📄 বায়'আত পূর্বে খাযরাজ গোত্রকে লক্ষ্য করে 'আব্বাস ইবন 'উবাদার ভাষণ
ইবন ইসহাক বলেন: 'আসিম ইবন উমর ইব্ন কাতাদা আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, আনসারগণ যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাতে বায়'আত করার জন্য সমবেত হন, তখন সালিম ইব্ন আওফ গোত্রের নেতা আব্বাস ইবন উবাদা ইব্ন নাফ্লা আনসারী (রা) বললেন: হে খাযরাজ গোত্রের লোকেরা! তোমরা কি জান, এই ব্যক্তির হাতে তোমরা কি ব্যাপারে বায়'আত করছ? তারা বলল: জানি। তিনি বললেন: তোমরা কিন্তু এর মাধ্যমে সাদা-কাল সব ধরনের লোকের সাথে যুদ্ধের ঝুঁকি নিচ্ছ। যদি তোমরা মনে কর, তোমাদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হতে এবং তোমাদের সেরা নেতাদের নিহত হতে দেখে তোমরা তাঁকে পরিত্যাগ করবে, তা হলে বরং এখনই তা কর। কারণ আল্লাহর কসম! তখন যদি তেমন কিছু কর, তবে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতে লাঞ্ছিত হবে।
পক্ষান্তরে নিজেদের প্রতি তোমাদের যদি এ আস্থা থাকে যে, তোমরা তাঁকে দেওয়া অংগীকার পূর্ণরূপে রক্ষা করবে; তাতে ধন-সম্পদের যতই ক্ষতি হোক, যত সেরা নেতাই নিহত হোক না কেন, তা হলে তোমরা তাঁকে গ্রহণ করে নাও। আল্লাহ্র কসম! এটা হবে তোমাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণকর। তাঁরা বললেন: আমরা আমাদের ধন-সম্পদের ক্ষতি ও সেরা লোকদের প্রাণহানির আশংকা সত্ত্বেও তাঁকে গ্রহণ করে নিচ্ছি। ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! যদি আমরা এ অংগীকার পূরণ করি, তবে এর বিনিময়ে আমরা কি লাভ করব? তিনি বললেন: জান্নাত! তাঁরা বললেন: তা হলে আপনার হাত বাড়িয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলেন। তারা তাঁর হাতে হাত রেখে বায়'আত করলেন।
'আসিম ইবন 'উমর ইবন কাতাদা (র) বলেন: আব্বাসের উক্ত বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে কৃত অংগীকারকে তাদের কাঁধে মযবুত করে বেঁধে দেওয়া।
আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবু বকর (র) বলেন, বরং তিনি তার বক্তব্যে এ বায়'আতকে অন্তত সে রাতের মত পিছিয়ে দিয়ে আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় ইবন সালূলকেও তাতে শরীক করতে চেয়েছিলেন, যাতে সমগ্র মদীনাবাসীর কাছে এটা এক শক্তিশালী বায়'আতে পরিণত হয়। বস্তুত, আল্লাহ্ তা'আলাই ভাল জানেন আব্বাসের উদ্দেশ্য কি ছিল।
ইন্ন হিশাম বলেন: সালুল হল খুযা'আ গোত্রের জনৈক মহিলা। সে উবায় ইবন মালিক ইন্ন হারিসের জননী।
📄 দ্বিতীয় 'আকাবার বায়'আতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাতে যিনি সর্বপ্রথম হাত রাখেন
ইবন ইসহাক বলেন: নাজ্জার গোত্রের দাবি হচ্ছে যে, আবূ উমামা আস'আদ ইব্ন যুরারা (রা)-ই বায়'আতের জন্য সবার আগে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাতে হাত রেখেছিলেন। অন্যদিকে আবদুল আশহাল গোত্রের বক্তব্য, তাদের নেতা আবুল হায়সাম ইব্ন তায়্যিহানই এ ব্যাপারে ছিলেন সবার অগ্রগামী।
ইবন ইসহাক বলেন: কা'ব ইবন মালিক (রা)-এর সূত্রে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ্ আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, বারা' ইব্ন মা'রূর (রা)-ই সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাতে হাত রাখেন। এরপর বাকী সকলে তাঁর অনুসরণ করে বায়'আতে শরীক হন।
📄 দ্বিতীয় আকাবার বায়'আতে অংশগ্রহণকারীদের অন্তরে শয়তান কর্তৃক ফিতনা সৃষ্টির চেষ্টা
কা'ব ইবন মালিক (রা) বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাতে আমাদের বায়'আত সম্পন্ন হতেই 'আকাবার শৈল-শিখর থেকে শয়তান এমন জোরে চিৎকার করে উঠল যে, অমন বিকট চিৎকার আমি আর শুনিনি। সে বলল: হে জাবাজিববাসী (জাবাজিব বলতে মিনার বিস্তৃত অঞ্চলকে বোঝায়)! তোমাদের কি খবর আছে, নিন্দিত ব্যক্তি ও বেদীনরা মিলে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাঁয়তারা করছে? তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এ হচ্ছে 'আকাবার শয়তান আযব, সে আযীবের পুত্র।
ইব্ন হিশাম বলেন: অন্য বর্ণনায় উযায়বের পুত্র। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে সম্বোধন করে বললেন: তুই কি শুনছিস, হে আল্লাহর দুশমন! আল্লাহর কসম! আমি তোরই জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।
📄 যুদ্ধের অনুমতি লাভের জন্য বায়'আতকারীদের ব্যস্ততা
কা'ব বলেন, বায়'আত শেষে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা তোমাদের তাঁবুতে চলে যাও।
রাবী বলেন: আব্বাস ইব্ন উবাদা ইব্ন নাফ্লা তাঁকে বললেন যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ, আপনি চাইলে আমরা আগামীকালই মিনাবাসীর উপর তরবারি দিয়ে আক্রমণ চালাব।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: না, আমাকে এরূপ নির্দেশ দেওয়া হয়নি; বরং তোমরা নিজ নিজ তাঁবুতে চলে যাও। কা'ব (রা) বলেন: সুতরাং আমরা আমাদের বিশ্রামস্থলে ফিরে গেলাম এবং সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলাম।