📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কুবায় অবতরণ
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) লোকজনের বর্ণনা অনুসারে কুলসুম ইব্ন হিদামের ওখানে উঠেন-যিনি ইবন আমর ইব্ন আওফের লোক। তারপর ইবন উবায়দের একজনের ঘরে। কেউ কেউ বলেন: বরং তিনি সা'দ ইব্ন খায়সামার বাড়িতে উঠেন। যাঁরা বলেন, তিনি কুলসুম ইবন হিদামের বাড়িতে উঠেছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) কুলসুম ইব্ন হিদামের বাড়ি থেকে বের হয়ে লোকজনকে নিয়ে তাশরীফ রাখেন সা'দ ইব্ন খায়সামার ঘরে। আর এটা তিনি এজন্য করেছিলেন যে, তিনি ছিলেন চিরকুমার, তার পরিবার বলতে কিছু ছিল না, আর এটা ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর অবিবাহিত মুহাজির সাহাবীদের অবতরণস্থল।' এজন্যেই বলা হয়ে থাকে যে, তিনি সা'দ ইবন খায়সামার বাড়িতে উঠেছিলেন। সা'দ ইব্ন খায়সামার বাড়িকে 'চিরকুমার সদন' বলা হত। এর কোন্টি হয়েছিল তা আল্লাহই সম্যক অবহিত। আমরা উভয়রূপই শুনেছি।
টিকা:
১. রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মদীনায় উপস্থিতির তারিখ ও দিন ১২ই রবীউল আউয়াল। ইব্ন ইসহাক ছাড়া অন্যরা বলেছেন তারিখটা ছিল ৮ই রবীউল আউয়াল। ইবনুল কালবী বলেন: গুহা থেকে বেরিয়ে ছিলেন ১লা রবীউল আউয়াল সোমবার এবং মদীনায় প্রবেশ করেন ১২ রবীউল আউয়াল শুক্রবারে। আর বায়'আতে 'আকাবা হয়েছিল আইয়ামে তাশরীকের মধ্যবর্তী দিনে। শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ তদীয় 'সুরূরুল মাহয়ূনে' ৮ তারিখকেই সমর্থন করেছেন। ১২ তারিখকে তিনি মদীনায় পদার্পণের তারিখরূপে মানেন নি। খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডার হিসাবে তারিখটি ছিল ২৩শে সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রি. -রাহমাতুলিল আলামীন
২. কুলসুমের কুলপঞ্জী এরূপ: কুলসূম ইবন হিদাম ইব্ন ইমরাউল কায়স ইবন হারিস ইব্ন যায়দ ইবন মালিক ইব্ন আওফ ইব্ন আমর ইব্ন আওফ ইব্ন মালিক ইব্ন আওস। তিনি ছিলেন একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি। নবী করীম (সা)-এর মদীনায় পদার্পণের পর সর্বপ্রথম আনসারদের মধ্যে তিনিই ইন্তিকাল করেছিলেন। তারপর আস'আদ ইবন যুরারা ও সা'দ ইবন খায়সামা কিছুদিন পর ইন্তিকাল করেন। তাঁর বাটীকে 'চিরকুমার ভবন' বলা হত।
📄 আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর কুবায় উপস্থিতি
আবূ বকর সিদ্দীক (রা) উঠেন খুবায়ব ইব্ন ইসাফের বাড়িতে সুনাহ নামক স্থানে। ইনি ছিলেন বনূ হারিস ইব্ন খাযরাজ গোত্রের লোক। আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা) মক্কায় তিন দিন তিন রাত অবস্থান করে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পক্ষ থেকে গচ্ছিত দ্রব্যাদি মালিকদের হাতে প্রত্যর্পণ করেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে গিয়ে মিলিত হন। তিনিও গিয়ে তাঁর সাথে কুলসূম ইব্ন হিদামের বাড়িতে পৌঁছেন।
📄 ইন্ন হুনায়ফ ও তার মূর্তি বিনাশ করা
হযরত আলী ইব্ন আবু তালিব (রা) এক রাত বা দু'রাত কুবায় অবস্থান করেন। তিনি বলতেন: কুবায় এক মুসলমান বিধবা বাস করত।
তিনি বলেন: গভীর রাতে তার দরজায় একটি লোক এসে করাঘাত করত। মহিলাটি তখন বের হত আর পুরুষটি তার হাতে কী যেন দিত। মহিলাটি তা গ্রহণ করত। আমি লোকটির ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে উঠলাম। তখন মহিলাটিকে বললাম, হে আল্লাহর দাসী! এই যে প্রতি রাতে তোমার দরজায় এসে করাঘাত করে আর তুমি বের হয়ে তার কাছে যাও আর সে তোমাকে কিছু দান করে, আমি জানি না তা কি, অথচ তুমি একজন মুসলিম বিধবা। জবাবে মহিলাটি বলল: উনি হচ্ছেন সাহল ইবন হুনায়ফ ইব্ন্ন ওয়াহিব। তিনি জানেন, আমি একজন নিঃস্ব অবলা নারী, আমাকে সাহায্য করার কেউ নেই। রাত হলে তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের মূর্তিশালায় ঢুকে তা ভেঙ্গেচুরে আমার কাছে নিয়ে আসেন এবং বলেন: এই নাও, এটা' পুড়িয়ে রান্নাবান্না করো। সাহল ইবন হুনায়ফ যখন ইরাকে নিহত হন, তখন আলী (রা) তার এ মহানুভবতার কথা বর্ণনা করতেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে হযরত আলী (রা)-এর এ বর্ণনার কথা হিন্দ ইব্ন সা'দ ইব্ন সাহল ইব্ন হুনায়ফ (রা) বর্ণনা করেন।
📄 কুবার মসজিদ প্রতিষ্ঠা
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ কুবায় বনূ আমর ইব্ন আওফের পল্লীতে সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার অবস্থান করেন এবং তাঁর মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন।