📄 প্রথম ভাষণ
আবূ সালামা ইবন আবদুর রহমানের মাধ্যমে আমার কাছে যা পৌঁছেছে, সে অনুসারে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ্ (সা) যে খুতবা (ভাষণ) প্রদান করেন-রাসূলুল্লাহ্ (সা) যা বলেন নি তা বলেছেন বলে উক্তি করা থেকে আমরা আল্লাহর পানাহ চাই-তা হল এই, তিনি তাঁদের মধ্যে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর হাম্দ (প্রশংসা) বর্ণনা করলেন-যার তিনি উপযুক্ত। তারপর বললেন, আম্মা বা'দ (তারপর):
أَيُّهَا النَّاسُ فَقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ تَعْلَمَنَّ وَاللهُ لَيَصْعَقَنَّ أَحَدَكُمْ ثُمَّ لَيَدْعَنْ غَنَمَهُ لَيْسَ لَهَا رَاعٍ - ثُمَّ لَيَقُولَنَّ لَهُ رَبَّهُ وَلَيْسَ لََ تَرْجُمَانٌ وَلا حَاجِبٌ يَحْجُبُهُ دُونَهُ - المْ يَأْتِيكَ رَسُولِي فَبَلَغَكَ - وَاتَيْتُكَ مَالاً وأَفْضَلْتُ عَلَيْكَ - فَمَا قَدَّمْتْ لِنَفْسِكَ - فَلْيَنْظُرَنَّ يَمِينًا وَشِمَالاً فَلا يَرَى شَيْئًا - ثُمَّ لَيَنْظُرَنَّ قُدَّامَهُ فَلا يَرَى غَيْرَ جَهَنَّمَ فَمَنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَقى وَجْهَهُ مِنَ النَّارِ وَلَوْ بِشِقٌ مِنْ تَمَرَةٍ فَلْيَفْعَلُ - وَمَنْ لَمْ تَجِدهُ فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَة، فَإِنَّ بِهَا تُجْزَى الْحَسَنَةُ عَشْرًا أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعَ مِأَة ضِعْفَ ، وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَعَلَى رَسُولِ اللَّهِ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكتُهُ -
"হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের নিজেদের জন্যে কিছু ভাল কাজ করে নাও! তোমাদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহর কসম! তোমাদের প্রত্যেকেই একে একে মৃত্যুর শিকার হবে এবং তার ছাগলপালকে এমন অবস্থায় ছেড়ে যাবে যে, তার কোন রাখাল থাকবে না। তারপর তার সাথে তার প্রভু (এমনভাবে) কথা বলবেন যার মধ্যবর্তী কোন দোভাষী থাকবে না বা কোন পর্দা বা আবরণও তাকে গোপন করবে না। তোমার কাছে কি আমার রাসূল আসেন নি? তারপর তিনি তোমার কাছে প্রচার করেন নি? আমি তোমাকে সম্পদ দান করেছি, তোমার প্রতি আমার ফযল (করুণা) বর্ষণ করেছি। তুমি তোমার নিজের জন্যে পূর্বে কি প্রেরণ করেছ? বান্দা ডানে বাঁয়ে তাকাবে কিন্তু কিছুই দেখতে পাবে না। তারপর সে সম্মুখের দিকে তাকাবে কিন্তু জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না। সুতরাং যে পারে সে যেন তার মুখমণ্ডলকে আগুন থেকে রক্ষা করে যদিও বা একটি খেজুরের টুকরো দিয়েই হয়। আর যে তাও না পায়, সে যেন একটি পবিত্র বাক্য দ্বারাই এর চেষ্টা করে। কেননা এর দ্বারাও জাযা বা প্রতিদান দেয়া হবে। একটি পূণ্যের ফল দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত হবে, শান্তি বর্ষিত হোক তোমাদের प्रति এবং আল্লাহর রহমত এবং বরকতরাশিও বর্ষিত হোক!"
