📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর জন্য 'আব্বাসের প্রতিশ্রুতি গ্রহণ
রাবী বলেন: আমরা 'আকাবা গিরিসংকটে সমবেত হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি এসে উপস্থিত হলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর চাচা আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব। তখনও তিনি পূর্ব পুরুষের ধর্মে বিদ্যমান ছিলেন। তবে তিনি ভ্রাতুষ্পুত্রের এ আলোচনায় উপস্থিত থাকা ও তাঁর নিরাপত্তার ব্যাপারে তাদের থেকে অংগীকার গ্রহণ করাকে জরুরী মনে করেন। আসন গ্রহণের পর আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিবই প্রথমে কথা বলেন। তিনি বললেন: হে খাযরাজ গোত্রের লোকেরা!
উল্লেখ্য যে, আরবদের কাছে তখন আওস ও খাযরাজ উভয় গোত্র সম্মিলিতভাবে খাযরাজ নামে অভিহিত হত।
📄 আনসারদের থেকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতিশ্রুতি গ্রহণ
আব্বাস বললেন: হে খাযরাজ গোত্রের লোকেরা! আমাদের কাছে মুহাম্মদের কি মর্যাদা, তা তোমাদের অজানা নেই। আমরা তাঁকে আমাদের সম্প্রদায়ের হাত থেকে এযাবৎ রক্ষা করে এসেছি। তাঁর প্রতিপক্ষরাও তাঁর ব্যাপারে আমাদেরই মত ধারণা পোষণ করে। কাজেই তাঁর দেশ ও সম্প্রদায়ের মাঝে তাঁর অবস্থান অত্যন্ত সুরক্ষিত। কিন্তু তবু তিনি আপনাদের কাছে চলে যেতে এবং তোমাদের মাঝে থাকতে কৃত সংকল্প। এখন চিন্তা করে দেখ, তোমরা যদি তাঁকে প্রদত্ত অংগীকার রক্ষা করতে পার এবং শত্রুর হাত থেকে তাঁকে রক্ষা করতে সক্ষম হও, তবে তোমরা এ দায়িত্ব গ্রহণ কর। পক্ষান্তরে যদি মনে কর তোমরা তাঁকে রক্ষা করতে পারবে না, শত্রুর হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে, তা হলে বরং এখনই ছেড়ে দাও। কারণ তিনি স্বগোত্র ও স্বদেশে নিরাপদে আছেন।
আমরা তাঁকে বললাম : (হে আব্বাস)! আমরা আপনার বক্তব্য শুনলাম। ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এখন আপনি কথা বলুন এবং আপনার নিজের ও আপনার রবের জন্য আমাদের থেকে যে অংগীকার নেওয়া ভাল মনে করেন, তা নিতে পারেন।
রাবী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) কথা বললেন। প্রথমে তিনি কুরআন তিলাওয়াত করলেন এবং তাদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন। আর তাদের ইসলামের প্রতি উৎসাহ দান করলেন। তারপর বললেন: আমি এ মর্মে তোমাদের থেকে বায়'আত গ্রহণ করছি যে, তোমরা তোমাদের নারী ও শিশুদের যেভাবে রক্ষা কর, আমাকেও তেমনি রক্ষা করবে।
বারা' ইব্ন মা'রূর তাঁর হাত ধরে বললেন: হ্যাঁ! যিনি আপনাকে সত্যসহ নবীরূপে প্রেরণ করেছেন, তাঁর শপথ করে বলছি, আমরা ঠিক তেমনিভাবে আপনাকে রক্ষা করব, যেভাবে আমরা আমাদের পরিবারবর্গকে রক্ষা করে থাকি। অতএব ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনি আমাদের বায়'আত গ্রহণ করুন। আল্লাহর কসম! আমরা একটি যুদ্ধবাজ জাতি, বিপুল সমরাস্ত্রের অধিকারী, যা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি।
রাবী বলেন: বারা' ইব্ন মা'রূরের কথার মাঝখানে আবুল হায়সাম ইব্ন তায়্যিহান বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সা)! ইয়াহুদীদের সাথে আমাদের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এখন আমরা তা ছিন্ন করতে যাচ্ছি। এমন তো হবে না যে, আমরা এরূপ করার পর আল্লাহ্ তা'আলা যখন আপনাকে বিজয় দান করবেন তখন আপনি আমাদের ছেড়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসবেন?
একথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) মৃদু হেসে বললেন: তোমাদের রক্ত আমার রক্ত। তোমাদের জীবন-মরণের একই সূত্রে গ্রথিত থাকবে আমার জীবন-মরণ। আমি তোমাদের, আর তোমরাও আমার। তোমরা যাদের সাথে লড়বে, আমিও তাদের সাথে লড়াই করব। তোমরা যাদের সাথে শান্তি স্থাপন করবে, আমিও তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করব।
📄 বারজন নকীবের নাম ও বংশ পরিচয়
ইবন হিশাম বলেন : الهدم الهدم -এর অর্থ আমার দায়-দায়িত্ব তোমাদেরও দায়-দায়িত্ব এবং আমার মান-ইযযত, তোমাদেরও মান-ইযযত।
কা'ব ইবন মালিক (রা) বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা তোমাদের মধ্য হতে আমার সামনে বারজন লোককে নকীব (প্রতিনিধি)-রূপে পেশ কর। তারা নিজ নিজ গোত্রের প্রতিনিধিত্ব করবে। তখন তারা তাদের মধ্য হতে বারজন লোক বাছাই করে দিলেন, নয়জন খাযরাজ গোত্র এবং তিনজন আওস গোত্র হতে।
📄 খাযরাজ গোত্রের নকীব
ইবন হিশাম বলেন: মুহাম্মদ ইবন ইসহাক মুত্তালিব (র)-এর সূত্রে যিয়াদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ বাক্কায়ী উক্ত বারজন নকীবের পরিচয় আমার কাছে নিম্নরূপ বর্ণনা করেছেন:
১. আবু উমামা আস'আদ ইব্ন যুরারা ইবন উদাস ইবন উবায়দ ইবন সা'লাবা ইব্ন গাম ইবন মালিক ইব্ন নাজ্জার। তাঁর অপর নাম ছিল তায়মুল্লাহ্ ইবন সা'লাবা ইব্ন আমর ইবন খাযরাজ।
২. সা'দ ইব্ন রবী' ইব্ন আম্র ইব্ন আবূ যুহায়র ইবন মালিক ইবন ইমরাউল কায়স ইবন মালিক ইবন সা'লাবা ইব্ন কা'ব ইব্ন খাযরাজ ইবন হারিস ইব্ন খাযরাজ।
৩. আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা ইবন সা'লাবা ইব্ন ইমরাউল কায়স ইব্ন আমর ইব্ন ইমরাউল কায়স (আব্বার) ইবন মালিক (আসগার) ইবন সা'লাবা ইব্ন কা'ব ইব্ন খাযরাজ ইবন হারিস ইব্ন খাযরাজ।
৪. রাফি' ইব্ন মালিক ইব্ন আজলান ইব্ন আমর ইবন আমির ইবন যুরায়ক ইব্ন আব্দ হারিসা ইব্ন মালিক ইব্ন গাযব ইব্ন জুশাম ইব্ন খাযরাজ।
৫. বারা' ইব্ন মা'রূর ইব্ন সাখর ইব্ন খান্সা ইবন সিনান ইবন উবায়দ ইব্ন আদী ইব্ গাম ইব্ন কা'ব ইব্ন সালামা ইবন সা'দ ইব্ন আলী ইব্ন আসাদ ইব্ন সারিদা ইব্ন তাযীদ ইবন জুশام ইব্ন খাযরাজ।
৬. আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমর ইবন হারাম ইবন সা'লাবা ইব্ন হারাম ইব্ন কা'ব ইব্ন গাম ইবন কা'ব ইব্ন সালামা ইবন সা'দ ইব্ন আলী ইব্ন আসাদ ইব্ন সারিদা ইব্ন তাযীদ ইব্ জুশام ইব্ন খাযরাজ।
৭. উবাদা ইব্ন সামিত ইব্ন কায়স ইব্ন আসরাম ইব্ন ফিহর ইব্ন সা'লাবা ইব্ন গাম ইবন সালিম ইব্ন 'আওফ ইব্ন 'আমর ইব্ন 'আওফ ইব্ন খাযরাজ।
ইব্ন হিশাম বলেন: গাম ইব্ন সালিম নয়; বরং গাম ইব্ন আওফ। ইনি ছিলেন সালিম ইবন 'আওফ ইব্ন 'আমর ইব্ন 'আওফ ইব্ন খাযরাজের ভাই।
৮. সা'দ ইব্ন উবাদা ইব্ন দুলায়ম ইব্ন হারিসা ইব্ন আবূ হাযীমা ইব্ন সা'লাবা ইব্ন তারীফ ইব্ন খাযরাজ ইব্ন সাঈদা ইব্ন কা'ব ইব্ন খাযরাজ।
৯. মুনযির ইব্ন 'আমর ইব্ন খুনায়স ইব্ন হারিসা ইব্ন লাওযান ইব্ন আব্দ উদ্দ ইব্ন যায়দ ইব্ন সা'লাবা ইব্ন খাযরাজ ইব্ন সাঈদা ইব্ন কা'ব ইব্ন খাযরাজ।