📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কুবা থেকে বেরিয়ে মদীনা শরীফের দিকে রওয়ানা
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা তাঁদের মধ্য থেকে শুক্রবার দিন তাঁকে বের করে নেন অথচ বনূ আমর ইব্ন আওফের লোকেরা দাবি করেন যে, তিনি তাঁদের মধ্যে আরো বেশিকাল অবস্থান করেছিলেন। আল্লাহই এ সম্পর্কে সমধিক অবগত যে, আসলে কি ঘটেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর জুমুআ আদায় হয় বনূ সালিম ইব্ন আওফের পল্লীতে। তিনি ওয়াদী তথা রানূনা প্রান্তরের মসজিদে মদীনার প্রথম জুমুআ আদায় করেন।
📄 সব গোত্রই তাঁদের নিজ নিজ গোত্রে তাঁকে অবতরণের আবেদন জানান
তখন উদ্বান ইবন মালিক ও আব্বাস ইবন উবাদা ইব্ন নাযলা বনূ সালিম ইব্ আওফের কতিপয় লোকসহ উপস্থিত হয়ে আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাদের মধ্যে অবস্থান করুন-যেখানে জনবল, ধনবল, মান-সম্ভ্রম ও নিরাপত্তা রয়েছে। তিনি তাঁর উষ্ট্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন: এর পথ ছেড়ে দাও। কেননা এটি (আল্লাহ্র পক্ষ থেকে) আদিষ্ট। তখন তাঁরা তার পথ ছেড়ে দিলেন। উষ্ট্রী মুক্তভাবে এগোতে লাগল। যখন সেটি বায়াযা গোত্রের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন যিয়াদ ইন্ন লবীদ ও ফারওয়া ইব্ন আমর, বায়াযা গোত্রের কতিপয় লোকসহ উপস্থিত হয়ে আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমাদের গোত্রে আপনি উঠুন-জনবল, ধনবল, মান-সম্ভ্রম ও নিরাপত্তা সবই আমাদের গোত্রে রয়েছে।
তিনি বললেন: "তোমরা এর পথ ছেড়ে দাও। কেননা, এটি রীতিমত আদিষ্ট।" তাঁরাও উষ্ট্রীর পথ ছেড়ে সরে দাঁড়ালেন। উষ্ট্রী আবার মুক্তভাবে এগোতে লাগল। যখন সেটি সা'ইদা গোত্রের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন সা'দ ইবন উবাদা ও মুনযির ইবন Amr সা'ইদা গোত্রের কতিপয় লোকসহ উপস্থিত হয়ে আরয করলেন: "ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাদের কাছে আসুন-যেখানে আছে জনবল, ধনবল, মান-সম্ভ্রম, পূর্ণ নিরাপত্তা।" জবাবে তিনি (সা) বললেন: "তোমরা উষ্ট্রীর পথ ছেড়ে দাও। কেননা, এটি রীতিমত আদিষ্ট (হয়ে চলছে)।" তখন তাঁরাও পথ ছেড়ে দাঁড়ালেন। উষ্ট্রীটি আবার তার ইচ্ছামতো এগিয়ে যেতে লাগল। যখন উষ্ট্রীটি বনূ হারিস ইব্ন খাযরাজ গোত্রের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন সা'দ ইব্ন রবী', খারিজা ইব্ন যায়দ ও আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা তাঁদের হারিস গোত্রের কতিপয় লোকজন নিয়ে উপস্থিত হয়ে আরয করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমাদের কাছে চলে আসুন-যেখানে রয়েছে জনবল, ধনবল, মান-সম্ভ্রম ও পূর্ণ নিরাপত্তা!"
