📄 'উমর (রা)-এর হিজরত এবং তাঁর সঙ্গে আইয়াশ-এর কাহিনী
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর 'উমর ইবন খাত্তাব এবং আইয়াশ ইব্ন আবু রবী'আ মাখযূমী রওয়ানা হন এবং মদীনায় গিয়ে পৌঁছেন। আমার কাছে আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের আযাদকৃত দাস নাফি' (রা) আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা)-এর বরাতে আর তিনি তাঁর পিতা হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, যখন আমরা মদীনায় হিজরত করতে মনস্থ করলাম, তখন আমি ও আইয়াশ ইব্ন আবূ রবী'আ ও হিশাম ইব্ন আসী ইব্ন ওয়ায়ল সাহমী সিদ্ধান্তে পৌঁছলাম যে, আমারা সারিফ-এর ওপাশে আদাতে বনূ গাফ্ফার-এর নিকট কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ঝোঁপের কাছে মিলিত হব। এটাও স্থির হল যে, আমাদের মধ্যকার কোন একজন যদি সকালে সেখানে গিয়ে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়, তবে বুঝে নিতে হবে যে, তাকে বাধা দেয়া হয়েছে। তখন অপর দুই সাথী চলে যাবে। কথামত আমি ও আইয়াশ ইব্ন আবূ রবী'আ কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ঝোঁপের নিকট গিয়ে সকালে উপস্থিত হলাম, কিন্তু হিশাম বাধাগ্রস্ত হল সে অত্যন্ত জটিল সমস্যায় নিপতিত হল।
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর 'উমর ইবন খাত্তাব এবং আইয়াশ ইব্ন আবু রবী'আ মাখযূমী রওয়ানা হন এবং মদীনায় গিয়ে পৌঁছেন। আমার কাছে আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের আযাদকৃত দাস নাফি' (রা) আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা)-এর বরাতে আর তিনি তাঁর পিতা হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, যখন আমরা মদীনায় হিজরত করতে মনস্থ করলাম, তখন আমি ও আইয়াশ ইব্ন আবূ রবী'আ ও হিশাম ইব্ন আসী ইব্ন ওয়ায়ল সাহমী সিদ্ধান্তে পৌঁছলাম যে, আমারা সারিফ-এর ওপাশে আদাতে বনূ গাফ্ফার-এর নিকট কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ঝোঁপের কাছে মিলিত হব। এটাও স্থির হল যে, আমাদের মধ্যকার কোন একজন যদি সকালে সেখানে গিয়ে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়, তবে বুঝে নিতে হবে যে, তাকে বাধা দেয়া হয়েছে। তখন অপর দুই সাথী চলে যাবে। কথামত আমি ও আইয়াশ ইব্ন আবূ রবী'আ কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ঝোঁপের নিকট গিয়ে সকালে উপস্থিত হলাম, কিন্তু হিশাম বাধাগ্রস্ত হল সে অত্যন্ত জটিল সমস্যায় নিপতিত হল।
📄 আইয়াশ-এর সঙ্গে আবূ জালের আগমন
আমরা যখন মদীনা শরীফে গিয়ে পৌঁছলাম, আমর ইব্ন আওফ গোত্রের নিকট কুবায় অবতরণ করলাম। আবু জাহল ইব্ন হিশাম এবং হারিস ইবন হিশাম পিছু পিছু আইয়াশ ইব্ন আবূ রবী'আর কাছে মদীনায় এসে উপস্থিত হল। এরা দু'জন ছিল তাঁর চাচাতো এবং বৈপিত্রেয় ভাই। তারা যখন মদীনায় আমাদের নিকট এল, তখনো রাসূলুল্লাহ্ (সা) মক্কা শরীফে ছিলেন। তারা উভয়ে তার সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে বলল : তোমার মা তোমাকে না দেখা পর্যন্ত মাথায় চিরুণি লাগাবেন না এবং রৌদ্রের মধ্যে ছায়ার নিচে আশ্রয় নেবেন না বলে শপথ করেছেন। এ কথা শুনে তার অন্তর বিগলিত হল। তখন আমি তাকে বললাম, আল্লাহর কসম হে আইয়াশ! তোমার সম্প্রদায় তোমাকে তোমার দীন থেকে ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। তুমি এদের থেকে সতর্ক থাকবে। আল্লাহ্র কসম, তোমার মা যদি উকুনের দ্বারা বিব্রত হন, তবে অবশ্যই তিনি চিরুণির দ্বারা কেশ বিন্যাস করবেন। আর মক্কার রোদের উত্তাপ যদি তাঁকে পীড়া দেয়, তবে অবশ্যই তিনি ছায়ার আশ্রয় নেবেন।
