📄 আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর কুবায় উপস্থিতি
আবূ বকর সিদ্দীক (রা) উঠেন খুবায়ব ইব্ন ইসাফের বাড়িতে সুনাহ নামক স্থানে। ইনি ছিলেন বনূ হারিস ইব্ন খাযরাজ গোত্রের লোক। আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা) মক্কায় তিন দিন তিন রাত অবস্থান করে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পক্ষ থেকে গচ্ছিত দ্রব্যাদি মালিকদের হাতে প্রত্যর্পণ করেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে গিয়ে মিলিত হন। তিনিও গিয়ে তাঁর সাথে কুলসূম ইব্ন হিদামের বাড়িতে পৌঁছেন।
📄 ইন্ন হুনায়ফ ও তার মূর্তি বিনাশ করা
হযরত আলী ইব্ন আবু তালিব (রা) এক রাত বা দু'রাত কুবায় অবস্থান করেন। তিনি বলতেন: কুবায় এক মুসলমান বিধবা বাস করত।
তিনি বলেন: গভীর রাতে তার দরজায় একটি লোক এসে করাঘাত করত। মহিলাটি তখন বের হত আর পুরুষটি তার হাতে কী যেন দিত। মহিলাটি তা গ্রহণ করত। আমি লোকটির ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে উঠলাম। তখন মহিলাটিকে বললাম, হে আল্লাহর দাসী! এই যে প্রতি রাতে তোমার দরজায় এসে করাঘাত করে আর তুমি বের হয়ে তার কাছে যাও আর সে তোমাকে কিছু দান করে, আমি জানি না তা কি, অথচ তুমি একজন মুসলিম বিধবা। জবাবে মহিলাটি বলল: উনি হচ্ছেন সাহল ইবন হুনায়ফ ইব্ন্ন ওয়াহিব। তিনি জানেন, আমি একজন নিঃস্ব অবলা নারী, আমাকে সাহায্য করার কেউ নেই। রাত হলে তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের মূর্তিশালায় ঢুকে তা ভেঙ্গেচুরে আমার কাছে নিয়ে আসেন এবং বলেন: এই নাও, এটা' পুড়িয়ে রান্নাবান্না করো। সাহল ইবন হুনায়ফ যখন ইরাকে নিহত হন, তখন আলী (রা) তার এ মহানুভবতার কথা বর্ণনা করতেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে হযরত আলী (রা)-এর এ বর্ণনার কথা হিন্দ ইব্ন সা'দ ইব্ন সাহল ইব্ন হুনায়ফ (রা) বর্ণনা করেন।
📄 কুবার মসজিদ প্রতিষ্ঠা
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ কুবায় বনূ আমর ইব্ন আওফের পল্লীতে সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার অবস্থান করেন এবং তাঁর মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কুবা থেকে বেরিয়ে মদীনা শরীফের দিকে রওয়ানা
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা তাঁদের মধ্য থেকে শুক্রবার দিন তাঁকে বের করে নেন অথচ বনূ আমর ইব্ন আওফের লোকেরা দাবি করেন যে, তিনি তাঁদের মধ্যে আরো বেশিকাল অবস্থান করেছিলেন। আল্লাহই এ সম্পর্কে সমধিক অবগত যে, আসলে কি ঘটেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর জুমুআ আদায় হয় বনূ সালিম ইব্ন আওফের পল্লীতে। তিনি ওয়াদী তথা রানূনা প্রান্তরের মসজিদে মদীনার প্রথম জুমুআ আদায় করেন।