📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যুদ্ধের অনুমতি লাভের জন্য বায়'আতকারীদের ব্যস্ততা

📄 যুদ্ধের অনুমতি লাভের জন্য বায়'আতকারীদের ব্যস্ততা


কা'ব বলেন, বায়'আত শেষে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা তোমাদের তাঁবুতে চলে যাও।
রাবী বলেন: আব্বাস ইব্‌ন উবাদা ইব্‌ন নাফ্লা তাঁকে বললেন যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ, আপনি চাইলে আমরা আগামীকালই মিনাবাসীর উপর তরবারি দিয়ে আক্রমণ চালাব।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: না, আমাকে এরূপ নির্দেশ দেওয়া হয়নি; বরং তোমরা নিজ নিজ তাঁবুতে চলে যাও। কা'ব (রা) বলেন: সুতরাং আমরা আমাদের বিশ্রামস্থলে ফিরে গেলাম এবং সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলাম।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বায়'আতের ব্যাপারে আনসারদের বিরুদ্ধে কুরায়শদের অভিযোগ

📄 বায়'আতের ব্যাপারে আনসারদের বিরুদ্ধে কুরায়শদের অভিযোগ


সকাল হতেই দেখি একদল কুরায়শ আমাদের তাঁবুতে এসে হাযির। তারা বলল: হে খাযরাজ গোত্রের লোকেরা! আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তোমরা আমাদের এ লোকটিকে তোমাদের দেশে নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ে এসেছ এবং তার ফলশ্রুতিতে তোমরা তাঁর হাতে আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছ। আল্লাহ্র কসম! আরবে যত গোত্র আছে, তার মধ্যে তোমাদের সাথেই যুদ্ধ-সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে আমাদের বেশি অনীহা।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আনসারদের সন্ধানে কুরায়শদের তৎপরতা

📄 আনসারদের সন্ধানে কুরায়শদের তৎপরতা


কা'ব (রা) বলেন, একথা শুনে আমাদের সহযাত্রী পৌত্তলিকরা আল্লাহর শপথ করে বলতে লাগল, এরূপ কোন কিছু ঘটেনি এবং এ সম্পর্কে তারা কিছু জানেও না। বস্তুত তারা ঠিকই বলেছিল। কারণ এ সম্পর্কে তাদের কিছুই জানা ছিল না। আর আমরা না জানার ভান করে একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে লাগলাম। এরপর তারা সব উঠে চলে গেল। তাদের মধ্যে মাখযূম গোত্রের হারিস ইন হিশাম মুগীরাও ছিল। তার পায়ে একজোড়া নতুন জুতা ছিল। আমি কুরায়শদের কথা হতে অন্যদিকে তাদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বললাম : হে আবূ জাবির! তুমি কি ঐ কুরায়শ যুবকের মত জুতা ব্যবহার করতে পার না, কেননা তুমি তো আমাদের অন্যতম নেতা? আমার এ উক্তি হারিসের কানে গেল। সে তখন তার জুতা খুলে আমার দিকে ছুঁড়ে মারল, আর বলল : আল্লাহ্র কসম! এ জুতা বরং তুমিই পর। তখন আবূ জাবির আমাকে বলল : আহ্! তুমি কি যুবকটিকে রীতিমত ক্ষেপিয়ে দিলে? তার জুতা তাকে ফেরত দিয়ে দাও। আমি বললাম : আল্লাহ্র কসম! আমি এটা ফেরত দেব না। আল্লাহ্ কসম! এটা একটা শুভ লক্ষণ। যদি এ লক্ষণ সত্য হয়, তবে আমি তার থেকে সব কিছু ছিনিয়ে নেব।
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, কা'ব (রা) যেরূপ বলেছিলেন, তারা আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় ইন্ন সালূলের কাছে গিয়ে সেরূপ বলল। তখন আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় বলল: এ তো এক বিরাট ব্যাপার। এ তো বিরাট ব্যাপার। আমার গোত্রের লোকদের আমাকে বাদ দিয়ে এরূপ করার কথা নয়। আমি ধারণা করি না যে, এরূপ কিছু হয়েছে। একথা শুনে তারা নিশ্চিন্ত মনে তার কাছ থেকে বিদায় নিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরায়শদের হাত থেকে ইবন 'উবাদার নিষ্কৃতি ও এ সম্পর্কিত কবিতা

