📄 আবূ সালামা ও তাঁর সহধর্মিণীর হিজরত এবং এ ব্যাপার তাঁরা যে সব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন তার বর্ণনা
রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবীদের মধ্যে যিনি মদীনায় সর্বপ্রথম হিজরত করেন তিনি হচ্ছেন কুরায়শের মাখযূম গোত্রের আবূ সালামা ইব্ন আবদুল আসাদ ইব্ন হিলাল ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ইব্ন মাখযূম। তাঁর আসল নাম আবদুল্লাহ্। 'আকাবা বায়'আতের এক বছর পূর্বেই তিনি মদীনায় হিজরত করেছিলেন। মক্কায় তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে হাবশা থেকে এসে পৌছেছিলেন। কুরায়শদের নির্যাতনের মুখে যখন তিনি মদীনায় কতিপয় আনসারীর ইসলাম গ্রহণের সংবাদ অবহিত হলেন, তখন তিনি মুহাজিররূপে মদীনায় গিয়ে উপস্থিত হন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবু ইসহাক ইবন ইয়াসার বর্ণনা করেছেন, সালামা ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমর ইব্ন আবূ সালামা তাঁর দাদী উম্মু সালামার সূত্রে-যিনি নবী করীম (সা)-এর সহধর্মিণী ছিলেন, তিনি বলেন: আবু সালামা যখন মদীনার দিকে বেরিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন, তখন তিনি তাঁর উটের পিঠে আমার জন্যে হাওদা বসালেন এবং আমাকে তাতে আরোহণ করালেন। তিনি আমার কোলে আমার পুত্র সালামা ইব্ন আবু সালমাকেও আরোহণ করালেন এবং আমাকে নিয়ে তাঁর উটের রশি ধরে এগিয়ে চললেন। যখন এ অবস্থায় তাঁকে বনূ মুগীরা ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমর ইব্ন মাখযূম গোত্রের লোকজন দেখতে পেল, তখন তারা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারা বলল : তোমার নিজের ব্যাপারে আমরা পরাস্ত, তুমি তোমার নিজের ব্যাপারে যে কোন সিদ্ধান্তই গ্রহণ করতে পার, কিন্তু এই যে তোমার অর্ধাঙ্গিণীটি! (সে তো আমাদেরই বংশের মেয়ে) তুমি তাকে নিয়ে দেশে দেশে কেন ঘুরে বেড়াবে? এ কথা বলে তারা উটের লাগামটি তাঁর হাত থেকে কেড়ে নিল এবং আমাকে তারা তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল।
উম্মু সালামা বলেন: তখন আবু সালামার গোত্র বনু আব্দ আসাদের লোকজন তা দেখে ক্রোধে ফেটে পড়ল। তারা বলল, তোমরা যখন আমাদের গোত্রের বরের নিকট থেকে তোমাদের কনেকে ছিনিয়ে নিয়েছ, তখন আল্লাহ্র কসম! আমরাও আমাদের ছেলেকে (অর্থাৎ তার শিশুপুত্রটিকে) তার কাছে ছেড়ে দিচ্ছিনে। এই বলে বনু সালামার লোকজন এমনি টানা-হেঁচড়া শুরু করে দিল যে, ছেলেটিকে তারা আমার হাত থেকে ছুটিয়ে নিয়ে গেল। অগত্যা আমার স্বামী আবু সালামা একাই মদীনার দিকে চলে গেলেন। আর বনু মুগীরা আমাকে তাদের কাছে আটক রাখল।
উম্মু সালামা বলেন: তারপর আমার, আমার স্বামীর ও আমার পুত্রটির মধ্যে বিরহের যবনিকা টেনে দেয়া হল। তারপর বছরকাল আমি প্রতিদিন আবতাহ প্রান্তরে গিয়ে বসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাঁদতাম।