জবাবে আইয়াש ইব্ন আবূ রবী'আ বলল, আমি আমার মায়ের শপথ পূর্ণ করে দেই আর সেখানে আমার কিছু ধন-সম্পদও রয়ে গেছে, তাও নিয়ে আসি। উমর (রা) বলেন, আমি তখন বললাম : তুমি নিশ্চয়ই জান যে, কুরায়শ বংশের মধ্যে আমার ধন-সম্পদ সর্বাধিক। তুমি তার অর্ধেকটা নিয়ে নাও, তবুও ওদের সাথে যেয়ো না।
'উমর (রা) বলেন: কিন্তু সে কোনমতেই আমার কথায় কান দিল না এবং তাদের সাথে যেতেই মনস্থ করল। যখন সে এ ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হল, তখন আমি তাকে বললাম, তুমি যখন যাবেই, তখন আমার এ উষ্ট্রীটি নিয়ে যাও। কেননা এটি অত্যন্ত ভাল জাতের উষ্ট্রী এবং অত্যন্ত প্রভুভক্ত, কোন বিপদ আঁচ করতে পারলেই তুমি তার পিঠে সওয়ার হয়ে চলে আসবে। সাবধান, এর পিঠ থেকে নামবে না কিন্তু।
আইয়াশ ইব্ন রবী'আ তাদের সঙ্গে ঐ উটনীর পিঠে সওয়ার হয়ে বেরিয়ে গেল। পথে এক জায়গায় এসে আবূ জাহ্ন বলল, আল্লাহর কসম ভাই, আমার এ উটনীর পিঠে বড্ড বেশি বোঝা চাপিয়ে দিয়েছি, কিছুক্ষণের জন্যে তুমি কি আমাকে তোমার উটনীটির পিঠে তোমার সাথে নিতে পারনা? সে বলল, অবশ্যই পারব, এই বলেই সে তার উটনীটিকে বসাল আর তারা উভয়ে তাদের উটনীকে বসাল—যাতে করে উটনী বদল করতে পারে। আর অমনি তারা উভয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারা তাকে বেঁধে নিল এবং আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা অবস্থায় তাকে নিয়ে তারা মক্কা শরীফে প্রবেশ করল। তারপর তারা তাকে নানাভাবে নির্যাতন করল।
📄 হিশাম ইব্ন আস-এর প্রতি হযরত উমর (রা)-এর পত্র
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমর (রা) সূত্রে নাফি' আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি (উমর) বলেন, আমরা বলাবলি করতাম, যারা (কাফিরদের) নির্যাতনের মুখে নতি-স্বীকার করে ফেলে, তাদের ফরয-নফল কোন ইবাদত ও তওবা আল্লাহ্ পাক কবুল করবেন না। তারা হচ্ছে ঐ সম্প্রদায়-যারা আল্লাহকে চিনেছে তারপর তাদের উপর আপতিত কঠিন পরীক্ষা ও বিপদ-আপদের জন্যে তারা কুফরীর দিকে ফিরে গেছে। তিনি (উমর) বলেন: তারা (সাহাবীরা) নিজেদের মধ্যে এরূপ আলাপ-আলোচনা করতেন। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে এবং আমাদের উক্তি ও তাদের নিজেদের উক্তির ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল করেন:
قُلْ يُعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا * إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ، وَانيبُوا إِلى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِنْ قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنْصَرُونَ . وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مِّنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَ انْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
"হে রাসূল! আপনি বলুন, 'হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ-আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হবে না; আল্লাহ্ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ কর তোমাদের নিকট শাস্তি আসার পূর্বে; তারপর তোমাদের সাহায্য করা হবে না।
অনুসরণ কর তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে উত্তম যা নাযিল করা হয়েছে তার, তোমাদের উপর অতর্কিতভাবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে শাস্তি আসার পূর্বে।" (৩৯ : ৫৩-৫৫)
উমর ইবন খাত্তাব (রা) বলেন: আমি স্বহস্তে তা পত্রস্থ করি এবং হিশাম ইব্ন আসের কাছে প্রেরণ করি।
রাবী বলেন, হিশাম ইব্ন আস (রা) বলেন: যখন আমার কাছে এ আয়াতগুলো এসে পৌঁছল, তখন আমি যূ-তাওয়ার উচ্চভূমি ও নিম্নভূমিতে তা তিলাওয়াত করতে করতে আরোহণ অবরোহণ করতে লাগলাম, কিন্তু তা কিছুই হৃদয়ংগম করতে পারছিলাম না। এমনকি আমি আল্লাহ্র দরবারে দু'আ করতে লাগলাম: হে আল্লাহ্! আমাকে এগুলোর মর্ম উপলব্ধি করার জ্ঞান দান কর!
