📄 মুশরিকদের প্রতীক্ষা সম্পর্কে নাযিলকৃত আয়াত
ইবন ইসহাক বলেন : ঐদিন এবং তাঁর বিরুদ্ধে তাদের সমবেত প্রচেষ্টা সম্পর্কে কুরআন শরীফের যে সব আয়াত নাযিল হয় তার মধ্যে আছে :
وَإِذْ يَمْكُرُبِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِيُثْبِتُوكَ أَوْ يَقْتُلُوكَ أَوْ يُخْرِجُوكَ وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرٌ الْمَاكِرِينَ .
“হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা, যখন কাফিররা আপনার বিরুদ্ধে তাদের গোপন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল যাতে করে তারা আপনাকে বন্দী করতে পারে বা হত্যা করতে পারে অথবা দেশান্তর করতে পারে। তারা তাদের গোপন ষড়যন্ত্র আঁটছিল আর আল্লাহও তাঁর গোপন কৌশল আঁটছিলেন। আর গোপন কৌশল আঁটার ব্যাপারে আল্লাহই সর্বোত্তম।” (৮: ৩০)
এ ছাড়াও আল্লাহর বাণী:
أَمْ يَقُولُونَ شَاعِرٌ نَتَرَبَّصُ بِهِ رَيْبَ الْمَنُونِ - قُلْ تَرَبَّصُوا فَإِنِّي مَعَكُمْ مِّنَ الْمُتَرَبِّصِينَ
“তারা কি বলে, ইনি একজন কবি? আমরা তার মৃত্যুর প্রাদুর্ভাবের প্রতীক্ষায় আছি? হে রাসূল! আপনি বলুন, প্রতীক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষায় রইলাম। দেখা যাবে শেষফল কার ভাগ্যে জুটে।” (৫২: ৩০-৩১)
ইবন হিশাম (র) বলেন: المنون শব্দের অর্থ মৃত্যু এবং ريب المنون অর্থ মৃত্যুর প্রাদুর্ভাব বা মৃত্যুর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারাদি। আবূ যুয়ায়ব হুযালীর কবিতায় আছে:
أمن المنون وريبها تتوجع * والدهر ليس بمعتب من يجزع
“মৃত্যু ও তার প্রাদুর্ভাবের আশংকায় তুমি ব্যাকুল ও বেদনাহত? কিন্তু যুগচক্র যে কারো বিচলিত ভাব দর্শনে তার রুদ্ররোষ থেকে মুক্তি দেয় না।”
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা এই সময় তাঁর নবী (সা)-কে হিজরতের অনুমতি দান করেন।
📄 নবী করীম (রা)-এর সাথে হিজরত করার জন্য আবু বকর (রা)-এর আকাঙ্ক্ষা
ইবন ইসহাক বলেন: হযরত আবূ বকর (রা) ছিলেন একজন ধনী ব্যক্তি। তিনি যখন রাসূলুল্লাহ্-এর কাছে হিজরতের অনুমতি চাইলেন, তখন তিনি জবাবে বলেছিলেন:
لا تعجل لعل الله يجعل لك صاحبا
“তড়িঘড়ি করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাকে কোন সঙ্গী জুটিয়ে দেবেন।”
হযরত আবূ বকর (রা) মনে মনে আশা পোষণ করতে থাকেন যে, সেই কথিত সাথী যেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ হন। অর্থাৎ এ সাথী বলতে তিনি নিজেকেই বুঝিয়েছেন বলে তিনি ধরে নেন। তাই তিনি দু'টি সওয়ারীর উট কিনে তাঁর বাড়িতে বেঁধে রাখেন এবং হিজরতের প্রস্তুতি স্বরূপ এগুলোকে ঘাস পানি খাওয়াতে থাকেন।
📄 যারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হিজরতের সংবাদ জানতেন
ইবন ইসহাক বলেন: আমি যতদূর জানতে পেরেছি, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন রওয়ানা করে যান, তখন আলী ইব্ন আবু তালিব, আবু বকর সিদ্দীক এবং আবূ বকরের পরিবারবর্গ ছাড়া আর কেউ তা ঘুণাক্ষরেও জানত না। আলীকে তো আমার জানামতে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর রওয়ানা হয়ে যাওয়ার সংবাদ দিয়ে তাঁকে তাঁর প্রস্থানের পর মক্কা শরীফে অবস্থান করতে এবং তাঁর কাছে লোকের গচ্ছিত দ্রব্যসামগ্রী তাদের হাতে বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মক্কা শরীফে যার কাছেই এমন কোন দ্রব্য থাকত, যা হারানোর বা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকত, তা-ই তারা তাঁর কাছে গচ্ছিত রাখত। কেননা তাঁর বিশ্বস্ততা ও আমানতদারীর গুণটি ছিল সুবিদিত।
📄 হযরত আবূ বকর (রা)-এর সঙ্গে গিরিগুহায়
ইবন ইসহাক বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) মক্কা শরীফ থেকে রওয়ানা করতে মনস্থ করলেন, তখন তিনি আবু বকর ইব্ন আবু কুহাফার বাড়িতে আসলেন এবং আবু বকরের বাড়ির পশ্চাতের একটি খিড়কিদ্বার দিয়ে দু'জনে বেরিয়ে পড়লেন। তাঁরা সওর গিরিগুহার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। এটা ছিল মক্কার নিম্নাঞ্চলের একটি পাহাড়। তাঁরা উভয়ে তাতে প্রবেশ করলেন। আবু বকর তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে দিনের বেলা লোকে তাঁদের দু'জন সম্পর্কে কী বলাবলি করে তা শোনার এবং রাত্রে এসে ঐ দিনের খবরাদি পৌঁছিয়ে দিতে নির্দেশ দিল। তিনি তাঁর আযাদকৃত গোলাম আমির ইব্ন ফুহায়রাকে এ মর্মে নির্দেশ দেন যেন তিনি দিনের বেলা তাঁর বকরী চরাতে চরাতে সন্ধ্যা বেলা গিরিগুহায় তাঁদের কাছে এসে পৌঁছেন। আর আসমা বিন্ত আবূ বকর রাতের বেলা তাঁদের প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী নিয়ে তাঁদের কাছে আসতেন।
ইব্ন হিশাম বলেন: আমার কাছে জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি হাসান ইব্ন আবুল হাসান বসরী প্রমুখাৎ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও আবু বকর রাতের বেলায় গিয়ে গিরিগুহায় পৌঁছেন। প্রথমে আবূ বকর তাতে প্রবেশ করে গুহার এদিক-ওদিকে কোন হিংস্র শ্বাপদ আছে কিনা ভাল করে দেখে নেন। অর্থাৎ নিজের প্রাণকে বিপন্ন করে হলেও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিরাপত্তা বিধানের জন্যে তিনি সচেষ্ট হন।