📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়াস ইব্‌ন মু'আযের ইসলাম গ্রহণ ও আবুল হায়সারের বৃত্তান্ত

📄 ইয়াস ইব্‌ন মু'আযের ইসলাম গ্রহণ ও আবুল হায়সারের বৃত্তান্ত


ইবন ইসহাক বলেন : মাহমূদ ইব্‌ন লাবীদ হতে হুসায়ন ইব্‌ন আবদুর রহমান ইব্‌ 'আম্র ইবন সা'দ ইব্‌ন মু'আয আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবুল হায়সার আনাস ইব্‌ রাফি' যখন মক্কায় আসেন, তখন ইয়াস ইবন মালিক প্রমুখ আবদুল আশহাল গোত্রের কতিপয় যুবকও তার সাথে ছিল। খাযরাজ গোত্রের বিরুদ্ধে কুরায়শদের সাথে মৈত্রিচুক্তি করা ছিল তাদের আগমনের উদ্দেশ্য। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের আগমনের সংবাদ পেয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হলেন এবং তাদের সাথে আলোচনায় বসলেন। তিনি তাদের বললেন : তোমরা যে উদ্দেশ্যে এসেছ, তার চাইতে উত্তম কিছু চাও কি?
তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করল: তা কি? তিনি বললেন: আমি আল্লাহ্র রাসূল। আল্লাহ্ আমাকে তাঁর বান্দাদের কাছে পাঠিয়েছেন। আমি তাদেরকে এক আল্লাহ্র ইবাদত করতে বলি। তাঁর সংগে কোন কিছুর শরীক করতে নিষেধ করি। আল্লাহ্ আমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। এরপর তিনি তাদের সামনে ইসলামের ব্যাখ্যা দিলেন এবং তাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনালেন।
রাবী বলেন: ইয়াস ইবন মু'আয ছিলেন তরুণ যুবক। তিনি বলে উঠলেন : হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ্র কসম! তোমরা যে উদ্দেশ্যে এসেছ, এটা তার চাইতে উত্তম। তাঁর মন্তব্য শুনে আবুল হায়সার আনাস ইব্‌ন রাফি' একমুঠো ধূলো তুলে ইয়াস ইবন মু'আযের মুখে নিক্ষেপ করল। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে লক্ষ্য করে বলল : আপনি আপনার ব্যাপারে আমাদের জড়াবেন না। আমার জীবনের কসম! আমরা ভিন্ন উদ্দেশ্যে এসেছি। তখন ইয়াস চুপ হয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-ও তাদের থেকে উঠে আসলেন। তারা মদীনায় চলে গেল। এরপর আওস ও খাযরাজের মাঝে বু'আসের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
এর কিছুদিন পরই ইয়াস ইব্‌ন মু'আযের ইন্তিকাল হয়ে যায়। মাহমূদ ইব্‌ন লাবীদ বলেন: তার অন্তিমকালে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন তার স্বগোত্রীয় ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তারা মৃত্যুকালে তাকে বার বার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবর, আলহামদু লিল্লাহ্ এবং তাকে কালেমা তায়্যিবা, তাকবীর, তাহমীদ ও তাসবীহ, সুবহানাল্লাহ পাঠ করতে শুনেছে এবং সে অবস্থাতেই তার ইন্তিকাল হয়। তিনি যে ইসলাম নিয়েই ইন্তিকাল করেছেন, এ ব্যাপারে তারা ছিল নিঃসন্দেহ। বস্তুত রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বক্তব্য যখন তিনি শুনেছিলেন, তখনই তার অন্তরে ইসলাম বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আনসারদের মধ্যে ইসলামের সূচনা

📄 আনসারদের মধ্যে ইসলামের সূচনা


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 'আকাবায় একদল খাযরাজীর সাথে রাসূলুল্লাহ্ (সা)

📄 'আকাবায় একদল খাযরাজীর সাথে রাসূলুল্লাহ্ (সা)


ইবন ইসহাক বলেন: অবশেষে যখন আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা হল তাঁর দীনকে বিজয়ী করবেন, তাঁর নবীর সম্মান প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং তাঁকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) হজ্জ মওসুমে অন্যান্য সময়ের মত আরব গোত্রসমূহের মাঝে ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন। এই কর্মব্যস্ততার এক পর্যায়ে 'আকাবা নামক স্থানে একদল আনসারের সংগে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তারা ছিল খাযরাজ গোত্রের লোক। আল্লাহর ফয়সালা ছিল তাদের মহা-কল্যাণে ভূষিত করার।
ইবন ইসহাক বলেন: 'আসিম ইবন 'উমর ইব্‌ন কাতাদা (র) তাঁর গোত্রীয় শায়খদের সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেন, তারা বলেছেন, তাদের সাথে সাক্ষাৎ হলে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের জিজ্ঞেস করেন: তোমরা কারা? তারা বলল: আমরা খাযরাজ গোত্রের লোক। তিনি জিজ্ঞেস করেন: যারা ইয়াহুদীদের সাথে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ, তোমরা কি তারা: তারা বলল? হ্যাঁ।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা বসবে কি, আমি তোমাদের সংগে কিছু কথা বলব: তারা বলল: নিশ্চয়ই। এই বলে তারা তাঁর কাছে বসে পড়ল। তিনি তাদেরকে আল্লাহর পথে আহবান জানালেন এবং তাদের সামনে ইসলাম পেশ করলেন। তিনি তাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত করেও শোনালেন।
রাবী বলেন: বস্তুত আল্লাহ্ তা'আলা তাদের মাঝে আগে থেকেই ইসলামের একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিলেন। আর তা এভাবে যে, তারা ইয়াহূদীদের সাথে একই দেশে বাস করত। ইয়াহুদীরা ছিল আসমানী কিতাবের অধিকারী এবং জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন এক জাতি। পক্ষান্তরে তারা ছিল মুশরিক ও পৌত্তলিক। ইয়াহুদীরা তাদের দেশ যবরদখল করে সেখানে নিজেদের প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাদের সাথে ইয়াহুদীদের কোন বিষয়ে কলহ-বিবাদ সৃষ্টি হলে ইয়াহুদীরা তাদের এই বলে শাসাত যে, শীঘ্রই এক নতুন নবীর আবির্ভাব ঘটবে। তাঁর আবির্ভাবের সময় অত্যাসন্ন। আমরা তাঁর অনুসারী হয়ে তোমাদের 'আদ ও ইরাম জাতির ন্যায় ধ্বংস করে দেব।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আনসার প্রতিনিধি দলটির সাথে যখন আলাপ-আলোচনা করলেন এবং তাদের আল্লাহ্ দিকে দাওয়াত দিলেন, তখন তারা একে অন্যকে বলল: হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর কসম! নিশ্চিত জান ইনিই সেই নবী, যাঁর কথা বলে ইয়াহুদীরা তোমাদের শাসিয়ে থাকে। কাজেই তারা যেন তোমাদের আগে এঁর কাছে না আসতে পারে। তখনই তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আহবানে সাড়া দিল। তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনল এবং ইসলাম কবুল করল। এরপর তারা বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমরা আমাদের সম্প্রদায়কে এমন পর্যায়ে রেখে এসেছি যে, তাদের মধ্যে যেরূপ পারস্পরিক শত্রুতা আছে, তা অন্য কোন জাতির মধ্যে নেই। আমরা আশাবাদী, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের গোটা সম্প্রদায়কে অচিরেই আপনার মাধ্যমে একতাবদ্ধ করে দেবেন। আমরা দেশে গিয়ে তাদের মাঝেও আপনার দীন প্রচার করব এবং আমরা যে ইসলাম গ্রহণ করেছি, তাদেরকেও তা গ্রহণ করতে বলব। আল্লাহ্ তা'আলা যদি তাদেরকে তা কবুল করার তাওফীক দান করেন। তবে আপনার চাইতে শক্তিশালী কেউ হবে না।
এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা) হতে বিদায় নিয়ে স্বদেশে চলে গেল। এ সময় তাদের অন্তর ছিল ঈমানে পরিপূর্ণ এবং বিশ্বাসে ভরপূর।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে 'আকাবায় সাক্ষাৎকারী খাযরাজীদের পরিচয়

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে 'আকাবায় সাক্ষাৎকারী খাযরাজীদের পরিচয়


ইবন ইসহাক বলেন: আমার জানামতে তাদের সংখ্যা ছিল ছয়জন। নিম্নে তাদের পরিচয় দেওয়া হল:
১. আস'আদ ইব্‌ন যুরারা (রা)। উপনাম আবূ উমামা। ইনি নাজ্জার (তায়মুল্লাহ) গোত্রের লোক। তাঁর বংশ তালিকা এরূপ: আস'আদ ইব্‌ন যুরারা ইব্‌ন উদাস ইবন উবায়দ ইব্‌ন সা'লাবা ইব্‌ন গাম ইবন মালিক ইব্‌ নাজ্জার ইবন সা'লাবা ইব্‌ন আম্ম ইব্‌ন খাযরাজ ইন্ন হারিসা ইব্‌ন আম্র ইন্ন আমির।
২. 'আওফ ইবন হারিস (রা)। ইনি 'আওফ ইব্‌ন আফরা নামেও পরিচিতি। ইনিও নাজ্জার গোত্রের লোক। তাঁর বংশ তালিকা এরূপ: 'আওফ ইবন হারিস ইব্‌ন রিফা'আ ইবন সাওয়াদ ইবন মালিক ইব্‌ন গানন্ম ইন্ন মালিক ইব্‌ন নাজ্জার।
ইবন হিশাম বলেন: 'আফরা হচ্ছে উবায়দ ইবন সা'লাবা ইবন 'উবায়দ ইবন সা'লাবা ইন্ন ইন্ন গান্ম ইন্ন মালিক ইব্‌ন নাজ্জার-এর কন্যা
৩. রাফি' ইবন মালিক (রা)। তিনি যুরায়ক গোত্রের লোক। তাঁর বংশ তালিকা হচ্ছে: রাফি' ইবন মালিক ইবন 'আজলান ইবন 'আম্র ইবন 'আমির ইব্‌ন যুরায়ক ইন্ন 'আমির ইন্ন যুরায়ক ইব্‌ন আব্দ হারিসা মালিক ইব্‌ন গাযবা ইবন জুশাম ইব্‌ন খাযরাজ।
ইবন হিশাম বলেন: আমির ইবন যুরায়ককে আমির ইব্‌ন আফ্রাকও বলা হয়।
৪. কুতত্বা ইন্ন আমির (রা)। তিনি বনু সালামার শাখা সাওয়াদ গোত্রের লোক। তাঁর বংশ তালিকা হলো: কুতত্বা ইব্‌ন আমির ইন্ন হাদীদা ইবন 'আমর ইবন্ন গাম ইব্‌ন সাওয়াদ ইব্‌ন গাম ইব্‌ন কা'ব ইব্‌ন সালামা ইবন সা'দ ইব্‌ন আলী ইন্ন সারিদা ইব্‌ তাযীদ ইব্‌ন জুশাম ইবন খাযরাজ।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: 'আমরের পিতার নাম গানম নয়; বরং সাওয়াদ। গানম নামে সওয়াদের কোন পুত্র ছিল না।
৫. 'উকবা ইবন আমির (রা)। তিনি হারাম গোত্রের লোক। তাঁর বংশ তালিকা এরূপ: 'উকরা ইব্‌ন আমির ইব্‌ নাবী ইব্‌ন যায়দ ইব্‌ন হারাম ইব্‌ন কা'ব ইব্‌ন গাম ইব্‌ন কা'ব ইব্‌ন সালামা।
৬. জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা)। তিনি উবায়দ গোত্রের লোক। তাঁর বংশ তালিকা এরূপ: জারির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রিআ'ব ইবন নু'মান ইব্‌ন সিনান ইব্‌ন উবায়দ ইব্‌ আদী ইব্‌ন গাম ইব্‌ন কা'ব ইবন সালামা।
এ দলটি মদীনায় ফিরে এসে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কথা আলোচনা করলেন এবং তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দিলেন এভাবে মদীনায় ইসলাম বিস্তার লাভ করল। ফলে মদীনায় আনসারদের এমন একটি বাড়িও অবশিষ্ট থাকল না, যেখানে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আলোচনা হতনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00