📄 'আওফ ইব্ন খাযরাজ গোত্র থেকে যাঁরা এ বায়'আতে শরীক হন
ইবন ইসহাক বলেন: বনু আওফ ইব্ন খাযরাজ পরে বনু সালিম ইব্ন 'আওফ ইব্ন Amr ইবন 'আওফ ইব্ন খাযরাজ থেকে শরীক হন:
৬৬. উবাদা ইব্ন সামিত ইব্ন কায়স ইব্ন আসরাম ইব্ন ফাহর ইবন সা'লাবা ইব্ন গানম ইব্ন সালিম ইব্ন আওফ। ইনি অন্যতম নকীব ছিলেন। বদরের যুদ্ধসহ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে প্রতিটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
ইবন হিশাম বলেন: গানম ইব্ন আওফ হচ্ছেন সালিম ইব্ন আওফ ইব্ন আমর ইব্ন আওফ ইব্ন খাযরাজের ভাই।
ইবন ইসহাক বলেন:
৬৭. আব্বাস ইব্ন উবাদা ইব্ন নাফ্লা ইব্ন মালিক ইব্ন 'আজলান ইব্ন যায়দ ইব্ন গানম ইব্ন সালিম ইব্ন আওফ। ইনি হচ্ছেন সে সব ব্যক্তির অন্যতম, যাঁরা মক্কা শরীফে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর অবস্থানকালে তাঁর কাছে যান এবং তাঁর সঙ্গে সেখানে বসবাস করেন। তাই তাঁকে বলা হত মুহাজির-আনসারী। ইনি উহুদের যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন।
৬৮. আবু আবদুর রহমান ইয়াযীদ ইব্ন সা'লাবা ইব্ন খাযামা ইব্ন আসরাম ইব্ন আমর ইবন উমারা-বাল্লী গোত্রের শাখা গোত্র বনু গুসায়না থেকে তিনি তাদের (পূর্বোল্লিখিতদের) মিত্র ছিলেন।
৬৯. আমর ইবন হারিস ইব্ন লাব্দা ইব্ন আমর ইবন সা'লাবা। এ গোত্রের মোট চারজন ছিলেন। এঁদেরকে কাওয়াকিল বলা হয়ে থাকে।
📄 বনূ সালিম ইব্ন গান্ন থেকে যাঁরা এ বায়'আতে শরীক হন
বনু সালিম ইব্ন গানন্ম ইব্ন আওফ ইব্ন খাযরাজ, যাদেরকে বনূ হুবুল্লী বলা হয়ে থাকে।
ইব্ন হিশাম বলেন: হুবলা হচ্ছেন সালিম ইন্ন গান্ম ইব্ন আওফ। তাঁর পেট বড় ছিল বলে তাঁকে হুবুল্লী বলা হত। এ গোত্র থেকে ছিলেন:
৭০. রিফা'আ ইব্ন আমর ইব্ন যায়দ ইব্ন আমর ইবন সা'লাবা ইব্ন মালিক ইব্ন সালিম ইব্ন গান্ম। ইনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি আবুল ওয়ালীদ কুনিয়াতে সুপরিচিত ছিলেন।
ইন্ন হিশাম বলেন: কেউ কেউ এঁকে রিফা'আ ইবন মালিক বলেও উল্লেখ করেছেন। আর মালিক হচ্ছেন মালিক ইব্ন ওয়ালীদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন মালিক ইবন সা'লাবা ইব্ন জুশাম ইব্ন মালিক ইব্ন সালিম।
ইবন ইসহাক বলেন:
৭১. 'উকবা ইব্ন ওয়াহব ইব্ন কাল্দা ইব্ন জা'দ ইব্ন হিলাল ইন্ন হারিস ইব্ন আমর ইব্ন আদী ইব্ন জুশام ইব্ন আওফ ইব্ বুহত্সা ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন গাতফান ইবন সা'দ ইব্ন কায়স ইবন 'আয়লান। ইনি উপরোক্তদের মিত্র ছিলেন। বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মদীনা থেকে যারা মক্কায় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে হিজরত করে এসেছিলেন, ইনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তাই তাঁকেও মুহাজির-আনসারী বলা হত।
ইব্ন হিশাম বলেন: এ গোত্রের সর্বমোট ঐ দু'জন ছিলেন।
📄 বনূ সাঈদা ইব্ন কা'ব থেকে যাঁরা এ বায়'আতে শরীক হন
ইবন ইসহাক বলেন: বনু সাঈদা ইব্ন কা'ব ইব্ন খাযরাজ থেকে ছিলেন:
৭২. সা'দ ইবন উবাদা ইবন হারিসা ইব্ন আবু খুযায়মা ইবন সা'লাবা ইন্ন তারীফ ইব্ খাযরাজ ইবন সাঈদা। ইনি অন্যতম নকীব ছিলেন।
