📄 আবদুল্লাহ্ ইব্ন যায়দ (রা)-এর স্বপ্ন
তাঁরা যখন এরূপ চিন্তা-ভাবনা করছেন এমন সময় আবদুল্লাহ্ ইব্ন যয়দ ইবন সা'লাবা ইব্ন আব্দ রাব্বিহ-যিনি ছিলেন বলোহারিস ইন্ন খাযরাজ গোত্রের লোক-আহবান পদ্ধতি স্বপ্নে দেখলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! জনৈক ব্যক্তি গতরাতে আমার কাছে এলেন। সবুজ দু'টি বস্ত্র পরিহিত এক ব্যক্তি হাতে একটি ঘন্টাসহ আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। আমি তাকে বললাম : হে আল্লাহ্র বান্দা! তুমি-কি এ ঘন্টাটি বিক্রি করবে? সে ব্যক্তি বলল, তুমি এ দিয়ে কি করবে? আমি বললাম : আমরা এটা দ্বারা সালাতের জন্যে আহবান জানাব। সে ব্যক্তি বলল: আমি কি তোমাকে এর চাইতে উত্তম পন্থা বলে দেবনা? আমি বললাম : সে কি? জবাবে সে ব্যক্তি বলল: তুমি বলবে : الله اكبر الله اكبر الله اكبر الله اكبر اشهد ان لا اله الا الله اشهد ان لا اله الا الله اشهد ان محمدا رسول الله اشهد ان محمدا رسول الله حي على الصلاة حي على الصلوة حي على الفلاح حي على الفلاح الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله
তিনি যখন এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে অবহিত করলেন, তখন তিনি বললেন:
انها لرؤيا حق ان شاء الله فقم مع بلال فالقها عليه فليؤذن بها فانه اندى صوتا منك -
"ইনশা আল্লাহ এটা হচ্ছে সত্য স্বপ্ন, তুমি বিলালের সাথে দাঁড়িয়ে যাও এবং তাকে এগুলো শিখিয়ে দাও, যেন সে এগুলো আযানে বলে। কেননা সে তোমার তুলনায় উচ্চকণ্ঠধারী।" তারপর বিলাল যখন উচ্চকণ্ঠে এ শব্দগুলোর দ্বারা আযান দিলেন, তখন উমর (রা) ইব্ন খাত্তাব আপন ঘর থেকে তা শুনতে পেয়ে চাদর হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আসলেন। তিনি তখন বলছিলেন : ইয়া নাবী-আল্লাহ্! আপনাকে যে সত্তা সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর কসম, আমিও অনুরূপ স্বপ্ন দেখেছি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন :
فلله الحمد على ذالك
"এর জন্য আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।"
📄 উমর (রা)-এর স্বপ্ন
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্ন ইব্রাহীম ইব্ন হারিস (র) মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ ইব্ন যায়দ ইবন সা'লাবা ইবন আবদে রাব্বিহী (রা)-এর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে এ হাদিীস বর্ণনা করেছেন।