এরপর এক শুভদিনে মুগীরা গোত্রের আমার এক চাচাতো ভাই আমার নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। আমার করুণ অবস্থা দর্শনে তাঁর হৃদয় বিগলিত হল। তিনি মুগীরা গোত্রীয় লোকজনকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে! তোমরা কি এ বেচারীকে বের হতে দেবে না? তোমরা তার, তার স্বামীর ও তার শিশুপুত্রটির মধ্যে বিরহের প্রাচীর তুলে দিয়েছ। তারা তখন বলল : ওহে! তুমি চাইলে এখন তোমার স্বামীর নিকট চলে যেতে পার। তখন আসাদ গোত্রীয় লোকজন আমার ছেলেটিকেও আমার নিকট ফিরিয়ে দিল।
উম্মু সালামা বলেন: তারপর আমি আমার উট সাজালাম এবং আমার শিশুপুত্রটিকে কোলে করে মদীনার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। তিনি বলেন তখন আমার সাথে আল্লাহ্ কোন বান্দাই ছিল না।
উম্মু সালামা বলেন: আমি তখন মনে মনে বললাম, এখন কোনমতে আমার স্বামীর নিকটে পৌঁছাবার মত কাউকে পেলেই হল।
যখন আমি তানঈমে' পৌছলাম, তখন উসমান ইব্ন তালহা ইব্ন আবু তালহার সাথে আমার দেখা হল। ইনি ছিলেন আবদুদ্দার গোত্রের লোক। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আবু উমাইয়ার কন্যা! কোথায় রওয়ানা দিয়েছেন? আমি বললাম: মদীনায় আমার স্বামীর উদ্দেশ্যে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনার সাথে কি আর কেউ আছে? আমি বললাম আল্লাহ্র কসম, আমার এই পুত্রধনটি ছাড়া আমার সাথে আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ নেই।
তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! আপনাকে এভাবে (একা) ছেড়ে দিতে পারি না! তারপর তিনি আমার উটের লাগাম ধরলেন এবং আমাকে সাথে নিয়ে এগিয়ে চললেন। আল্লাহর কসম, তাঁর চাইতে সম্ভ্রান্ত ও ভদ্র কোন আরব পুরুষের সাহচর্য আমি কখনো পাইনি। যখন তিনি কোন মনযিলে গিয়ে উপনীত হতেন, তখন তিনি উটকে বসিয়ে দিয়ে নিজে আমার থেকে একটু দূরে সরে দাঁড়াতেন। এরপর যখন আমি উট থেকে নেমে পড়তাম, তখন তিনি উটটিকে নিয়ে একটু দূরে চলে যেতেন, তার উপর থেকে সামানপত্র নামাতেন। তারপর সেটি কোন গাছের সাথে বাঁধতেন এবং অন্য কোন গাছের নীচে গিয়ে নিজে শয়ন করতেন। তারপর যখন আবার পথ চলার সময় হত, তখন তিনি আমার উটের কাছে আসতেন। সেটিকে যাত্রার জন্যে সাজাতেন। তারপর আমার নিকট থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে বলতেন, চড়ে বসুন! এরপর যখন আমি ভালমতো চড়ে বসতাম, তখন তিনি এসে তার লাগام ধরে এগিয়ে চলতেন। মদীনায় পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি মনযিলেই তিনি এরূপ করেন। তারপর যখন কুবার বনু 'আমর ইবন 'আওফের পল্লী দেখতে পেলেন, তখন তিনি বলে উঠলেন আপনার স্বামী এ পল্লীতেই আছেন। আবু সালামা আসলেও ঐ পল্লীতেই এসে উঠেছিলেন। আল্লাহর নাম নিয়ে আপনি এতে ঢুকে পড়ুন। তারপর ঐ ব্যক্তি মক্কার দিকে ফিরে গেলেন।
রাবী বলেন, উম্মু সালামা (প্রায়ই) বলতেন: আল্লাহ্র কস্ম, আবূ সালামার পরিবারের উপর যে বিপদ নেমে এসেছিল, তেমনটি অন্য কোন মুসলিম পরিবারের উপর আপতিত হয়েছিল বলে আমার জানা নেই। আর উসমান ইব্ন তালহার' চাইতে অধিকতর মহৎ চরিত্রের কোন ব্যক্তিকে কখনও আমি দেখিনি।
টিকাঃ
১. তানঈম-মক্কা থেকে দুই ক্রোশ দূরে অবস্থিত একটি স্থান।
২. উসমান ইব্ন তালহা তখনও কাফির ছিলেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। মক্কা শরীফ বিজয়ের পূর্বেই খালিদ ইব্ন ওয়ালীদের সাথে একত্রে তিনি মদীনা শরীফে হিজরত করেন। উহুদ যুদ্ধের দিন তাঁর ভাই মুসাফি', কিলাব ও হারিস এবং তাঁদের পিতা নিহত হন। তাঁদের চাচা উসমান ইব্ন আবূ তালহাও কাফির অবস্থায় উহুদ যুদ্ধের দিনে নিহত হয়। তখন তারই হাতে কা'বার চাবিগুচ্ছ ছিল। মক্কা মুয়ায্যমা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তা উসমান ইব্ন তাল্হা ইব্ন আবু তালহা এবং তাঁর চাচা শায়বা ইবন উসমান ইব্ন আবু তালহার হাতে অর্পণ করেন। তিনি ছিলেন কা'বার হাজিব বা রক্ষী-গোত্র বনূ শায়বার ঊর্ধ্বতন পুরুষ। আবূ তালহার আসল নাম জুদহাম আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবদুল উয্যা। উসমান হযরত উমরের খিলাফত আমলের শুরুর দিকে আজনাদায়ন যুদ্ধে শহীদ হন।
📄 আমির ও তাঁর স্ত্রী এবং বনু জাহশের হিজরত
ইবন ইসহাক বলেন: আবূ সালামার পর যিনি সর্বপ্রথম মদীনা শরীফে মুহাজিররূপে আগমন করেন তিনি হচ্ছেন বনূ 'আদী ইব্ন কা'বের মিত্র আমির ইব্ন রবী'আ। তাঁর সাথে তাঁর সহধর্মিণী লায়লা বিন্ত আবূ হাসমা ইব্ন গানিম ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আওফ ইব্ন উবায়দ ইব্ন আদী ইব্ন কা'ব ছিলেন।
তারপর আসেন আবদুল্লাহ্ ইব্ন জাহশ ইব্ন রিআব ইব্ন ইয়া'মার ইব্ন সাবুরা ইব্ন মুররা ইবন কাসীর ইব্ন গام ইব্ন দূদান ইব্ন আসাদ ইব্ন খুযায়মা। ইনি বনূ উমাইয়া ইব্ আব্দ শামসের মিত্র ছিলেন। তিনি তাঁর সাথে তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর ভাই আব্দ ইব্ন জাহশকেও সাথে নিয়ে এসেছিলেন-তিনি আবু আহমদ নামে পরিচিত, আর আবু আহমদ ছিলেন অন্ধ। তিনি মক্কার উঁচু এলাকা থেকে নীচু এলাকায় কোন পথ প্রদর্শকের সাহায্য ব্যতিরেকেই চলাফেরা করতে পারতেন। তিনি একজন কবি ছিলেন এবং ফার'আ বিন্ত আবু সুফইয়ান ইব্ন হার্ব তাঁর সহধর্মিণী ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন আবদুল মুত্তালিব ইবন হাশিমের কন্যা উমায়মা।
জাহশের' পুত্র-কন্যাদের হিজরতের ফলে তাঁদের ঘর জনমানবহীন হয়ে যায়। তখন উত্তা ইব্ন রবী'আ, আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব, আবু জাহল ইব্ন হিশাম ইব্ন মুগীরা মক্কা শরীফের উঁচু অঞ্চলের দিকে যাওয়ার পথে এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল-যার ধ্বংসাবশেষের কাছে এখন আবান ইবন উসমানের বাড়ি অবস্থিত-তখন বিরান বাড়ির দরজা বাতাসে দুলছে আর ঠাস ঠাস আওয়াজ হচ্ছে দেখে এক দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে উৎবা ইবন রবী'আ বলে উঠল:
وكل دار وان طالت سلامتها × يوما ستدركها النكباء والحوب
"প্রতি বাড়ি যদিও তা থাকুক শত সালামতে একদিন তা বিরান হবে, উজাড় হওয়ার শব্দ হবে।"
ইবন হিশাম বলেন: এ পংক্তিটি আবূ দুয়াদ ইয়াদী কর্তৃক রচিত।
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর উতবা ইব্ন রবী'আ বলল: জাহশের পুত্রকন্যাদের বাড়ি আজ তার বাসিন্দাশূন্য। তখন আবূ জাহল তাকে লক্ষ্য করে বলে উঠল: একা বাপের একা এক সন্তানের জন্যে তুমি কী কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছ হে?
