📄 আবূ আহমদ ইব্ন জাহশের কবিতা
আবূ আহমদ ইব্ন জাহশ ইব্ন রি'আব হিজরতের আহবান পাওয়ামাত্র আসাদ ইব্ খুযায়মা গোত্রের তাদের স্বজাতির নিকট থেকে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করে যাওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন (কবিতা): "উম্মু আহমদ (কবির স্ত্রী) যদি সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে আল্লাহর নামে কোন শপথ বাক্য উচ্চারণ করে, তা হলে সে তার শপথ অবশ্যই পূর্ণ করবে। আমরা ছিলাম সেই গোষ্ঠী যারা মক্কায়ই ছিলাম-যাবৎ না আমাদের স্থূলকায়রা ক্ষীণকায় হয়ে যায়- আমরা অবিরতভাবে সেখানেই বসবাস করে যাই। ওখানেই তাঁবু স্থাপন করে বসবাস শুরু করেছিলেন (আমাদের পূর্বপুরুষ) গানন্ম ইন্ন দূদান। তারপর রীতিমত তিনি সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন (তাঁর বংশধররা এখানে স্থায়ী বসতি স্থাপন করে) তারপর গানন্ম গোত্র সেখান থেকে ঊষালগ্নে বেরিয়ে পড়ে এবং তাদের যাত্রা সহজতর হয়ে যায়। এক-একজন দু'-দু'জন করে তারা আল্লাহর দিকে (হিজরত করে) চলেছেন। আল্লাহর রাসূলের সত্য দীন এখন তাদের দীন।"
আবু আহমদ ইব্ন জাহশ আরো বলেন (কবিতা): "উম্মু আহমদ যখন প্রত্যক্ষ করল যে, সেই সত্তার ভরসায় আমি সফরের জন্য উদ্যত যাঁকে আমি না দেখেই ভয় করি এবং কম্পিত হই, তখন সে বলে, একান্ত যদি তুমি সফরই করবে, তাহলে ইয়াসরিব থেকে দূরে অন্য কোন শহরে আমাদেরকে নিয়ে চল। জবাবে আমি তাকে বললাম: না হে! বরং ইয়াসরিবই আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যস্থল আর পরম করুণাময় যা চান বান্দা তাই করে থাকে। আমার চেহারা (মনোযোগ) আল্লাহ্ ও রাসূলের দিকেই নিবিষ্ট। আর তাঁর দিকে যার চেহারা নিবিষ্ট থাকে, সে কখনো ব্যর্থকাম হয় না। আমরা কত অন্তরঙ্গ বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অশ্রুবিসর্জনকারিণী ও আর্তবিলাপকারিণী বান্ধবীদেরকে ছেড়ে এসেছি। তারা ধারণা করে, আমরা আমাদের শহর থেকে দূরে চলে যাচ্ছি রক্তপণের সন্ধানে আর আমাদের বিবেচনায় আমরা আমাদের অভীষ্টের দিকেই এগিয়ে চলেছি।
আমি গান গোত্রকে তাদের প্রাণ রক্ষার জন্যে এবং সত্যের দিকে আহবান জানিয়েছি- যখন লোকের জন্যে সত্য সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
আল্লাহ্র প্রশংসা যে, যখন আহবানকারী তাদেরকে সত্যের দিকে, মুক্তির দিকে আহবান জানিয়েছেন, তখন তারা পূর্ণোদ্যমে সে আহবানে সাড়া দিয়েছে।
আমাদের এবং আমাদের ঐ বন্ধুদের যারা সত্যপথ থেকে দূরে রয়েছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে অন্যদেরকে সাহায্য করেছে ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করেছে তাদের দৃষ্টান্ত হল- এমন দুটো বাহিনী-যাদের একদলের সত্যকে গ্রহণের তাওফীক জুটেছে ও তারা সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে, আর অপর দল শাস্তি পেয়েছে।
তারা অবাধ্যাচরণ করেছে এবং মিথ্যা আশার মরীচিকার পেছনে ছুটেছে। ইবলীস শয়তান তাদেরকে সত্য থেকে বিভ্রান্ত পদস্খলিত করেছে, ফলশ্রুতিতে তারা হতাশ এবং বঞ্চনার শিকার হয়েছে।
আমরা নবী মুহাম্মদ (সা)-এর বাণীর দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়েছি। আমাদের মধ্যকার সত্যের পৃষ্ঠপোষকতাকারীরা পবিত্রতা অর্জন করেছে এবং তাদেরকে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
আমরা নৈকট্য বিধানকারী আত্মীয়তা বন্ধনের দ্বারা তাদের নৈকট্য লাভে তৎপর হই। আর সত্যিকারের নৈকট্য অর্জন না করলে কেবল আত্মীয়তা দ্বারা প্রকৃত নৈকট্য অর্জন হয়ে উঠে না।
আমাদের পর আর কোন্ ভাগিনেয় তোমাদের উপর ভরসা করবে শুনি, আর আমার শ্বশুরালয়ের আত্মীয়তার পর কোন্ শ্বশুরালয়ের আত্মীয়তার উপর নির্ভর করা যাবে?
