📄 ইন্ন হুনায়ফ ও তার মূর্তি বিনাশ করা
হযরত আলী ইব্ন আবু তালিব (রা) এক রাত বা দু'রাত কুবায় অবস্থান করেন। তিনি বলতেন: কুবায় এক মুসলমান বিধবা বাস করত।
তিনি বলেন: গভীর রাতে তার দরজায় একটি লোক এসে করাঘাত করত। মহিলাটি তখন বের হত আর পুরুষটি তার হাতে কী যেন দিত। মহিলাটি তা গ্রহণ করত। আমি লোকটির ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে উঠলাম। তখন মহিলাটিকে বললাম, হে আল্লাহর দাসী! এই যে প্রতি রাতে তোমার দরজায় এসে করাঘাত করে আর তুমি বের হয়ে তার কাছে যাও আর সে তোমাকে কিছু দান করে, আমি জানি না তা কি, অথচ তুমি একজন মুসলিম বিধবা। জবাবে মহিলাটি বলল: উনি হচ্ছেন সাহল ইবন হুনায়ফ ইব্ন্ন ওয়াহিব। তিনি জানেন, আমি একজন নিঃস্ব অবলা নারী, আমাকে সাহায্য করার কেউ নেই। রাত হলে তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের মূর্তিশালায় ঢুকে তা ভেঙ্গেচুরে আমার কাছে নিয়ে আসেন এবং বলেন: এই নাও, এটা' পুড়িয়ে রান্নাবান্না করো। সাহল ইবন হুনায়ফ যখন ইরাকে নিহত হন, তখন আলী (রা) তার এ মহানুভবতার কথা বর্ণনা করতেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে হযরত আলী (রা)-এর এ বর্ণনার কথা হিন্দ ইব্ন সা'দ ইব্ন সাহল ইব্ন হুনায়ফ (রা) বর্ণনা করেন।
📄 কুবার মসজিদ প্রতিষ্ঠা
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ কুবায় বনূ আমর ইব্ন আওফের পল্লীতে সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার অবস্থান করেন এবং তাঁর মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কুবা থেকে বেরিয়ে মদীনা শরীফের দিকে রওয়ানা
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা তাঁদের মধ্য থেকে শুক্রবার দিন তাঁকে বের করে নেন অথচ বনূ আমর ইব্ন আওফের লোকেরা দাবি করেন যে, তিনি তাঁদের মধ্যে আরো বেশিকাল অবস্থান করেছিলেন। আল্লাহই এ সম্পর্কে সমধিক অবগত যে, আসলে কি ঘটেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর জুমুআ আদায় হয় বনূ সালিম ইব্ন আওফের পল্লীতে। তিনি ওয়াদী তথা রানূনা প্রান্তরের মসজিদে মদীনার প্রথম জুমুআ আদায় করেন।
📄 সব গোত্রই তাঁদের নিজ নিজ গোত্রে তাঁকে অবতরণের আবেদন জানান
তখন উদ্বান ইবন মালিক ও আব্বাস ইবন উবাদা ইব্ন নাযলা বনূ সালিম ইব্ আওফের কতিপয় লোকসহ উপস্থিত হয়ে আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাদের মধ্যে অবস্থান করুন-যেখানে জনবল, ধনবল, মান-সম্ভ্রম ও নিরাপত্তা রয়েছে। তিনি তাঁর উষ্ট্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন: এর পথ ছেড়ে দাও। কেননা এটি (আল্লাহ্র পক্ষ থেকে) আদিষ্ট। তখন তাঁরা তার পথ ছেড়ে দিলেন। উষ্ট্রী মুক্তভাবে এগোতে লাগল। যখন সেটি বায়াযা গোত্রের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন যিয়াদ ইন্ন লবীদ ও ফারওয়া ইব্ন আমর, বায়াযা গোত্রের কতিপয় লোকসহ উপস্থিত হয়ে আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমাদের গোত্রে আপনি উঠুন-জনবল, ধনবল, মান-সম্ভ্রম ও নিরাপত্তা সবই আমাদের গোত্রে রয়েছে।
তিনি বললেন: "তোমরা এর পথ ছেড়ে দাও। কেননা, এটি রীতিমত আদিষ্ট।" তাঁরাও উষ্ট্রীর পথ ছেড়ে সরে দাঁড়ালেন। উষ্ট্রী আবার মুক্তভাবে এগোতে লাগল। যখন সেটি সা'ইদা গোত্রের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন সা'দ ইবন উবাদা ও মুনযির ইবন Amr সা'ইদা গোত্রের কতিপয় লোকসহ উপস্থিত হয়ে আরয করলেন: "ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাদের কাছে আসুন-যেখানে আছে জনবল, ধনবল, মান-সম্ভ্রম, পূর্ণ নিরাপত্তা।" জবাবে তিনি (সা) বললেন: "তোমরা উষ্ট্রীর পথ ছেড়ে দাও। কেননা, এটি রীতিমত আদিষ্ট (হয়ে চলছে)।" তখন তাঁরাও পথ ছেড়ে দাঁড়ালেন। উষ্ট্রীটি আবার তার ইচ্ছামতো এগিয়ে যেতে লাগল। যখন উষ্ট্রীটি বনূ হারিস ইব্ন খাযরাজ গোত্রের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন সা'দ ইব্ন রবী', খারিজা ইব্ন যায়দ ও আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা তাঁদের হারিস গোত্রের কতিপয় লোকজন নিয়ে উপস্থিত হয়ে আরয করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমাদের কাছে চলে আসুন-যেখানে রয়েছে জনবল, ধনবল, মান-সম্ভ্রম ও পূর্ণ নিরাপত্তা!"
জবাবে তিনি বললেন: "তোমরা এর পথ ছেড়ে দাও। কেননা, এটি রীতিমত আদিষ্ট।" তখন তাঁরাও উষ্ট্রীটির পথ ছেড়ে দাঁড়ালেন। উষ্ট্রীটি আবার মুক্তভাবে এগিয়ে চলল। যখন সেটি আদী ইব্ন নাজ্জার গোত্রের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিল, আর এঁরা ছিলেন আবদুল মুত্তালিবের মাতা সালমা বিন্ত 'আমর তাঁদের একজন কন্যা হিসাবে তাঁর নিকটাত্মীয়-মামার পক্ষের লোকজন-তাঁদের পক্ষ থেকে সালীত ইব্ন কায়স, আবু সালীত ও উসায়রা ইব্ন আবূ খারীজা ও বনূ আদী ইব্ নাজ্জারের কতিপয় লোকসহ উপস্থিত হয়ে আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার মাতুলদের গোত্রে এসে উঠুন! এখানে জনবল, ধনবল, মান-সম্ভ্রম ও নিরাপত্তা সবই আছে। জবাবে তিনি বলল: "আপনারা উষ্ট্রীটির পথ ছেড়ে দিন। কেননা, এটি রীতিমত আদিষ্ট।" তখন তারাও তার পথ ছেড়ে দাঁড়ালেন আর সে পূর্বের মতো বাধাবন্ধনহীনভাবে এগিয়ে চলল।