📄 আযানের ইতিবৃত্ত
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় শান্তিতে বসবাস করতে লাগলেন। তাঁর মুহাজির ভাইগণ তাঁর কাছে সমবেত হলেন। আনসারদের অবস্থা সুদৃঢ় হল। ইসলাম সুসংহত হল। তখন সালাত সুপ্রতিষ্ঠিত হল। যাকাত ও সিয়াম ফরয করা হল। ইসলামী হুদূদ বা দন্ডবিধি প্রবর্তিত হল। হালাল ও হারাম নির্ধারিত হল। ইসলাম তাঁদের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হল। আনসার গোত্র তখন: هم الذين تبؤوا الدار والايمان
"তারা হিজরত ভূমি ও ঈমানে পাকাপোক্ত হয়ে গেছে” অভিধায় অভিহিত হল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মদীনায় পদার্পণ করলেন, তখন লোকজন সালাতের নির্ধারিত সময়ে বিনা আহবানেই তাঁর কাছে এসে সমবেত হত। রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনা আগমণের পর ইয়াহুদীদের বিউগলের মত বিরাট একটি বিউগল বানিয়ে তা বাজিয়ে সালাতের জন্যে তাদের আহবানের মত আহবান জানাতে মনস্থ করলেন। কিন্তু পরে এটা তাঁর মনঃপূত হলনা। তারপর তিনি ঘন্টা বাজাবার নির্দেশ দিলেন। মুসলমানদেরকে সালাতের জন্যে আহবানের উদ্দেশ্যে একটি ঘন্টা বানানোও হল।
📄 আবদুল্লাহ্ ইব্ন যায়দ (রা)-এর স্বপ্ন
তাঁরা যখন এরূপ চিন্তা-ভাবনা করছেন এমন সময় আবদুল্লাহ্ ইব্ন যয়দ ইবন সা'লাবা ইব্ন আব্দ রাব্বিহ-যিনি ছিলেন বলোহারিস ইন্ন খাযরাজ গোত্রের লোক-আহবান পদ্ধতি স্বপ্নে দেখলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! জনৈক ব্যক্তি গতরাতে আমার কাছে এলেন। সবুজ দু'টি বস্ত্র পরিহিত এক ব্যক্তি হাতে একটি ঘন্টাসহ আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। আমি তাকে বললাম : হে আল্লাহ্র বান্দা! তুমি-কি এ ঘন্টাটি বিক্রি করবে? সে ব্যক্তি বলল, তুমি এ দিয়ে কি করবে? আমি বললাম : আমরা এটা দ্বারা সালাতের জন্যে আহবান জানাব। সে ব্যক্তি বলল: আমি কি তোমাকে এর চাইতে উত্তম পন্থা বলে দেবনা? আমি বললাম : সে কি? জবাবে সে ব্যক্তি বলল: তুমি বলবে : الله اكبر الله اكبر الله اكبر الله اكبر اشهد ان لا اله الا الله اشهد ان لا اله الا الله اشهد ان محمدا رسول الله اشهد ان محمدا رسول الله حي على الصلاة حي على الصلوة حي على الفلاح حي على الفلاح الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله
তিনি যখন এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে অবহিত করলেন, তখন তিনি বললেন:
انها لرؤيا حق ان شاء الله فقم مع بلال فالقها عليه فليؤذن بها فانه اندى صوتا منك -
"ইনশা আল্লাহ এটা হচ্ছে সত্য স্বপ্ন, তুমি বিলালের সাথে দাঁড়িয়ে যাও এবং তাকে এগুলো শিখিয়ে দাও, যেন সে এগুলো আযানে বলে। কেননা সে তোমার তুলনায় উচ্চকণ্ঠধারী।" তারপর বিলাল যখন উচ্চকণ্ঠে এ শব্দগুলোর দ্বারা আযান দিলেন, তখন উমর (রা) ইব্ন খাত্তাব আপন ঘর থেকে তা শুনতে পেয়ে চাদর হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আসলেন। তিনি তখন বলছিলেন : ইয়া নাবী-আল্লাহ্! আপনাকে যে সত্তা সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর কসম, আমিও অনুরূপ স্বপ্ন দেখেছি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন :
فلله الحمد على ذالك
"এর জন্য আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।"
📄 উমর (রা)-এর স্বপ্ন
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্ন ইব্রাহীম ইব্ন হারিস (র) মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ ইব্ন যায়দ ইবন সা'লাবা ইবন আবদে রাব্বিহী (রা)-এর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে এ হাদিীস বর্ণনা করেছেন।
ইব্ন হিশাম বলেন : ইব্ন জুরায়জ বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট আতা (র) বলেছেন, আমি উবায়দ ইবন উমায়র লায়সীকে বলতে শুনেছি, নবী করীম (সা) তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে সালাতের জন্যে সমবেত হওয়ার জন্যে ঘন্টা ব্যবহারের পরামর্শ করেন। উমর ইবন খাত্তাব (রা) স্বপ্নে দেখলেন, (কেউ যেন তাঁকে বলছেন) ঘন্টা বাজাবেন না, বরং সালাতের জন্যে আযান দিন। তখন উমর (রা) নবী করীম (সা)-এর কাছে তা জানাতে গেলেন। ততক্ষণে নবী করীম (সা)-এর কাছে এ ব্যাপারে ওহী এসে গেছে। উমর (রা) বিলালের আযানের দ্বারাই হতচকিত হলেন। তিনি যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এ সংবাদ দিলেন, তখন তিনি বললেন:
قد سبقك بذالك الوحي
"তোমার পূর্বেই এ ব্যাপারে ওহী এসে গেছে।"
📄 ফজরের পূর্বে বিলাল (রা) যে দু'আ করতেন
ইবন ইসহাক বলেন: মুহাম্মদ ইব্ন জা'ফর ইব্ন যুবায়র (র) উরওয়া ইন্ন যুবায়র-এর সূত্রে বনূ নাজ্জারের এক মহিলা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মসজিদের নিকটে আমার ঘরটিই ছিল দীর্ঘতম ঘর। বিলাল (রা) প্রতিদিন ফজরের সময় এ ঘর থেকেই আযান দিতেন। তিনি ফজরের পূর্বে সাহরীর সময়ই চলে আসতেন এবং ফজরের (সময়ের) অপেক্ষায় এ ঘরের ছাদে বসে থাকতেন। তারপর যখন দেখতেন সময় হয়েছে, তখন শরীর মোচড় দিয়ে উঠতেন, তারপর এ দু'আ পড়তেন:
اللهم اني احمدك واستعينك على قريش ان يقيموا على دينك
"হে আল্লাহ্! আমি তোমারই প্রশংসা করি এবং কুরায়শদের মুকাবিলায় তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি, যেন তারা তোমার দীনের উপর দাঁড়িয়ে যায়।" মহিলাটি বলেন: আল্লাহর শপথ! তিনি একটি রাতের জন্যেও এ দু'আ পড়া বাদ দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।