জবাবে তিনি বললেন: "তোমরা এর পথ ছেড়ে দাও। কেননা, এটি রীতিমত আদিষ্ট।" তখন তাঁরাও উষ্ট্রীটির পথ ছেড়ে দাঁড়ালেন। উষ্ট্রীটি আবার মুক্তভাবে এগিয়ে চলল। যখন সেটি আদী ইব্ন নাজ্জার গোত্রের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিল, আর এঁরা ছিলেন আবদুল মুত্তালিবের মাতা সালমা বিন্ত 'আমর তাঁদের একজন কন্যা হিসাবে তাঁর নিকটাত্মীয়-মামার পক্ষের লোকজন-তাঁদের পক্ষ থেকে সালীত ইব্ন কায়স, আবু সালীত ও উসায়রা ইব্ন আবূ খারীজা ও বনূ আদী ইব্ নাজ্জারের কতিপয় লোকসহ উপস্থিত হয়ে আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার মাতুলদের গোত্রে এসে উঠুন! এখানে জনবল, ধনবল, মান-সম্ভ্রম ও নিরাপত্তা সবই আছে। জবাবে তিনি বলল: "আপনারা উষ্ট্রীটির পথ ছেড়ে দিন। কেননা, এটি রীতিমত আদিষ্ট।" তখন তারাও তার পথ ছেড়ে দাঁড়ালেন আর সে পূর্বের মতো বাধাবন্ধনহীনভাবে এগিয়ে চলল।
📄 উষ্ট্রী যেখানে থামল
তারপর যখন উষ্ট্রীটি মালিক ইব্ন নাজ্জার গোত্রের নিকট আসল, তখন মসজিদে নববীর কাছে এসে সেটি থেমে গেল। তখন তা ছিল নাজ্জার গোত্রের শাখাগোত্র মালিক ইব্ন নাজ্জার গোত্রের দু'টি ইয়াতীম বালকের মালিকানাধীন খেজুর শুকাবার একটি খলা। আর ঐ বালক দু'টি ছিল মু'আয ইব্ন আফ্রার প্রতিপালনাধীনে। এরা দু'জন ছিল আমরের পুত্রদ্বয় সাহল ও সুহায়ল। যখন উটনীটি বসল, আর রাসূলুল্লাহ্ (সা) অবতরণ করলেন না বা তার লাগামও টেনে ধরলেন না, তখন সে অল্প কিছুদূর এগিয়ে গেল, তারপর পিছনের দিকে ফিরে তাকাল এবং প্রথমে যেখানে এসে বসেছিল, সেই খেজুর শুকানোর খলায় আবার ফিরে গেল এবং গা ঝাড়া দিয়ে সেখানেই বসে পড়ল ও ঘাড় এলিয়ে দিল-যাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) অবতরণ করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার পিঠ থেকে অবতরণ করলেন।
📄 মদীনায় মসজিদ নির্মাণ
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে মসজিদ নির্মাণের আদেশ দিলেন। মসজিদ ও তাঁর বাসস্থান নির্মাণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি আবু আইয়ুব (রা)-এর বাড়িতেই অবস্থান করেন। ঐ নির্মাণ কাজে রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজে অংশগ্রহণ করেন এবং মুসলমানদেরকে সে কাজে অংশগ্রহণের উৎসাহ প্রদান করেন। ফলে আনসার ও মুহাজির সকলেই নির্মাণকাজে যোগ দেন। মুসলমানদের মধ্যকার এক ব্যক্তি তখন এ স্ব-রচিত চরণটি আবৃত্তি করেন: لَذاكَ مِنَّا العَمَلَ المُضَلَّل لَئِن قَعَدنَا وَالنَّبِيُّ يعمل "আমরা যদি বসে থাকি (আর) নবী (সা) করেন কাজ এ যে চরম ভ্রান্তি হবে, হবে বিষম লাজের কাজ।" মুসলমানরা নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে সমস্বরে ধুয়া ধরলেন: اللَّهُمَّ أَرْحَمِ الْأَنصَارَ وَالمُهَاجِرَ لا عيش الأ عيش الآخرة "আয়েশ-আরাম আখিরাতে (দুনিয়ায় তা আছে কিরে?) রহম কর আল্লাহ্ তুমি আনসারে আর মুহাজিরে!" ইবন হিশাম (র) বলেন: এটি ছিল একটি পংক্তিমাত্র, ধুয়া নয়। ইবন ইসহাক (র) বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-ও বলছিলেন: اللهم ارحم لمهاجرين والانصار لاعيش الا عيش الآخرة "আয়েশ যত আখিরাতে (দুনিয়ায় তা আছে কিরে?) দয়া কর আল্লাহ্ তুমি মুহাজিরীন ও আনসারে।"