📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ আইয়ুব (রা)-এর ঘরে মহানবী (সা) অবতরণ করলেন

📄 আবূ আইয়ুব (রা)-এর ঘরে মহানবী (সা) অবতরণ করলেন


ইবন ইসহাক বলেন: মসজিদ এবং বাসস্থানসমূহ' নির্মাণ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ আইয়ূব (রা)-এর ঘরেই অবস্থান করেন। তারপর আবূ আইয়্যুব (রা)-এর ঘর থেকে রাসূলুল্লাহ (সা) নিজ বাসগৃহে স্থানান্তরিত হন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে ইয়াযীদ ইব্‌ন আবু হাবীব মারসাদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ আল-ইয়াযী থেকে, তিনি আবু রুহম আস-সিমাঈ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমার নিকট আবু আইয়ূব (রা) বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমার বাড়িতে অবতরণ করেন, তখন তিনি অবস্থান করেন নিচতলায় এবং আমি ও আমার সহধর্মিণী উম্মু আইয়ূব (রা) ছিলাম উপরতলায়। তখন আমি তাঁর খিদমতে আরয করলাম, হে আল্লাহ্র নবী! আপনার জন্যে আমার পিতামাতা কুরবান হোন! আমরা উপরে অবস্থান করব আর আপনি নিচে থাকবেন এটা আমি অত্যন্ত অপসন্দ করি এবং গুরুতর ব্যাপার বলে মনে করি। সুতরাং আপনি উপরে উঠে আমাদের উপরে অবস্থান করুন, আমরা নিচের তলায় চলে যাব এবং আপনার নিচেই অবস্থান করব।
জবাবে তিনি বললেন: হে আইয়ূব, আমার এবং আমার কাছে আগমনকারীদের জন্যে নিচে অবস্থান করাটাই অধিকতর সুবিধাজনক।
তিনি বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) ঘরের নিচতলায়ই রইলেন আর আমরা ঘরের উপর তলায় রইলাম। একবার আমাদের একটি বড় পানির মটকা ভেঙ্গে গেল। তখন আমি ও উন্মু আইয়ূব তাড়াতাড়ি করে আমাদের কম্বলটি বিছিয়ে ধরে পানি শুকালাম আর তখন আমাদের লেহাফ বলে কিছু ছিল না। আমাদের আশঙ্কা হচ্ছিল, পানি না রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উপর পড়ে তাঁর কষ্টের কারণ হয়ে যায়!
রাতের বেলা আমরা তাঁর জন্যে খাবার তৈরি করে পাঠিয়ে দিতাম। যখন তিনি খাবারের অবশিষ্টাংশ ফেরত পাঠাতেন, তখন আমি ও উম্মু আইয়ূব তাঁর পবিত্র হস্তের স্পর্শ পাওয়া স্থানগুলো খুঁজে নিয়ে সেখান থেকে খাবার গ্রহণ করে বরকত হাসিলের চেষ্টা করতাম। একদিন রাতের বেলা আমরা পেঁয়াজ অথবা রসুন দেওয়া খাবার তাঁর খিদমতে পাঠালাম। তিনি তা ফেরত পাঠিয়ে দিলেন অথচ তার মধ্যে তাঁর পবিত্র হস্তের কোন চিহ্ন আমরা দেখতে পেলাম না। আমি অত্যন্ত বিব্রত হয়ে তাঁর কাছে ছুটে গেলাম এবং আরয করলাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার জন্যে আমার পিতামাতা কুরবান, আপনি রাতের খাবার ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন অথচ তাতে আপনার পবিত্র হাতের কোন চিহ্নই নেই! আপনি যখন খাবার ফেরত পাঠান, তখন আমি ও উম্মু আইয়ূব বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে আপনার পবিত্র হাতের স্পর্শমণ্ডিত অংশ থেকে খাবার গ্রহণ করে থাকি!
জবাবে তিনি বললেন: আমি তাতে ঐ গাছের গন্ধ পেলাম। আর আমাকে তো ফেরেশতাগণের সঙ্গে গোপনে কথোপকথন করতে হয় (আর ফেরেশতাগণ এর গন্ধ পসন্দ করেন না), তাই তোমরা তা খেয়ে নাও। তখন (অগত্যা) আমরা তা খেয়ে নিলাম। তারপর আর কোন দিন তাঁর জন্যে এ বস্তু পরিবেশন করিনি।

টিকাঃ
১. আম্মার মসজিদের প্রথম নির্মাতা একথা কিভাবে বলা হল, অথচ অন্যান্য লোকও নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করেছিলেন? এর জবাব হয়, আম্মারই সর্বপ্রথম মসজিদে কুবা নির্মাণের জন্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আর তিনিই ভিত্তির জন্যে পাথর সংগ্রহ করেছিলেন। তারপর নবী (সা) যখন মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন, তখন তাঁর কাজ সমাপ্ত করেছিলেন আম্মার।
২. খেজুর পাতায় ছাওয়া নয়টি কক্ষ ছিল। দরজায় কোন কড়া ছিল না, তাই নখ দিয়ে করাঘাত করতে হত। ছাদ হাতে নাগাল পাওয়া যেত।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সপরিবারে হিজরতকারিগণ

📄 সপরিবারে হিজরতকারিগণ


ইবন ইসহাক বলেন: সমস্ত মুহাজির সাহাবী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে এসে মিলিত হলেন। একমাত্র বিপর্যস্ত-অত্যাচারিত এবং অবরুদ্ধগণ ছাড়া মক্কায় আর কেউই অবশিষ্ট রইলেন না। গোটা পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ নিয়ে যারা আল্লাহ্ তা'আলা এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দিকে হিজরত করে এসেছিলেন, তাঁরা হলেন কেবল এ পরিবার কয়টি:
১. বনূ জুমাহের মাযউনের বংশধরগণ; ২. জাহশ ইন্ন রিআবের বংশধরগণ, বনূ উমাইয়ার চুক্তিবদ্ধ মিত্রগণ; ৩. বনূ সা'দ ইব্‌ন লায়সের বুকায়রের বংশধরগণ, বনূ আদী ইব্‌ন কা'বের মিত্রদল। এঁদের হিজরতের দরুন মক্কায় তাঁদের বাড়িসমূহ জনশূন্য বিরান অবস্থায় পড়ে ছিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবু সুফইয়ান ও জাহশের বংশধরগণ

📄 আবু সুফইয়ান ও জাহশের বংশধরগণ


রিআবের পুত্র জাহশের সন্তানরা তাঁদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর তা আবু সুফইয়ান ইন্ন হারবের দখলে চলে আসে। সে তা বনূ আমির ইব্‌ন লুআঈ-এর আমর ইব্‌ন আলকামার কাছে বিক্রি করে দিল। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহশ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট সে প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে বললেন:
الا ترضى يا عبد الله ان يعطيك الله دارا خيرا منها في الجنة ؟
-"হে আবদুল্লাহ্! আল্লাহ্ জান্নাতে তোমাকে এর চাইতে উত্তম বাড়ি দান করবেন এতে কি তুমি খুশি নও?" জবাবে তিনি বললেন: জী হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেন: তোমার জন্যে তা-ই রয়েছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মক্কা বিজয়ের পর বাড়ির মালিকানা প্রসঙ্গ

📄 মক্কা বিজয়ের পর বাড়ির মালিকানা প্রসঙ্গ


তারপর যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) মক্কা জয় করলেন তখন আবু আহমদ তাঁদের বাড়ি সম্পর্কে তাঁর সঙ্গে আলাপ করলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) জবাব দানে একটু দেরী করলেন। তখন লোকে আবু আহমদকে বলল: রাসূলুল্লাহ্ (সা) একথা অপসন্দ করছেন যে, আল্লাহর রাহে তোমরা যে সম্পদ হারিয়েছ, তার কিছু অংশও তোমরা ফিরিয়ে নাও। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে আলাপ থেকে বিরত রইলেন এবং আবু সুফইয়ানকে লক্ষ্য করে বললেন:
ابلغ ابا سفيان عن * امر عواقبه ندامه دار ابن عمك بعتها * تقضى بها عنك الغرامه وحليفكم بالله رب * الناس مجتد القسامه اذهب بها اذهب بها * طوقتها طوق الحمامه
"আবু সুফিয়ানকে পৌঁছে দাও এ সংবাদ যা করেছ পশ্চাতে তার লজ্জা এবং মনস্তাপ বিক্রি তুমি করলে আপন চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি ঋণ আদায়ের জন্যে তুমি করলে বেজায় বাড়াবাড়ি কসম আল্লাহর যিনি প্রভু গোটা বিশ্ব মানব তরে মিত্ররা তোমাদের চেষ্টিত সদা কাসামতের তরে নিয়ে যাও তাহা নিয়ে যাও ওহে তবুও ফুল্ল ও সুখী থাকো কবুতরের মাল্যের মতো গলায় তাহা ঝুলিয়ে রাখো।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00