📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 দ্বিতীয় আকাবার বায়'আতে অংশগ্রহণকারীদের অন্তরে শয়তান কর্তৃক ফিতনা সৃষ্টির চেষ্টা

📄 দ্বিতীয় আকাবার বায়'আতে অংশগ্রহণকারীদের অন্তরে শয়তান কর্তৃক ফিতনা সৃষ্টির চেষ্টা


কা'ব ইবন মালিক (রা) বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাতে আমাদের বায়'আত সম্পন্ন হতেই 'আকাবার শৈল-শিখর থেকে শয়তান এমন জোরে চিৎকার করে উঠল যে, অমন বিকট চিৎকার আমি আর শুনিনি। সে বলল: হে জাবাজিববাসী (জাবাজিব বলতে মিনার বিস্তৃত অঞ্চলকে বোঝায়)! তোমাদের কি খবর আছে, নিন্দিত ব্যক্তি ও বেদীনরা মিলে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাঁয়তারা করছে? তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এ হচ্ছে 'আকাবার শয়তান আযব, সে আযীবের পুত্র।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: অন্য বর্ণনায় উযায়বের পুত্র। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে সম্বোধন করে বললেন: তুই কি শুনছিস, হে আল্লাহর দুশমন! আল্লাহর কসম! আমি তোরই জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যুদ্ধের অনুমতি লাভের জন্য বায়'আতকারীদের ব্যস্ততা

📄 যুদ্ধের অনুমতি লাভের জন্য বায়'আতকারীদের ব্যস্ততা


কা'ব বলেন, বায়'আত শেষে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা তোমাদের তাঁবুতে চলে যাও।
রাবী বলেন: আব্বাস ইব্‌ন উবাদা ইব্‌ন নাফ্লা তাঁকে বললেন যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ, আপনি চাইলে আমরা আগামীকালই মিনাবাসীর উপর তরবারি দিয়ে আক্রমণ চালাব।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: না, আমাকে এরূপ নির্দেশ দেওয়া হয়নি; বরং তোমরা নিজ নিজ তাঁবুতে চলে যাও। কা'ব (রা) বলেন: সুতরাং আমরা আমাদের বিশ্রামস্থলে ফিরে গেলাম এবং সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলাম।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বায়'আতের ব্যাপারে আনসারদের বিরুদ্ধে কুরায়শদের অভিযোগ

📄 বায়'আতের ব্যাপারে আনসারদের বিরুদ্ধে কুরায়শদের অভিযোগ


সকাল হতেই দেখি একদল কুরায়শ আমাদের তাঁবুতে এসে হাযির। তারা বলল: হে খাযরাজ গোত্রের লোকেরা! আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তোমরা আমাদের এ লোকটিকে তোমাদের দেশে নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ে এসেছ এবং তার ফলশ্রুতিতে তোমরা তাঁর হাতে আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছ। আল্লাহ্র কসম! আরবে যত গোত্র আছে, তার মধ্যে তোমাদের সাথেই যুদ্ধ-সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে আমাদের বেশি অনীহা।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আনসারদের সন্ধানে কুরায়শদের তৎপরতা

📄 আনসারদের সন্ধানে কুরায়শদের তৎপরতা


কা'ব (রা) বলেন, একথা শুনে আমাদের সহযাত্রী পৌত্তলিকরা আল্লাহর শপথ করে বলতে লাগল, এরূপ কোন কিছু ঘটেনি এবং এ সম্পর্কে তারা কিছু জানেও না। বস্তুত তারা ঠিকই বলেছিল। কারণ এ সম্পর্কে তাদের কিছুই জানা ছিল না। আর আমরা না জানার ভান করে একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে লাগলাম। এরপর তারা সব উঠে চলে গেল। তাদের মধ্যে মাখযূম গোত্রের হারিস ইন হিশাম মুগীরাও ছিল। তার পায়ে একজোড়া নতুন জুতা ছিল। আমি কুরায়শদের কথা হতে অন্যদিকে তাদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বললাম : হে আবূ জাবির! তুমি কি ঐ কুরায়শ যুবকের মত জুতা ব্যবহার করতে পার না, কেননা তুমি তো আমাদের অন্যতম নেতা? আমার এ উক্তি হারিসের কানে গেল। সে তখন তার জুতা খুলে আমার দিকে ছুঁড়ে মারল, আর বলল : আল্লাহ্র কসম! এ জুতা বরং তুমিই পর। তখন আবূ জাবির আমাকে বলল : আহ্! তুমি কি যুবকটিকে রীতিমত ক্ষেপিয়ে দিলে? তার জুতা তাকে ফেরত দিয়ে দাও। আমি বললাম : আল্লাহ্র কসম! আমি এটা ফেরত দেব না। আল্লাহ্ কসম! এটা একটা শুভ লক্ষণ। যদি এ লক্ষণ সত্য হয়, তবে আমি তার থেকে সব কিছু ছিনিয়ে নেব।
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, কা'ব (রা) যেরূপ বলেছিলেন, তারা আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় ইন্ন সালূলের কাছে গিয়ে সেরূপ বলল। তখন আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় বলল: এ তো এক বিরাট ব্যাপার। এ তো বিরাট ব্যাপার। আমার গোত্রের লোকদের আমাকে বাদ দিয়ে এরূপ করার কথা নয়। আমি ধারণা করি না যে, এরূপ কিছু হয়েছে। একথা শুনে তারা নিশ্চিন্ত মনে তার কাছ থেকে বিদায় নিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00