📄 'আমরের প্রতিমার সাথে তার সম্প্রদায়ের শত্রুতা
ইসলাম গ্রহণের পর বনূ সালামার যুবকগণ-যথা মু'আয ইব্ন জাবাল (রা), আমরের পুত্র মু'আয, যিনি আকাবার বায়'আতেও শরীক ছিলেন, এরূপ যুবক শ্রেণী মিলিত হয়ে রাতের আঁধারে সে মূর্তির কাছে গিয়ে সেটাকে নিয়ে এসে সালামা গোত্রের একটি পূতিগন্ধময় গর্তে উল্টোমুখো করে ফেলে দিত। সকালবেলা আমর তার প্রতিমা না পেয়ে বলত, তোদের সর্বনাশ হোক। আজ রাতে কে আমাদের উপাস্যের সাথে এরূপ বেআদবী করল? এরপর সে তার প্রতিমার সন্ধানে বের হত এবং অনেক খোঁজাখুজির পর সেটাকে পেয়ে ধুয়ে পাক-পবিত্র করত এবং সুগন্ধি লাগিয়ে সযত্নে আগের স্থানে রাখত। তারপর বলত, হে দেবী! যদি জানতে পারি কে তোমার সাথে এরূপ গোস্তাখী করেছে, তবে আমি তাকে অবশ্যই কঠিন শাস্তি দেব। পরের রাতেও আমর ঘুমিয়ে পড়লে তার প্রতিমার দশা আগের মত হল। আর সে সকালে উঠে সেই দুর্গন্ধময় গর্ত থেকে সেটাকে তুলে এনে গোসল করিয়ে পাক-সাফ করল এবং আতর মাখিয়ে আগের স্থানে রাখল। কিন্তু এর পরের রাতেও এই অবস্থা ঘটল। এভাবে যখন চলতেই থাকল, তখন একদিন সে তার প্রতিমাকে উক্ত ময়লা-পঁচা গর্ত থেকে তুলে এনে গোসল দিয়ে সুগন্ধি মাখিয়ে আগের স্থানে বসানোর পর নিজের তরবারি এনে তার গলায় ঝুলিয়ে দিল এবং বলল: হে দেবী! আল্লাহ্র কসম! আমি জানি না, কে তোমার সাথে এরূপ আচরণ করে। অতএব যদি তোমার শক্তি থাকে, তবে তুমি নিজেকে রক্ষা কর। আর এ তরবারি তোমার সাথে থাকল।
কিন্তু এ রাতেও আমর ঘুমিয়ে যাওয়ার পর যুবকদল এসে প্রতিমার গলা থেকে তরবারি নিয়ে নিল এবং একটি মরা কুকুর এনে তার সাথে একরশিতে কষে বেঁধে দিল। এরপর সেটাকে বনূ সালামার একটি পূতিগন্ধময় কুয়ার ভেতর ফেলে দিল।
📄 আমরের ইসলাম গ্রহণ ও এ সম্পর্কে তাঁর কবিতা
সকালবেলা আমর গিয়ে দেখল প্রতিমা তার জায়গায় নেই। সে খুঁজতে খুঁজতে উক্ত কুয়ার ভেতর সেটাকে অধোমুখে দেখতে পেল। সে আরও দেখল তার সাথে একটি মরা কুকুর বাঁধা রয়েছে। যখন সেটাকে এ অবস্থায় দেখল, সে এ ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করল, আর তার সম্প্রদায়ের যারা ইসলাম কবুল করেছিল, তাদের মধ্য থেকে কতিপয় ব্যক্তি তার সাথে কথাবার্তাও বলল, তখন সে আল্লাহ্র রহমতে ইসলাম গ্রহণ করল। তার ইসলাম গ্রহণ ছিল আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ। এ সময় তিনি একটি কবিতা পাঠ করেন, যাতে তিনি আল্লাহ্ সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি, দেবমূর্তির স্বরূপ এবং এর অসহায়ত্ব তুলে ধরেন এবং এতদিন তিনি যে বিভ্রান্তি ও অজ্ঞতায় নিমজ্জিত ছিলেন, তা থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য আল্লাহ্ তা'আলার শোকর আদায় করেন। তিনি বলেন:
والله لو كنت الها لم تكن * انت وكلب وسط بئر في قرن اف لملقاك الها مستدن * الان فتشناك عن شوء الغبن الحمد الله العلى ذى المنن * الواهب الرزاق ديان الدين هو الذي انقذني من قبل ان * اكون في ظلمة قبر مرتهن باحمد المهدى النبي المرتهن