৭৩. মুনযির ইবন আমর ইব্ন খুনায়স ইব্ন হারিসা ইব্ন লওযান ইব্ন আব্দ উদ্দ ইব্ন যায়দ ইবন সা'লাবা ইব্ন জুশাম ইব্ন খাযরাজ ইবন সাঈদা। ইনি অন্যতম নকীব ছিলেন। বদর ও উহুদের যুদ্ধে ইনি অংশগ্রহণ করেন এবং বীরে মাউনার দিনে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পক্ষে আমীররূপে শাহাদত বরণ করেন। তিনিই ঐ ব্যক্তি, যাঁকে 'দ্রুত মৃত্যুকে আলিঙ্গনকারী' বলা হত।
এ গোত্রের মোট দু'জন 'আকাবায় ছিলেন।
ইবন হিশাম বলেন: মুনযিরকে মুনযির ইবন আমর ইব্ন খানাশও বলা হয়ে থাকে।
📄 বনু মাযিন ইব্ নাজ্জার থেকে যাঁরা এ বায়'আতে শরীক হন
ইবন ইসহাক বলেন: 'আকাবায় যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হচ্ছেন আওস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের ৭০ জন পুরুষ এবং দু'জন নারী-যাঁদের সম্পর্কে ধারণা করা হয়ে থাকে যে, তাঁরাও বায়'আতবদ্ধ হয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) মহিলাদের সাথে করমর্দন করতেন না। তিনি তাঁদের অঙ্গীকার গ্রহণ করতেন এবং যখন তাঁরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হতেন, তখন বলতেন:
اذهبن فقد بايعتكن
-"যাও, আমি তোমাদের বায়'আত করলাম।"
৭৪. নুসায়বা বিন্ত কা'ব ইব্ন আমর ইব্ন আওফ। ইনি মাবযূল ইব্ন আমর ইব্ন গাম ইব্ন মাযিন গোত্রের কন্যা ছিলেন। তিনি উম্মু উমারা নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর বোনও তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর সঙ্গে তাঁর স্বামী যায়দ ইব্ন আসিম ইব্ন কা'ব এবং তাঁর দুই পুত্র হাবীব ইব্ন যায়দ এবং আবদুল্লাহ্ ইব্ন যায়দও ছিলেন। আর হাবীব হচ্ছেন তাঁর সেই পুত্র যাঁকে মুসায়লামা কায্যাব আল-হাক্বী ধরে নিয়ে যায় এবং তাঁকে লক্ষ্য করে বলতে থাকে: তুমি কি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান কর যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল? তখন জবাবে তিনি বলতেন: হ্যাঁ। তখন সে আবার বলত, তুমি কি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান কর যে, আমি আল্লাহর রাসূল? জবাবে তিনি বলতেন: আমি শুনছি না। তখন সে তাঁর এক-একটি করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটতে থাকে, এমনকি এ অবস্থায় তার হাতে তাঁর মৃত্যু হয়, কিন্তু তিনি এর বেশি কিছুই বলতে রাযী হন নি। যখন তাঁর সম্মুখে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কথা উল্লেখ করা হত, তখন তিনি তাঁর প্রতি ঈমানের কথা প্রকাশ করতেন এবং তাঁর প্রতি দরূদ পড়তেন। আর যখন মুসায়লামার কথা বলা হত, তখন বলতেন: আমি তা শুনতে চাই না।
হযরত নুসায়বা ওরফে উম্মু উমারা মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে ইয়ামামার যুদ্ধের সময় যুদ্ধযাত্রা করেন এবং সশরীরে সেখানে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধে আল্লাহর হুকুমে মুসায়লামাকে কতল করা হল। আর উম্মু উমারা তরবারি ও বর্শার বারটি আঘাত নিয়ে যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। ইব্ন ইসহাক বলেন: স্বয়ং তাঁর (অর্থাৎ উম্মু উমারা) থেকে মুহাম্মদ ইব্ন ইয়াহইয়া ইন্ন হিব্বান—আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবদুর রহমান ইব্ন আবু সা'সা'আর বরাতে এ ঘটনাটির কথা বর্ণনা করেছেন।