ইব্ন হিশাম বলেন : ইব্ন জুরায়জ বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট আতা (র) বলেছেন, আমি উবায়দ ইবন উমায়র লায়সীকে বলতে শুনেছি, নবী করীম (সা) তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে সালাতের জন্যে সমবেত হওয়ার জন্যে ঘন্টা ব্যবহারের পরামর্শ করেন। উমর ইবন খাত্তাব (রা) স্বপ্নে দেখলেন, (কেউ যেন তাঁকে বলছেন) ঘন্টা বাজাবেন না, বরং সালাতের জন্যে আযান দিন। তখন উমর (রা) নবী করীম (সা)-এর কাছে তা জানাতে গেলেন। ততক্ষণে নবী করীম (সা)-এর কাছে এ ব্যাপারে ওহী এসে গেছে। উমর (রা) বিলালের আযানের দ্বারাই হতচকিত হলেন। তিনি যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এ সংবাদ দিলেন, তখন তিনি বললেন:
قد سبقك بذالك الوحي
"তোমার পূর্বেই এ ব্যাপারে ওহী এসে গেছে।"
📄 ফজরের পূর্বে বিলাল (রা) যে দু'আ করতেন
ইবন ইসহাক বলেন: মুহাম্মদ ইব্ন জা'ফর ইব্ন যুবায়র (র) উরওয়া ইন্ন যুবায়র-এর সূত্রে বনূ নাজ্জারের এক মহিলা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মসজিদের নিকটে আমার ঘরটিই ছিল দীর্ঘতম ঘর। বিলাল (রা) প্রতিদিন ফজরের সময় এ ঘর থেকেই আযান দিতেন। তিনি ফজরের পূর্বে সাহরীর সময়ই চলে আসতেন এবং ফজরের (সময়ের) অপেক্ষায় এ ঘরের ছাদে বসে থাকতেন। তারপর যখন দেখতেন সময় হয়েছে, তখন শরীর মোচড় দিয়ে উঠতেন, তারপর এ দু'আ পড়তেন:
اللهم اني احمدك واستعينك على قريش ان يقيموا على دينك
"হে আল্লাহ্! আমি তোমারই প্রশংসা করি এবং কুরায়শদের মুকাবিলায় তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি, যেন তারা তোমার দীনের উপর দাঁড়িয়ে যায়।" মহিলাটি বলেন: আল্লাহর শপথ! তিনি একটি রাতের জন্যেও এ দু'আ পড়া বাদ দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।
📄 আবু কায়স ইব্ন আবূ আনাস
ইবন ইসহাক বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) সুস্থিরভাবে মদীনায় বসবাস করতে লাগলেন, আর সেখানে আল্লাহ্ তাঁর দীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন এবং মুহাজির ও আনসারগণকে আল্লাহ্ তাঁর চতুষ্পার্শ্বে সমবেত করে দিয়ে তাঁর সন্তুষ্টি বিধান করলেন, তখন বনূ আদী ইব্ নাজ্জারের আবু কায়স সিরমা ইব্ন আবূ আনাস (র) বলেন-
ইব্ন হিশাম বলেন: আবু কায়সের কুলপঞ্জী হল, আবু কায়স সিরমা ইব্ন আবূ আনাস ইব্ন সিরমা ইবন মালিক ইব্ন আদী ইব্ন আমির ইব্ন গানম ইব্ন আদী ইবন নাজ্জার। ইন্ন হিশাম বলেন: তিনি জাহিলী যুগে সংসার-বিরাগী হন এবং মোটা বস্ত্র পরিধান করেন। মূর্তিপূজা থেকে দূরে থাকতেন। জানাবাতের গোসল করতেন এবং ঋতুবতী নারীদের সংসর্গ পরিহার করে চলতেন। একবার তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে মনস্থ করেন, কিন্তু পরে তা থেকে বিরত থাকেন এবং তাঁর একটি গৃহকে উপাসনালয়ে রূপান্তর করে তাতে প্রবেশ করেন। এতে কোন ঋতুবতী বা জুনুবী' লোক প্রবেশ করতে পারতনা। তিনি যখন মূর্তিপূজা ত্যাগ করলেন এবং তার প্রতি বিরাগ হলেন, তখন তিনি বলতেন: আমি ইবরাহীমের প্রভুর ইবাদত করি। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় পদার্পণ করলেন, তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং একজন পূর্ণ নিষ্ঠাবান মুসলমানে পরিণত হন। তিনি তখন অত্যন্ত বয়োবৃদ্ধ। স্পষ্টবাদিতা ও সত্য-ভাষণে তিনি ছিলেন দ্বিধাদ্বন্দ্বহীন। জাহিলিয়াতের যুগেও তিনি আল্লাহ্ তা'আলার প্রতি তাঁর গভীর ভক্তিশ্রদ্ধা প্রকাশ করতেন। এ ব্যাপারে সুন্দর সুন্দর কবিতা রচনা করতেন। তিনিই বলেছিলেন:
يقول ابو قيس واصبح غاديا × الاستطعتم من وصاتي فافعلوا
আবূ কায়স নিত্য ভোরে গুনগুনিয়ে গেয়ে উঠে, ধর আমার উপদেশ যতখানি সাধ্যে জুটে।
فاوصيكم بالله والبر والتقى × واعراضكم والبر بالله اول
আল্লাহ্র সাথে অঙ্গীকার পূর্ণ করো সাধ্য ভরে, আল্লাহ্ সবার আগে অন্য সবাই তাহার পরে।
وان قومكم سادوا فلا تحسدنهم × وان كنتم اهل الرياسة فاعدلوا
বংশে তোমার নেতা হলে হিংসা করবে না, নিজে যদি রাজ্য লাভ কর তবে বে-ইনসাফী করবে না।
وَانْ نَزَلَتْ احدى الدُّوا هِي بِقَوْمِكُمْ * فَأَنْفُسَكُمْ دُونَ الْعَشِيرَةَ فَاجْعَلُوا
ভাগ্য বিবর্তনে যদি বংশে কোন বিপদ নামে, তবে তোমাদের বিলিয়ে দিয়ে স্বজাতিকে রক্ষা করবে।
وَإِنْ نَابَ غَرْمٌ فَادْخُ فَارْفَقُوهُمْ * وَمَا حَمَلُوكُمْ فِي الْمِلْمَاتِ فَاحْمِلُوا
যদি তাদের উপর কোন দণ্ডভার চাপে, তবে তোমরা তাদের সহযোগিতা করবে, দুর্যোগপূর্ণ কঠিন সময়ে তোমাদের উপর কোন দায়িত্ব অর্পিত হলে তোমরা তা পালন করবে।
وَإِنْ أَنْتُمْ أَمَعَرْتُمْ فَتَعَفَّفُوا * وَإِنْ كَانَ فَضْلُ الْخَيْرِ فِيكُمْ فَأَفْضِلُوا
যদি কোন সময় তোমরা অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়, তবে তাতে ধৈর্যধারণ কর, আর যদি স্বচ্ছল অবস্থায় থাক, তাহলে তোমরা মানুষের প্রতি বদান্যতা দেখাবে।
ইবন হিশাম বলেন: অন্য বর্ণনায় কথাটি وَأَنْ نَابَ غَرَمٌ فَادِحُ فَارْقُوْهُمْ এর স্থলে এরূপ আছে : وان ناب امر فادح فارفدوهم অর্থাৎ- "যদি চাপে তাদের উপরে কঠিন কোন কার্যভার, তুমিও নাও অংশ তার।"
ইবন ইসহাক বলেন: আবু কায়স সিরমা আরো বলেন:
سَبِّحُوا اللَّهَ شَرِقَ كُلَّ صَبَاعِ × طَلَعَتْ شَمْسَهُ وَكُلُّ هِلَالٍ