📄 কুরায়শদের হাত থেকে ইবন 'উবাদার নিষ্কৃতি ও এ সম্পর্কিত কবিতা


রাবী বলেন: মিনা হতে হজ্জযাত্রীরা বিদায় নিলে কুরায়শরা বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান চালাল। অবশেষে প্রমাণিত হল, ঘটনা সূত্য। তখন তারা আনসারদের পাকড়াও করার জন্য বের হল এবং সা'দ ইবন উবাদা ও সাঈদা ইব্‌ন কা'ব ইব্‌ন খাযরাজ গোত্রীয় নেতা মুনযির ইব্‌ন আমরকে আযাখির নামক স্থানে পেয়ে গেল। তাঁরা উভয়েই নকীব ছিলেন। মুনযির তো তাদের কবল থেকে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হলেন কিন্তু সা'দ ইব্‌ন উবাদা (রা)-কে তারা ধরে ফেলে। তারা তাঁর, হাওদার রশি দিয়ে তাঁর দু'হাত ঘাড়ের পেছনে নিয়ে কষে বাঁধল। তাঁর মাথায় ছিল অনেক চুল এবং তিনি ছিলেন বাবরিধারী। তারা তাঁর সে বাবরি ধরে টেনে-হেঁচড়ে পেটাতে পেটাতে মক্কায় নিয়ে গেল।
সা'দ (রা) বলেন: আমি তাদের হাতে বন্দী অবস্থায় ছিলাম। এ সময় কুরায়শদের একটি দল আমার কাছে উপস্থিত হয়। তাদের মধ্যে একজন ফর্সা ও উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, দীর্ঘকায় সুদর্শন ব্যক্তি ছিল।
রাবী বলেন: তখন আমি মনে মনে বললাম: যদি তাদের কারও মধ্যে ভাল কিছু থেকে থাকে, তবে তা এ ব্যক্তির মধ্যেই আছে। কিন্তু লোকটি আমার কাছে এসে আমাকে এক প্রচণ্ড থাপ্পড় মারল। তখন আমি মনে মনে বললাম: এরপর আর এদের কারও থেকে সুব্যবহারের আশা করা যায় না। আমি যখন তাদের হাতে বন্দী ছিলাম আর তারা আমাকে টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে বেড়াত, তখন তাদের এক ব্যক্তির আমার প্রতি দয়া হল। সে আমাকে ধিক্কার দিয়ে বলল কুরায়শদের মাঝে কারও সাথেই কি তোমার কোনরূপ বন্ধুত্ব নেই? আমি বললাম: নিশ্চয়ই আছে। আমি একসময় জুবায়র ইবন মুত'ইম ইব্‌ন আদী ইবন নাওফাল ইব্‌ন আব্দ মানাফের বাণিজ্য-কাফেলাকে আশ্রয় দিতাম। আমার দেশে কেউ তাদের কোন ক্ষতি করতে চাইলে আমি বাধা দিতাম।
আর আশ্রয় দিতাম হারিস ইব্‌ন হারব্‌ ইব্‌ন উমাইয়া ইব্‌ন আব্দ শামস্ ইব্‌ন আব্দ মানাফকেও। লোকটি বলল আরে মিয়া। এখনও বসে আছ, তাদের দু'জনের নাম ধরে জোরে জোরে ডাক দাও এবং তাদের ও তোমার মধ্যেকার সম্পর্কের কথাও উল্লেখ কর। আমি তাই করলাম। লোকটি তখন তাদের খোঁজে বেরিয়ে পড়ল। আর সে তাদের দু'জনকে মসজিদে হারামের মধ্যে পেল। সে তাদের বলল খাযরাজ গোত্রের একটি লোককে মক্কার সংলগ্ন সমভূমিতে ভীষণ পেটান হচ্ছে। সে তোমাদের নাম ধরে চিৎকার করে বলছে, তোমাদের সাথে নাকি তার সম্পর্ক আছে? তখন তারা জিজ্ঞেস করল সে ব্যক্তি কে? সে বলল: সা'দ ইবন উবাদা। তারা বলল: আল্লাহর কসম! সে সত্য বলেছে। সে আমাদের বাণিজ্য কাফেলাকে আশ্রয় দিত এবং তার দেশে কেউ আমাদের ক্ষতি করতে চাইলে সে বাধা দিত। রাবী বলেন: তখন তার দু'জন এসে সা'দ (রা)-কে কুরায়শদের হাত থেকে ছাড়িয়ে নেয়। তখন সা'দ (রা) সেখান থেকে মদীনায় চলে যান।