যখন লোকজন পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, তাদের আত্মীয়তা সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে, তখনই জানতে পারবে সত্যের পথে কারা অধিকতর বিচরণশীল ছিল।"
ইবন হিশাম বলেন: যে পংক্তিসমূহে وَلَنا يشرب এবং اذ لا تقرب শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে, তা ইব্ন ইসহাক ছাড়া অপর বর্ণনাকারীদের দ্বারা বর্ণিত হয়েছে।
ইন্ন হিশাম বলেন: যেখানে اذ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তা ।১। অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ্ তা'আলার বাণী : اَذْ الظَّلِمُوْنَ مَوْقُوْقُوْنَ عِنْدَ رَبِّهِمْ আয়াতে ব্যবহার করা হয়েছে।
আবুল নজম আল-'আজলী বলেন: ثم جزاء الله عنا اذ جزى * جنات عدن في العلالي والعلا "তারপর আল্লাহ্ যখন আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে প্রতিফল দান করবেন, তখন দান করবেন বালাখানাসমূহে চিরসবুজ বাগ-বাগিচা এবং উচ্চতর মর্যাদা।"
📄 'উমর (রা)-এর হিজরত এবং তাঁর সঙ্গে আইয়াশ-এর কাহিনী
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর 'উমর ইবন খাত্তাব এবং আইয়াশ ইব্ন আবু রবী'আ মাখযূমী রওয়ানা হন এবং মদীনায় গিয়ে পৌঁছেন। আমার কাছে আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের আযাদকৃত দাস নাফি' (রা) আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা)-এর বরাতে আর তিনি তাঁর পিতা হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, যখন আমরা মদীনায় হিজরত করতে মনস্থ করলাম, তখন আমি ও আইয়াশ ইব্ন আবূ রবী'আ ও হিশাম ইব্ন আসী ইব্ন ওয়ায়ল সাহমী সিদ্ধান্তে পৌঁছলাম যে, আমারা সারিফ-এর ওপাশে আদাতে বনূ গাফ্ফার-এর নিকট কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ঝোঁপের কাছে মিলিত হব। এটাও স্থির হল যে, আমাদের মধ্যকার কোন একজন যদি সকালে সেখানে গিয়ে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়, তবে বুঝে নিতে হবে যে, তাকে বাধা দেয়া হয়েছে। তখন অপর দুই সাথী চলে যাবে। কথামত আমি ও আইয়াশ ইব্ন আবূ রবী'আ কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ঝোঁপের নিকট গিয়ে সকালে উপস্থিত হলাম, কিন্তু হিশাম বাধাগ্রস্ত হল সে অত্যন্ত জটিল সমস্যায় নিপতিত হল।
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর 'উমর ইবন খাত্তাব এবং আইয়াশ ইব্ন আবু রবী'আ মাখযূমী রওয়ানা হন এবং মদীনায় গিয়ে পৌঁছেন। আমার কাছে আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের আযাদকৃত দাস নাফি' (রা) আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা)-এর বরাতে আর তিনি তাঁর পিতা হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, যখন আমরা মদীনায় হিজরত করতে মনস্থ করলাম, তখন আমি ও আইয়াশ ইব্ন আবূ রবী'আ ও হিশাম ইব্ন আসী ইব্ন ওয়ায়ল সাহমী সিদ্ধান্তে পৌঁছলাম যে, আমারা সারিফ-এর ওপাশে আদাতে বনূ গাফ্ফার-এর নিকট কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ঝোঁপের কাছে মিলিত হব। এটাও স্থির হল যে, আমাদের মধ্যকার কোন একজন যদি সকালে সেখানে গিয়ে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়, তবে বুঝে নিতে হবে যে, তাকে বাধা দেয়া হয়েছে। তখন অপর দুই সাথী চলে যাবে। কথামত আমি ও আইয়াশ ইব্ন আবূ রবী'আ কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ঝোঁপের নিকট গিয়ে সকালে উপস্থিত হলাম, কিন্তু হিশাম বাধাগ্রস্ত হল সে অত্যন্ত জটিল সমস্যায় নিপতিত হল।
📄 আইয়াশ-এর সঙ্গে আবূ জালের আগমন
আমরা যখন মদীনা শরীফে গিয়ে পৌঁছলাম, আমর ইব্ন আওফ গোত্রের নিকট কুবায় অবতরণ করলাম। আবু জাহল ইব্ন হিশাম এবং হারিস ইবন হিশাম পিছু পিছু আইয়াশ ইব্ন আবূ রবী'আর কাছে মদীনায় এসে উপস্থিত হল। এরা দু'জন ছিল তাঁর চাচাতো এবং বৈপিত্রেয় ভাই। তারা যখন মদীনায় আমাদের নিকট এল, তখনো রাসূলুল্লাহ্ (সা) মক্কা শরীফে ছিলেন। তারা উভয়ে তার সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে বলল : তোমার মা তোমাকে না দেখা পর্যন্ত মাথায় চিরুণি লাগাবেন না এবং রৌদ্রের মধ্যে ছায়ার নিচে আশ্রয় নেবেন না বলে শপথ করেছেন। এ কথা শুনে তার অন্তর বিগলিত হল। তখন আমি তাকে বললাম, আল্লাহর কসম হে আইয়াশ! তোমার সম্প্রদায় তোমাকে তোমার দীন থেকে ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। তুমি এদের থেকে সতর্ক থাকবে। আল্লাহ্র কসম, তোমার মা যদি উকুনের দ্বারা বিব্রত হন, তবে অবশ্যই তিনি চিরুণির দ্বারা কেশ বিন্যাস করবেন। আর মক্কার রোদের উত্তাপ যদি তাঁকে পীড়া দেয়, তবে অবশ্যই তিনি ছায়ার আশ্রয় নেবেন।
জবাবে আইয়াש ইব্ন আবূ রবী'আ বলল, আমি আমার মায়ের শপথ পূর্ণ করে দেই আর সেখানে আমার কিছু ধন-সম্পদও রয়ে গেছে, তাও নিয়ে আসি। উমর (রা) বলেন, আমি তখন বললাম : তুমি নিশ্চয়ই জান যে, কুরায়শ বংশের মধ্যে আমার ধন-সম্পদ সর্বাধিক। তুমি তার অর্ধেকটা নিয়ে নাও, তবুও ওদের সাথে যেয়ো না।
'উমর (রা) বলেন: কিন্তু সে কোনমতেই আমার কথায় কান দিল না এবং তাদের সাথে যেতেই মনস্থ করল। যখন সে এ ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হল, তখন আমি তাকে বললাম, তুমি যখন যাবেই, তখন আমার এ উষ্ট্রীটি নিয়ে যাও। কেননা এটি অত্যন্ত ভাল জাতের উষ্ট্রী এবং অত্যন্ত প্রভুভক্ত, কোন বিপদ আঁচ করতে পারলেই তুমি তার পিঠে সওয়ার হয়ে চলে আসবে। সাবধান, এর পিঠ থেকে নামবে না কিন্তু।
আইয়াশ ইব্ন রবী'আ তাদের সঙ্গে ঐ উটনীর পিঠে সওয়ার হয়ে বেরিয়ে গেল। পথে এক জায়গায় এসে আবূ জাহ্ন বলল, আল্লাহর কসম ভাই, আমার এ উটনীর পিঠে বড্ড বেশি বোঝা চাপিয়ে দিয়েছি, কিছুক্ষণের জন্যে তুমি কি আমাকে তোমার উটনীটির পিঠে তোমার সাথে নিতে পারনা? সে বলল, অবশ্যই পারব, এই বলেই সে তার উটনীটিকে বসাল আর তারা উভয়ে তাদের উটনীকে বসাল—যাতে করে উটনী বদল করতে পারে। আর অমনি তারা উভয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারা তাকে বেঁধে নিল এবং আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা অবস্থায় তাকে নিয়ে তারা মক্কা শরীফে প্রবেশ করল। তারপর তারা তাকে নানাভাবে নির্যাতন করল।
📄 হিশাম ইব্ন আস-এর প্রতি হযরত উমর (রা)-এর পত্র
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমর (রা) সূত্রে নাফি' আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি (উমর) বলেন, আমরা বলাবলি করতাম, যারা (কাফিরদের) নির্যাতনের মুখে নতি-স্বীকার করে ফেলে, তাদের ফরয-নফল কোন ইবাদত ও তওবা আল্লাহ্ পাক কবুল করবেন না। তারা হচ্ছে ঐ সম্প্রদায়-যারা আল্লাহকে চিনেছে তারপর তাদের উপর আপতিত কঠিন পরীক্ষা ও বিপদ-আপদের জন্যে তারা কুফরীর দিকে ফিরে গেছে। তিনি (উমর) বলেন: তারা (সাহাবীরা) নিজেদের মধ্যে এরূপ আলাপ-আলোচনা করতেন। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে এবং আমাদের উক্তি ও তাদের নিজেদের উক্তির ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল করেন:
قُلْ يُعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا * إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ، وَانيبُوا إِلى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِنْ قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنْصَرُونَ . وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مِّنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَ انْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
"হে রাসূল! আপনি বলুন, 'হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ-আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হবে না; আল্লাহ্ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ কর তোমাদের নিকট শাস্তি আসার পূর্বে; তারপর তোমাদের সাহায্য করা হবে না।
অনুসরণ কর তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে উত্তম যা নাযিল করা হয়েছে তার, তোমাদের উপর অতর্কিতভাবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে শাস্তি আসার পূর্বে।" (৩৯ : ৫৩-৫৫)
উমর ইবন খাত্তাব (রা) বলেন: আমি স্বহস্তে তা পত্রস্থ করি এবং হিশাম ইব্ন আসের কাছে প্রেরণ করি।
রাবী বলেন, হিশাম ইব্ন আস (রা) বলেন: যখন আমার কাছে এ আয়াতগুলো এসে পৌঁছল, তখন আমি যূ-তাওয়ার উচ্চভূমি ও নিম্নভূমিতে তা তিলাওয়াত করতে করতে আরোহণ অবরোহণ করতে লাগলাম, কিন্তু তা কিছুই হৃদয়ংগম করতে পারছিলাম না। এমনকি আমি আল্লাহ্র দরবারে দু'আ করতে লাগলাম: হে আল্লাহ্! আমাকে এগুলোর মর্ম উপলব্ধি করার জ্ঞান দান কর!
তিনি বলেন, তারপর আল্লাহ্ তা'আলা আমার অন্তরে এ উপলব্ধি দান করলেন যে, এ আয়াতগুলো আসলে আমাদেরই উপলক্ষে নাযিল করা হয়েছে, সে ব্যাপারে যা আমরা নিজেদের সম্পর্কে বলাবলি করতাম আর লোকেও আমাদের সম্পর্কে এরূপ বলাবলি করত। তিনি বলেন, তখন আমি আমার উটের দিকে অগ্রসর হলাম, তার পিঠে আরোহণ করলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে হাযির হলাম। আর তিনি তখন মদীনা শরীফে অবস্থান করছিলেন।