"আল্লাহ্র কসম! তুমি যদি ইলাহ হতে, তা হলে কুকুরের সাথে একই কুয়ার মধ্যে পড়ে থাকতে না। ছিঃ ছিঃ! ইলাহ হয়েও তোমার এই পরিণতি, বস্তুত তোমার সম্পর্কে আমার নিকৃষ্টতম ভ্রান্তি এখনই ধরা পড়ল। মহান আল্লাহর প্রশংসা, যিনি অনুগ্রহশীল, দাতা, রুযী দানকারী এবং ধার্মিকদের বিনিময় দানকারী।
তিনিই সে সত্তা, যিনি কবরের আঁধার গহ্বরে যাওয়ার আগে আমাকে শিরক ও কুফরী থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছেন। সৎপথ প্রদর্শনকারী, আমানতদার নবী আহমদ (সা)-এর মাধ্যমে।"
📄 শেষ 'আকাবার বায়'আতের শর্তাবলী
ইবন ইসহাক বলেন: এটা ছিল যুদ্ধের বায়'আত। আল্লাহ্ তা'আলা যখন তাঁর রাসূল (সা)-কে যুদ্ধের অনুমতি প্রদান করল, তখন প্রথম 'আকাবার শর্তাবলীর মতই এ শর্ত আরোপ করা হয়। প্রথম আকাবায় 'বায়'আতে নিসা' (মহিলাদের বায়'আত) হয়েছিল। তখনও আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূল (সা)-কে যুদ্ধ-বিগ্রহের অনুমতি দেননি। তারপর যখন আল্লাহ্ পাক এর অনুমতি দিলেন এবং শেষ আকাবায় রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের বায়'আত গ্রহণ করলেন, তখন তিনি তাদের নিকট থেকে গোরা ও কালোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন। নিজের (নিরাপত্তার) জন্যেও শর্ত আরোপ করল এবং তাঁর প্রভুর জন্যেও তাদের উপর শর্তারোপ করলেন এবং অঙ্গীকার পূরণের বিনিময়ে তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট উবাদা ইব্ন ওয়ালীদ ইব্ন সামিত তাঁর পিতা ওয়ালীদের বরাতে এবং তিনি তাঁর পিতা উবাদা ইবন সামিতের বরাতে বর্ণনা করেছেন-আর তিনি ছিলেন বারজন নকীবের একজন। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাতে যুদ্ধের বায়'আত করলাম, আর উবাদা ছিলেন প্রথম 'আকাবার বায়'আতে নিসায় অংশগ্রহণকারী এবং 'বায়আতে-নিসা' গ্রহণকারী বারজনের একজন-এ মর্মে যে, আমরা তাঁর কথা শুনব এবং তাঁর অনুগত থাকব। আমাদের অসময়ে ও সুসময়ে, আনন্দে ও নিরানন্দে, আমরা সর্বাবস্থায় নিজেদের উপর তাঁকে প্রাধান্য দেব এবং শাসন ক্ষমতার অধিকারীদের সাথে আমরা কলহে প্রবৃত্ত হবনা এবং আমরা যেখানে যে অবস্থায়ই থাকি না কেন, সত্য কথা বলে যাব আর আল্লাহ্ তা'আলার ব্যাপারে আমরা কোন নিন্দুকের নিন্দার ভয় করব না।
টিকাঃ
১. আকাবার প্রথম বায়'আতে যুদ্ধের কোন শর্ত ছিল না। তাতে কেবল সেসব শর্তই ছিল যেগুলো মহিলাদের বায়'আতে সাধারণভাবে ধর্মীয় বিধি-বিধান পালনের অঙ্গীকার সম্বলিত-এজন্যে যুদ্ধের শর্তহীন ঐ বায়'আতকে 'বায়'আতে নিসা' বলা হয়ে থাকে। -অনুবাদক
📄 শেষ 'আকাবায় অংশগ্রহণকারীদের নাম ও সংখ্যা
ইবন ইসহাক বলেন: এখানে 'আকাবায় উপস্থিত হয়ে যাঁরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লালাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের হাতে বায়'আত হয়েছিলেন, আওস ও খাযরাজ বংশের সেসব লোকের নাম প্রদত্ত হল। তাঁরা ছিলেন তেহাত্তরজন পুরুষ ও দু'জন মহিলা।