আবু জাহল তার এ বাক্যাংশে قل ابن قل শব্দ ব্যবহার করে।
ইবন হিশাম বলেন: قل মানে একাকী একজন। লবীদ ইব্ন রবী'আ তার কবিতাংশে এ শব্দটি এ অর্থেই ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন:
كل بني حرة مصيرهم * قل و ان اكثرث من العدسد
"হাররা গোত্রের সবার প্রত্যাবর্তনস্থল এক, তাদের সংখ্যা যত অধিকই হোক না কেন।"
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর সে বলল এটা হচ্ছে আমার এই ভ্রাতুষ্পুত্রটির কাজেরই ফল। সে আমাদের দলে ভাঙ্গন সৃষ্টি করেছে। সম্প্রীতিতে চিড় ধরিয়েছে এবং আমাদেরকে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে।
টিকাঃ
১. জাহশের পুত্র-কন্যাগণ: এঁরা হচ্ছেন (১) আবদুল্লাহ্ ও (২) আবু আহমদ, যাঁর নাম ছিল আব্দ। তাঁদের আরেক ভাই (৩) উবায়দুল্লাহ্ ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপর তিনি খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হন এরা হাবশায় হিজরত করেন। (৪) উম্মুল মু'মিনীন যয়নাব বিন্ত জাহশ ছিলেন তাদেরই বোন যিনি পূর্বে যায়দ ইব্ন হারিসার পত্নী ছিলেন আর যাঁর সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ হয়: فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِّنْهَا وَطَراً زَوْجِنَّكَهَا (৫) উম্মে হাবীব বিন্ত জাহশ-যিনি অস্বাভাবিক রজঃস্রাবে ভুগতেন এবং আবদুর রহমান ইব্ন আওফের স্ত্রী ছিলেন। (৬) হামনা বিন্ত জাহশ-ইনি মুস'আব ইব্ন উমায়রের স্ত্রী ছিলেন। ইনিও অতিরিক্ত রজঃস্রাবের রোগিণী ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, যয়নাবও অনুরূপ অতিরিক্ত রজঃস্রাবে ভুগতেন। মুওয়াত্তায় আছে, যয়নাব বিন্ত জাহশ-যিনি আবদুর রহমান ইব্ন আওফের স্ত্রী ছিলেন এবং যিনি অতিরিক্ত রজঃস্রাবে ভুগতেন-অথচ যয়নাব কস্মিনকালেও আবদুর রহমান ইব্ন আওফের সহধর্মিণী ছিলেন না। আর কেউ তা বলেনও নি এবং কেউ এ ভুল তথ্য গ্রহণও করবে না। আসলে আবদুর রহমানের স্ত্রী ছিলেন তাঁর বোন উম্মে হাবীব। তাঁকে উম্মু হাবীবাও বলা হয়ে থাকে। অবশ্য আমাদের শায়খ আবু আবদুল্লাহ্ মুহাম্মদ ইব্ নাজাহ্ আমাকে বলেছেন যে, উম্মু হাবীবের নামও ছিল যয়নাব। তাহলে কথা দাঁড়াচ্ছে-তাঁদের দু'জনের নামই ছিল যয়নাব। একজনের কুনিয়াত বা ডাকনাম তাঁর আসল নামের চাইতে বেশি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। যার ফলে তাঁর আসল নাম চিরতরে চাপা পড়ে গেছে। তা হলে মুওয়াত্তার হাদীসে কোন ভুল' বা ভ্রান্ত ধারণার কিছু নেই। আল্লাহই সম্যক অবগত। যয়নাব বিন্ত জাহশের আসল নাম ছিল বাররা। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর নামকরণ করেন যয়নাব বলে। অনুরূপভাবে উম্মু সালামার দুহিতা যয়নাব যিনি নবী করীম (সা)-এর রবীবাহ্ (পালিতা কন্যা) ছিলেন তাঁর নামও ছিল বাররা। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর নামও পাল্টিয়ে দিয়ে যয়নাব রাখেন। এটা যেন তাঁর এ মনোভাবেরই অভিব্যক্তি ছিল যে, কোন মহিলা তাঁর নিজের নাম নিজেই বাররা বা পূণ্যবতী বলবে এটা তিনি পসন্দ করছিলেন না। আর জাহশ ইব্ন রিআবের নাম ছিল বুররা। যয়নাব বিন্ত জাহশ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে লক্ষ্য করে বলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আপনি আমার পিতার নামটিও পরিবর্তন করে দিতেন, কেননা বুররা নামটি খুবই ছোট। বর্ণিত আছে যে, জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: তোমার পিতা যদি মুসলমান হতেন তাহলে আমরা আমাদের আহলে বায়তের নামে তার নামকরণ করতাম, বরং আমি তার নামকরণ করছি জাহশ বলে আর জাহশ নামটি বুররা থেকে বড়।
📄 আরো অনেক সম্প্রদায়ের হিজরত
আবূ সালামা ইব্ন আবদুল আসাদ, আমির ইব্ন রবীআ, আবদুল্লাহ্ ইব্ন জাহশ ও তাঁর ভাই আবূ আহমদ ইব্ন জাহশ কুবায় বনূ আমর ইব্ন আওফের মহল্লায় মুবাশির ইন্ন আবদুল মুনযিরের বাড়িতে বাস করতেন। তারপর মুহাজিরগণ দলে দলে আসতে লাগলেন। বনূ গাম ইব্ন দূদান-যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে নারী-পুরুষ সকলেই হিজরত করে মদীনায় চলে আসেন।
এঁরা হলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্ন জাহশ এবং তাঁর ভাই আবূ আহমদ ইব্ন জাহশ, উক্কাশা ইব্ন মিহসান, শুজা' ও উকবা, ওয়াহবের পুত্রদ্বয় এবং আরবাদ ইবন হুমায়রা। ইবন হিশাম বলেন: তাকে ইব্ন হুমায়রা বলে ডাকা হত।
ইবন ইসহাক বলেন (এঁদের মধ্যে আরো ছিলেন) মুনকিষ ইব্ নুবাতা, সাঈদ ইব্ রুকায়শ, মুহরিয ইব্ন নাযলা, ইয়াযীদ ইব্ন রুকায়শ, কায়স ইব্ন জাবির, আমর ইব্ মিহসান, মালিক ইব্ন আমর, সাফওয়ান ইব্ন আমর, সাকাফ ইব্ন আমর, রবী'আ ইন্ন আকসাম, যুবায়র ইবন উবায়দ, তামাম ইবন উবায়দা, সাখবারা ইবন উবায়দা ও মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন জাহশ।
📄 এদের স্ত্রীলোকদের হিজরত
তাঁদের নারীদের মধ্যে ছিলেন: যয়নাব বিন্ত জাহশ, উম্মু হাবীব বিন্ত জাহש, জুযামা বিন্ত জান্দাল, উন্মু কায়স বিন্ত মিহসান, উম্মু হাবীব বিন্ত সুমামা, আমিনা বিন্ত রুকায়শ, সাখবারা বিনত তামীম এবং হামনা বিনত জাহশ।