمُ الَّذِينَ يُؤْذُونَ النَّبِيَّ وَيَقُولُونَ هُوَ أُذُنٌ قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةٌ للَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ رَسُولَ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ -
"এবং তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যারা নবীকে ক্লেশ দেয় এবং বলে, "সেতো কর্ণপাতকারী।” বলুন তার কান তোমাদের জন্য যা মঙ্গল তাই শোনে।" সে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং মু'মিনদেরকে বিশ্বাস করে; তোমাদের মধ্যে যারা মু'মিন সে তাদের জন্য রহমত এবং যারা আল্লাহ্র রাসূলকে ক্লেশ দেয়, তাদের জন্য আছে মর্মন্তুদ শাস্তি।" (৯:৬১)।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে বালআজলান গোত্রের কোন এক ব্যক্তি বলেছেন, তার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, একদা জিবরাঈল (আ) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট এসে বলেন, আপনার মজলিসে এক ব্যক্তি বসে থাকে, যার ওষ্ঠদ্বয় দীর্ঘ ও থেল্লানো, এলোকেশী, চক্ষু দু'টি লাল বর্ণের। যেন দু'টি পিতলের ডেগচি। তার হৃদয় গাধার হৃদয়ের চাইতেও অধিকতর পাষণ্ড। আপনার কথাবার্তা সে মুনাফিকদের নিকট পৌছিয়ে দেয়। আপনি তার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবেন। লোকের বর্ণনা অনুসারে এগুলো ছিল নাবতাল ইব্‌ন হারিসেরই বিশেষণ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ সা'লাবা ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আওফের

📄 বনূ সা'লাবা ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আওফের


আবূ হাবীবা ইব্‌ন আযআর-এ ব্যক্তি মসজিদে যিরার (অনিষ্টকর মসজিদ) প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ছিল।
সা'লাবা ইব্‌ন হাতিব ও মুতাত্তিব ইব্‌ন কুশায়র। এ দু'জন হচ্ছে সে ব্যক্তি যারা আল্লাহর সাথে এ মর্মে অঙ্গীকার করেছিল যে, যদি তিনি আমাদেরকে ধন-সম্পদের অধিকারী করেন, তা হলে অবশ্যই আমরা সংকার্যে ব্যয় করব এবং অবশ্যই সংকর্মশীল হব। আর মু'আত্তাব হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে উহুদ যুদ্ধের দিন মন্তব্য করেছিল: আমার কোন কথা যদি শোনা হত, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ তা'আলা আয়াত নাযিল করেন:
وَطَائِفَةٌ قَدْ أَهَمَّتْهُمْ أَنْفُسُهُمْ يَظُنُّونَ بِاللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ يَقُولُونَ هَلْ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ مِنْ شَيْءٍ قُلْ إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ يُخْفُونَ فِي أَنْفُسِهِمْ مَا لَا يُبْدُونَ لَكَ يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَا قُتِلْنَا هُهُنَا -
"এবং একদল জাহিলী যুগের অজ্ঞের ন্যায় আল্লাহ্ সম্পর্কে অবাস্তব ধারণা করে নিজেরাই নিজদেরকে উদ্বিগ্ন করেছিল এ বলে যে, এ ব‍্যাপারে আমাদের কি কোন অধিকার আছে? বলুন, সমস্ত বিষয় আল্লাহ্রই ইখতিয়ারে। যা তারা আপনার নিকট প্রকাশ করে না, তারা তাদের অন্তরে তা গোপন রাখে, আর বলে, এ ব্যাপারে আমাদের কোন অধিকার থাকলে আমরা এ স্থানে নিহত হতাম না।" (৩: ১৫৪)।
ঐ ব্যক্তিটিই আহ্যাব যুদ্ধের দিন মন্তব্য করেছিল:
كان محمد يعدنا ان نأ كل كنوز كسري وقيصر واحدنا لا يأمن أن يذهب الى الغائط
"মুহাম্মদ তো আমাদেরকে আশ্বাসবাণী শুনাতেন যে, আমরা পারস্য সম্রাট ও রোম সম্রাটের ধন-ভাণ্ডার গ্রাস করব, অথচ আমাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, আমাদের কেউ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যেতেও নিরাপদবোধ করছে না!"
আল্লাহ্ তা'আলা এ প্রসংগে নাযিল করলেন:
وَإِذْ يَقُولُ الْمُنْفِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَّرَضٌ مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ الأَ غُرُورًا -
"মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ছিল ব্যাধি তারা বলছিল, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা প্রতারণা ব্যতীত কিছুই নয়।" (৩৩: ১২)।
এবং হারিস ইব্‌ন হাতিব।
ইবন হিশাম বলেন: মুয়াত্তাব ইব্‌ন কুশায়র, সালাবা ও হারিস-এ দু'জনই হাতিবের পুত্র।
এঁরা হলেন উমাইয়া ইব্‌ন যায়দ গোত্রের লোক। তাঁরা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুসলমান। এঁরা মুনাফিক নন। ইবন ইসহাক বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের মধ্যে বনু উমাইয়া ইব্‌ন যায়দের লোকরূপে সা'লাবা ও হারিসের নাম উল্লেখ করেছেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আব্বাদ ইব্‌ন হুনায়ফ গোত্রের- এ ব্যক্তি ছিল সাহল ইব্‌ন হুনায়ফ গোত্রের এবং বাহ্যাজ-এরা মসজিদে যিরার নির্মাণকারীদের মধ্যে শামিল ছিল।
আমর ইব্‌ন খিযাম, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন নাবতাল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনু উমাইয়া ইব্‌ন যায়দ ইবন মালিকের

📄 বনু উমাইয়া ইব্‌ন যায়দ ইবন মালিকের


জারিয়া ইব্‌ন আমির ইব্‌ন আত্তাব এবং তার পুত্রদ্বয় যায়দ ইব্‌ন জারিয়া, মুজাম্মা' ইব্‌ন জারিয়া। এরাও মসজিদে যিরারের নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করেছিল।
মুজাম্মা' ছিলেন বয়সে তরুণ। কুরআন শরীফের অধিকাংশই তাঁর মুখস্থ ছিল। সেখানে অর্থাৎ মসজিদে যিরারে তাদের নামাযের ইমামতি করতেন। তারপর যখন ঐ তথাকথিত মসজিদটি বিধ্বস্ত করা হল এবং বনূ আমর ইব্‌ন আওফের কতিপয় লোক-যারা ঐ মসজিদে সালাত আদায় করত, হযরত উমর ইব্‌ন্ন খাত্তাবের খিলাফতকালে মুজাম্মা'র ইমামতি প্রসঙ্গে আলাপ তুললেন, তখন হযরত উমর বললেন : না, তা হতে পারে না, এ ব্যক্তিটি মসজিদে যিরারে মুনাফিকদের ইমাম ছিল। তখন মুজাম্মা' হযরত উমরকে সম্বোধন করে বললেন: আমীরুল মু'মিনীন! সেই আল্লাহ্র কসম, যিনি ছাড়া আর কোন মা'বুদ নেই, আমি তাদের ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। আমি ছিলাম একজন তরুণ ক্বারী। আমি কুরআন তিলাওয়াতে দক্ষ ছিলাম আর তাদের কেউ ক্বারী বা হাফিয ছিল না। তখন তারা (অনন্যোপায় অবস্থায়) আমাকেই ইমামতির জন্য এগিয়ে দেয়। তারা যে ভাল ভাল কথা বলত, সেগুলো ছাড়া তাদের অন্য কোন ব্যাপারে আমার সমর্থন বা মত ছিল না। লোকের ধারণা, উমর (রা) (তাঁর ওযর মেনে নিয়ে) তাঁকে ছেড়ে দেন এবং তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের ইমামতি করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00