📄 উম্মু মা'বাদ-এর বংশ লতিকা
ইবন হিশাম বলেন: উম্মু মা'বাদ হচ্ছেন কা'ব গোত্রের কা'বের কন্যা। আর বনূ কা'ব খুজা'আ গোত্রের শাখা-গোত্র।
আর حلا خيمتي وتروحا بالبر نزلا هما
📄 হিজরতের পর আবূ বকর (রা) পরিবারের ভূমিকা
ইবন ইসহাক বলেন: আসমা বিন্ত আবূ বকর (রা) বলেন: আমরা যখন তার কথা শ্রবণ করলাম, তখনই জানতে পারলাম যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) কোন্দিকে যাত্রা করেছেন। তিনি আসলে মদীনা শরীফের দিকেই রওয়ানা করেছেন। কাফেলায় তাঁরা সর্বমোট চারজন ছিলেন: ১. রাসূলুল্লাহ্ (সা), ২. হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা), ৩. আমির ইব্ন ফুহায়রা—আবু বকরের আযাদকৃত দাস এবং ৪. আবদুল্লাহ্ ইব্ন আরকত—তাঁদের পথ-প্রদর্শক।
ইব্ন হিশাম বলেন: তাকে আবদুল্লাহ্ ইব্ন উরায়কিতও বলা হয়ে থাকে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আবদুল্লাহ্ ইব্ন যুবায়রের পৌত্র ইয়াহইয়া ইন্ন 'আব্বাদ বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা 'আব্বাদ তাঁর পিতামহী আসমা বিন্ত আবু বকরের প্রমুখাৎ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ বকর (রা) সমভিব্যাহারে মক্কা শরীফ থেকে বের হলেন, তখন আবূ বকর (রা) তাঁর সমস্ত সম্পদ সাথে নিয়ে যান। তখন তাঁর কাছে পাঁচ হাজার বা ছয় হাজার দিরহাম ছিল। তিনি সেগুলো সাথে নিয়ে যান।
আসমা বলেন: আমার দাদাজান আবু কুহাফা আমাদের ঘরে এলেন। তখন তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছে। তিনি বললেন: আল্লাহ্র কসম, আমি তো তাকে দেখছি না। নিশ্চয়ই সে সমস্ত ধন-সম্পদ নিয়ে গিয়ে তোমাদেরকে কষ্টে ফেলে দিয়েছে। আমি বললাম: কখনই নয় দাদাজান, তিনি আমাদের জন্য অনেক কল্যাণ রেখে গেছেন।
আসমা (রা) বলেন: তারপর আমি কতগুলো পাথর উঠিয়ে আমার পিতা যে তাকের উপর অর্থ-কড়ি রাখতেন তাতে রেখে কাপড় দিয়ে তা ঢেকে দিলাম। তারপর তাঁর হাত ধরে বললাম, আপনার হাত দিন দাদা, এর উপর হাত দিয়ে দেখুন। তখন তিনি সত্যি সত্যি হাত তার উপর রেখে দেখলেন আর বললেন: যাক, তা হলে আর কোন অসুবিধা হবে না। সে যখন তোমাদের জন্যে এগুলো রেখে গেছে, ভালই করেছে। এগুলোতে তোমাদের চলে যাবে। আসলে কিন্তু তিনি আমাদের জন্যে কিছুই রেখে যাননি। কিন্তু আমি এভাবে বৃদ্ধকে প্রবোধ দিতে চাইলাম।
📄 সুরাকা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পেছনে ধাওয়া করল
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে যুহরী বর্ণনা করেছেন, তাঁর কাছে আবদুর রহমান ইবন মালিক ইব্ন জু'শাম বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতার প্রমুখাৎ—তাঁর পিতা বর্ণনা করেছেন তাঁর চাচা সুরাকা ইবন মালিক ইবন জু'শামের প্রমুখাৎ-তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মদীনায় হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে বের হলেন, তখন কুরায়שরা ঘোষণা করল যে, যে ব্যক্তি তাঁকে ফিরিয়ে এনে দিতে পারবে, তাকে একশ' উট দ্বারা পুরস্কৃত করা হবে।
তিনি বলেন, আমি তখন আমাদের সম্প্রদায়ের এক বৈঠকে বসা ছিলাম। এমন সময় আমাদেরই এক ব্যক্তি আমাদের সম্মুখে এসে দাঁড়াল এবং বলল, আল্লাহর কসম, একটু আগেই আমার সম্মুখ দিয়ে তিনজন আরোহী অতিক্রম করল। আমার মনে হয়, এঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর সাথীরাই হবেন।
সুরাকা বলেন: তখন আমি চোখের ইঙ্গিতে তাকে চুপ করতে বললাম এবং মুখে বললাম, এরা অমুক গোত্রের লোক, তাদের হারানো পশু খুঁজতে এদিকে এসেছে। তখন ঐ ব্যক্তি বলল: হবেও বা। তারপর সে চুপ হয়ে গেল।
সুরাকা বলেন: তারপর আমি স্বল্পক্ষণ থামলাম। এরপর উঠে ঘরে গেলাম। তারপর মাঠের মধ্যে ঘাস খেতে দীর্ঘ রশি দিয়ে বাঁধা আমার ঘোড়াটি নিয়ে আসতে এবং আমার অস্ত্র দিতে বললাম যা আমার কক্ষের পেছন দিয়ে আমার জন্যে সঙ্গোপনে বের করা হল। তারপর আমি আমার শুভাশুভ নির্ণয়ের তীরটি হাতে নিলাম। তারপর বর্ম পরিধান করে বেরিয়ে পড়লাম। এ সময় তীর বের করে শুভাশুভ নির্ণয়ের চেষ্টা করলাম। তখন আমার অপসন্দনীয় তীরটিই বের হয়ে এল, যাতে বোঝা যায় যে, তাঁর [রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর] কোনই অনিষ্ট হবার নয়। আমার বড্ড আশা ছিল যে, তাঁকে ধরে এনে দিয়ে কুরায়শদের ঘোষিত পুরস্কার একশ'টি উটনী আদায় করব।
সুরাকা বলেন: তারপর আমি বাহনে চড়ে তাঁর পদচিহ্ন ধরে এগুতে লাগলাম। দৌড়াতে গিয়ে আমার ঘোড়াটি হোঁচট খেল। ফলে আমি পড়ে গেলাম। তখন আমি মনে মনে বললাম, ব্যাপার কি? তারপর তীর বের করে আমার ভাগ্য নির্ণয়ের চেষ্টা করলাম। আবার সেই অবাঞ্ছিত তীরটিই বেরিয়ে এল, যার মানে হল, তাঁর কোনই অনিষ্ট হবার নয়। আমি তখন মরিয়া হয়ে উঠলাম, যেভাবেই হোক আমি তাঁর পিছু ধাওয়া না করে ছাড়ছিনে। আবার ঘোড়ায় চড়ে তাঁর পিছু পিছু ছুটলাম। কিন্তু এবারও ঘোড়াটি হোঁচট খেল আর আমি মাটিতে নিক্ষিপ্ত হলাম। আমি মনে মনে বললাম, ব্যাপার কি? আবার তীর নিয়ে ভাগ্য নির্ণয়ের চেষ্টা করলাম কিন্তু এবারও সেই অবাঞ্ছিত তীরটি বেরিয়ে এল, যার অর্থ হল, তাঁর কোন অনিষ্ট হবার নয়।
সুরাকা বলেন: কিন্তু আমি মরিয়া হয়ে উঠলাম যে, যেভাবেই হোক, আমি তাঁর পশ্চাদ্ধাবন না করে ছাড়ছিনে। আবার ঘোড়ায় চড়ে তাঁকে অনুসরণ করতে লাগলাম। যখন তাঁরা আমার দৃষ্টিসীমার ভেতরে চলে এলেন, এমনি সময় আমার ঘোড়াটি আবারও হোঁচট খেল, তার সম্মুখের পা' দু'টি মাটিতে পুঁতে গেল এবং আমি তার উপর থেকে ভূতলে পতিত হলাম। যখন সে তার সম্মুখের পদদ্বয় টেনে বের করল, তখন ঘূর্ণি বাত্যার মতো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বেরিয়ে এল।
সুরাকা বলেন: তা দেখেই আমি আঁচ করতে পারলাম যে, তাঁকে আমার কবল থেকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে, আর এটা একান্তই স্পষ্ট।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর লিপি
সুরাকা বলেন: তখন আমি উচ্চস্বরে বললাম, আমি সুরাকা ইব্ন জু'শাম, আপনারা আমাকে সুযোগ দিন আমি আপনাদের সাথে কিছু আলাপ করতে চাই। আল্লাহ্র কস্ম, আমি আপনাদের সাথে কোনরূপ ছলনা করবনা অথবা আমার পক্ষ থেকে এমন কোন আচরণ পাবেন না যা আপনারা অপসন্দ করবেন।
সুরাকা বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবু বকরকে লক্ষ্য করে বললেন: তাকে জিজ্ঞেস কর, তুমি আমাদের কাছে কী চাও?
সুরাকা বলেন: আবূ বকর আমাকে তাই বললেন। আমি বললাম আমাকে একটি লিপি লিখে দিন। যা আমার ও আপনাদের মধ্যকার একটি নিদর্শন হয়ে থাকবে। তখন তিনি [রাসূলুল্লাহ্ (সা)] বললেন: একে একটি লিপি দিয়ে দাও হে আবু বকর!