তিনি বলেন, তারপর আল্লাহ্ তা'আলা আমার অন্তরে এ উপলব্ধি দান করলেন যে, এ আয়াতগুলো আসলে আমাদেরই উপলক্ষে নাযিল করা হয়েছে, সে ব্যাপারে যা আমরা নিজেদের সম্পর্কে বলাবলি করতাম আর লোকেও আমাদের সম্পর্কে এরূপ বলাবলি করত। তিনি বলেন, তখন আমি আমার উটের দিকে অগ্রসর হলাম, তার পিঠে আরোহণ করলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে হাযির হলাম। আর তিনি তখন মদীনা শরীফে অবস্থান করছিলেন।
📄 ওয়ালীদ ইব্ন ওয়ালীদের মক্কা শরীফ গমন
ইব্ন হিশাম বলেন: এমন এক ব্যক্তি আমার কাছে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যাঁকে আমি বিশ্বাস করি। রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় থাকা অবস্থায় বললেন: من لي بعياش ابن أبي ربيعة وهشام بن العاصي "আইয়াশ ইব্ন আবূ রবী'আ এবং হিশাম ইব্ন আসকে আমার কাছে নিয়ে আসার জন্যে কে প্রস্তুত আছ?"
ওয়ালীদ ইব্ন ওয়ালীদ ইব্ন মুগীরা দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাদের দু'জনকে আপনার কাছে নিয়ে আসার জন্যে প্রস্তুত।
তখন তিনি মক্কার পথে রওয়ানা হয়ে গেলেন। তিনি আত্মপরিচয় গোপন করে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলেন। সেখানে তিনি খাদ্য বহনকারিণী এক মহিলার সাক্ষাৎ পেলেন। তিনি মহিলাটিকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আল্লাহর বান্দী, তুমি যাচ্ছ কোথায়? সে বলল-ঐ দু'টি বন্দীর উদ্দেশ্যে। বলে সে ঐ দু'জনের দিকেই ইঙ্গিত করল। তিনি তার পিছু পিছু গেলেন এবং জায়গাটি চিনে নিলেন। তাঁরা দু'জন তখন এমন একটি ঘরে বন্দী ছিলেন, যার ছাদ ছিল না। তারপর সন্ধ্যা হলে তিনি প্রাচীর ডিঙিয়ে তাঁদের কাছে গিয়ে উপনীত হলেন। তারপর একটি পাথর তুলে নিয়ে তাঁদের দু'জনের শৃঙ্খলের নিচে তা রাখলেন। তারপর তরবারির আঘাতে তাদের শিকল ছিন্ন করলেন। এ জন্যই তার তারবারিকে যুল-মারওয়া বলা হত। তারপর ঐ দু'জনকে তাঁর উটের পিঠে চড়িয়ে তাঁদেরকে নিয়ে চললেন। ঐ সময় তাঁর পায়ের অঙ্গুলি হোঁচট খেয়ে রক্তাক্ত হয়ে যায়। তিনি বলে উঠলেন: هل انت الا اصبع دميت * وفي سبيل الله ما لقيت "হে অঙ্গুলি, তুমি তো অঙ্গুলি বৈ-নও, তুমি রক্তাক্ত হয়েছ, তোমার এ কষ্টটুকু তুমি আল্লাহ্ পথেই লাভ করেছ।"
তারপর তিনি উভয়কে নিয়ে মদীনা শরীফে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে হাযির হলেন।