আল্লাহর তাসবীহ পাঠে রত থাক সকালে যখন আকাশে সূর্যোদয় হয়, আর যখন রাতে চন্দ্রোদয় হয়।
عَالِمِ السِّرِّ وَالْبَيَانِ لَدَيْنَا × لَيْسَ مَا قَالَ رَبُّنَا بِصَلَالِ
আমার জ্ঞানে সত্তা তাঁহার বাহ্যজ্ঞানী অন্তর্যামী-প্রকাশ্য ও গোপন জ্ঞানের অধিকারী আমাদের প্রতিপালক যা বলেছেন, তা ভ্রান্ত নয়।
وَلَهُ الطَّيْرُ تَسْتَرِيدُ وَتَأْوِي × فِي وَكُورٍ مِنْ امِنَاتِ الْجِبَالِ
যে পাখিটি উড়ে বেড়ায় এবং নিরাপদ পাহাড় চূড়ায় তার নীড়ে আশ্রয় নেয়, সে পাখিরও মালিক তিনি।
وَلَهُ الْوَحْشِ بِالْفَلَاةِ تَرَاهَا × فَحَقَافِ وَفِي ظلالِ الرِّمَالِ
প্রান্তরে যে বন্য প্রাণী তুমি দেখতে পাও পাহাড়ের গর্তে ও বালুর টিলা প্রান্তে-
وَلَهُ هَوَدَتْ يَهُودُ وَدَانَتْ × كُلَّ دِيْنِ إِذَا ذَكَرْتَ عُضَال
তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্ত। করেছে ইয়াহুদীরা এবং তাঁরই কাছে নত হয়েছে, অপর পক্ষে তুমি যে দীনেরই উল্লেখ কর না কেন, তা হল দুরারোগ্য রোগ।
وَلَهُ شَمْسُ النَّصَارَى وَقَامُوا × كُلِّ عِيدِ لِرَبِّهِمْ وَاحْتَفَالُ
তাঁরই জন্য ইবাদত করছে খ্রিস্টানরা এবং তারা আল্লাহর ইবাদতে তাদের ঈদ অনুষ্ঠান ও অন্য দীনী মাহফিলগুলোতে মগ্ন থাকে।
وَلَهُ الرَّاهِبُ الْحَبِيسُ تَرَاهُ × رَهْنَ بُؤْسٍ وَكَانَ نَاعِمَ بَالِ
তাঁরই জন্য সংসারত্যাগী পাদ্রিগণকে তুমি দেখতে পাবে যে, তারা অতিকষ্টে জীবন-যাপন করছে, অথচ তাদের জীবন কেটেছে অতি সুখে।
يَا بَنِي الْأَرْحَامِ لَا تَقْطَعُوهَا * وَصَلُوهَا قَصِيرَةٌ مِنْ طَوَالِ
হে বৎসগণ, তোমরা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করো না, তোমরা উদার ব্যবহার কর, যদিও সে সংকীর্ণ হয়।
وَاتَّقُوا اللَّهَ فِي ضِعَافِ الْيَتَامِي × رَبِّمَا يُسْتَحَلُّ غَيْرَ الْحَلَالِ
আল্লাহকে ভয় কর, দুর্বল ইয়াতীমদের ব্যাপারে অনেক সময় অবৈধকে বৈধ বানানো হয়।
وَاعْلَمُوا أَنَّ لِليَتِيم وليا × عَالِمًا يَهْتَدِى بِغَيْرِ السَّوَالِ
জেনে রেখো, ইয়াতীমদের এমন একজন সর্বজ্ঞ অভিভাবক রয়েছেন, যিনি সওয়াল ছাড়াও সব ব্যাপারে অবহিত।
ثُمَّ مَالَ الْيَتِيمِ لَا تَأْكُلُوهُ × إِنَّ مَالَ الْيَتِيمِ يَرْعَاهُ وَالِي
ইয়াতীমের সম্পদ তোমরা গ্রাস করো না লোভের বশে, কেননা ইয়াতীমের মালের জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক রক্ষক রয়েছেন।
يَا بَنِي التَّخُومُ لَا تَخْرُلُوهَا × إِنَّ خَزَلُ التَّخُوْمِ ذُو عُقَالِ
বৎসগণ, তোমরা ভূমির সীমা লংঘন করো না, কেননা পরের ভূমির সীমা লংঘন করলে অধঃপতন ঘটে।