📄 দ্বিতীয় ভাষণ
তারপর রাসুলুল্লাহ (সা) পুনরায় লোকজনের প্রতি ভাষণ প্রদান করলেন। এবার তিনি বললেন:
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ أَحْمَدُهُ وَاسْتَعِينُهُ وَنَعُوذُ بِاللهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ - إِنَّ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كتَابُ الله تَبَارَكَ وَتَعَالَى - قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَيَّنَهُ اللهُ فِي قَلْبِهِ - وَادْخَلَهُ فِي الْإِسْلَامِ بَعْدَ الْكُفْرِ وَاخْتَارَهُ عَلَى مَا سَوَاهُ مِنْ أَحَادِيثِ النَّاسِ إِنَّهُ أَحْسَنُ الحَدِيثِ وَابْلَغَهُ أَحِبُّوا مَا أَحَبَّ اللَّهُ وَاحِبُّوا اللَّهَ - مِنْ كُلِّ قُلُوبِكُمْ وَلَا تُمِلُوا كَلامَ اللهَ وَذِكْرَهُ - وَلَا تَقْسُ عَنْهُ قُلُوبُكُمْ فَإِنَّهُ مِنْ كُلِّ مَا يَخْلُقُ اللَّهُ يَخْتَارُ ويصطفى - فَقَدْ سَمَّاهُ خِيَرَتَهُ مِنَ الْأَعْمَلِ وَمُصْطَفَاهُ مِنَ الْعِبَادِ وَالصَّلِحَ مِنَ الْحَدِيثِ - وَمِنْ كُلِّ مَا أُوتِيَ النَّاسُ مِنَ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ فَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا - وَاتَّقُوهُ حَقَّ تُقَاتِهِ - وَاصْدُقُوا اللَّهَ صَلِحَ مَا تَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُمُ - وَتَحَابُّوا بِرُوحِ اللَّهِ بَيْنَكُمْ - إِنَّ اللَّهَ يَغْضَبُ أَنْ يُنْكُتَ عَهْدَهُ - وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ
"নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং আল্লাহ্র শরণ প্রার্থনা করছি আমাদের রিপুর এবং মন্দ আমলের অনিষ্ট থেকে। যাকে আল্লাহ্ হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ গুমরাহ করতে পারে না। আর যাকে আল্লাহ্ গুমরাহ করেন তাকে কেউই হিদায়াত করতে পারে না এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নেই কোন উপাস্য আল্লাহ্ ব্যতীত, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক বা অংশীদার নেই। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলার কিতাব। সে ব্যক্তিই সফলকাম, যার অন্তরকে আল্লাহ্ তা'আলা সৌন্দর্য ও সুষমা দ্বারা সুসজ্জিত করেছেন এবং কুফরের পর তাকে ইসলামের মধ্যে প্রবিষ্ট করেছেন এবং সে ব্যক্তি মানুষের সমস্ত বাণীর উপর একেই প্রাধান্য দিয়ে অবলম্বন করেছে। নিঃসন্দেহে এটি হচ্ছে সর্বোত্তম বাণী এবং সর্বাধিক অলংকারসমৃদ্ধ। আল্লাহ্ তা'আলা যা ভালবাসেন তোমরাও তা-ই ভালবাসবে এবং তোমাদের পরিপূর্ণ অন্তর দিয়ে তোমরা আল্লাহকে ভালবাসবে এবং আল্লাহর কালাম ও তাঁর যিক্র-এর প্রতি বিরক্ত হয়ো না এবং তোমাদের অন্তর যেন এ ব্যাপারে পাষাণ না হয়। কেননা আল্লাহ্ যেসব বস্তু সৃষ্টি করেন তা থেকে কিছু কিছুকে তিনি নির্বাচিত ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেন। সেগুলোর মধ্যে আমলসমূহকে 'খায়র' বান্দাদেরকে নির্বাচিত এবং বাণীসমূহকে সালিহ বা উত্তম বলে অভিহিত করেছেন। আর যেসব বস্তু মানুষকে দেওয়া হয়েছে সেগুলোতে রয়েছে হালাল ও হারাম। সুতরাং তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে আর কিছুকেই শরীক করবে না এবং তাঁকে যেরূপ ভয় বা সমীহ করা উচিত, সেরূপ ভয় ও সমীহ করবে এবং আল্লাহ্র ব্যাপারে তোমরা তোমাদের মুখে যা বল সেসব কথার মধ্যে সর্বাধিক সত্য কথাটাই বলবে এবং তোমাদের পরষ্পরের মধ্যে সৌহার্দ্য রক্ষা করবে আল্লাহ্র রহমতের দ্বারা। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ রাগান্বিত হন তাঁর সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গের দরুন। তোমাদের প্রতি শান্তি ও আল্লাহ্র রহমত বর্ষিত হোক।"