সা'দ (রা)-কে যে ব্যক্তি থাপ্পড় মেরেছিল তার নাম হলো সুহায়ল ইবন 'আমর! সে 'আমির ইব্‌ন লুআঈ গোত্রের লোক।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: যে ব্যক্তি সা'দ (রা)-এর প্রতি দয়া দেখিয়েছিল, তার নাম নাম হল আবুল বাখতারী ইব্‌ন হিশام।
ইবন ইসহাক বলেন: হিজরত সম্পর্কে যে সব কবিতা রচিত হয়, তার মধ্যে সর্বপ্রথম হচ্ছে মুহারিব ইব্‌ন ফির গোত্রীয় কবি যিরার ই-খাত্তাব ইন্ন মিরদাসের দু'টি শ্লোক। তিনি বলেন:
تداركت سعدا عنوة فاخذته × وكان شفاء لو تداركت منذرا زولو نلته طلت هناك جراحه * وكانت حريا ان يهان ويهدرا
"আমি সা'দকে কাবুতে পেলাম এবং তাকে পাকড়াও করলাম। যদি আমি মুনযিরকেও কাবুতে পেতাম, তবে আমার মনের ক্ষোভ দূর হত। আমি যদি তাকে ধরতে পারতাম, তবে তাকে ক্রমাগত আঘাত করে যখম করতাম; আর যত যখমই আমি তাকে করতাম, তা তুচ্ছ ও বৈধই গণ্য হত (অর্থাৎ এর প্রতিশোধ আমার থেকে কেউ-ই নিতে পারত না)।"
ইন্ন হিশাম বলেন: এক বর্ণনা অনুযায়ী শেষোক্ত লাইনটি এরূপ وكان حقيقا أن يهان ويهدرا অর্থ একই।
ইন্ন ইসহাক বলেন: কবি হাসান ইবন সাবিত (রা) এর জবাবে বলেন:
لست إلى سعد ولا المرء منذر * اذا ما مطايا القوم اصبحن ضمرا فلو لا ابو وهب لمرت قصائد * على شرف البرقاء يهوين حسرا اتفضخر بالكتان لمالبسته * وقد تلبس الانباط ربطا مقصرا فلا نك كالوسنان يحلم انه * بقرية كسرى او بقرية قيصرا ولاتك كالشكلى وكانت بمعزل * عن الشكل لوكان الفؤاد تفكرا ولاتك كالشاة التي كان حتفها * بحفر ذراعيها فلم ترض محفرا ولاتك كالعاوى فاقبل نحره * ولم يخشه سهما من النبل مضمرا فانا ومن يهدى القصائد نحونا * كمستبضع تمرا الى ارض خيبرا
"তুমি না সা'দের নাগাল পেতে পার, না মুনযিরের, যখন তাদের সওয়ারী বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকে। যদি আবু ওয়াহব না হত, তবে বারকা'র উচ্চ স্থান হতে কবিতামালা সবেগে অতিক্রম করত। তুমি কাতান কাপড় পরে অহংকার করছ, অথচ নিবতী সম্প্রদায়ের লোকেরাও সাদা ধবধবে কাপড় পরিধান করে থাকে। তুমি সেই তন্দ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তির মত হয়ো না, যে স্বপ্ন দেখে যে, সে রয়েছে পারস্যরাজের দেশে অথবা রোম সম্রাটের পল্লীতে। অথবা সেই সন্তানহারা রমণীর মত হয়ো না, যাকে হতে হতনা নিঃসন্তান, যদি সে ভেবে কাজ করত। কিংবা তুমি সে ছাগলের মত হয়ো না, যাব মৃত্যু তার সামনের পায়ের খননে বের হয়ে আসা ছুরি দ্বারা সাধিত হয়েছিল। তার সে খনন তার জন্য শুভ ফল বয়ে আনেনি। অথবা তুমি সেই ঘেউঘেউকারী কুকুরের মতও হয়ো না, যে গুপ্ত তীরন্দাজ হতে নিঃশঙ্ক হয়ে গলা বের করে দেয়। আমাদের উদ্দেশ্যে যারা কবিতা পাঠায়, তারা তো সেই খেজুর বিক্রেতার মত, যে খায়বারে খেজুর বেচতে আসে।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00