يَابَنِي الأَيَّامَ لَا تَأْمَنُوهَا * وَاحْذَرُوا مَكْرَهَا وَمَرَّ اللَّيَالِي
বৎসগণ, তোমরা কালের বিবর্তন থেকে নিশ্চিত থেকো না এবং তার ধোঁকা ও চক্র থেকে সতর্ক থাক।
وَاعْلَمُوا أَنَّ مَرَّهَا لِنَفَادِ × الْخَلْقِ مَا كَانَ مِنْ جَدِيدَ وَبَالِي
আর জেনে রেখো, কালের বিবর্তন হচ্ছে সৃষ্টির লয়ের জন্য; সে নতুন হোক বা পুরান।
وَاجْمَعُوا أَمْرَكُمْ عَلَى البر والتقوى * وَيُتَرَكِ الْخَنَا وَأَخْذِ الْحَلَالِ
আর তোমরা পূণ্য ও তাকওয়া অবলম্বনে এবং হালাল উপার্জনে ও অশ্লীলতা ত্যাগে দৃঢ় প্রত্যয়ী হও।
আবূ কায়স সিরমা ইসলামের দ্বারা আল্লাহ তা'আলা তাঁকে কতটুকু গৌরবান্বিত ও ধন্য করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে আবির্ভূত করে তিনি তাঁকে যে মহিমামণ্ডিত করেছেন, তারও চমৎকার অভিব্যক্তি ঘটিয়েছেন তাঁর স্বরচিত কবিতায়:
تَوَى فِي قُرَيْشٍ بِضْعَ عَشْرَةٌ حِجَّةٌ × يُذَكَّرُ لَوْ يَلْقَى صَدِيقًا مَوَاتِيًا
রাসূলুল্লাহ্ (সা) কুরায়שদের মধ্যে এক দশকের বেশি সময় অবস্থান করেন এবং তাদের নসীহত করতে থাকেন এই আশায় যে, তিনি কোন সহযোগী বন্ধুর সন্ধান পাবেন।
ويَعْرِضْ فِي أَهْلِ الْمَوَاسِمِ نَفْسَهُ * فَلَمْ يَرَ مَنْ يُؤْوِي وَلَمْ يَرَدَاعِيًا
হজ্জের মওসুমে তিনি লোকদের কাছে উপস্থিত হতেন, কিন্তু তিনি কোন আশ্রয়দাতা ও আহ্বানে সাড়াদানকারী পেলেন না।
فَلَمَّا آتَانَا أَظْهَرَ اللَّهُ دِينَهُ * فَأَصْبَحَ مَسْرُورًا بِطَيِّبَةٍ رَاضِبًا
তিনি যখন আমাদের কাছে তাশরীফ আনলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর দীনকে বিজয়ী করলেন এবং এতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায়' খুশিতে জীবন যাপন করলেন।
وَالْقَى صَدِيقًا وَاطْمَأَنَّتْ بِهِ النَّوَى * وَكَانَ لَنَا عَوْنًا مِنَ اللَّهَ بَادِيًا
তিনি বন্ধুর সন্ধান এবং হিজরতের পর ঠিকানা পেলেন। তিনি ছিলেন আমাদের জন্য আল্লাহ্র স্পষ্ট সাহায্য।
يَقُصُّ لَنَا مَا قَالَ نُوحٍ لِقَوْمِهِ * وَمَا قَالَ مُوسَى إِذَا أَجَابَ الْمُنَادِيًا
হযরত নূহ (আ) তাঁর সম্প্রদায়কে যা বলেছিলেন, তিনি আমাদের কাছে তা বর্ণনা করেন। আর হযরত মূসা (আ) গায়েব থেকে আহবানকারীর উত্তরে যা বলেছেন, তিনি তাও আমাদের কাছে ব্যক্ত করেন।
فَأَصْبَحَ لَا يَخْشَى مِنَ النَّاسِ وَاحِدًا * قَرِيبًا وَلَا يَخْشَى مِنَ النَّاسِ نَانِيًا
তিনি এভাবে জীবন যাপন করেন যে, মানুষের মধ্যে তিনি কাউকে ভয় করতেন না। আর তিনি কোন লোককে ভয় করতেন না, সে নিকটের হোক বা দূরের হোক।
بِذَالُنَا لَهُ الْأَمْوَالَ مِنْ حِلِّ مَا لَنَا * وَأَنْفُسَنَا عِنْدَ الْوَغَى وَالتَّاسِيَّا
আমরা তাঁর জন্য আমাদের বৈধ-সম্পদসমূহ ব্যয় করেছি, আর ব্যয় করেছি সহযোগিতা ও যুদ্ধের সময়ে আমাদের প্রাণ।
وَنَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ لَا شَيْئُ غَيْرُهُ * وَنَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ أَفْضَلُ هَادِيًا
আমরা জানতে পেরেছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ নেই, আরও জ্ঞান লাভ করেছি যে, আল্লাহই হলেন পথ-প্রদর্শক।
نُعَادِي الَّذِي عَادِي مِنَ النَّاسِ كُلِّهِمْ * جَمِيعًا وَإِنْ كَانَ الْحَبِيبُ الْمُصَاقِياً
মানুষের মধ্যে যারা তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করে, আমরাও সে সব মানুষের সাথে শত্রুতা পোষণ করে থাকি—যদিও তারা অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়।
أَقُولُ إِذَا أَدْعُوكَ فِي كُلِّ بِيْعَةِ × تَبَارَكْتَ قَدْ أَكْثَرَتْ لِاسْمِكَ دَاعِيًا
সব বায়'আত গ্রহণের সময় যখন আমি আপনাকে আহবান করি, তখন আমি বলি আপনার সত্তা বরকতময় আমি আহবানে আপনার নাম অনেকবার নিয়েছি।
أَقُولُ إِذَا جَاوَزْتُ أَرْضًا مَخُوفَةً × حَنَائِيكَ لَا تُظْهِرَ عَلَى الْأَعَادِيَا
যখন আমি কোন শংকাপূর্ণ স্থান অতিক্রম করি, তখন আমি বলি, হে দয়াময়! তোমার মেহেরবানীতে আমার উপর শত্রুকে বিজয়ী করো না।
قَطَأ مُعْرِضًا إِنَّ الحَنُوفَ كَثِيرَةً × وَإِنَّكَ لَا تُبْقَى بِنَفْسَكَ بَاقِيًا
তুমি মুখ ফিরিয়ে পথ অতিক্রম করতে থাক, কেননা মৃত্যু রয়েছে অনেক রকম, তুমি বাঁচতে চাইলেও চিরকাল বেঁচে থাকতে পারবে না।
فَوَ اللَّهِ مَا يَدْرِي الْفَتَى كَيْفَ يَتَّقِى × إِذَا هُوَ لَمْ يُجْعَلُ لَهُ اللَّهُ وَافِيًا
আল্লাহ্র কসম, কোন যুবক জানে না কেমন করে বাঁচবে সে, যদি আল্লাহ্ তার জন্য কোন রক্ষাকারী নিযুক্ত না করেন।
وَلَا تَحْسَبَنَّ النَّخْلَ الْمُقَيَّمَةَ رُبَّهَا x إِذَا أَصْبَحَتْ رِيًّا وَأَصْبَحَ ثَارِيًا
কাজে আসে না শুকনো খেজুর গাছ তার মালিকের, সে অতি শীঘ্র জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।
ইবন হিশাম বলেন: কবিতার যে লাইনের শুরু فظَامِرًا দিয়ে তার পরবর্তী যে কবিতার আরম্ভ মাদَيْرًا قَوَالُ দিয়ে, এ দুটো কবিতা হল আসলে আফনুন তাগলবী রচিত। সে কবিতায় তার নাম হল করীম ইবন মা'শার। তাঁর কবিতামালায় এ লাইনগুলোও রয়েছে।
টিকাঃ
১. স্ত্রী সঙ্গম বা স্বপ্নদোষের কারণে যার উপর গোসল ফরয হয়।
১. তায়্যিবা মদীনার অপর নাম।