📄 'আকাবায় বায়'আতকারীদের থেকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর গৃহীত প্রতিশ্রুতি
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট ইয়াযীদ ইব্ন আবূ হাবীব (র) মারসাদ ইব্ আবদুল্লাহ্ ইয়াযানী (র) থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন উসায়লা সানাবিহী (র) থেকে, তিনি 'উবাদা ইবন সামিত (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: প্রথম 'আকাবার বায়'আতে আমিও শরীক ছিলাম। আমরা ছিলাম মোট বারজন। আমরা নারীদের বায়'আতের ন্যায় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট বায়'আত করলাম। তখনও জিহাদ ফরয হয়নি। আমরা এই মর্মে বায়'আত করলাম যে, আমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন শরীক স্থির করব না, চুরি করব না, ব্যভিচার করব না, সন্তান হত্যা করব না, সজ্ঞানে মিথ্যা রচনা করে রটাব না এবং সৎকার্যে তাঁর অবাধ্যতা করব না। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: যদি তোমরা এর এ অংগীকার পূর্ণ কর, তবে তোমাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। আর যদি তোমরা কোনটা লংঘন কর, তবে তোমাদের ব্যাপার আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছাধীন থাকবে; তিনি চাইলে শাস্তি দেবেন, নয় ক্ষমা করে দেবেন।
ইবন ইসহাক বলেন: 'আইয ইব্ন আবদুল্লাহ্ খাওলানী আবূ ইদরীস (র)-এর সূত্রে ইমাম যুহরী (র) বর্ণনা করেন যে, 'উবাদা ইবন সামিত (রা) বলেছেন, আমরা প্রথম 'আকাবার রাতে এই মর্মে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট বায়'আত করি যে, আমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছু শরীক স্থির করব না, চুরি করব না, ব্যভিচার করব না, সন্তান হত্যা করব না, সজ্ঞানে অপবাদ রচনা করে রটাব না এবং কোন সৎকার্যে তাঁর অবাধ্যতা করব না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: যদি তোমরা এগুলো পূরণ কর, তবে তোমাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। আর যদি এর কোনটি লংঘন কর এবং তার কারণে দুনিয়াতে তোমাদের শাস্তি দেওয়া হয়, তবে সে শাস্তি ঐ অপরাধের জন্য প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ হবে। পক্ষান্তরে যদি তা তোমাদের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত গোপন রাখা হয়, তাহলে তোমাদের এ বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে। তিনি চাইলে শাস্তি দেবেন, অথবা মাফ করে দেবেন।
📄 'আকাবার প্রতিনিধি দলের সাথে মুস'আব (রা)-কে প্রেরণ
ইবন ইসহাক বলেন: এ দলটি যখন মদীনায় নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য তৈরি হল, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের সংগে মুস'আব ইবন 'উমায়র ইবন হাশিম ইব্ন আব্দ মানাফ ইব্ন আব্দুদ্দার ইব্ন কুসাইকে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তাঁকে নির্দেশ দিলেন, যেন তাদেরকে কুরআন ও ইসলামের শিক্ষা দান করেন এবং দীনী বিধানের তালীম দেন। এ জন্য তিনি মদীনার শিক্ষক হিসাবে পরিচিতি ছিলেন। তাঁর অবস্থান ছিল আবূ উমামা আস'আদ ইব্ন যুরারা ইব্ন উদাস (রা)-এর গৃহে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে 'আসিম ইবন 'উমর ইব্ন কাতাদা বর্ণনা করেছেন যে, মুস'আব (রা) আনসারদের ইমামতির দায়িত্বও পালন করতেন। কেননা আওস ও খাযরাজের লোক এটা পসন্দ করত না যে, তাদের এক গোত্র অন্য গোত্রের ইমাম হোক।
📄 মদীনায় প্রথম জুমু'আ
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 আস'আদ ইব্ন যুরারা (রা) ও মদীনার প্রথম জুমু'আ
ইবন ইসহাক বলেন: কা'ব ইবন মালিক (রা)-এর পুত্র আবদুর রহমান বর্ণনা করেন যে, আমার পিতা কা'ব (রা)-এর দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়ে যাওয়ার পর আমিই তার চলাফেরায় সাহায্য করতাম। আমি যখন তাকে জুমু'আয় নিয়ে যেতাম, তখন আযান শুনলেই তিনি আবূ উমামা আস'আদ ইব্ন যুরারা (রা)-এর জন্য দু'আ করতেন এবং কিছু সময় আযান শোনা ছেড়ে দিয়ে এই দু'আর মাঝেই কাটিয়ে দিতেন। বিষয়টি আমার কাছে রহস্যাবৃত ছিল। একবার আমি মনে মনে বললাম, আসলে এটা আমার দুর্বলতা মাত্র। আমি তার কাছে জিজ্ঞেস করলেই তো পারি যে, জুমু'আর আযান শুনলে তিনি আবূ উমামা আস'আদ ইব্ন যুরারা (রা)-এর জন্য কেন দু'আ করেন? অতএব আমি তাকে জিজ্ঞেস করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
বরাবরের মত আমি এক জুমু'আয় তাকে নিয়ে বের হলাম। তিনি জুমু'আর আযান শোনামাত্র আবূ উমামার জন্য দু'আ ও ইস্তিগফার করলেন। এরপর আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম : আব্বাজী! আপনি জুমু'আর আযান শুনলেই আবু উমামার জন্য কেন দু'আ করেন?
তিনি বললেন: বৎস! তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আমাদের নিয়ে মদীনায় জুমু'আর সালাত প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি এটা করেছিলেন নাকীউল খাযিমাত নামক নাবীত গোত্রের একটি সমতল স্থানে, যা বায়াযা গোত্রের পাথুরে ভূমির মাঝে অবস্থিত। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তখন আপনাদের সংখ্যা কত ছিল? তিনি বললেন: চল্লিশজন পুরুষ।